পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

এক যে আছে দেশ বিদেশী আকাশ

হুশ, হুউশ, হুউশশশশ—আমনের গাল ফুলে বেলুনের মত হয়ে গেছে। চশমার ওপরে ঝুঁকে পড়েছে অবাধ্য এক গোছা চুল। প্রীতির মনে হল কোথায় যেন দেখেছে এরকম একটি জন্তু। চটপট ফোনে জেমিনাইকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলে দিল, পাফার ফিশ। প্রীতি ফিক করে হেসে উঠল পাফার ফিশ আকা বেলুন মাছের সঙ্গে আমনের মুখের সাদৃশ্য দেখে। এদিকে মোমবাতির নেভার কোন ইচ্ছেই নেই। যেই ফুঁ বন্ধ হচ্ছে অমনি আবার ফুরফুর করে জ্বলে উঠছে।

মহানাদের সুপ্রাচীন পাথরের গঙ্গা ও অন্যান্য মূর্তি

মহাতীর্থ মহানাদ ছিল প্রাচীন এক নগর। মহানাদে মাটির নিচ থেকে বহু বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের দেব দেবীর নিদর্শন পাওয়া যায়। মহানাদের রাজা হরিশ সিংহ ছিলেন বৌদ্ধ। বাকিটা পড়ুন নীচের সূত্রে।

মাদ্রাসা: সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর নাকি ইসলামোফোবিয়ার বিষবাষ্প?

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাব বিস্তারের কৌশলের একটি বড় অস্ত্র হল হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে তীক্ষ্ণ ও প্রাত্যহিক করে তোলা। এর জন্য প্রয়োজন একটি ‘অন্যের’ বা ‘শত্রুর’ ছবি তৈরি, যাকে ভয় ও ঘৃণা দেখিয়ে একটি নির্বাচনী ব্লক গঠন করা যায়। মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের প্রতিষ্ঠান, যেমন মাদ্রাসা, সেই লক্ষ্যবস্তুতেই পরিণত হয়েছে। মাদ্রাসা নিয়ে ভুল তথ্য ও ভীতি ছড়ানো সরাসরি ইসলামোফোবিয়ার বীজ বপনের কাজ করে, যা বিজেপির ভোটব্যাংক রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

পৃথিবীর ইতিহাসে অদ্যাবধি সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় - এপস্টেইন ফাইলস

জেফরি এপ্সটেইন এবং ঘিলেইন ম্যাক্সওয়েল একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে উচ্চ প্রোফাইলের মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম যা যৌন শোষণ, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা এবং আইনি, রাজনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় । বিশ্বব্যাপী স্বচ্ছতা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এপ্সটেইন ফাইল ফাঁস এযাবতকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

সুমনা রহমান চৌধুরী যেন আজকের আগস্ট ল্যান্ডমাইসার

আসামে নির্বাচক তালিকায় সাধারণ সংশোধনী চলাকালীন সরকারি স্কুল শিক্ষিকা সুমনা রহমান চৌধুরী দেখতে পান যে সেখানকার বিজেপি'র বিএলএরা সচেতনভাবে ফর্ম ৭ এর অপব্যবহার করছেন এবং মুসলমান মানুষদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করছেন। স্বাভাবিকভাবেই সুমনা তার প্রতিবাদ করেন, ফলত তাঁর চাকরি যায়, অথচ এটি একটি সাধারণ ত্রুটি। এই ধরনের ভুল করলে তো এমনিতেই তাঁর চাকরি যেত, তার থেকে ভুলকে ভুল বলাটা বেশী জরুরি। মেরুদন্ড সোজা করে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা ভাল নয় কি?

ডেনমার্কের জন্য গ্রিনল্যান্ড কেবল সার্বভৌমত্বের লড়াই নয়

আজ যখন গ্রিনল্যান্ড নামের নিজস্ব ভূখণ্ড একই ভূ-রাজনৈতিক যুক্তির শিকার, তখন ডেনমার্কের কাছে আন্তর্জাতিক আইন হঠাৎ পবিত্র হয়ে উঠেছে। গাজার ক্ষেত্রে ডেনমার্কের ভূমিকা এই নৈতিক স্খলনকে আরও নগ্ন করে দেয়। ইসরায়েল যখন গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে এবং জাতিসংঘ একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করার উপক্রম করছে, তখন ডেনিশ নেতৃত্ব নীরব ছিল কেন সে প্রশ্ন উঠেছে।

রূপকথার গল্প আজো তৈরী হয়

এই অবরুদ্ধ সময়ে দিনে দিনে বহু মানুষ মেনে নিয়েছেন এর কোনো বিকল্প নেই। এই বিপর্যয় কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না। এই চূড়ান্ত হতাশা এবং নেতিবাচক সময়ের মধ্যে দীপকের মত সাধারণ মানুষই আলো নিয়ে আসেন। রূপকথার গল্প আজো তৈরী হয় তখন। একজন দীপক সহস্র দীপক জ্বালিয়ে দেন।

কেন্দ্রের নয়া শ্রমবিধির বিরুদ্ধে কেন ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প ধর্মঘট?

