পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

কুলগাছ

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 202 view(s)
  • লিখেছেন : দীপক সাহা
আজ সূর্যগ্রহণ। শতাব্দীর বিরলতম দৃশ্য। মহাজাগতিক এই দৃশ্যের সাক্ষী হতে জ্যোর্তিবিজ্ঞানী মহলে সোরগোল পড়ে গেছে। চারিদিকে সাজো সাজো রব। অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে এই গ্রহণের সময়কালে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা ভিড় করেছে উত্তর ভারতে কারণ উত্তর ভারত থেকে দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।


শুরু হবে সকাল ১০.৪৫ মিনিটে। শৈল শহর নৈনিতাল থেকে নয় কিমি দূরে ৬৪০১ ফুট উচ্চতায় মানোরা পাহাড়ে অবস্থিত আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজার্ভেশনাল সায়েন্সেস( ARIES) প্রতিষ্ঠানের নবীন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী অর্ঘ্য পণ্ডিত গতকালই তাঁর সঙ্গীসাথিদের নিয়ে শতাব্দীর বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে শক্তিশালী টেলিস্কোপসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবস্থা করে রেখেছেন। 

নৈনিতালে ইন্সিটিউটের আবাসিক কোয়ার্টার থেকে গাড়িতে এক ঘন্টার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ। দু'পাশে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। চারচাকার স্টিয়ারিং-এ অর্ঘ্য নিজেই। বাঙালি বিজ্ঞানী অর্ঘ্য গ্রহণের দিন কোয়ার্টার থেকে বেরোনোর সময় সকালবেলায় হঠাৎ একটু বেশি নস্টালজিক হয়ে পড়েন। চলতে চলতে মনের কোণে উঁকি মারে ফেলে আসা ছোটবেলার দিনগুলো। মনে পড়ে যায় সেই কুলগাছের কথা। ঠাম্মার কথা। যার বুকের ভেতর মাথা গুঁজে প্রথম শুনেছিল গ্রহণের গল্প। ঠাম্মা না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বছর পাঁচেক হলো। দেশের বাড়িতে আছেন বাবা ও মা। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা। মালদা জেলার সোনাইমুড়ি, না গ্রাম না শহর।                               


ছোট্ট অর্ঘ্য ক্লাস টুতে পড়ে। অর্ঘ্যর মা সকালে সেদ্ধ ভাত, সঙ্গে আলুভাজি ভালো করে চটকে মেখে ছেলেকে খাওয়াচ্ছে। এক গ্রাস, দু'গ্রাস করে পুরো ভাতটাই খেয়ে নিল অর্ঘ্য। স্নান সেরে  ঠাকুমা মানে অর্ঘ্যর ঠাম্মা ঠাকুর ঘরে নিত্যকার আহ্নিক ক্রিয়ায় মগ্ন। অর্ঘ্যর বাবা অমৃতর সোনাইমুড়ি বাসস্ট্যান্ডে চায়ের দোকান। বেশ জমজমাট বাজার। কলকাতাগামী ভোরের পাঁচটার সরকারি স্টেটবাস ছাড়ার আগেই দোকান খুলতে হয়। বেশ কিছু খরিদ্দার সেই সময় পাওয়া যায়। সারাদিন বিক্রিবাটা ভালোই হয়। অমৃত ইতিহাসে অনার্স গ্রাজুয়েট। আটের দশকের মাঝামাঝি পাশ করেছে। অনেক চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি জোটাতে পারেনি। আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ঘোরপ্যাঁচে চাকরির বাজারে অমৃত টেরই তুলতে পারেনি। 


নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন অমৃত ছেলের মধ্যে দিয়ে পূরণ করতে চায়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে। সারাদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা তৈরি করা, কাপ-প্লেট ধোয়া। সন্ধ্যের দিকে পা'দুটো অবসন্ন হয়ে পড়ে। রাতে খেতে বসে বাপ-বেটায় যত কথা। চারটে রুটি সব্জি দিয়ে খেয়ে অমৃত ক্লান্ত শরীরটা নিজের প্রিয় বিছানায় সমর্পণ করে। ছেলেকে নিয়ে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা। মালদা টাউনে ছেলেকে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। 

বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া  দিয়ে ঘেরা ছোট্ট একটি ফুল বাগান। নানা জাতের ফুলগাছ। স্কুলের গাড়ি হর্ন দিচ্ছে। পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে অর্ঘ্য চললো স্কুলে। বাড়ি থেকে বেশ কয়েক পা ফেলে টিনের গেট পেরিয়ে পঞ্চায়েতের পাকা রাস্তা। গেটের ভেতরে বাঁদিকে হঠাৎ অর্ঘ্য ঝুঁকে পড়ে কী একটা নাড়াচাড়া করছে। বারান্দা থেকে মা জিজ্ঞেস করে — কী রে বাবা?  
— মা, মনে হচ্ছে একটা কুলের চারা। কেবল কয়েকটি কচিপাতা বেরিয়েছে। 
— আচ্ছা এখন স্কুলে যা। ফিরে এসে দেখিস। 
বাড়ির সীমানার বেড়া ঘেঁষে ছোট্ট চারাগাছটি অলক্ষ্যে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়েছে। সবুজ রঙের গুটি কয়েক পাতা। মনে হচ্ছে আকাশপানে চেয়ে আছে। ভারী সুন্দর লাগছে। বেড়া থেকে ফুট চারেক দূরে পঞ্চায়েতের রাস্তা। হালে ইটপাড়া রাস্তা পিচঢাকা হয়েছে।              
স্কুল ছুটি। স্কুল গাড়ি থেকে নেমে  প্রায় দৌড়তে দৌড়তে বাড়ির গেট খুলে অর্ঘ্য কুল চারাগাছের কাছে। 
— মা....মা....মা...
বাড়ির ভেতর থেকে মায়ের গলা,     
— কী রে কী হলো? 
 মা বাইরে বেরিয়ে এসে, 
— তুই আবার ঐ চারা গাছ নিয়ে পড়লি।    
— মা, এই চারা গাছকে যত্ন করতে হবে। তুমি নিড়ানি ও বালতিতে জল নিয়ে এসো। 
— আচ্ছা ঠিক আছে। আগে হাতমুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে নে। তারপর...
— না মা, তুমি আগে জল আর নিড়ানি নিয়ে এসো। আমি ইঁট দিয়ে চারিদিকে ভালো করে ঘিরে দিই। নাহলে ছাগলে খেয়ে নেবে। অর্ঘ্য মার হাতে স্কুল ব্যাগ দিয়ে বাগানের ভেতরে ঢুকে ইঁট আনতে গেল।     
— পাগল ছেলে আমার। দেখিস সাবধানে, ইঁট পায়ে পড়েনা।  
মা কিছুক্ষণ পর একটা নিড়ানি আর একটি বালতিতে জল নিয়ে হাজির। ততক্ষণে অর্ঘ্য বেশ কয়েকটা ইঁট জড়ো করে ফেলেছে। মার হাত থেকে নিড়ানিটা নিয়ে আস্তে আস্তে খুব আলতো করে চারাগাছটির গোড়ার মাটি হালকা করে দিয়ে অল্প অল্প জল ছিটিয়ে দিয়ে ইঁট দিয়ে চারিদিকে ঘিরে দিল।                  
— চল মা। খুব খিদে পেয়েছে। 
প্রতিদিন বিকেলে অর্ঘ্য স্কুল থেকে ফিরে চারাগাছটিকে জল দিয়ে তারপর হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে। একমাসের মধ্যে বেশ বড়ো  হয়ে গেল চারাগাছটি। বর্ষার জল পড়তেই বেশ নাদুসনুদুস হয়ে উঠলো গাছটি। গাছটি এখন অর্ঘ্যর মাথা বরাবর। এখন আর সেরকম যত্ন করতে হয়না। বাগানে অনেক গাছ আছে কিন্তু অর্ঘ্য কুলগাছটিকে একটু বেশিই ভালোবাসে। পাতায় হাত বুলিয়ে আদর করে। আকাশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে গাছের কানে ফিসফিস করে বলে, তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে যা। দেখতে দেখতে অর্ঘ্য ক্লাস ফোরে উঠে পড়ল। কুলগাছের ঘন সবুজ ঝাকড়া মাথা আকাশে মুখ তুলে নিজের পরিচয় জাহির করে।         
সেদিন পাড়ার মেয়েরা এসে অর্ঘ্যর মার কাছে কুলের ডাল-পাতা চাইছে। কেউ বলছে, বউদি একটা কুলের ডাল দাও না। কেউ বলছে, বউমা একটা কুলের ছোট ডাল নিলাম। বেশ কয়েকজন নিয়ে গেল। অর্ঘ্য মনে মনে খুব কষ্ট পেল। 
— আচ্ছা মা, তুমি ওদের মানা করলে না কেন?  দেখতো গাছটা কত কষ্ট পেল। 
— আরে বাবা আজ গ্রহণ। তাই রান্না করা খাবারে কুলের কাঁটা দিয়ে রাখতে হয়। দেখ তোর ঠাম্মাও এনে রেখেছে রান্নাঘরে।

