কৃপাচরণ তখন ছোট্ট দুধেভাতে। বাবা বলল,
-ছোটকে দেখিস। তুই তো বড়, সেটা সব্বদা মনে রাখিস।
অষ্টগ্রামের পাশে একটা রোগাসোগা নদী আছে কিংকিণী, তার পারেই বাবাকে দাহ করে বামাচরণ ইয়ারদের সঙ্গে বসে খুলে বসল রামের বোতল। রামের নেশা মাথার মধ্যে ঢুকছে যখন বামাচরণের কানে বাজতে থাকল ওই শেষ কথা, তুই তো বড়, তুই তো বড়।
বাবার এই কথাটা বামার বেশ মনে ধরল। সে বড় হবার জন্য লড়তে থাকল। আজ এর জমি কাড়ে তো কাল ওর মুর্গি উঠিয়ে আনে। দখল করতে করতে একদিন সে গ্রামের প্রায় সব জমির মালিক হয়ে গেল। বামা হয়ে গেল জমিদার।
জমিদার অত্যাচারী না হলে মানায় না। সবাই তো আর নোবল হার্টেড নয়। বামাও শিখল অত্যাচারের কায়দাকানুন। হয়ে উঠল রীতিমত অমরিশ পুরী। অত্যাচারে লোকে অতিষ্ঠ। ছোট ভাইকেও দেখে না। খেতে দেয় না। জামা কিনে দেয় না। নিজে পোলাও পায়েস খায়, কৃপা ঘ্যান ঘ্যান করে ঘুরে বেড়ায় প্রতিবেশীদের বাড়ি।
অবহেলা চড় চাপড় খেয়ে হজম করে মনের ভেতরে রাগ
পুষে একদিন কৃপাচরণও গায়ে গতরে বড় হলো। হয়ে বুঝল বামাচরণ দাদাটিকে না সরাতে পারলে তার আর জীবনে সুখের মুখ দেখা হবে না। কৃপা দল পাকাতে শুরু করল। বেকার, ভবঘুরে, জমিহারানো চাষী দলে আসতে থাকলো। গ্রামের কথক ঠাকুর এমন সব গান বেঁধে দিল, গ্রামে এক নবজাগরণ হয়ে গেল।
তারপর যেবার খরায় মানুষ জেরবার, এই প্রজারা করে দিল বিদ্রোহ । কৃপাচরণ তার নেতা। বেশ কদিন ধরে মারামারি লাঠালাঠি হল। বামার দলে পোড়খাওয়া লাঠিবাজের দল, আর কৃপার দলে শুধু রেগে যাওয়া না খেতে পাওয়া মানুষ। একদিন বামার দল কৃপাকে একলা পেয়ে ঘিরে ধরে চালিয়ে দিল লাঠি। মাথায় আঘাত পেয়ে লুটিয়ে পড়ল কৃপা।
এই আঘাতেই কৃপার ভাগ্য গেল ঘুরে। তার জন্য সহানুভূতির জেয়ার বইতে লাগল। তার পর একদিন মাঝরাতে, গ্রামের সব মানুষ ঘিরে ধরল জমিদারবাড়ি । বামা পালালো জংগলে। কৃপাচরণ ও তার দলবল জমিদারি দখল করে নিল।
কৃপা এবার হল নতুন জমিদার। গ্রামের বড় পূজারী তাকে অভিষিক্ত করল গ্রামের ভাগ্য বিধাতা হিসেবে। এই অনুষ্ঠানেই কৃপা ঘোষণা করল,
-কেলানো নয়, মেলানো চাই । বামাচরণের গায়ে কেউ হাত দেবে না। আমারই তো দাদা ।
জমিদার হয়েই কৃপা শুরু করে দিল একশান। সে জানে সময় বহমান, আজ আছে কাল নেই, যা করার চটপট করে ফেলে হবে।
প্রথমেই সব জমি দোকানপাট বাজার বামার হাত থেকে দখল নিয়ে নিল। সব খাজনা এখন জমতে থাকল কৃপার লকারে। বামা বেচারী গুটি তামাক খেতে খেতে কৃপাকে তোলাবাজ ঢপবাজ কুলাঙ্গার বলে খুব গাল দিল।
