পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়ে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে ফিরে এল আর্জেন্টিনা

  • 27 November, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 680 view(s)
  • লিখেছেন : দেবাশিস মজুমদার
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মেসির প্রথম গোল এবং আর্জেন্টিনার অগ্রগমন। দুর্দান্ত গ্রাউন্ড শটে গোলের একদম কোণায় এমনভাবে বলটাকে জায়গায় রাখলেন মেসি যে উড়ন্ত বাজের মত বাজের মত ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পেলেন না ওচোয়া। দ্বিতীয় গোলটি ম্যাচের ৮৭ মিনিটে এবং সেটিকে নয়নাভিরাম বলে যায়। এনজো ফার্নান্ডেজের শট মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে দাঁড় করিয়ে আবারও উড়ন্ত ওচোয়ার নাগাল এড়িয়ে গিয়ে আছড়ে পড়ল মেক্সিকোর গোলের জালে।

ঝলসে উঠল মেসি ম্যাজিক। জয় পেয়ে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে ফিরে এল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে যে চড়াই-উতরাই এর রোলার কোস্টার রাইড চলতে থাকে তা আবার প্রমাণ হল। গ্রুপ-সি এখনও পুরো উন্মুক্ত। প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় এবং শেষ পর্বের খেলাগুলো না হুয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে এই গ্রুপ থেকে কোন দুটি দল পরের রাউন্ডে যেতে চলেছে। তবে আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো নিঃসন্দেহে এলবিসেলেস্তে জার্সিকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন যুগিয়ে গেল।

প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হার, তারপর অন্যগ্রুপে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সেলেকাও জার্সিতে ব্রাজিলের রিচার্লিসনের সার্বিয়ার বিরুদ্ধে কাব্যিকছন্দময় গোল, সবকিছু নিঃসন্দেহে প্রচন্ড চাপ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা দলের ওপর। সেই চাপের প্রভাব কিছুটা লক্ষ্য করা গেল ম্যাচের প্রথমার্ধেও। মেক্সিকো এমনিতেই কঠিন প্রতিপক্ষ, তার ওপর তাদের গোলরক্ষক নির্ভরযোগ্য ওচোয়া। ফলে মেসিরাও জানতেন কঠিন প্রতিরক্ষা ভেদ করেই তাদের গোল করার লক্ষ্যে পৌছতে হবে। মারাদোনার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে হারতে হয়েছিল তাদের সৌদির কাছে আর মারাদোনার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর ঠিক পরদিনই তারা জয়ে ফিরল। প্রথম ম্যাচে সৌদির বিরুদ্ধে বেশ নড়বড়ে দেখানো আর্জেন্টিনীয় গোলরক্ষক এমিলিও মার্টিনেজ এদিন খেললেন দুর্দান্ত। একটি ফ্রিকিক থেকে এবং অন্য একটি ক্ষেত্রে প্রথমার্ধে দুটি অনবদ্য সেভ করলেন। দলের দুর্গরক্ষার শেষ প্রহরী যদি আত্মবিশ্বাস দেখান তাহলে গোটা দল আরও বেশী উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে সেটাই দেখা গেল। আর্জেন্টিনীয় আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল মেক্সিকোর রক্ষণভাগ। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে এই মেক্সিকোতেই আয়োজিত ১৯৮৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জয় করেছিল মারাদোনার নেতৃত্বে আর কার্লোস বিলার্ডোর প্রশিক্ষণে। বলা হয় একার পায়েই দ্বিতীয়বারের জন্য ও এখনও পর্যন্ত শেষবারের জন্য সেবার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন মারাদোনা। সেই মেক্সিকোকেই কাতারের মাটিতে পরাজিত করে এবারের বিশ্বকাপের লড়াইয়ে আবার ফিরে এলেন মারাদোনার উত্তরাধিকারীরা।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মেসির প্রথম গোল এবং আর্জেন্টিনার অগ্রগমন। দুর্দান্ত গ্রাউন্ড শটে গোলের একদম কোণায় এমনভাবে বলটাকে জায়গায় রাখলেন মেসি যে উড়ন্ত বাজের মত বাজের মত ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পেলেন না ওচোয়া। দ্বিতীয় গোলটি ম্যাচের ৮৭ মিনিটে এবং সেটিকে নয়নাভিরাম বলে যায়। এনজো ফার্নান্ডেজের শট মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে দাঁড় করিয়ে আবারও উড়ন্ত ওচোয়ার নাগাল এড়িয়ে গিয়ে আছড়ে পড়ল মেক্সিকোর গোলের জালে। এই জয় আর্জেন্টিনাকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার অস্কিজেন প্রদান করল যদিও কাজ এখনও অনেক বাকি। আর্জেন্টিনার গ্রুপের শেষ ম্যাচও এই মুহুর্তে সি-গ্রুপের শীর্ষে থাকা পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে। লেওয়ানডস্কির মত তারকা আছেন সেই দলে। যারা এদিন তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে বেশ অনায়েসেই ২-০ গোলে পরাজিত করল। সৌদি আরবের ফুটবলাররা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যে উজ্জীবিত পারফরম্যান্স করেছিলেন তাদের প্রথম ম্যাচে এদিন লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও সেই উজ্জীবিত পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও পৌছতে পারেননি। তবে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র করে আর আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে এই মুহুর্তে গ্রুপ-সির একেবারে শেষ স্থানে মেক্সিকো। তবে তারা লড়াকু দল এবং ১৯৮৬-র বিশ্বকাপ থেকে বেশীরভাগ বিশ্বকাপেই তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌছেছে। তাদের গ্রুপের শেষ খেলা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে, যারা ১৯৯৪ সালের ম্যাজিক পারফরম্যান্সের পর আর কোনও বিশ্বকাপেই প্রথম রাউন্ডের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। এবারেও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয় পাওয়ার পরও তাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ যথেষ্ঠই কন্টকপূর্ণ, কারণ সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবেই মেক্সিকো।

