পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

অন্যান্য পোস্ট

এটা এখন স্পষ্ট, দেশের সব নাগরিক সমান নয়

দুর্গাপূজা ঘিরে এবার সারা দেশে যে তাণ্ডব ঘটে গেল, নিকট অতীতে তার সঙ্গে তুলনা করা চলে ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সঙ্গে। কেউ কেউ পাল্লায় মাপতে বসে যাবেন, কোনটা কয় ছটাক কম বা বেশি। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এ দেশের নাগরিকের সবাই সমান নন। এ দেশে গরিবের তো কোনো জায়গাই নেই, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বও বিপন্ন। তারা এখন বিলীয়মান প্রজাতি হয়ে যাচ্ছে। লেখা প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত।

জারুলের পানে

জাতীয় সড়ক থেকে বাঁদিকে এই যে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়কটা ঢুকে হারিয়ে গেছে দুপাশের সবুজ ক্ষেতখামারের মধ্যে ঠিক তার একটু আগে গাড়িটা থামাল শুভম। গাড়ি বলতে স্কুটি। পেছন থেকে আস্তে করে রাস্তায় নামল হিমু— হিমাদ্রি। খা খা পিচ সড়ক। ভাদ্রের ভরদুপুরের অক্লান্ত সূর্যালোক সেই সড়কের ওপর দিয়ে পিছলে যাচ্ছে। হেলমেটটা খুলতে খুলতে হিমু দেখল সামনে সড়কের ওপর জলরেখার মৃদু মৃদু কম্পন। মরীচিকা। বাঁকের মুখেই দাঁড় করানো পুলিশ জিপটা থেকে একজন খাকি উর্দি এগিয়ে এল ওদের স্কুটির দিকে। অফিসার না কনস্টেবল? মরুক গে! এই জিপ এবং তার ভেতরের মানুষগুলোর এই জায়গায় অবস্থিতি, অবাঞ্ছিত হলেও, গোচরে ছিল ওদের। --কোথায় যাচ্ছেন? --বন্ধুর বাড়ি। হেলমেটটা খুলে মাস্কটা নামাতে নামাতে বলল শুভম...

লাগছে, বুক থেকে ত্রিশূল হটাও

২০১১, পুরুলিয়ায় শুরু হল হুদুর দুর্গা স্মরণ। মহিষাসুরকে হত্যা যে আর্য আগ্রাসনেরই প্রতীক, এই আলোচনায় তা নিয়ে আলোকপাতের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। বরং, অসুর, রাবন, চণ্ড, মুণ্ড, ডাকিনী, যোগিনী, শুম্ভ, নিশুম্ভদের রূপকের আড়ালে ভারতীয় উপমহাদেশের মূলনিবাসীদের দমনের যে পরম্পরা রচিত হয়েছে - তার বিপ্রতীপে আধুনিক সময়কালে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ নতুন করে জন্ম নিচ্ছে। মহিষাসুর বা হুদুর দুর্গার স্মরণসভার আয়োজন গত ১০ বছরে শুধুই বেড়েছে। লিখলেন সুমিত দাশ

দুয়ারে অপচয় উপদ্রব

প্রতি বছর এই যে নিয়ম করে মা আসেন, তার সঙ্গে আরও কি কি আসে, এবছর আর নতুন কি আসবে? তাহলে কি এবার মা এসে প্রমাণ করে ছেড়েছে, করোনা নিয়ে সরকারি বিধিফিধি যা কিছু দিল্লীশ্বর এবং রাজ্যেশ্বরী জারি করে চলেছেন—মাস্ক, দূরী, সব একেবারে ফালতু। না মানলে সামান্য তমও ক্ষতি নেই। আধাবাংলা মায়ের এই-ই একমাত্র সদর্থক অবদান!

