যন্তরমন্তর আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের দাবি ছিল শিক্ষক নিয়োগের। আজ আরেকটা বড় সমস্যা হল শিক্ষকদের বহু কাজ করতে হচ্ছে যার সঙ্গে স্কুল শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই।ভোট করানো, এসআইআর, জনগণনা প্রভৃতি কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করানোর কারণে স্কুল খোলা থাকলেও নির্দিষ্ট ক্লাস হচ্ছে না। সরকারি স্কুল আজ পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র ফলে বহু জায়গায় পড়াশোনা লাটে উঠছে।
"স্কুল ঠিক করো" আন্দোলনের তথ্য বলছে শুধু মাত্র তেলেঙ্গানার মত রাজ্যেই - ৫,৪৩২ স্কুলে কারেন্ট নেই, ২,৮১১টায় টয়লেট নেই, ৫,০৯০টা স্কুল ১ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে — সুতরাং অন্য রাজ্যেরও একই হাল, UDISE+ রিপোর্ট বলছে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১:২৪। সব ঠিক আছে। অথচ দেশজুড়ে প্রায় ৮ লক্ষ শিক্ষকের পদ খালি। বাজেটে শিক্ষায় ২.৯% ব্যয় অথচ প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৫%।
নদীর ধারে ছোট ছোট ঘরবাড়ি, দূরে একটা সেতু, আর তার ওপরে হালকা আলো জ্বলছে। আকাশে কমলা-লাল রঙের মিশ্রণ, নদীর ধারে কুয়াশা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। সূর্যটা যেন ধীরে ধীরে ধোঁয়াটে আকাশে উঠছে, আর তার আলো ছুঁয়ে যাচ্ছে পুরনো সেতুর লোহার গার্ডারগুলো।
বর্তমান চিনির মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো উৎপাদন খোদই অনেক কমে যাওয়া — নভেম্বরে আখ মাড়াই শুরুর সময় করা প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল ৩৪.৪ মিলিয়ন টন মোট উৎপাদনের। এই ৩.৫ মিলিয়ন টনের ঘাটতি আরও অনেক আগেই অনুমান করা উচিত ছিল। তার দিকে সরকার নজর দেয়নি, উল্টে প্রত্যকবার যেটা করে থাকে, সেটাই করেছে, মানুষকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চিনি খেতে বারণ করেছে, কিন্তু তাতে তো সমস্যার সমাধান হবে না।
সত্যজিৎ রায় তাঁর ছবিতে কোনো হতাশার সমাপ্তি টানেননি। সেই অন্ধকারের মধ্যেও আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিলেন পাহাড়ে আত্মগোপন করে থাকা উদয়ন পণ্ডিত। পেয়াদারা তাঁকে ধরতে পারেনি, কারণ সত্যকে শিকলে বাঁধা যায় না। শেষ পর্যন্ত সেই শিক্ষকই প্রজাদের চোখ খুলে দিয়েছিলেন, একত্রিত করেছিলেন জনতার সুপ্ত প্রতিরোধকে। আজকেও কি তেমনটাই হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলি আইনের পরে এমনটা মনে হওয়া কি খুব অস্বাভাবিক?
বন্দে মাতরম গানটি জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা প্রদানের প্রশ্নে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। কংগ্রেসের প্রভাবশালী অহিন্দু নেতাদের অনেকেরই এই গানে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের কারণে একে সর্বসাধারণের জন্য জাতীয় সঙ্গীত রূপে বরণ করার ব্যাপারে আপত্তি ছিল। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ নিজেও এই আপত্তির প্রসঙ্গ তুলেই গানটির দুটি স্তবকের বেশি গ্রহণ না করার পক্ষে মত রাখেন। আজকে কেন আবার এই গানের প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে?
