পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

অলৌকিক

একবুক জলে দাঁড়িয়ে আছে হোসেন। মাথার উপর ঘোলাটে আকাশ৷ তিনদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। কখনো দমকা, কখনো ঝিরিঝিরি, কখনো অল্প স্বল্প দম নিলেও রোদের দেখা নেই। আকাশের রঙ ঘোলাটে, পরিবেশের রঙ ঘোলাটে, সদ্য রোয়া পীত রঙের ধানের জমি, দূরে দিগন্তের গাছ গাছালি সব কিছু বাকহীন ভাবে ধূসর ক্যানভাসের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ডাকু বৃত্তান্ত

বিকেল শেষ হয়ে আসছে। সন্ধ্যা আসন্ন। ইনসান আলি বসে আছে তার বাড়ির বৈঠক-বারান্দায় একটি চেয়ারে। সামনে চলমান রাস্তা। মানুষ হাঁটছে কম। সাইকেল চলছে আরও কম। তবে বেশি বেশি চলছে টোটো, মোটরবাইক আর চারচাকা। মাঝে মধ্যে ছোট লরি। এই মফস্বলে ‘হাতি’ নামে যার পরিচিতি।

কালো হাতের ছায়া

চন্দ্রতালে তখন নীল আকাশের ছায়া, পাশে খাড়া দাঁড়িয়ে ধূ ধূ রুক্ষ পাহাড়। চন্দ্রতালের রঙ কখনো সবুজ, কখনো নীল। আমি বলি, সে এক অপূর্ব দৃশ্য। সুহৃদ ছোট্ট করে বলে হু।

রেজিস্টারি

‘লোকটাকে আমি একদিন মেরেই ফেলব।‘ প্যান্টের পিছন দিকে ঝালমুড়ির হাতটা মুছতে মুছতে খুব ঠাণ্ডা স্থির গলায় বলে গজাল। আঁতকে উঠে ওর দিকে তাকাই। ও কাকে মারার কথা ভাবছে, সেটা আমি জানি। এখুনি সামনে দিয়ে গেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা লাজুক হাসিও দিয়েছে। সামনের দাঁতগুলো গুঠখা, বিড়ি খেয়ে একদম কালো। ‘লোকটাকে আমি একদিন মেরেই ফেলব।‘ প্যান্টের পিছন দিকে ঝালমুড়ির হাতটা মুছতে মুছতে খুব ঠাণ্ডা স্থির গলায় বলে গজাল। আঁতকে উঠে ওর দিকে তাকাই। ও কাকে মারার কথা ভাবছে, সেটা আমি জানি। এখুনি সামনে দিয়ে গেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা লাজুক হাসিও দিয়েছে। সামনের দাঁতগুলো গুঠখা, বিড়ি খেয়ে একদম কালো।

কাফী খাঁ অথবা পাখি রাষ্ট্র

কথাটা শুনে নিশারের মাথাটা কেমন যেন হালকা হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাথা ঘুরে পড়বে। সামনে প্রায় বুক অবধি উঁচু কাউন্টার। দু'পাশে স্টিলের দুটো স্ট্যান্ড যাতে লাল ফিতে বাধা, লাইনগুলো আলাদা করার জন্য। ঝুঁকে পড়লো সে কাউন্টার। দুটো হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো কাউন্টারের প্লাইটপ। লোকটা কথাটা বলে আবার মন দিয়েছে নিজের ডেস্কের কম্পিউটারে। এসি চলছে। তবু ঘাম হচ্ছে নিশারের।

কন্টেন্ট

স্নেহ যে আজ পরীক্ষা কেমন দিল কে জানে ! এত ফোকাসের অভাব। পড়তে বসে একবার উঠবে, জল খাবে। একবার উঠবে, ওয়াশরুম যাবে। একবার উঠবে, হেড ফোন খুঁজবে। প্রতিদিন অফিসের পর ভাল লাগে এই লড়াই করতে? কিছু বলতে গেলে, শাসন করতে গেলেই ছেলের গোসা। মুখে মুখে তর্ক।আজকাল ছেলেপিলেদের এত সাহস হয় কী করে? আমরা তো…যাক গে।

কাশফুলের সাদা চিঠি

অফিসের দামী কাচের দেওয়ালের ওপারে তখন পড়ন্ত বিকেলের আদুরে রোদ। বিদেশের বিকেল—নির্মল, ঠান্ডা, হিসেবি। গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়েছে, রাস্তা ভরে গেছে কমলা রঙের কার্পেটে। সবকিছু সুন্দর, ছবির মতো।

অদৃশ্য কালিতে মুছে যাওয়া গণতন্ত্র

SIR-কে শুধু ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে বিষয়টির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গভীরতা ধরা পড়ে না। ভোটার তালিকা কোনও সাধারণ সরকারি ডেটাবেস নয়। সেটি নাগরিকের নির্বাচনী অস্তিত্বের নথি। সেখানে নাম থাকা মানে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার কার্যকর থাকা; নাম না থাকা মানে সেই অধিকারটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে না পারা। ফলে একটি নাম মুছে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব একটি সাধারণ ডেটা-সংশোধনের চেয়ে অনেক বেশি।

