পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

নতুন পুজো, নতুন শক

  • 24 July, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 346 view(s)
  • লিখেছেন : হুতোম প্যাঁচা
মড়কের মরসুম পুজোর মরসুমও বটে। সারা দেশে কেবল পুজো হচ্ছে। সে পুজোর ঠাকুর আর অসুর হুতোমের চোখে

 

 

কোরোনা পুজোয় সুবিধে হল না, গুপুস করে ভ্যাক্সিন পুজোর তোপ পড়ে গেল। কেবল পাণ্ডা কে হবেন সেটি ঠিক কল্লেই হয়। বাবুরো পনেরোই অগস্টে ভ্যাক্সিন আসচে না শুনে আর কোরোনা পাশের বাড়ি ঢুকে পড়েচে দেকে শেষ অবধি থুতনি হতে মাস্কটিকে টেনে নাক পয্যন্ত উঠিয়েছিলেন। বিলেতে ভ্যাক্সিন ভালো ফল দিচ্চে শুনে ইস্তক এক কান থেকে ঝুলিয়ে পলাশীর যুদ্ধু জেতা ক্লাইভের মতন হাসতে লেগেচেন। সেদিন দেহ ধারণ করে এক বাবুকে শুধোলেম একুনি অমন বেয়াড়াপনা করা কী উচিৎ কাজ হচ্চে? ভ্যাক্সিনটি হাতে আসতে তো ঢের দেরী। বাবু বল্লেন, আজ যে লক্ষ্মীবার। আজ কোরোনা পথে বের হবে না। আজ আমাদের দিন। আবার কাল আপিস কাছারি বাজার খুলবে, কোরোনা হাই তুলে চরতে বেরোবে। তকন মাস্ক ছাড়া চলবে না। কোরোনা ক্যালেন্ডার দেকতে শিকেচে নাকি বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা মুখস্থ করেচে সে কতা শুধোবার আগেই বাবুটি রেলায় সিগারেট ধরিয়ে বল্লেন, এবার পুজোটি মাটি হলেও বড়দিনে পুষিয়ে নেব একন। নভেম্বরে ভ্যাক্সিন আসচে। ফুল ফ্যামিলি ফুটিয়ে নেব। তারপর শীতের ভেকেশনে লং ট্রিপ যাব। এ সনে শুনচি ছেলের একজামিন হচ্চে না। অমনি প্রোমোশন হবে।

হুতোম বল্লেন, যাবেন কোতা? ট্রেন প্লেন সব যে বন্দ। বাবু এক ফুঁ তে সব উড়িয়ে দিয়ে বল্লেন, কদিন পরেই খুলে যাবে সব। দেকচেন না আনলক চলচে? প্লেন তো চালু হয়েই গেচে। নাহয় দু পয়সা বেশি দিয়ে কলকেতা হতে গোয়া যাব দিল্লী লখনৌ কানপুর যা বলবে তাই ঘুরে। অ্যাদ্দিন পর ঘর থেকে পরিবার ট্যাঁকে করে বেরুচ্চি আর নানা দেশ ঘুরব না এ বা কি কতা? এ সওয়ায় সরকার বাহাদুর তোফা ট্রেনের বেওস্তাও কচ্ছেন। আর বচ্ছর সামারে ইংরেজি সিনেমার মতন ট্রেনের জানালা দিয়ে কান্ট্রিসাইড দেকতে দেকতে ঘুরতে যাব।

আমাদের সম্পাদক বিলাপ করে দেশে আর সবের আকাল, কেবল নিন্দুক গজগজ কচ্ছে। এক নিন্দুক কাচেই আচেন হুতোম ঠাওর কত্তে পারেননি। নিন্দুকটি বল্লেন, ভ্যাক্সিনটির দাম কত হবে মশায়ের জানা আচে নাকি? অধম গরীব মানুষ কিনা, তাই জিজ্ঞেস কচ্ছি। মুকুজ্জের মেয়েকে মণ্ডলে কি মোছলমানে বিয়ে কত্তে চাইলে মেয়ের বাপের মুখখানা যেমন হয় তেমনধারা মুখ করে এক কানে মাস্ক বাবু বল্লেন, বেশি নয়। একটি হাজার টাকা লাগবে। নিন্দুক ছেড়ে দেবার লোক নন। ফের বল্লেন এ কি আর অল্প হল? আমি আচি, পরিবার আচেন, দুইটি সন্তান। কোরোনার চোটে এদিকে চাকরিটি গিয়েচে। চাট্টি হাজার টাকা পাই কোতায়? বাবু বেজায় চটে বল্লেন, তা বল্লে চলবে কেন? এমতাবস্থায় টাকার যোগাড় কত্তে হবে বইকি। যে উপায় হোক।

