পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

ফাঁকা শরীরের গান

শীতের রাত। কিন্তু মালতীর গা জ্বলছিল। ক্লিনিকের ভেরতটা নোংরা, দেওয়ালে মাছি বসে আছে, আর ওই ডাক্তার নামধারী মানুষটার হাত কাঁপছিল কি না সেটা স্পষ্ট মনে নেই- কারণ তার আগেই সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।

যেখানে প্রহরী নেই, সেখানেও শাসন: প্যানঅপ্টিকনের নতুন রূপ

ক্ষমতা আর কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। সে কেন্দ্রহীন। কিন্তু সর্বত্র। জর্জ অরওয়েলের 1984 এর "Big Brother is watching you" ছিল একমুখী নজরদারি। রাষ্ট্রের একচোখ। আজকেরটা উল্টো। "Everyone is watching everyone"। এবং আমরা নিজেরাই দেখাতে চাই। অরওয়েলের টেলিস্ক্রিন ছিল ঘরের কোণে। আমাদের টেলিস্ক্রিন আমরা হাতে নিয়ে ঘুরি।

রাতের চেয়েও অন্ধকার

বিগত কয়েক বছরের পরীক্ষার্থীরা, ছাত্রের পিঠোপিঠি দুএক বছর বড় যারা, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আর জীবিত নেই। পরীক্ষা দিয়েছে, কিন্তু সরকারি সংস্থার জালিয়াতির জন্য পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। বছরের পর বছরের পরিশ্রম, না খাওয়া, আর্থিক টান, কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা, অতিবড়লোকেদের একের পর এক পুকুরচুরি - সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানসিক স্মশানে পরিণত হয়েছে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্র। তারপর যদি নতুন প্রজন্মের ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এই পরীক্ষা ব্যবস্থা, এই শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে, তখন তাঁরা দেশদ্রোহী হয় কী করে? আমাদেরই তো উচিৎ ওঁদের লড়াইতে শক্তি জোগানোর, আমরা না করলে অন্যায় করছি।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কেন? কতটা অভিন্ন ? কার স্বার্থে ?

গোটা দেশে একটিই দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে বলা হচ্ছে। তবেই তো এক দেশে একটিই আইন, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। অ -বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি প্রথমেই নাকচ করে দিয়েছে, আর বিজেপি শাসিত একেক রাজ্য যে যার মতো করে এই আইন চালু করছে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন হচ্ছে তাই রাজ্যে রাজ্যে আলাদা। তাহলে কি করে বলা যায় যে এই আইন অভিন্ন? এক দেশে এক আইন হচ্ছে?.

আইটি সেলের কুৎসার জবাব: সোনম ওয়াংচুকের লড়াই

আজ যারা ওয়াংচুককে 'দেশবিরোধী' বা 'উস্কানিদাতা' বলে গালি দিচ্ছেন, তারা কি বোঝেন যে তাঁর চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই আর বর্তমান দিল্লির শাসকদলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ? সেই জন্যেই যখন শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোনাম ওয়াংচুক সহ ছাত্ররা অনশনে, যখন সারা দেশে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবীতে সংসদ অভিযান হবে, তখন কেন এই আইটি সেল ও গোদী মিডিয়া উল্টে সোনামকেই আক্রমণ করছেন?

আমার বাবা-মা ও আমি

আমি নাকি বাবার কোনও গুণই পাই নি। বিস্তর খাটার ক্ষমতা থাকলে কী হয় একেবারেই বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। এমনকী চেহারাতেও বাবার ছাপ নেই কোনও। চোখমুখ বা গায়ের রঙ দিয়ে কেউ নাকি মেলাতেই পারবে না আমাকে। একেবারে টকটকে ফরসা, মাথায় বাবা-কাকাদের চেয়ে অনেকটাই ছাড়িয়ে, স্কুলে থাকতেই একেবারে ষণ্ডামার্কা।

বাতাবী-লেবুর বাঙালী ও বিশ্বকাপ ফুটবলের আঙিনায় বঙ্গবালা!

বিবেকানন্দ নাকি বাঙালী যুবকদের বলেছিলেন ফুটবল খেলতে । পরে এই বিষয়ে পড়াশুনো করে দেখেছি যে ১৮৯৭ সালে মাদ্রাজে 'ভারতীয় জীবনে বেদান্তের প্রয়োগ' শীর্ষক বক্তৃতায় স্বামী বিবেকানন্দ ভারতীয় যুব-সমাজকে ফুটবল খেলার বার্তা দেন। খেলতে খেলতে, খেলা দেখতে দেখতে নির্ভেজাল মঙ্গলালোকে সত‍্য ও সুন্দর হয়ে উঠুক আমাদের মানবজমিন …. একাকার হয়ে যাক বাঙালীর বাতাবীলেবু থেকে বিবেকানন্দ ও বিশ্বময় একক বল নিয়ে লক্ষ্যভেদের খেলা!

বঙ্গের গুণ্ডা দমন ২০২৬ : বিরোধী দমন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিল দুটিতে অনুমোদন দিয়েছেন। গুণ্ডা দমন বিল পেশ করার সময় নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি কথা দিচ্ছেন এই আইন কখনই রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু তা কি সম্ভব? ইতিহাস কিংবা সমাজবিজ্ঞান কি তাই বলে?