শ্রমিকবিরোধী শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া বিকল্প পথ নেই। কয়েক বছর আগে দিল্লির কৃষক আন্দোলন সেই শিক্ষা দিয়েছে। সেই জায়গা থেকেই ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে।

আরও পুরানো লেখাগুলি

সমস্ত পরিচিতির নারীদের বিরুদ্ধে ভারতের ছায়াযুদ্ধ

একটি সমাজে যখন নির্যাতন, জাত, ধর্ম, বর্ণের ভিত্তিতে হিংসা ও নির্যাতন গর্জে ওঠে এবং বিচারব্যবস্থা প্রায় অচল, তখন ন্যায়, সমানাধিকার, মানবাধিকার প্রহসন হয়ে দাঁড়ায়। এই ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্টই বলছে যে, পুলিশ ৭৭.৬% ক্ষেত্রে চার্জশিট দিলেও, আদালত হয়ে উঠেছে ন্যায়বিচারের কবরস্থান—অধিকাংশ মামলাই বিচারে পৌঁছয় না।

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: লাভ কার ?

দীর্ঘ ১৮ বছরের টানাপোড়েন, শত দরাদরি আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গত ২৭ জানুয়ারি সই হলো ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। দুই পক্ষই একে ‘Mother of all deals’ বা সব চুক্তির সেরা বলে অভিহিত করেছে। ২০০৭ সালে ব্রাসেলসে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও, পরবর্তীতে শুল্ক কাঠামো ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে মতভেদের কারণে ২০১৩ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। তবে কোভিড-পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে ২০২২ সালে সেই আলোচনায় পুনরায় গতি আসে, যা ২০২৬-এ পূর্ণতা পেল।

আখ্যান

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: লাভ কার ?

দীর্ঘ ১৮ বছরের টানাপোড়েন, শত দরাদরি আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গত ২৭ জানুয়ারি সই হলো ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। দুই পক্ষই একে ‘Mother of all deals’ বা সব চুক্তির সেরা বলে অভিহিত করেছে। ২০০৭ সালে ব্রাসেলসে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও, পরবর্তীতে শুল্ক কাঠামো ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে মতভেদের কারণে ২০১৩ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। তবে কোভিড-পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে ২০২২ সালে সেই আলোচনায় পুনরায় গতি আসে, যা ২০২৬-এ পূর্ণতা পেল।

সমস্ত পরিচিতির নারীদের বিরুদ্ধে ভারতের ছায়াযুদ্ধ

একটি সমাজে যখন নির্যাতন, জাত, ধর্ম, বর্ণের ভিত্তিতে হিংসা ও নির্যাতন গর্জে ওঠে এবং বিচারব্যবস্থা প্রায় অচল, তখন ন্যায়, সমানাধিকার, মানবাধিকার প্রহসন হয়ে দাঁড়ায়। এই ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্টই বলছে যে, পুলিশ ৭৭.৬% ক্ষেত্রে চার্জশিট দিলেও, আদালত হয়ে উঠেছে ন্যায়বিচারের কবরস্থান—অধিকাংশ মামলাই বিচারে পৌঁছয় না।

ভাগ্‌ ইঁহা সে

ফৈয়াজ রোজকার মতো আজকেও এসে বসেছিল পদ্মার পাড়ে। পদ্মার ভয়ঙ্কর রূপ প্রত্যক্ষ করছিল! গত কয়েকদিনের তুলনায় পদ্মার জল অনেকটাই বেড়েছে। একেবারে পাড় ছুঁয়ে ফণা তোলা হিংস্র সাপের মতো স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রায় বিস্মৃত সোদপুরের গান্ধী আশ্রম

১৯৪৬ সালে নভেম্বর থেকে গান্ধী দাঙ্গা-বিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ওই এলাকা ও বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন। তিনি আশ্রমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিটিং সেরে সোদপুর স্টেশন থেকে রওনা দেন নোয়াখালির দাঙ্গা-বিধ্বস্ত এলাকায়। হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ দূর করার চেষ্টা করেন। আজ সেই আশ্রম জরাজীর্ণ। সেই প্রসঙ্গেই এই প্রবন্ধ আরও বেশ কিছু কথা সামনে নিয়ে এসেছে।

বহু ব্যবহৃত ক্লিশে হওয়া 'সেটিং' তত্ত্ব

স্পষ্ট বুঝতে পারছি সবটাই সেটিং, বিজেপি আর তৃণমূলের। কিন্তু দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে, বাংলা বলার অপরাধে মৃতের সংখ্যা শতাধিক হয়ে গেল, এস আই আর এর ফলশ্রুতিতে আতঙ্কিত ভোটার ও অবসাদগ্রস্ত বি এল ওদের মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা পৌনে একশো হতে চলল, সেটিং তত্ত্ব তো মানলাম। তাহলে আপনারা কি করবেন এবার? কি করছেন? এইখানে এসেই পথ হারিয়ে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে একটু তত্ত্বটাকে বুঝতে চাইছেন অনেকেই।

ফর্ম ৭ সেই অদৃশ্য রাসায়নিক অস্ত্র যা ভোটার মারছে

কংগ্রেস চুপ। তৃণমূলের শক্তিক্ষয় তারা চায়। তাহলে তারা ভাবছে তাদের সোনার দিন ফিরবে। বামেদের একাংশও তাই ভাবে। তথাপি এখন তারা কথা বলতে শুরু করেছে কিছুটা হলেও। ওদিকে তৃণমূল কিন্তু সবটা আসলেই বুঝে বা ভেবে উঠতে পারছে বলে মনে হয় না। আদালতে মামলা অনন্তকাল চলতে পারে। তখন কী হবে? সব হয়ে যাওয়ার পরে এই প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেও খুব কিছু লাভ হবে? ভারতের প্রজাতন্ত্র, তাঁর সংবিধানের তো তখন হাড় কঙ্কাল পড়ে থাকবে।