দূর দেশ থেকে হঠাৎ উদয় হলো এক সাধু। পাড়ার বটতলায় সে বানালো তার ডেরা। নাম ছড়িয়ে গেল চারদিকে। স্বামী আমোদানন্দ। সে নাকি হিমালয় থেকে দৈবশক্তি নিয়ে এসেছে। তার শরীর এটম দিয়ে নয় এনারজি দিয়ে গড়া। ডেরার গাছের ডালে ডালে বীর হনুমানের দল। হনুমানগুলো সবাইকে দাঁত খিঁচোয় কিন্তু , সাধুকে তারা কিছু বলে না। রটে গেল সাধু নাকি বহুরূপী। ইচ্ছে মত যে কোন পশুর রূপ ধরতে পারে। একজন খবর দিল, বামাদের এক বুড়ো বেতো ঘোড়া খুঁটিতে বাঁধা তার সংগে নাকি সাধুবাবাকে গল্প করতে দেখেছে লোকে।
সাধু গম্ভীর মুখে নামাবলি গায়ে বসে থাকে। সাধুই আবার শিশুদের সঙ্গে হাসা হাসি করে, তাদের ম্যাজিক দেখায়। তবে সাধুকে কিছু প্রশ্ন করলেই চোখ পাকিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
শোনা গেল সাধু নাকি চাইলে বাঘও হয়ে যেতে পারে।
লোকমুখে রটে, কেউ ওনার দেওয়া পবিত্র ছাই নিতে অস্বীকার করে, রাতে নাকি তার ওপর বাঘ হয়ে চড়াও হয়। সাধু অবশ্য কঠোর ভেজ। তাই শুধু মারে। খেয়ে ফেলে না ।
সবাই থরে থরে ফল মূল পনীর নিয়ে ভেট দিয়ে প্রণাম করতে গেল আমোদাদন্দের ডেরায়। কখন উনি কার ওপর রাগেন বলা যায় না।
এদিকে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল গ্রামে। একদিন রাতে ঘুম আসছিল না বামাচরণের। হঠাৎ মনে হলো জানলার পাশে ভারী পায় কিছু হেঁটে বেড়াচ্ছে। আকাশ মেঘলা। আবছা চাঁদের আলো এখানে সেখানে। আর তার ওপরে কে হাঁটে! বিশ্বাস হলো না নিজের চোখকে। একটা গোটা বাঘ। হলুদ কালো ডোরা ডোরা। আর লম্বা একটা পুরুষ্টু লেজ। চোখ রগড়ালেন খস খস করে। দৃশ্য আরও ভয়াবহ এবার। বাঘটা একপা একপা করে গুঁড়ি মেরে একদম জানলার কাছে। যখন ভয়ে জ্ঞান হারাতে যাচ্ছেন, বাঘটা একগাল হাসি হেসে বলল।
“ভয় নেই। ভরসা রাখেন। আমি তোমায় খাইব না। আমি ভেজ। “
বামাচরণ অনেক ঘাটের জল খেয়েছেন। বাঘ যখন বলছে ভেজ তখন আর ভয় কি। তিনি সাহস করে জবাব দিয়ে দিলেন,
-আপনি এখানে কি করিতেছেন? আপনাকেও কি নীচ কৃপাচরণ ঘরসে নিকাল দিয়া?” বামাচরণ সাধু চলিত হিন্দী বাংলা সব ঘুলিয়েছেন ।
বাঘবাবাজী একবার তাঁর ঝকঝকে দাঁত বার করে হাসলেন। তারপর মেঘনিনাদের মত শব্দে জানালেন
-আমি তোর ঘর ফিরে দেব। কাল সোকালে আমার ডেরায় এক হান্ডি চানাচুর আর পেডা রেখে আসবি। কাল ওখানে মহোৎসব হবে। সকলের নেমন্তন্ন।
