পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পাখিরাই একমাত্র বিশ্বনাগরিক

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 200 view(s)
  • লিখেছেন : উত্তান বন্দ্যোপাধ্যায়
পাখিরাই একমাত্র প্রকৃত বিশ্বনাগরিক এই পৃথিবীতে - সমাজ সংস্কার আর সংসারে আবদ্ধ মানুষ কিভাবে নিজেকে স্বাধীন বলে কে জানে!!!

যে কোন সমাজব্যবস্থায় কোন সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি বা প্রকল্প নির্মাণে বাস্তবায়িত হলেও তার সংশয় ও সমস্যা দুই-ই আছে। মুক্তিদায়ী বামপন্থীদের সমাজতন্ত্রের বিশদ মডেল কেউ কেউ তৈরি করেছেন বা চেষ্টা করেছেন বা কিছু দেশে কয়েক দশক প্রাকটিস করেছেন এমন এক অর্থনৈতিক তাত্ত্বিক কাঠামো যেখানে বৃহত্তর জনসমাজ পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করে। নোয়াম চমস্কির মতে, এইসব মডেলে জটিল বাস্তবের চরিত্র যথার্থভাবে ধরা পড়ে না। সম্পূর্ণ কোন তাত্ত্বিক কাঠামো নির্মাণের থেকে অনেক বেশি জরুরি গণতন্ত্রের আন্তরিক সন্ধান,তা নিয়ে অনলস পরীক্ষানিরীক্ষা,যে পরীক্ষা এবং তার ফল নানা ক্ষেত্রে নানা চেহারা নেবে। 


বাট্রান্ড রাসেলের অনুমান ছিল, শিল্পবিপ্লব-উত্তর যুগে সবগুলি প্রধান দেশই কোন না কোন ধরণের রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র (state socialism) প্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্র যে প্রভুত্ব শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হোক না কেন, ব্যক্তি ও সমাজকে বশীভূত করতে চাইবে। এই গ্রাস থেকে মুক্ত কীভাবে হওয়া সম্ভব? কীভাবেই বা আসবে সাধারণ মানুষের, শ্রমিক, কৃষিজীবী ও মধ্যবিত্ত মানুষের সংহতি? 
এক্ষেত্রে একটি বোধ ও সার্বিক অনুশীলন দরকার। এই বোধ ও সংহতির ভিত্তিতেই হয়তো বা রচিত হতে পারে যথার্থ সমাজতন্ত্রের সৌধ। রাসেল বলেছিলেন, প্রধান ধনতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সমাজতান্ত্রিক মতামতের যুক্তিসঙ্গত প্রচার সবচেয়ে বেশি জরুরি।অবশ্য এই সমাজতন্ত্র রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা,এখানে সমাজ ব্যক্তিকে গ্রাস করে না, তাকে পূর্ণ মর্যাদা দেয়।
কেন ও কীভাবে ? 


তাহলে মার্কিন দেশের ধনতন্ত্রকে ব্যাখ্যা করা দরকার। কারণ মার্কিন দেশের অর্থনীতিতে সমাজ ও আইনকানুনকে রাশ টেনে ধরে  প্রধানত কর্পোরেট ও প্রাইভেট বাণিজ্য। এটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ফলে, ওদেশে রাষ্ট্র উপরি গণতন্ত্রকে কিছুতেই প্রতিহত, পরাহত করতে পারে না। তার প্রতিবাদ মার্কিন জনসাধারণ ও মিলিটারিরা করেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধে, ইরাক যুদ্ধে এবং বর্তমানে ইরান যুদ্ধে। এবং এই প্রতিবাদ ভারত বা আফ্রিকা বা চীন বা লাতিন আমেরিকার মত নয়, বরং এই প্রতিবাদ প্রকাশ্য রাজপথে গলা ফাটিয়ে প্রতিবাদ।


ওরসন ওয়েলস এর "সিটিজেন কেন" ছবিটা মনে করা যেতে পারে। সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয় চার্লস ফস্টার কেইন নামক একটি চরিত্রের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে। চরিত্রটি মার্কিন সংবাদপত্র মালিক ও ব্যবসায়ী উইলিয়াম ড়্যান্ডল্‌ফ হার্স্ট, শিকাগোর ধনকুবের স্যামুয়েল ইনসাল ও হ্যারল্ড ম্যাকরমিক এবং কিছুটা ওয়েলসের নিজের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত। মুক্তি পাওয়ার পর হার্স্ট তার অধীনস্থ কোন পত্রিকায় এটি সম্বন্ধে কোন খবর প্রকাশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। কেইন প্রকাশনা বাণিজ্যে জীবন শুরু করেছিল আদর্শ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে, কিন্তু ধীরে ধীরে সে কেবলমাত্র ক্ষমতার ধান্ধায় কাজ করতে শুরু করে। মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে কেইন "রোজবাড" শব্দটি উচ্চারণ করে। এরপর একজন সাংবাদিক এই শব্দ উচ্চারণের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে থাকে। এই নিউজরিল রিপোর্টারের গবেষণার মাধ্যমেই চলচ্চিত্রটি এগোয় এবং অধিকাংশ কাহিনী দেখানো হয় ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে।

