‘Let the ruling classes tremble at a Communistic revolution’.—Karl Marx
গত পনেরোই অগাস্ট রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ ঐদিন সকালে দিল্লির লালকেল্লায় আশিতম ‘স্বাধীনতা’দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত ভাষণকে যথোচিত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। এদিনের ভাষণে দেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে দেশ থেকে নকশালপন্থী তথা মাওবাদীদের নিকেশ করা হয়েছে সাফল্যের সঙ্গেই। তারা সারাদেশের কিছু অঞ্চলে বন্দুকের জমানা কায়েম করেছিল। তাদের হাতে দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার জওয়ান নিহত হয়েছেন। এই নকশালপন্থা বা মাওবাদ দেশের লক্ষ লক্ষ যুবকের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে! এরা অসংখ্য মায়ের কোল খালি করে দিয়েছে! প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে দেশের মানুষ তাঁকে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসীন করার পর তিনি এবং তাঁর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তাঁরা দেশকে নকশালপন্থা তথা মাওবাদের আতঙ্ক থেকে মুক্ত করবেন! আর এখন তিনি খুশি এইজন্যেই যে তারা আর মুখ তুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার অবস্থায় নেই! কিন্তু এরপরও তিনি লক্ষ্য করেছেন বন্দুকধারী নকশাল তথা মাওবাদীরা নিকেশ হয়ে গেলেও দেশের বিভিন্ন অংশে বেশকিছু ‘দিমাগি নকশাল’ রয়ে গিয়েছে। এই ‘দিমাগি নকশাল’রা চিন্তাভাবনায় নকশাল তথা মাওবাদীদের সমর্থক! দেশ থেকে ‘হাথারিয়া নকশাল’ অর্থাৎ সশস্ত্র নকশালদের উচ্ছেদ করা গেলেও, এরা রয়ে গিয়েছে। এখন সরকারের কাজ হলো এই ‘দিমাগি নকশাল’দের সাধারণ জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেশের যুবসমাজকে দেশের উন্নয়নের কাজে যুক্ত করা! অর্থাৎ এই ‘দিমাগি নকশাল’ খোঁজার নামে অনতিদূরভবিষ্যতে দেশজুড়ে আরও এক নকশালখেদা সরকারি অভিযান শুরু হবে। সরকারের অপকর্মের প্রতিটি সমালোচক বা প্রশ্নকারীকে নিকেশ করা হবে। এটাই হচ্ছে মোদি-সরকারের আশু কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই ইঙ্গিতবাহী বার্তাপ্রদানের প্রতিপক্ষে দেশজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। আরশোলা-র মতো এই দিমাগি নকশাল শব্দদ্বয়ও একটা প্রতিবাদের স্বর হিসেবে শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করেছে। এমনকি অতিবড়ো নকশাল তথা মাওবাদবিরোধী কংগ্রেসের একজন প্রাক্তন মন্ত্রীও নিজেকে ‘গর্বিত দিমাগি নকশাল’ বলে অভিহিত করেছেন! দিল্লির এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা উচ্চারণ করেছেন। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে ছত্তিশগড়ে এক নির্বাচনি সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘শহুরে নকশাল’ বা ‘আর্বান নকশাল’দের সমর্থনের অভিযোগ করেছিলেন। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯-এ এই ‘আর্বান নকশাল’রা মোদির নব-অভিভাষণে হয়ে যায় ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ এবং এঁদের নেতা হয়ে যায় কংগ্রেস! ২০২৪-এ রাজস্থানে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে মোদি বলেন যে কংগ্রেস ‘আরবান নকশাল’দের কবলে পড়ে গিয়েছে। আর এবার এই ‘দিমাগি নকশাল’। অর্থাৎ যে নামেই অভিহিত হোক না কেন নকশাল তথা মাওবাদীদের ভয় মোদি এবং তাঁর সরকারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে যুক্তির ব্যাকরণ না মেনেই তিনি কংগ্রেসকে নকশালদের নেতা হিসাবে অভিহিত করেছেন। অথচ কংগ্রেস-নেত্রী স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধি তো বিগত শতকের সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের শারীরিকভাবে নিকেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, পশ্চিমবাংলায় তাঁর বশম্বদ কংগ্রেস নেতা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের জমানায় জেলের ভেতরে এবং প্রকাশ্য রাস্তায় হাজার হাজার নকশালপন্থীকে হত্যা করা হয়েছিল। আরও পরবর্তীকালে দেশের কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম তো নকশাল তথা মাওবাদীদের দেশের পক্ষে সবচাইতে বড়ো শত্রু বলে অভিহিত করেছিলেন। আজ সে কথার অবিকল পুনরাবৃত্তি করে চলেছেন আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন আদ্যন্ত ‘কংগ্রেসবিরোধী’ বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং।