এই বলেই বাঘ চাঁদের আলোয় জলে নুন গোলার মত মিশে হারিয়ে গেল।
বামাচরণ আহ্লাদে ঘরের মধ্যে একবার ভাংরা নেচে নিলেন। এবার দেখি ব্যাটা কৃপার কি হাল হয়।
আড়ালে আড়ালে বামার সমর্থক এখনও শখানেক টিকে ছিল গ্রামে। তাদের খবর দিতে তারা উত্তেজিত হয়ে উঠল,
-আবার আমাদের সময় ফিরে আসছে বামাদা। দেখবেন এই বাঘের পিঠে চড়েই আমরা কৃপাটাকে বাগে আনবো।
সবাই মিলে শ্লোগান দিল,
“জয় বাঘেশ্বর।“
এবার বাঘ হানা দিল কৃপাচরণের বাড়ী। কৃপার হিসেবনিকাশ সব রাত বারোটার পর। একটা ল্যাপ্টপ কিনেছে, গ্রামেরই একটি ছেলে শ্রীকান্ত ব্যাপারীকে কাজ দিয়েছে। ছেলেটি গ্রাজুয়েট, তারপর ট্রেনিং করেছে, কিন্তু ডেলিভারি ছাড়া কিছু কাজ না পেয়ে ঘুরঘুর করছিল। খাজনা তোলা পারবে না, তাই ওকে নিয়েছে হিসেব রাখার কাজে। কৃপা খুব খুশি ওর কাজে। আজকেই বলছিল, এবার তোমার একটা বিয়ের ব্যবস্থাও আমি করে দেব।
-কে আমাকে বিয়ে করবে বস। এই মাইনেতে কি সংসার করা যায়।
-প্ল্যান করছি দাঁড়া। রোশনি, ওই যে ইউটিউবার, আমার জন্য দারুণ সব রীল বানায়। তুই আর ও, টিম হিসেবে কাজ করবি। পছন্দ না তোর?
এমনি সময় হঠাৎ একটা ঝড়ের ঝাপ্টা দেয়, আলোগুলো দপ করে নিভে যায়। ল্যাপ্টপ ব্যাটারীতে চলে, ব্যাপারী কাজ শুরু করে দেয়। কৃপা একটু খোলা হাওয়ায় দম নেবার জন্য বাগানের দরজাটা খুলতেই সামনে দেখে,
জ্বলজ্বলে চোখে লেজ ঝাপ্টাচ্ছে একটা ফুল সাইজ বাঘ।
কৃপার পা মাটিতে সেঁটে গেল, হাত পা হাঁটু যেন কাগজের তৈরি। ধপাস করে মাটিতে পড়ে যেতে যেতে তার মুখে একটাই কথা এল
“জয় বাঘেশ্বর।”
এটা শুনেই একটা অদ্ভুত পরিবর্তন এলো বাঘটার । টর্চটা যেন ডিম হয়ে গেল, আর বাঘটা একটা বাধ্য কুকুরের মত হাঁটু মুড়ে বসে মানুষের ভাষায় কথা বলে উঠল,
“বচ গয়া বেটা । ঠিক টাইমে তুমি ঠিক মন্ত্রটি বলিয়াছে । ডরো মত। তুমার সঙ্গে আমার কিছু বাত আছে।“
কৃপা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিল, হঠাৎ যেন মাথায় টুনি জ্বলে উঠল। এ বাঘ তো বাঘ নয়, এ নিশ্চয় সাধুবাবা।
“প্রণাম সাধুবাবা।“
“না, বোলো জয় বাঘেশ্বর।”
“জয় বাঘেশ্বর”, ভয়ে কৃপা বিড় বিড় করল।
বাঘ যা জানালো তার সারমর্ম হচ্ছে,
“বামাচরণ দল পাকাচ্ছে, কৃপার সম্পত্তি দখল করার জন্য। কেস করবে, দুর্নীতি আর তোলাবাজির । একই সঙ্গে অনেক লোক নিয়ে একদিন হামলা করে সব লুকানো টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাবে। কৃপার পয়সাও যাবে, জেলেও যাবে।“
“কবে করবে?”