বাবুর গোঁসা দেকে হুতোমের ভারী আমোদ হল। বল্লেন, সরকার বাহাদুর বিনামূল্যে সকলকে টীকা দেয়ার বেওস্তা করবেন না বুঝি? শকুন্তলার দিকে দুর্বাসা যেমন চেয়েছিলেন, চীনের দিকে প্রধান সেবক যেমন চেয়েছিলেন তেম্নি দৃষ্টিতে হুতোমকে ভস্ম কত্তে কত্তে বাবু বল্লেন, আর কত করবেন সরকার আপনাদের জন্যে? মোটে হাজার টাকা দেবেন। এটুকুনি আত্মনির্ভর হতে পাল্লেন না? আপনাদের সাথে কতা বল্লে কেবল আয়ু ক্ষয়। বলে সত্বর মাস্কটি জায়গা মতন বসিয়ে গটগটিয়ে চলে গেলেন। তবে নিন্দুক পিছন হতে ফুট কাটতে ছাড়লেন না। ও মশাই চটচেন কেন? আহা সেদিন যে প্রধান সেবকের ছোট সেবক বল্লেন তেনারা ভোটে জিতলে ফ্রিতে ইলেকট্রিসিটি দেবেন? ভ্যাক্সিন তো তুশ্চু।

 

ইলেকট্রিক শক

ফ্রিতে ইলেকট্রিক দেবার কতাটি কানে বড় মিঠে লেগেচে। কোরোনার আমলে ইলেকট্রিকের বিল দেকে বস্তির রিকশাওলা হতে ফট্টি টু র বাবু বিবি অবধি সকলের শক লেগেচে। মায় আমাদের সম্পাদকের হিরোইন গার্লফ্রেন্ড টিকটক হারানোর দুখখুর চে বড় শক পেয়ে টুইট করেচেন #DontBreakMyHeartCESC. অতেব সম্পাদক কাগচের পয়লা পাতা হতে শেষ পাতা অবধি ইলেকট্রিক কোম্পানির চোদ্দ পুরুষ উদ্ধার কল্লে। মন্ত্রী সান্ত্রী মোসায়েব সকলের বিল ছাদ ফুঁড়ে ফেলায় ছোট সরকারের ছোট কত্তা বেজায় ধমক দিলেন। বিলগুলি গুটিগুটি নেমে এসে বাবুদের পায়ে ধল্লে। শহুরে বাবু বিবিরা ঠাকুরকে বল্লেন আমাদের আয়ু ছোট কত্তার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দাও প্রভো। এদিকে গাঁ ঘরের লোকেও বিস্তর চেঁচামেচি কল্লে তাদের লম্বা বিল নিয়ে। বল্লে ছোট বড় মেজ কত্তারা যকন অন্য কোম্পানির কান মুলে বিল কমাতে পারেন তকন নিজ সরকারী কোম্পানির বিলটি কমান না কেন? সি ই এস সি র ভ্যাক্সিন বুঝি এস ই ডি সি এল রোগে খাটবে না? সে চিৎকার সরকার কি সেবকদের কানে গেল না। সম্পাদক বল্লে লোকে গাঁয়ের কতা পড়তে কাগচ কেনে না।

কালে কালে ফ্রি তে ইলেকট্রিক পাওয়া যাবে শুনে বাবুদের বড় আহ্লাদ হয়েছিল। হুতোমের সন্দ হওয়ায় সম্পাদককে শুধোলেন, ভায়া, সেবকেরা সত্য বলচে না মিছে কতা কইচে? ফ্যালো ভোট নাও ভোল্ট? সম্পাদক বল্লে অন রেকর্ড বলচি হতেই পারে। অফ রেকর্ড বল্লে, প্রধান সেবক নতুন আইন কচ্ছেন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলির প্রাণ বাঁচাতে। তারা নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের মতন উপোসে মারা যাচ্চে। সে আইনে ইলেকট্রিকের দাম বাড়বে পেট্রোল ডিজেলের মতন। এদিকে ছোট সেবক বলচেন ফ্রিতে দেবেন। একন আপনিই বুঝে দেকুন।

হুতোমের এই ১৮০ বছরের শরীরে (আচ্ছা অশরীরই হল) আলো পাখা লাগে না। যে বাবুদের ঘরে বাহাত্তুরে বুড়ো আচেন (শান্তশিষ্ট বুড়োদের কতা হচ্চে। ঠ্যাঁটা কবি বুড়োগুলো বিদেয় হলে বাবুদের ও সরকার বাহাদুরের হাড় জুড়োয়), দুধের শিশু আচেন কি রোগা ভাই বোন আচেন তেনারা ভেবে দেকুন। হুতোমের ভারী বয়ে গেল।

0 Comments

Post Comment