পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

কাফী খাঁ অথবা পাখি রাষ্ট্র

কথাটা শুনে নিশারের মাথাটা কেমন যেন হালকা হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাথা ঘুরে পড়বে। সামনে প্রায় বুক অবধি উঁচু কাউন্টার। দু'পাশে স্টিলের দুটো স্ট্যান্ড যাতে লাল ফিতে বাধা, লাইনগুলো আলাদা করার জন্য। ঝুঁকে পড়লো সে কাউন্টার। দুটো হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো কাউন্টারের প্লাইটপ। লোকটা কথাটা বলে আবার মন দিয়েছে নিজের ডেস্কের কম্পিউটারে। এসি চলছে। তবু ঘাম হচ্ছে নিশারের।

কন্টেন্ট

স্নেহ যে আজ পরীক্ষা কেমন দিল কে জানে ! এত ফোকাসের অভাব। পড়তে বসে একবার উঠবে, জল খাবে। একবার উঠবে, ওয়াশরুম যাবে। একবার উঠবে, হেড ফোন খুঁজবে। প্রতিদিন অফিসের পর ভাল লাগে এই লড়াই করতে? কিছু বলতে গেলে, শাসন করতে গেলেই ছেলের গোসা। মুখে মুখে তর্ক।আজকাল ছেলেপিলেদের এত সাহস হয় কী করে? আমরা তো…যাক গে।

কাশফুলের সাদা চিঠি

অফিসের দামী কাচের দেওয়ালের ওপারে তখন পড়ন্ত বিকেলের আদুরে রোদ। বিদেশের বিকেল—নির্মল, ঠান্ডা, হিসেবি। গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়েছে, রাস্তা ভরে গেছে কমলা রঙের কার্পেটে। সবকিছু সুন্দর, ছবির মতো।

অদৃশ্য কালিতে মুছে যাওয়া গণতন্ত্র

SIR-কে শুধু ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে বিষয়টির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গভীরতা ধরা পড়ে না। ভোটার তালিকা কোনও সাধারণ সরকারি ডেটাবেস নয়। সেটি নাগরিকের নির্বাচনী অস্তিত্বের নথি। সেখানে নাম থাকা মানে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার কার্যকর থাকা; নাম না থাকা মানে সেই অধিকারটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে না পারা। ফলে একটি নাম মুছে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব একটি সাধারণ ডেটা-সংশোধনের চেয়ে অনেক বেশি।

যন্তর মন্তরে কি গান্ধীর প্রত্যাবর্তন হচ্ছে?

যন্তরমন্তর আন্দোলনের সময় অথবা আমাদের দেশে সাম্প্রতিককালের যেকোনো আন্দোলনের সময় বারবারই আমরা গান্ধীর কথা স্মরণ করছি। তার একটি কারণ অবশ্যই অহিংস আন্দোলন এবং আরেকটি হলো অনশন সত্যাগ্রহ ।এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ভেবে দেখতে পারি ‌‌ আজকের জেন জি আন্দোলনের সাথে গান্ধীর সম্পর্ক কীরকম ত হতে পারে।

ঝালমুড়ি

'এক প্যাকেট মসালামুড়ি' বলে একটা একশো টাকার নোট এগিয়ে দিলেন এক খদ্দের ভদ্রলোক। স্টলের একপাশে ঝুলছিল বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানির রংবাহারি আকর্ষনীয় পটেটো চিপ্স, সোয়াবিন পাঁপর, মশালামুড়ি ইত্যাদি নানা ধরণের রেডিমেট স্ন্যাক্সের চেন।

ভারতীয় সাহিত্য ও পরিবেশচেতনার ঐতিহ্য

একশ বছর আগে রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে উঠে এসেছে আজকের দিনের ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট চালচিত্র। বিপন্ন হিমালয় ও আরাবল্লি পর্বতরাজি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেলে ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বৃহৎ অঞ্চল রূখাশুখা মরুভূমি বই অন্য কিছু নয়। প্রকৃতি প্রেমিক রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ ও সংগীতে প্রকৃতি ভাবনা নিয়ে এই লেখা নিশ্চিত পাঠক পড়বেন। আজ প্রথম পর্ব।

স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন এবং রসবোধই একমাত্র উত্তর

নির্মমভাবে দমন-পীড়নকারী এমন সব একনায়ক কেন্দ্রিক বা নির্বাচনী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যই হলো যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে, মতাদর্শভিত্তিক দলীয় কাঠামোর বাইরে, গণতন্ত্রপ্রেমী জন-আন্দোলনগুলো সংগঠিতভাবে তীব্র জন-অসন্তোষ প্রকাশ এবং স্বৈরাচারী সরকার পতনের লক্ষ্যে অহিংস রাজনীতিকেই অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছে, আর সেই আন্দোলনে সহিংসতার বিরুদ্ধে পাল্টা সহিংসতায় উত্তর দেওয়ার বদলে বিদ্রুপ করেন রাষ্ট্রের হিংস্রতাকে।