আরও পুরানো লেখাগুলি

ছায়া ভূত

মহিম গাঙ্গুলী ব্রাঞ্চে ঢুকতেই নানান ব্যস্ততার মধ্যেও যথারীতি তাকে লক্ষ্য করল ২২ বছর ধরে কর্মরত গ্রুপ স্টাফ সুরেশ যশ।আসুন আসুন, বসুন-বলে তার দিকে এগিয়ে গেল।মহিম বাবুও ব্যস্ততার সঙ্গে বলল–“না না আজ বুসার বেশি সময় লাই,ই রাস্তা পেরিয়ে যাছিলুম ,ভাবলুম তুদের নতুন ম্যানেজার এয়েছে তাই একবার দেখাক করে যাই”।

ভয় আর ভয়

বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোদী মিডিয়া বেশ কিছু দিন ধরে অনবরত প্রচার করছিল, যে তিনি এই ভীড়কে উস্কেছেন, অথচ ঘটনা পরম্পরা তা বলে না। এই একই পদ্ধতিতে উমর খালিদ, কানহাইয়া কুমারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে কানহাইয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। উমর এখনো জেলে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে নতুন গুন্ডা দমন বিল আসছে। এটাও তো সেই ভয় দেখানোই। যখন শাসকদল নিজেরাই ভীড়তন্ত্রকে মদত দিচ্ছে, তখন এই ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য কী?

আখ্যান

ভয় আর ভয়

বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোদী মিডিয়া বেশ কিছু দিন ধরে অনবরত প্রচার করছিল, যে তিনি এই ভীড়কে উস্কেছেন, অথচ ঘটনা পরম্পরা তা বলে না। এই একই পদ্ধতিতে উমর খালিদ, কানহাইয়া কুমারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে কানহাইয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। উমর এখনো জেলে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে নতুন গুন্ডা দমন বিল আসছে। এটাও তো সেই ভয় দেখানোই। যখন শাসকদল নিজেরাই ভীড়তন্ত্রকে মদত দিচ্ছে, তখন এই ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য কী?

ছায়া ভূত

মহিম গাঙ্গুলী ব্রাঞ্চে ঢুকতেই নানান ব্যস্ততার মধ্যেও যথারীতি তাকে লক্ষ্য করল ২২ বছর ধরে কর্মরত গ্রুপ স্টাফ সুরেশ যশ।আসুন আসুন, বসুন-বলে তার দিকে এগিয়ে গেল।মহিম বাবুও ব্যস্ততার সঙ্গে বলল–“না না আজ বুসার বেশি সময় লাই,ই রাস্তা পেরিয়ে যাছিলুম ,ভাবলুম তুদের নতুন ম্যানেজার এয়েছে তাই একবার দেখাক করে যাই”।

ফুটবল : আ পলিটিক্যাল গেম

২০০৫ সালে আইভরি কোস্টের কিংবদন্তি ফুটবলার দিদিয়ের দ্রোগবা ও তাঁর সতীর্থরা জাতীয় টেলিভিশনে হাঁটু গেড়ে বসে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অস্ত্র ত্যাগ করার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানান। তারা বলেন, "আফ্রিকার মতো এতগুলো দেশ নিয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হতে পারে না।" হাঁটু গেড়ে বসা নতমস্তক ফুটবলাদের ভালোবাসার বাণী মেনে নেয়ে দুই পক্ষ। তাই ফুটবল সেদিনও ছিল একটা রাজনৈতিক খেলা আর আজকের বিশ্বকাপ দেখেও সেটাই মনে হচ্ছে।

মব, ক্রাউড ও ডিম ইতিবৃত্ত

মব ভায়োলেন্সের শিকার হয় আর্থিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গ রাজনীতির প্রান্তিক লোকজনেরা। ভারতে ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা নতুন কোনও বিষয় নয়। কোনো নারী একটু নিয়মের বাইরে গিয়ে বিরুদ্ধাচরণ করলেই তাকে দাগিয়ে দাও চরিত্রহীন বলে আর সেই নারীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলো উন্মত্ত জনতাকে। রাজনৈতিক নেতাদের মদতে বাড়তে থাকা ঘৃণার আবহে ডিম ছুঁড়ে মারা, কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর স্বাভাবিক বলে মান্যতা পেলে তার ফল ভুগতে হবে কিন্তু সবাইকেই।

তফাৎ ছিল, তফাৎ থাকবে

বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এক নতুন বিতর্ক উস্কিয়ে দিয়েছেন। নতুন নয়, পুরনো কথাই। তবে যেহেতু সরকারে এসেছেন, তাই নতুন করে বলেছেন। শমীকবাবু বলেছেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের 'গুণ্ডা'রা শ্যামাপ্রসাদের মাথায় পাথর ছুড়ে তাঁকে রক্তাক্ত করেছিলেন৷ সরাসরি নাম না করেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করলেন। খুব সচেতনভাবেই ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হচ্ছে। সুভাষচন্দ্র বসুকে যাঁরা শ্রদ্ধা করেন, তাঁরা শমীক ভট্টাচার্যের কাছে জবাবদিহি চাইবেন না? জানতে চাইবেন না, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আদৌ তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না কি?

উচ্ছেদ ও আন্দোলন — হকাররা ব্যবসায়িক অধিকার ফিরে পাবেন?

রেল স্টেশনের অধিকাংশ হকার'রা এখন বলছেন, আর.এস.এস ও বিজেপি পুঁজিপতিদের সরকার, আমাদের নয়। যখন একদিকে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে তখন অন্যদিকে অধিকার থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে বাদ গেছে, তাঁরাও তো উচ্ছেদ হচ্ছেন। সমস্ত রকম উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আন্দোলন আরো সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন, কিন্তু তা হচ্ছে কি? শুধু আইনি লড়াই কি এই আন্দোলনকে দিশা দেখাতে পারে, নাকি অন্যরকম কিছু ভাবনার প্রয়োজন আছে?