আরও পুরানো লেখাগুলি

ভারতীয় সাহিত্য ও পরিবেশচেতনার ঐতিহ্য

একশ বছর আগে রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে উঠে এসেছে আজকের দিনের ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট চালচিত্র। বিপন্ন হিমালয় ও আরাবল্লি পর্বতরাজি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেলে ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বৃহৎ অঞ্চল রূখাশুখা মরুভূমি বই অন্য কিছু নয়। প্রকৃতি প্রেমিক রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ ও সংগীতে প্রকৃতি ভাবনা নিয়ে এই লেখা নিশ্চিত পাঠক পড়বেন। আজ প্রথম পর্ব।

ঝালমুড়ি

'এক প্যাকেট মসালামুড়ি' বলে একটা একশো টাকার নোট এগিয়ে দিলেন এক খদ্দের ভদ্রলোক। স্টলের একপাশে ঝুলছিল বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানির রংবাহারি আকর্ষনীয় পটেটো চিপ্স, সোয়াবিন পাঁপর, মশালামুড়ি ইত্যাদি নানা ধরণের রেডিমেট স্ন্যাক্সের চেন।

আখ্যান

ঝালমুড়ি

'এক প্যাকেট মসালামুড়ি' বলে একটা একশো টাকার নোট এগিয়ে দিলেন এক খদ্দের ভদ্রলোক। স্টলের একপাশে ঝুলছিল বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানির রংবাহারি আকর্ষনীয় পটেটো চিপ্স, সোয়াবিন পাঁপর, মশালামুড়ি ইত্যাদি নানা ধরণের রেডিমেট স্ন্যাক্সের চেন।

ভারতীয় সাহিত্য ও পরিবেশচেতনার ঐতিহ্য

একশ বছর আগে রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে উঠে এসেছে আজকের দিনের ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট চালচিত্র। বিপন্ন হিমালয় ও আরাবল্লি পর্বতরাজি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেলে ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বৃহৎ অঞ্চল রূখাশুখা মরুভূমি বই অন্য কিছু নয়। প্রকৃতি প্রেমিক রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ ও সংগীতে প্রকৃতি ভাবনা নিয়ে এই লেখা নিশ্চিত পাঠক পড়বেন। আজ প্রথম পর্ব।

স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন এবং রসবোধই একমাত্র উত্তর

নির্মমভাবে দমন-পীড়নকারী এমন সব একনায়ক কেন্দ্রিক বা নির্বাচনী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যই হলো যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে, মতাদর্শভিত্তিক দলীয় কাঠামোর বাইরে, গণতন্ত্রপ্রেমী জন-আন্দোলনগুলো সংগঠিতভাবে তীব্র জন-অসন্তোষ প্রকাশ এবং স্বৈরাচারী সরকার পতনের লক্ষ্যে অহিংস রাজনীতিকেই অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছে, আর সেই আন্দোলনে সহিংসতার বিরুদ্ধে পাল্টা সহিংসতায় উত্তর দেওয়ার বদলে বিদ্রুপ করেন রাষ্ট্রের হিংস্রতাকে।

জলবায়ু পরিবর্তনে ডুবছে উপকূল, সংকটে বিশ্ব

২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে ৪.৭ মিলিমিটার করে বাড়লেও, ২০২৪ সালে তা লাফিয়ে রেকর্ড ৫.৯ মিলিমিটারে গিয়ে ঠেকেছে—যা স্পষ্ট করে দেয় যে জলস্তর এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়ংকর গতিতে বাড়ছে। শতাব্দীর শেষ অর্থাৎ ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর কমপক্ষে ০.৫৫ মিটার থেকে শুরু করে চরম পরিস্থিতিতে ১ মিটার বা তারও বেশি উঁচুতে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, কী হতে পারে তাহলে? আন্দাজ করলেই ভয় লাগছে না?

জিডিপির পরিসংখ্যান- “সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নহে”

গত এপ্রিল-জুন তিনমাসের উপসাগরীয় যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিস্থিতিতেও দেশের জিডিপি তার আগের বছরের ওই সময়ের জিডিপির তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে। আবারো ভক্তবৃন্দ দলে দলে নাম সঙ্কীর্তন করতে নেমে পড়েছেন। ওদিকে মোদি সরকারের পূর্বতন অর্থসচিব শ্রী সুভাষ চন্দ্র গর্গ জিডিপির বৃদ্ধির হার নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন। তাহলে সত্যিটা কী? যা বলা হয়, না তার পিছনেও কোনও সত্যি আছে?

৩ টি অণুগল্প

আজ সহমনের গল্প বিভাগে থাকল, ৩ টি অণুগল্প