“সামনের অমাবস্যার দিন। সব খোবর আছে। তুই মাল সব লুকিয়ে ফেল এক্ষুনি”
“ভাইয়ের সঙ্গে কেউ এরকম করতে পারে,” কৃপার গলা ভিজে যায়, “বাবা বলেছিল তুই ছোটকে দেখিস, আর সে করছে ভাইএর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র”
কৃপার মনে খটকা লাগে, এতে সাধুবাবার উৎসাহ কেন? ও আবার সি আইডি নয় তো? আমাকে ভুজুংভাজুং দিয়ে গোপন কুঠুরিগুলোর সন্ধান নিয়ে আমাকে জেলে পুরবে?”
“নেহি রে বেটা, তুই যা ভাবছিস তা নয়। মন দিয়ে শোন বেটা। তোর আট ঘাট সব আমার জানা। তুই বচতে পারবি না। বামাচরণ তোকে মারবে নইলে সরকার তোকে ধরবে, কোন দিকে পালাবি তুই। একটা ডিল করি আয়। তোর যত সিক্রেট তুই আমার কাছে লুকিয়ে রাখ, কেউ জান্তেও পারবে না।“
“বদলে?”
“বদলে তুই আমার একটা মন্দির করে দিবি, শ্বেতপাথরের বেদী, সেখানে আমি আমার ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করব, বাস।”
“আমাকে বাঁচাও বাঘেশ্বর। আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। কি করতে বলো তুমি”, কৃপার নেশার ট্যাবলেট খাওয়া হয় নি, তাও মাথার মধ্যে টলমল করছে কেন এমন?
শেষে বাঘের কথাই চূড়ান্ত হয়। ব্যাপারী একটা পেনড্রাইভে সব সিক্রেট তুলে নেবে। কৃপা ভেবে নিল, একাউন্টের পাসওয়ারড, লুকনো লকারের কম্বিনেশান সব কপি করে ডেরায় রেখে আসবে, আর এখানে হারডডিস্ক মোবাইল সব ডিলিট করে দেওয়া হবে।
তারপর খুব শীগগিরই এসে গেল সেই অমাবস্যার সেই রাত। বাঘেশ্বর এক হনুমান পাঠিয়েছিল, সে এসে পেন ড্রাইভ নিয়ে গেছে। হনুমান দিব্যি বাঘের মতই ভাঙ্গা বাংলায় কথা বলে। বাঘেশ্বরের হনু, এটা কৃপার বিশ্বাস করতে অসুবিধে হল না।
রাত তখন ঘুটঘুটে আড়াইটে। কুচকুচে অন্ধকারের থেকে হঠাৎ হৈহৈ করে বাড়ী ঘিরে ফেলল বামাচরণের দলবল।
বামাচরণ পেয়েছে কৃপার সব ধনসম্পদের খোঁজ। স্বামী আমোদানন্দ তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন কৃপার পেন ড্রাইভ, ওর মারণ বাণ। কোটি কোটি টাকার নোট লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা দানা রূপো সব আজ ওদের হাতের মুঠোয়।
কৃপা শান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছিল। ও জানে কেউ ওর টিকিটিও ছুঁতে পারবে না। বাঘানন্দের কাছে যে পেনড্রাইভ গেছে সেটা ফেক। বাঘের পোষাকের মধ্যে কৃপা পরিষ্কার দেখতে পেয়েছিল একটা টাট্টু করা হাত। আর হাঁমুখের মধ্যে ছোট্ট একটা স্পীকার। বাঘেশ্বর অশরীরী নয়, দিব্যি একটা লোক। ব্যাপারী করিতকরমা ছেলে। নকল পেন ড্রাইভ সরল মুখ করে দিয়ে এসেছে। সত্যিই ওর একটা বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
দুম দুম আওয়াজ। দরজা খুলতেই পিল পিল করে ঢুকে পড়ল বামাচরণের দলবল। কোন কথা না বলে সোজা চলে গেল কোম্পুটার ঘরে তারপর শাবল দিয়ে দেওয়াল খুঁড়তে শুরু করে দিল।
