পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ- উনি কী বললেন, কী বলতে পারতেন?

  • 25 March, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 635 view(s)
  • লিখেছেন : মহাশ্বেতা সমাজদার
গতকাল প্রাক্তন আইএএস কান্নন গোপীনাথন প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা নিয়ে একটি টুইট করেছেন। উনি কাল রাত আটটায় কী বলেছেন আমরা শুনেছি। কান্নান গোপীনাথনের টুইটের বিষয়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বলতে পারতেন। এখানে সেই পুরো কাল্পনিক বক্তৃতাটি অনুবাদ করে দেওয়া হল।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আপনারা নিশ্চয় জানেন আমরা একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছি। আমরা একসঙ্গেই এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবো, এবং আমরা নিশ্চিত জিতবো। আপনাদের সরকার আপনাদের সঙ্গে মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিকভাবে আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকবে। আজ অবধি আমরা ২০০০০ করোনা পরীক্ষা করিয়েছি, যার মধ্যে ৫০০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সেটা জানা গেছে। যদিও ভারতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিল বা আইসিএমআর জানিয়েছে
 যে ভারতে এই রোগ এখনও কমিউনিটি বা সম্প্রদায় থেকে ছড়ানোর পর্বে পৌঁছয়নি, কিন্তু তবুও সরকার সতর্ক আছে এবং এই পরীক্ষা আরও কত বেশি করে করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আগামীকাল থেকে আমরা রোজ আরও ১০০০০ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবং ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলবার চেষ্টা করছি। আপনারা আগামীকাল থেকে ৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯ ( কাল্পনিক) নম্বরে ফোন করে পরীক্ষা করানো সম্পর্কে জানতে পারেন এবং কী অসুবিধা হচ্ছে সেটা জানতে পারেন। এই টেলিফোনটি টোল ফ্রি এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।
আজকে আমি দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরী বৈঠক করেছি এবং রাজ্য, জেলা ও ব্লক স্তরে চিকিৎসা পরিষেবার জন্য কী কী প্রয়োজন তা নিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। আপনাদের সকলের জন্য একটা খবর দেওয়া জরুরী, অন্তত ১ টি করে 'আইসোলেশন ওয়ার্ড’ প্রত্যেক জেলা স্তরে খোলার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এই ওয়েবসাইটে বাকি দেওয়া আছে, কোথায় কী কী সুবিধা রোগীরা পাবেন। আমি সমস্ত দেশবাসীকে অনুরোধ করব ওই ওয়েবসাইটটি দেখুন এবং কোথায় কিভাবে চিকিৎসা হবে তার সম্পর্কে জানুন। যদি আপনার মনে হয় আপনি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারবেন , তাহলে ওখানে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
আমাদের সমস্ত ব্যবসায়ী বন্ধুদের কাছে অনুরোধ যে কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি কর্মকাণ্ডে আপনার সহযোগিতা এখন বেশী প্রয়োজন, আপনারা এই আর্থিক বছরে যা সাহায্য করবেন তা যদি ২ শতাংশের বেশি হয় তাহলে সেটা আগামী বছরে দেখানো হবে এবং সেটা দ্বিগুণ হিসেবে ধরা হবে। সমস্ত অভিজ্ঞ মহলের সঙ্গে কথা বলে এটা আমার মনে হয়েছে যে আগামী অন্তত ২১ দিন আমাদের সকলেরই শারীরিক দূরত্ব বজায়  রাখা জরুরী , এই বিষয়ে সমস্ত রাজ্য সরকারের সঙ্গেও কথা হয়েছে, তাঁরাও এই মর্মে রাজি আছেন যাতে রোগটির সংক্রমণ আর না বাড়ে।
হয়তো সমস্ত ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আগামী কাল থেকেই সমস্ত জনধন অ্যাকাউন্টে, যাঁদের ৫০০০ টাকার কম টাকা আছে, সেখানে ১০০ টাকা করে দেওয়া হবে প্রতিদিন , এবং সমস্ত শ্রমিককে ২১০০ টাকা করে সরাসরি দেওয়া হবে  সরকারের তরফ থেকে আপাতত এককালীন, পরে আবার এই বিষয়ে ভেবে দেখা হবে। কৃষকদের থেকে কী করে সরাসরি ফসল নেওয়া যায় সেই ব্যবস্থাও করছেন আপনাদের সরকার। আগামী বছরের প্রতিশ্রুত পিএম কিসানের টাকাও অগ্রিম দেওয়া হবে।
নারেগা প্রকল্পের টাকাও অগ্রিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা আগামী বছরের কাজের দিনের সঙ্গে পরে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়া হবে। যারা সরকারি অফিসে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন তাদেরকেও ধরে নেওয়া হবে যে তাঁরা কাজে আসছেন এবং তাঁদের মাইনে দেওয়া হবে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেও বলা হয়েছে যে আরও কিছু টাকা তাঁরা যাতে সরকারকে দিতে পারেন। মনে রাখবেন এই সময়ে হয়তো একটু ইনফ্লেশনের বা মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হবে, কিন্তু এই এত বড় একটা বিপদে যদি আমরা সকলে একসঙ্গে না লড়াই করি তাহলে কখনোই আমরা জিততে পারবো না। আশা করি সকলে একসঙ্গে থাকবেন এবং সুস্থ থাকার চেষ্টা করবেন এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখবেন।
আজ রাত ১২টা থেকে এই ২১ দিনের প্রাথমিক লড়াই শুরু হচ্ছে। সমস্ত দেশবাসীকে আমার অভিনন্দন। ভয় পাবেন না, আপনার সরকার আপনার পাশে।

0 Comments

Post Comment