আজ থেকে একশ আটাত্তর বছর আগে ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’র শুরুতেই মার্কস লিখেছিলেন : একটা ভূত সারা য়ুরোপকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, সেটা হচ্ছে কমিউনিজমের ভূত। আর এতবছর পরে এসেও আমাদের দেশের সরকারকে একটা ভূত অহর্নিশ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেটা হচ্ছে নকশাল তথা মাওবাদীদের ভূত। আজ থেকে প্রায় ছয় দশক আগে ১৯৬৭-র ২৪-২৫ মে উত্তরবাংলার নকশালবাড়িতে কৃষকবিদ্রোহের যে আগুন জ্বলেছিল এবং সারাদেশময় তার অগ্ন্যুৎপাত ছড়িয়ে পড়ার পর যে এক নতুন মুক্ত ভারতবর্ষের স্বপ্ন জন্ম নিয়েছিল—রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখে সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে অসংখ্য তরুণ-তরুণী শহিদের মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাঁদের সেই স্বপ্ন সফল হয়নি সত্য, কিন্তু সেই অপূরিত স্বপ্ন দশকের পর দশক ধরে বয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা, এদেশের মুক্তিকামী জনসাধারণ। আর একারণেই সরকারি শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশের যেখানেই বিদ্রোহের, ক্ষোভের আগুন প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে সেখানেই শাসকশ্রেণী নকশাল তথা মাওবাদীদের ভূত দেখে আতঙ্কিত হয়। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে এই নকশালপন্থী বা মাওবাদী যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, তাদের সরকারি ভাষায় নিকেশ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কোনোদিন হবেও না। গত একত্রিশে মার্চের মধ্যে দেশ মাওবাদীমুক্ত হয়ে গিয়েছে বলে সরকারি তরফে সগর্ব ঘোষণার পাঁচমাসের মাথায় এসে সরকার আবার ‘দিমাগি নকশাল’দের ভূত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সরকারি নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনক্ষোভের, গণঅসন্তোষের প্রতিটি বর্ণমালায় সরকার নকশাল তথা মাওবাদীদের ভূত দেখছে।
https://x.com/sumonseng/status/2090007041431798220?s=20
গত পনেরোই অগাস্ট মোদির ভাষণের একইদিনে ‘অর্গানাইজার’-এ প্রকাশিত প্রফুল্ল কেতকার তাঁর সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে জেন-জি’র উত্থানের মধ্যেও আতঙ্কের কারণ খুঁজে পেয়েছেন। ‘রেজিস্ট-রেবেল-রেজেক্ট’ বা এই ‘থ্রি আর’-কে তাদের মতাদর্শিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তারা দেশের সমস্ত তরুণ সম্প্রদায়কে বিদ্রোহে উসকানি দিচ্ছে। তারা দেশের এই ‘গণতান্ত্রিক’ সিস্টেমের প্রতি সন্দেহ তৈরি করছে, সরকার-উচ্ছেদের কাজে ব্রতী হওয়ার প্রেরণা দিচ্ছে। আর এই পুরো পরিকল্পনাটি হচ্ছে নবগঠিত ককরোচ জনতা পার্টির।
গতমাসে দিল্লির যন্তরমন্তরে এই সিজেপির আহ্বানে সংঘটিত আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণ তরুণীরা দলে দলে এসে সমবেত হয়েছিলেন, পুলিশের নির্মম অত্যাচারেও তাদের ব্রতচ্যুত করা যায় নি। বিভিন্ন বামপন্থী দলের নেতা সহ বিভিন্ন দলীয় নেতৃত্ব এবং বুদ্ধিজীবীরা এই আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এই আন্দোলনকারীদের কাছে শেষপর্যন্ত সরকারকে নতিস্বীকার করতে হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কিন্তু এই পরাজয় সরকারকে আরও ক্ষিপ্ত করে তুলেছে। তারা ক্রমশই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলতে শুরু করেছেন। এই জেন-জি এখন ‘দিমাগি নকশাল’দের স্বগোত্রীয় হয়ে গিয়েছে। ফলে দিমাগি নকশাল খেদার নামে এখন শুরু হবে দেশজুড়ে নকশাল নিকেশের আরও এক নির্মম পর্ব। আর দিমাগি নকশালদের অন্তর্গত হয়ে পড়বে সমস্ত বিরোধী কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রশ্ন এবং অধিকার রক্ষার আন্দোলনও।