এর অপেক্ষাতেই ছিল কৃপা চরণ। ফোনটা তুলে ট্যাপ করল থানার নম্বর।
“স্যার, বাড়িতে ডাকাত পড়েছে, শীগগিরই আসুন”। থানার মেজবাবু ফোন ধরলেন। কৃপার উনি বিলক্ষণ চেনা। আশ্বাস দিলেন এক্ষুনি ব্যবস্থা নেবেন।
ভাংচুর চলছে, আর কৃপা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। মিনিট দশের মধ্যেই একটা বাস আর চারটি গাড়ী এসে থামল বাড়ীর সামনে। তা থেকে নেমে এল ইউনিফর্ম পরা গোয়েন্দার দল।
প্রথমেই ওরা ঘিরে ফেলল বামার দলের লোকদের। দমাদম চলল লাঠির বাড়ি। ওরা শ্লোগান দিতে লাগল, “দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ নিপাত যাক” একটা পুরো বাস ভর্তি হয়ে গেল বামার দলবলে।
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে কৃপা এগিয়ে এল মেজবাবুর দিকে।
“ঠিক সময়ে এসে পড়েছেন স্যার। বাড়ীটা তো ভেঙ্গেই ফেলত। নিরীহ ফারমারদের প্রতি এ কি অত্যাচার বলুন তো।“
মেজবাবু একটু হাসলেন। হাসিটা কেমন বাঁকা। তারপর ডান দিকের একটা তালাবন্ধ ঘরের দিকে লাঠিটা দেখিয়ে বললেন,
“এই ঘরে কি আছে? একটু খুলবেন কি?”
“ওটা তো আমার স্বর্গীয় পিতার ঘর। ওনার স্মৃতিচিহ্ন ওনার ব্যবহার করা বস্ত্র এসব আছে। আমরা ওই ঘর কখনো খুলিই না।“
“তবু আমাদের একবার তো দেখতেই হবে। সারচ করে একটা রিপোরট দিই, সব দিক পরিষ্কার থাকবে”
কৃপাচরণ ইতস্ততঃ করতে দেখে মেজবাবু নিজেই এগিয়ে গেলেন,
“চাবিটা দিন, আছে তো? নইলে তো ভাঙতে হবে।”
“চাবি চাবি… চাবিটা তো কোথায় আছে মনে পড়ছে না”, কৃপা আমতা আমতা করতে থাকেন।
“শ্রীকান্ত, শ্রীকান্ত, রোশনি” বলে হঠাত হাঁক লাগান মেজবাবু। কৃপা ঠিক বুঝতে পারে না জল কোনদিকে গড়াচ্ছে।
“আরে, ওরা তো আমার কর্মচারী। ওদেরও এরেস্ট করবেন নাকি?” একটু যেন তোতলামি দেখা দেয় কৃপার গলায়।
শ্রীকান্ত আর রশ্মি দুজনে ঢুকে পড়ে খোলা দরজা দিয়ে। তাদের গায়ে ইউনিফরম। একবার কৃপার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে তারপর পকেট থেকে চাবি বার করে দেয় মেজবাবুর হাতে।
বাক্স বাক্স টাকা বেরোতে থাকে বন্ধ ঘর থেকে। কৃপার হাতে হ্যান্ডকাফ পরাবার সময় ও দুর্বল স্বরে জানতে চায়
“এরা যে পুলিশের হয়ে কাজ করত তা তো বুঝলাম। কিন্তু বাঘেশ্বর? আমোদানন্দ তার ব্যাপারটা কি?”
মেজবাবুর অনেক দিনের পরিচিত কৃপা। উনি বন্ধুর মতই বুঝিয়ে দেন।
“আমোদানন্দ এক বিরাট ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত। ওদের সেন্টার হচ্ছে বোম্বেতে। ওরা আপনার মত লোক খুঁজে বার করে ঠাকুরদেবতার নামে লোকজনকে ভুলিয়ে টাকা নিয়ে পালায়। আপনি যে বুঝতে পেরেছিলেন বাঘ নয় মানুষ, আর শ্রীকান্তের কাছে ডিস্ক্লোজ করেছিলেন তার জন্য আমরা থ্যাঙ্কফুল। “
গাড়ী গুলো ছেড়ে দেয়। বামাচরণের দলবল তখনো বোঝে নি কি হচ্ছে। তারা শ্লোগান দিতে থাকে,
“জয় বাঘেশ্বর। আমোদানন্দ জিন্দাবাদ।“