মুসলমানের দুর্গাপুজো

৬০০ বছর ধরে দুর্গার পুরোহিত জামালের পরিবার, আমরা যখন সম্প্রীতির কথা বলি, তখন কি এই ঘটনাগুলো আমাদের স্মরণে থাকে? আমরা যখন বাঙালী অবাঙালী করি, তখনও কি আমাদের এই রাজস্থানের মন্দিরের ঘটনা মনে থাকে? লিখলেন চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য্য

পুরোনোতুন ভাবনা

ভালো লাগে যখন অন্য ধর্মের ছেলেমেয়েরাও এগিয়ে আসে। মুসলিম ছেলে জাভেদ মহানন্দে সপ্তপদীর আলপনা আঁকে, নিজেই। বাংলায় স্তোত্র বলে। মাতৃভাষায় মন্ত্র বলার মজাই আলাদা। বিশেষ করে যখন বোঝে সেই মন্ত্রের মধ্যে কিভাবে পরিবেশের কথা বলা হচ্ছে, কিভাবে প্রেমের কথা বলা হচ্ছে! মহিলাদের দিয়ে পুজো করা, বিবাহ দেওয়া, শ্রাদ্ধ করা, কিভাবে দেখে সমাজ। আজকে কি কোনও পরিবর্তন হয়েছে? লিখলেন রোহিণী ধর্মপাল।

অন্য পুজোতে আপনাকে চাই

‘যাঁরা মহরম এবং পুজো একসঙ্গে সংগঠিত করতে পারেন, তাঁদেরকে কি পরাজিত করা যায়?’ এই কথাগুলোই বলেছিলেন দু বছর আগে দুর্গাপ্রতিমার মুর্তির সামনে তাজিয়া তৈরী করতে করতে, সালাউদ্দিন। ঝকঝকে যুবক, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন, বলছিলেন, ‘এই বছর খুব খারাপ অবস্থা, যৌনকর্মীদের রোজগার প্রায় নেই, তাই আপনাদের সাহায্য ছাড়া পুজোর খরচ তোলা মুশকিল’। সেই খিদিরপুরের ফাইভ স্টার ক্লাবের পুজো নিয়ে লিখলেন সুমন সেনগুপ্ত।

জলপ্রপাতের উপাখ্যান

নারী নরকের দুয়ার; অতঃপর আমিনা পানির কুলকুল ধারাপাতে সিক্ত নিজেকে বিধৌত করতে থাকে অবিশ্রান্ত; দেহ খানি পানির ছলছলানিতে মুখরিত। পানির ঢলানি দেহজুড়ে অবসাদ-গ্লানি হতে উত্তরণ করে চলে। সূর্যের প্রথম অরুণ কিরণ অংকিত প্রত্যুষে। শীতলতা কুয়ার পানির; আমিনা কুয়া হতে পানি তোলে; পানি মাথায়, সর্বাঙ্গে ঢালে। অনর্গল, গলগল করা এই পানির প্রবাহে ভিজে চলে সে। জলক্রীড়া তার শরীরময়।

নিয়মিত কলাম

পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস ও দোসর-পুঁজি

পুঁজিপতিরা প্রাণীজগতের সাধারণ সম্পত্তি, জল-জঙ্গল-জমি-বাতাসকে নিজেদের মালিকানার আওতায় এনে, সেগুলিকে ফোকটে-পাওয়া-পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে মুনাফা করতে চাইছে। এই কাজে সে দেশে দেশে পুঁজি-বান্ধব সরকার গঠনে পুরোদমে নেমে পড়েছে। রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে পুঁজির দোসর, চলছে দোসর-পুঁজি আর রাষ্ট্রের যুগলবন্দী!

ব্রহ্মতেজ ও বাণী

অ্যান্টিন্যাশনালরা বলছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সরকার কিছুই করছে না। একদম বাজে কথা। আসলে সরকার দারুণ লড়ছে। দেখল হুতোম প্যাঁচা

আখ্যান

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্যদিবস- আজকের ভাবনা

১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্যদিবস উপলক্ষে নিয়ে ভাবতে গিয়ে ছবিটার কথা মনে পড়ে গেল। ইকুয়ালিটি, জাস্টিস, ফ্রেটারনিটির যে বার্তা আমরা ছোটবেলা থেকে শিখেছি বা শিখিয়ে এসেছি, আজ যেন তাতে একটা বড়সড় ধাক্কা লাগছে! যেদিকে তাকাই শুধু বিভাজন! নতুন এই সমাজে গরিবেরা ক্রমশ আরও গরিব হচ্ছেন, ধনীরা উত্তরোত্তর আরও ফুলেফেঁপে উঠছেন।