গত ১৯ অগাস্ট একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘দিমাগি নকশাল কারা’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক পরামর্শদাতাদের একজন তাঁর একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে এই দিমাগি নকশালরা সরকারি পলিসির সমালোচনা করে থাকে, দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা জানতে চায় এই বিকাশের ফলে কেন দেশজুড়ে যথেষ্ঠ ‘ভালো চাকরি’র শূন্যপদ সৃষ্টি হচ্ছে না। এমনকি তারা দেশের শাসনক্ষমতায় আসীন সরকারের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়ে থাকে!—অর্থাৎ এই দিমাগি নকশালরা প্রশ্ন করে, প্রশ্নকে লালন করে, প্রশ্নকে আয়ুধ হিসেবে ব্যবহার করে এবং এমনকি ভোটের সময় সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে সরকারকে অপসারণের চক্রান্তও করে থাকে। ২১ অগাস্ট ওই একই দৈনিকে যতীশ শ্রীবাস্তব নামীয় জনৈক লেখক তাঁর ‘কন্ট্রোলড পোলিটিকস ইন দ্য মিম এজ’ শিরোনামাঙ্কিত প্রতিবেদনে লিখেছেন : প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দদ্বয় আসলে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ ‘আন্দোলনজীবী’ প্রভৃতি চয়িত অভিধার পথ ধরেই এসেছে। গত একত্রিশে মার্চ দেশ থেকে মাওবাদীদের নিকেশ করার পরেও দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে একটা হুঁশিয়ারি বজায় রয়ে গিয়েছে, আর তা হলো বুদ্ধিজীবীদের তরফ থেকে। এদের চিন্তা-মননে মাওবাদ সদাজাগ্রত রয়ে গিয়েছে। এই দিমাগি নকশালরা কেবলমাত্র প্রশ্ন করাতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে না, তারা মাওবাদীদের সমর্থন করে, দেশের সংবিধানকে অস্বীকার করে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে হাত মেলায়!
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দিমাগি নকশাল’ অভিধাকরণের অব্যবহিত পরেই দেশে ‘দিমাগি নকশাল (জনতা) পার্টি’র নামে সোশ্যাল মিডিয়ার ইন্সটাগ্রাম এবং এক্স-এ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং রাতারাতি এই পার্টির ফলোয়ারস-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ সত্তর হাজার। এদের শ্লোগান হিসেবে সামনে এসেছে : আমরা চিন্তাভাবনা করি, গবেষণা করি, প্রতিরোধ করি (‘রেজিস্ট-রেবেল-রেজেক্ট’!)। কিন্তু এই অ্যাকাউন্ট সহসাই মুছে দেওয়া হয় সরকারি নির্দেশে। পরে আবার তা খুলে দিলে এর ফলোয়ার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে আড়াই লক্ষ অতিক্রম করে। এরপর এই অ্যাকাউন্ট আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ‘অল ইন্ডিয়া দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি’র নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।—এখানেও দেখা যাচ্ছে সরকারের ভূতগ্রস্ততা, আতঙ্কের সকম্পন জ্বর ও বিকার। ইতিমধ্যে সিজেপি-র তরফ থেকে মোদিকে প্রশ্ন করা হয়েছে : শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে তিনি কোন যুক্তিতে নকশাল বলে অভিহিত করছেন, তারা প্রশ্ন করে বলেই কি?—তবে কি প্রশ্ন করা আর নকশালপন্থা সমার্থক?
১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে আর্নল্ড রুজ-কে লেখা এক চিঠিতে কার্ল মার্কস লিখেছিলেন : জর্মনিতে এখন সমস্ত বিরুদ্ধতাকেই পুলিশ দিয়ে দমন করা হচ্ছে, সর্বত্র একটা নৈরাজ্য পাখা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে, একটা মূর্খের শাসন আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যা দিনের আলোর মতো প্রতিভাত হচ্ছে, তা হলো স্বাধীন এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিদের এখনই একটি নতুন পথের সন্ধান করা উচিত।
আমাদের দেশেও বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন চালিত রাজ্যগুলিতে আজ সরকারের অপপকর্মের বিরুদ্ধতাকে পুলিশ দিয়ে দমন করা হচ্ছে, সর্বত্র একটা নৈরাজ্য দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আর একটা মূর্খের শাসন আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।—এরই প্রেক্ষিতে মার্কস কথিত আজকের দিনে এই নতুন পথটিই হচ্ছে দেশজুড়ে ফ্যাসিস্ত বিজেপি সরকারের ‘মূর্খের শাসনের’ বিরুদ্ধে সংঘটিত সমস্ত আন্দোলনে সমস্ত ধরনের বামপন্থী, অধিকার আন্দোলনের কর্মী, নকশালপন্থীদের বিভিন্ন ধারার কর্মী সংগঠন, রাজনীতির বাইরে থাকা প্রশ্ন করতে পারঙ্গম তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি ‘স্বাধীন এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিদেরও’ সামিল করা প্রয়োজন। অতি সম্প্রতি যাদবপুরে গেরুয়া বাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে যে কাঙ্ক্ষিত ঐক্যের সূত্রপাত ঘটেছে তার বিবর্ধন এবং বিকাশ সময়ের বিকল্পহীন দাবি।