মার্কারি থিয়েটারে অত্যন্ত সফল ক্যারিয়ার এবং ১৯৩৮ সালে রেডিওতে বিতর্কিত দ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস সম্প্রচার করে পরিচিতিতে আসা ওয়েলসকে শীঘ্রই হলিউড সিনেমার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা শুরু করে। ১৯৩৯ সালেই তিনি আরকেও পিকচারসের সাথে একটি চুক্তি সই করেন। প্রথম সিনেমার জন্যই ওয়েলসকে স্টুডিও থেকে নিজের গল্প তৈরি, নিজস্ব অভিনেতা ও ক্রু ব্যবহার এবং ফাইনাল কাট নিজের মত করে তৈরির স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল, প্রথমবারের পরিচালকদের ক্ষেত্রে যেমনটি সাধারণত করা হয় না। প্রকল্প তৈরিতে দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে হারমান ম্যাংকিভিচকে নিয়ে তিনি সিটিজেন কেইনের চিত্রনাট্য লিখে ফেলেন। শুটিং চলে মূলত ১৯৪০ সালে এবং ১৯৪১ সালেই যুক্তরাষ্ট্র ছবিটি মুক্তি পেয়ে যায়।

সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও সিটিজেন কেইন বক্স অফিস থেকে নিজের নির্মাণ ব্যয় পুষিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। মুক্তির কিছুদিন পর এর কথা সবাই ভুলে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ফরাসি চলচ্চিত্র সমালোচকরা চলচ্চিত্রটি দেখে ভূয়সী প্রশংসা করে। এরপর ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্মুক্তির পর অত্যন্ত প্রশংসার সাথে এটি গৃহীত হয়। অনেক চলচ্চিত্র সমালোচক সিটিজেন কেইনকে এখন পর্যন্ত নির্মীত সেরা সিনেমা মনে করেন। এত প্রশংসা দেখে রজার ইবার্ট এক সময় সিদ্ধান্ত টেনে দিয়েছিলেন এইভাবে, "সুতরাং সূরাহা হয়ে গেছে যে সিটিজেন কেইন সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র"।সাইট অ্যান্ড সাউন্ডের নির্বাচনের পাশাপাশি অ্যামেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সেরা চলচ্চিত্রের তালিকাতেও এটি প্রথম স্থানে রয়েছে। ২০১১ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ব্লু-রে ডিস্কে চলচ্চিত্রটি ছাড়া হয়েছে। মুক্তির ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এমনটি করা হয়।


একজন সাংবাদিক কীভাবে ওইরকম বিক্রমশালী এক প্রভাবশালী শ্রেষ্ঠী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং ওদেশে তথা সমাজের উচ্চ পদে আসীন একটি মানুষকে  তার ব্যাভিচার ঔ দুর্নীতিকে উন্মোচন করবার সাহস দেখায়। ওদিকে শ্রেষ্ঠীগণও প্রচন্ড দুর্নীতিবাজ। আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতি সাধনে জরুরি হল উদ্ভাবণ বা innovation; আন্তর্জাতিক জনমতের বাজে ওজর দেখিয়ে যদি উৎভাবিত পণ্য প্রকরণ ব্যবহার করা 'হ্যাঁ' বা 'না' বলা হয় তাহলে সেটা প্রযুক্তিগত গবেষণা ও উদ্ভাবণের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এরা যেমন রাষ্ট্রিক সমাজতন্ত্র আনতে দেবে না, যা অর্থনৈতিক ভাষায় ও আমাদের অভিজ্ঞতায় ভালই কারণ তারা যারা সেই সমাজতন্ত্রের উপরিমহলে জনগণের ভ্যানগার্ড হয়ে থাকে তারা উৎপাদনের সম্পর্ক ও উৎপাদনের উপকরণ থেকে ভিন্ন।  সমাজের রক্ত বহমানতার সঙ্গে তাদের সম্পর্কই নেই। 


আসলে কী বলতে চাইছি ? শুধু নৈতিকতা ও বিশুদ্ধ জ্ঞানের মায়া নয় । বরং সমাজের অনুশীলন হওয়া উচিত বৃহত্তর নৈতিকতায় দীক্ষিত হওয়া, নিরন্তর চিন্তার স্বাধীনতা ও বোধের মানবিকতা গভীর ভাবে জীবন দিয়েই বোঝা। ও, ছোটবেলা থেকেই ইতিহাস চর্চা শুধু নয়, "পুরোন অন্যায়ের ইতিহাস" পাঠ করা। নিরন্তর এ অভ্যাস চললেই সমাজ গণতান্ত্রিকতার আসল রূপের দিকে ধীরে ধীরে যাবে।
এই গোটা বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়াপদের খেলায় আবশ্যিক কর্তব্য বলেও আরেকটা কথা আছে। আর, সেই আবশ্যিকতার সাথে আমাদের মনোজগতের গ্রাহ্যতা। তার পিছনে আছে হয়তো কোন স্বার্থ। স্বার্থকে চরিতার্থ করতে গেলে অভিপ্রায় কে বুঝতে হয়, সবার অলক্ষ্যে খেলা করে 'ক্ষমতা'।

 

0 Comments

Post Comment