স্কুল খোলা বিষয়ক দু একটি কথা যা আমি বলতে চাই

জুলাই(২০২১) এর শেষদিকে পৃথিবীর ১৭৫ টি দেশে স্কুল পুরোমাত্রায় খুলে গেছে। ফ্রান্স,পর্তুগাল, ডেনমার্ক, জাপান সহ পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে অতিমারীর সময় (২০২০) স্কুল বিশেষ করে প্রাথমিক স্কুল হয় পুরো খোলা থেকেছে অথবা সামান্য দিনের জন্য বন্ধ থেকেছে। পৃথিবীতে ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে কোভিড অতিমারীর কারণে সবচেয়ে বেশি দিন স্কুল বন্ধ রয়েছে। ইউনেস্কোর খতিয়ান অনুসারে একমাস স্কুল বন্ধ থাকার অর্থ দু মাসের পড়াশোনা ক্ষতি।

লকডাউনে লেখাপড়া: ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা ও জ্ঞানের কর্পোরেট রূপ।

প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সেই সংকটের শুরুর মরশুমে ডিজিটাল উদ্দীপনায় কেউ কেউ মেতেছিলেন রাশি রাশি অনলাইন ওয়েবিনার আয়োজনে। সেই উৎসাহে সম্ভবত কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে যে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হল ছাত্র সমাজের, সেটি চাপা পরে যেতে থাকে এই ডিজিটাল উদ্দীপনায় লিখলেন, সম্রাট সেনগুপ্ত

ফেরেশতারা

বিরিয়ানির খুসবু পাচ্ছে ওসমান। কিন্তু সত্যিই কি? না কি সে শুধুই ভেবে নিচ্ছে নিজের মতো করে। সে ভেবে নিচ্ছে বিরিয়ানির ফিনফিনে আর ফরসা চালের কথা। ভেবে নিচ্ছে এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ বা জাফরানের কথা। গোস্তের মশলাদার টুকরো। আলু। আর পাতের উপর থেকে মুখের দিকে উঠে আসতে থাকা গরম ভাপের কথা। শালপাতার থালায় ঢেলে দেওয়া ফিনফিনে ভাতের গা থেকে থেকে উঠে আসা ধোঁয়ার সেই উমো উমো উষ্ণতা পেয়ে ওসমান কেমন ‘আহ্‌’ করে উঠল ভাবো। আর পাশে বসে থাকা ফকির কেমন বলে উঠল, আল্লারে ডাক এখন, কাঁদাকাটা করে লাভ নাই, এখন ফেরেশতারাই— । আর ফকিরের কথাতেই চোখ খুলল ওসমানের। হায় আল্লা, এসব কী ভাবছিল সে! ওসমান তো এখন বাড়ির বারান্দায় মা হাসিনা বানুর বালিশ ঘেঁষে বসে। কাল বিকেলে দেখতে এসে মৌলবি ওমর আলি জবাব দিয়ে গেছে। বলে গেছে, ফুকে আর হবার নয় কিছু, পারলে খাজা খতম পড়া। দুআ কর। সবার দুআ আর আল্লার মেহেরবানিতে যদি— ।

ছোটদের লেখাপড়া

এখন ছোটদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মুখেও হাসি ফুটেছে। ভয়,অনিশ্চয়তা তো রয়েছেই। কারণ এখনও বিপুল পরিমাণ শিশুদের টিকাকরণ হয়নি।আপাতত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধি মেনে দৈহিক দূরত্ব এবং মুখোশ-ই ভরসা। হয়তো জীবনের বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার হাতেকলমে শিক্ষা এখন থেকে হয়ে গেল ছোটদের। আমেরিকার স্কুল খুলেছে, তারই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লিখলেন মৌমন মিত্র

স্কুল খোলা বিতর্কঃ সুবিধাভোগী অভিভাবকের চোখে

প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ, ডিজিটাল ডিভাইড কি করে, ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়াশুনা বন্ধ করেছে, তা নিয়ে প্রচুর লেখা হয়েছে, এবার একজন সুবিধাভোগী অভিভাবক কি ভাবছেন, তাঁদের সন্তানদের পড়াশুনা নিয়ে, কেন তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার জন্যেও স্কুল খোলা জরুরী, এই নিয়ে আলোচনা করাও জরুরী এবং তা অতি দ্রুত, তা মিয়েই কিছু কথা লিখলেন শুভ্রদীপ ঘোষ