আরও পুরানো লেখাগুলি

৩ টি অণুগল্প

আজ সহমনের গল্প বিভাগে থাকল, ৩ টি অণুগল্প

জিডিপির পরিসংখ্যান- “সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নহে”

গত এপ্রিল-জুন তিনমাসের উপসাগরীয় যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিস্থিতিতেও দেশের জিডিপি তার আগের বছরের ওই সময়ের জিডিপির তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে। আবারো ভক্তবৃন্দ দলে দলে নাম সঙ্কীর্তন করতে নেমে পড়েছেন। ওদিকে মোদি সরকারের পূর্বতন অর্থসচিব শ্রী সুভাষ চন্দ্র গর্গ জিডিপির বৃদ্ধির হার নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন। তাহলে সত্যিটা কী? যা বলা হয়, না তার পিছনেও কোনও সত্যি আছে?

আখ্যান

জিডিপির পরিসংখ্যান- “সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নহে”

গত এপ্রিল-জুন তিনমাসের উপসাগরীয় যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিস্থিতিতেও দেশের জিডিপি তার আগের বছরের ওই সময়ের জিডিপির তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে। আবারো ভক্তবৃন্দ দলে দলে নাম সঙ্কীর্তন করতে নেমে পড়েছেন। ওদিকে মোদি সরকারের পূর্বতন অর্থসচিব শ্রী সুভাষ চন্দ্র গর্গ জিডিপির বৃদ্ধির হার নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন। তাহলে সত্যিটা কী? যা বলা হয়, না তার পিছনেও কোনও সত্যি আছে?

৩ টি অণুগল্প

আজ সহমনের গল্প বিভাগে থাকল, ৩ টি অণুগল্প

ভোটের খাতায় মৃত মানুষের আত্মার উপন্যাস

১৯৩০ সালে যখন ইউরোপে মুসোলিনির কালো জামা বাহিনী কুচকাওয়াজ করছে, তখন ভারতে হিন্দু মহাসভার নেতা ডা. বি এস মুঞ্জে ইউরোপ ঘুরে এসে নাসিকে ভোঁসলা মিলিটারি স্কুল বানাচ্ছেন। অন্যদিকে জওহরলাল নেহেরু তার কন্যা ইন্দিরাকে লেখা চিঠিতে বলছেন এই সামরিকীকরণ, এই ইউনিফর্ম, এই কুচকাওয়াজের মধ্যেই ফ্যাসিবাদের ছায়া আছে। তখন থেকেই শুরু। এরপর প্রতিটি দশকে এই 'শব্দ'টি হাতবদল হয়েই চলেছে।

মাই বাপ/ধর্মাবতার সমীপেষু

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম থেকে রাজ্যের তৎকালীন প্রধান বিরোধী নেতারা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা কোটি কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আছে বলে এক কাল্পনিক সংখ্যার কথা বলে গেলেন অনবরত। আসলে যে কোনও ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা লাগে। সেখান থেকেই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা, অসংখ্য নাগরিককে জোর করে 'বেনাগরিক' করার চেষ্টা, তারপর ট্রাইবুনালের দরজায় ঘোরানো, সমস্ত কিছু তো ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে আজ জলের মত পরিষ্কার হয়েছে।

কেমন সরকারি স্কুল আমরা চাই!

যন্তরমন্তর আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের দাবি ছিল শিক্ষক নিয়োগের। আজ আরেকটা বড় সমস্যা হল শিক্ষকদের বহু কাজ করতে হচ্ছে যার সঙ্গে স্কুল শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই।ভোট করানো, এসআইআর, জনগণনা প্রভৃতি কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করানোর কারণে স্কুল খোলা থাকলেও নির্দিষ্ট ক্লাস হচ্ছে না। সরকারি স্কুল আজ পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র ফলে বহু জায়গায় পড়াশোনা লাটে উঠছে।

'স্কুল ঠিক করো' আন্দোলন জরুরী কেন ?

"স্কুল ঠিক করো" আন্দোলনের তথ্য বলছে শুধু মাত্র তেলেঙ্গানার মত রাজ্যেই - ৫,৪৩২ স্কুলে কারেন্ট নেই, ২,৮১১টায় টয়লেট নেই, ৫,০৯০টা স্কুল ১ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে — সুতরাং অন্য রাজ্যেরও একই হাল, UDISE+ রিপোর্ট বলছে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১:২৪। সব ঠিক আছে। অথচ দেশজুড়ে প্রায় ৮ লক্ষ শিক্ষকের পদ খালি। বাজেটে শিক্ষায় ২.৯% ব্যয় অথচ প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৫%।