অন্যদিকে গ্রুপ-ডি থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স তাদের বিশ্বকাপ ধরে রাখার লড়াইয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। তারা ডেনমার্ককে পরাজিত করল ২-১ গোলে। ফরাসিদের হয়ে দুটি গোলই করলেন কিলিয়ান এমবাপে। এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এমবাপে। যদইও আঁতোয়া গ্রিজম্যানকে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখাচ্ছে। এদিন এমবাপে প্রমাণ করলেন খেলা তৈরি করার পাশাপাশি সুযোগসন্ধানী গোলও তিনি করতে পারেন। এমবাপের দুটি গোলই তার প্রমাণ। ডেনমার্ক লড়াই করলেও ম্যাচের সিঙ্ঘভাগ আক্রমণ এবং গোললক্ষ্যকারী শট ছিল ফ্রান্সের ফুটবলারদেরই নেওয়া। এই জয়ের ফলে এই কাতার বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসাবে পরবর্তী রাউন্ড অর্থাৎ রাউন্ড ওফ সিক্সটিনে নিজেদের স্থান পাকা করে নিল ফ্রান্স। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তিউনিশিয়ার কাছে আটকে গিয়ে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিপাকে পড়ে রয়েছে ডেনমার্ক। তাদের বিপদ আরও বাড়িয়েছে তিউনিশার বিরুদ্ধে অজি সকারুদের এদিন ১-০ গোলে জয়লাভ। ডেনমার্কে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে গেলে তাদের শেষ ম্যাচে এই অস্ট্রেলিয়ার বাধা অতিক্রম করতে হবে। ফ্রান্সের কাছে হারলেও তিউনিশিয়াকে হারিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির অবস্থানে রয়েছে এই মুহুর্তে অস্ট্রেলিয়া। তবে তৃতীয় পর্যায়ের ম্যাচগুলিতে আবারও সব হিসাবনিকেশ ওলটপালট হয়ে যেতে পারে, কারণ ফিফা বিশ্বকাপ চড়াই-উতরাইয়ের খেলা।  

0 Comments

Post Comment