অর্ঘ্য ঠাম্মার দিকে তাকায়। 
ঠাম্মা  বলে, 
— গ্রহণের সময় অনেক কিছু মেনে চলতে হয় বাপু। 
— কেন ঠাম্মা।
— সেদিন রাতে তোকে রাহু-কেতুর গল্প বললুম। ওরা সব মানুষ, দেবতার শত্রু। তাই গ্রহণের সময় রান্না করা খাবারের পাত্রে  কুলের কাঁটা বিছিয়ে শত্রুর মুখে ছাই দিতে হয়। নাহলে সেই খাবার নষ্ট হয়ে যায়। 
অর্ঘ্য অবাক চোখে সকালের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। না, গলা কাটা রাহু-কেতুকে দেখতে পেল না। সোমবার ভূগোল ক্লাসে মিষ্টু ম্যাম বলেছিলেন , চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী একই সরলরেখায় আসলে গ্রহণ হয়। আর ঠাম্মা বলছে, রাহু-কেতু সূর্য-চন্দ্রকে গিলে ফেললে গ্রহণ হয়। কোনটা ঠিক? অর্ঘ্য ধাঁধায় পড়ে যায়। রাতের পরিষ্কার নীল আকাশ অর্ঘ্যকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। খোলা উঠোনে নেমে সন্ধ্যাতারা, কালপুরুষ, সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখতে দেখতে তার মনটা উচাটন করে ওঠে। কিন্তু সে রাহু-কেতুকে খুঁজে পায় না রাতের আকাশেও। তবে অর্ঘ্যর দৃঢ় বিশ্বাস, ঠাম্মা যখন বলেছে তখন নিশ্চয় রাহু-কেতু ঘাপটি মেরে আকাশের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে আছে। বড়ো হলে যখন অনেক পড়াশোনা শিখবে তখন দূরবীন দিয়ে ঠিক খুঁজে বের করবে রাহু-কেতুকে।                                      

মা বলেছে, এবার গাছে ফল আসবে। সত্যিই তাই। বর্ষার শেষে ভাদ্র মাস পড়তেই প্রচুর ফুল এসেছে গাছজুড়ে। একটা অদ্ভুত ভালোলাগা গন্ধ গাছের কাছে গেলে পাওয়া যায়। দিন কয়েক পরেই ছোট্ট ছোট্ট গুটিকুল। গোটা গাছ ভরে গেছে। অর্ঘ্যর মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত রোমাঞ্চের ঢেউ। কয়েকটি পাখি এবেলা ওবেলা খোঁজ নিয়ে যায়। অর্ঘ্য পাখিদের বলে, আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর। সরস্বতী পুজো আসছে সামনে। ঠ্যাম্মা বলেছে, মা সরস্বতীকে প্রথমে কুল নিবেদন করতে হয়। তারপর কুল খেতে হয়। 
এখন কুলগুলো বেশ চকচকে ডাগর হয়ে গেছে। ভারী সুন্দর লাগছে কুলভর্তি গাছকে দেখতে। সামনে সরস্বতী পুজো। স্কুলে সরস্বতী পুজোতে অর্ঘ্য অঞ্জলি দেয় প্রতিবছর। এবারও দেবে। সঙ্গে নিয়ে যাবে গাছের কুল।
স্কুল থেকে ফিরে গেট খুলেই দেখে হনুমানের পুরো পরিবার কুলগাছে বসে কুল ছিড়ছে আর টপাটপ মুখে দিচ্ছে। অর্ঘ্যকে দেখে একটা পুচকে হনুমানের সেকি আনন্দ। লাফালাফি শুরু করে দিল। ঠিক সেই মূহুর্তেই অমৃত সাইকেল সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে। দোকানে যাচ্ছে। দুপুরে স্নান-খাওয়া করে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার দোকান। ফিরতে ফিরতে রাত আটটা। অমৃত একটা-দুটো ঢিল গাছে ছুড়তেই হনুমানগুলো লাফ দিয়ে চলে গেল।     
অর্ঘ্য বিড়বিড় করে বলে উঠলো,           
— আর একটা দিন সবুর কর ভায়া।   
 আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছে অর্ঘ্য। হাতমুখ ধুয়েই বাইরে। ঠাম্মা কোন কাক ভোরে উঠে পড়ে। এখন বাগানে পুজোর ফুল তুলছে। ঠাম্মা নাতিকে দেখে বলে,     
— কী রে, আজ এত সকালে উঠে পড়লি যে। 
— কুল পারবো। স্কুলে নিয়ে যাব। 
— দাঁড়া, দাঁড়া, আমি ঝাঁকিয়ে দিচ্ছি। তুই কুড়িয়ে নে। 
এক, দুই, তিন,চার......টপাটপ করে কুল পড়ছে। অর্ঘ্য ছুটে ছুটে কুড়িয়ে নিয়ে জামা-প্যান্টের পকেটে ভরছে। দু'একটা খটাস করে মাথার উপর পড়লো। গাছের তলায় কুলের ছড়াছড়ি। পকেট ভর্তি কুল।
ঠাম্মা বলে,   
— এই হবে। আবার কাল পাড়িস। 
অর্ঘ্য এক এক করে সব কুল এক জায়গায় জড়ো করে। ওর  ইচ্ছে, স্কুলে কিছু কুল দেবে পুজোর জন্য। বাকি কুল স্কুলের বন্ধুদের সাথে ভাগ করে খাবে। সামিম বলেছে, বাড়ি থেকে লঙ্কা-লবনের গুঁড়ো নিয়ে আসবে ; ওদের চানাচুরের ফ্যাক্টরি আছে।      

দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর পেরিয়ে যায়। কুল গাছ এখন ভরা যৌবনে। অর্ঘ্যর মাধ্যমিক বিজ্ঞান পরীক্ষার আগের দিনের ঘটনা।  পঞ্চায়েত থেকে রাস্তার ধারে বড়ো পাকা ড্রেন হবে। বি এল আর ও থেকে আমিন এসেছে মাপজোক করার জন্য। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্য ও লোকাল থানার দুজন কন্সটেবলও উপস্থিত। পাড়ার কিছু মাতব্বরও আছে। অর্ঘ্য মা, বাবা পঞ্চায়েতের প্রধানকে অনেক করে বোঝাল কুলগাছটিকে বাদ রেখে ড্রেন করার জন্য। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা! সারাদিন অনেক অনুনয়-বিনয় হৈ হল্লা চিৎকার চেঁচামেচি করেও কোন ফল হল না। কুলগাছ চলে পঞ্চায়েতের ড্রেনের সীমানার মধ্যে। 
অর্ঘ্যর মন খুব খারাপ। সারাদিন মনের মধ্যে উথাল-পাতাল ঢেউ। দিনের বেলায় বই খাতা কিছুই খোলা হয় নি। পড়তে পড়তে বেশ রাত হয়ে গেল। প্রথম সকালের রোদ জানালা দিয়ে ঘরে উঁকি দিচ্ছে। ঘুমের ঘোরে সে শুনতে পেল বাইরে থেকে একটা অজানা খটাখট শব্দ আসছে। আচমকা  ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম চোখে বাইরে বেরিয়ে দেখে দু'জন লেবার কুড়ুল আর দা দিয়ে কুলগাছকে কাটছে। বাড়ির ভেতরে মা কাঁদছে। এদিকে ঠাম্মা শাপশাপান্ত করেই চলেছে পঞ্চায়েতের লোকজনকে, তোদের ভিটেমাটিতে ঘুঘু চড়বে...... ভগবান সহ্য করবে না।  
একটা করে কুড়ুলের ঘা পড়ছে কুলগাছে আর অর্ঘ্যর বুকটা ফেটে যাচ্ছে। চোখের সামনে জলজ্যান্ত গাছটি অসহায়ের মত আত্মসমর্পণ করলো। মনে হচ্ছে ছুট্টে গিয়ে কুড়ুল কেড়ে নিই। কিন্তু পরক্ষণেই.......। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অর্ঘ্য দেখে কুলগাছটা খণ্ডবিখণ্ড হয়ে মাটিতে লুটিয়ে আছে। ছলছল চোখে স্কুল গাড়িতে উঠে বসলো।    
এক ঘন্টা চড়াই-উতরাই পথ পেরিয়ে অর্ঘ্যর গাড়ি আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজার্ভেশনাল সায়েন্সেস সেন্টারের মাঠে। সামনে সুউচ্চ মানরো পাহাড়ের চূড়া। ঘড়িতে ১০.৩০ মিনিট। গাড়ি থেকে মাটিতে পা দিতেই চোখ চলে গেল যেখানে টেলিস্কোপ রাখা আছে । কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ছিল এতক্ষণ। লম্বা লম্বা পা চালিয়ে উপরের দিকে উঠছে অর্ঘ্য। টেলিস্কোপের কাছাকাছি এসে খালি চোখে পাহাড়ের গায়ে হেলান দেওয়া নীল আকাশের দিকে উদসীনভাবে তাকিয়ে বিজ্ঞানী অর্ঘ্য পণ্ডিতের মন অজান্তেই বলে ওঠে, ঠাম্মা তুমি যেখানেই থেকো ভাল থেকো।

0 Comments

Post Comment