আজকে আমার দেশে যখন একটি সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু বছর ধরে মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়াচ্ছে; বন জঙ্গল কেটে বন্ধু পুঁজিপতিদের হাতে মাটির নীচের শেষ জলের বিন্দুটুকুও বেচে দিতে বদ্ধপরিকর; সেই সরকার তীব্র উল্লাস প্রচুর টাকার দম্ভ আর রাষ্ট্র ক্ষমতার বড় অংশ চুরি করে যা খুশি তাই করছে; এত কিছুর মধ্যেও কোনো একজন শিল্পীর দেওয়ালকে তারা ভয় পায়, ভয় পায় তাঁর আঁকা সেই খিদে পেটের জল শুকনো চোখের স্কেচগুলোকে, সেই জন্যেই ওরা চিত্তপ্রসাদের ছবি মুছে দেয়।
বাঁক নিতেই গাড়িটা থেমে গেল। মুনির বেশ বিরক্ত। ও গাড়ির গ্লাস খুলে দূরের খেতি জমি দেখছিল। শরতের নীলাকাশ। চারপাশে রোদ ঝলমল করছে। এবার ছুটিটা কাটাবে শান্তিনিকেতনের কাছাকাছি বঙ্গছত্রে। তার এখানে থাকতে খুব ভাল লাগে। সেই কবে এসেছিল ও। এখানে থাকে তার ফুপুর জামাই ইসরুপ দোলা ভাই। দারুণ মানুষ।
ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল।
এরাজ্যের সরকার বাহাদুর কি জানে আরেকটি মৌল সত্যকে : শুধু যাদবপুর কেন, পৃথিবী জুড়ে ছাত্র ছাত্রীরা সাধারণভাবে রাষ্ট্রমুখী হয় না। প্রশ্নবিহীন আনুগত্য প্রদর্শন করে না। জ্ঞান অর্জন, যুক্তি বোধ তাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, তর্ক করতে শেখায়, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। সেই জন্যেই তারা বিশ্বজুড়ে প্যালেস্টাইন মানুষের পাশে সংহতির আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, সেই জন্যেই দেওয়ালে দেওয়ালে শ্লোগান লেখা হয়।
এরাজ্যের সরকার বাহাদুর কি জানে আরেকটি মৌল সত্যকে : শুধু যাদবপুর কেন, পৃথিবী জুড়ে ছাত্র ছাত্রীরা সাধারণভাবে রাষ্ট্রমুখী হয় না। প্রশ্নবিহীন আনুগত্য প্রদর্শন করে না। জ্ঞান অর্জন, যুক্তি বোধ তাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, তর্ক করতে শেখায়, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। সেই জন্যেই তারা বিশ্বজুড়ে প্যালেস্টাইন মানুষের পাশে সংহতির আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, সেই জন্যেই দেওয়ালে দেওয়ালে শ্লোগান লেখা হয়।
ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল।
মধ্যরাতে যাদবপুর বিধানসভার বিধায়ক “সারা রাত তান্ডব চলবে” বলে হুঁশিয়ারী দিলেন কেন? কেন সেদিন বিজেপির গুন্ডাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে তান্ডব চালালো? কেন তার পরের দিনও গেরুয়া হাতে নিয়ে আক্রমণ হল বিশ্ববিদ্যালয়ে? গেরুয়ার প্রতি যদি এত ভক্তি তাহলে গেরুয়া হাতে নিয়ে সমাজবিরোধী আচরণ করতে তাদের লজ্জা হচ্ছে না কেন? এরও কারণ হল তাদের গেরুয়া প্রেম প্রকৃত প্রেম নয়, তা নকল প্রেম মাত্র।
কলকাতার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি সরকারি বিদ্যালয়—উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি খুব বড় নয়। পুরোনো দোতলা ভবনের দেওয়ালে কোথাও রং খসে পড়েছে, কোথাও বৃষ্টির জল শুকিয়ে কালচে দাগ ফেলেছে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র যখন ডিম থেরাপিকে জনরোষ বলে সমর্থন করে, ধর্ষণের ঘটনার রাজসাক্ষীকে যখন রাতের অন্ধকারে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হয়; তখন মুখে কুলুপ এঁটে রাখা সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করতে শেখায় গৌরীর মতো মহিলা সাংবাদিকেরা। গৌরী লঙ্কেশদের মৃত্যু হয় না। যেখানে যত শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন করছে, ছাত্ররা প্রতিবাদে রাজপথে নামছে, শাসকের মারের প্রতিবাদে গলা তুলছে, তাদের সবার কন্ঠস্বর হয়ে আছে গৌরী লঙ্কেশ।
শহরটির নাম ছিল জনপদ। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত একটি প্রশস্ত নদী। নাম তার মত। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নদীর ওপর একটি সেতু তৈরি হতো। সেতুটির নাম—ব্যালট। সেতু পার হয়ে মানুষ যে দিকে যেত, পরবর্তী পাঁচ বছর শহরটি সেদিকেই চলত।