পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বাংলার সিপিআইএম নেতৃত্বের এখন বক্তব্য কী হবে? শুন্যে বিলীন হওয়াই কি গন্তব্য তাঁদের?

  • 09 September, 2023
  • 0 Comment(s)
  • 863 view(s)
  • লিখেছেন : কল্যাণ সেনগুপ্ত
এটা বুঝতে হবে যে, সিপিআইএম নেতৃত্ব যেটা চাইছেন, সেটা হবার নয়। তারা না চাইলেও মমতা গুরুত্ব পাচ্ছে INDIA জোটে এবং শোনা যাচ্ছে, জোটের নামকরণও নাকি মমতারই মস্তিষ্ক প্রসূত। এই এক নাম মাহাত্ম্যের ফলেই মোদীর ঘুম উড়ে গেছে, প্রচণ্ড নার্ভাস দেখাচ্ছে। সে যাই হোক INDIA জোটে মমতার গুরুত্ব যে যথেষ্ট, তা অনস্বীকার্য। সিপিআইএম নেতৃত্বের যত খারাপই লাগুক, এই বাস্তবকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

এমন প্রশ্নই আজ গুঞ্জরিত হচ্ছে সিপিআইএম দলের অন্দরে। কারণ এরাজ্যের সিপিআইএম নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের রাজনীতি এরাজ্যে কার্যকর করা সম্ভব নয়। কারণ মমতা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতন্ত্রী, গণতন্ত্র হত্যাকারী, দুর্নীতির চুড়ামনি, গরীব জনতার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী, সংখ্যালঘু তোষনকারি, জাতপাতের রাজনীতিতে ইন্ধন প্রদানকারী অতি নিকৃষ্ট প্রজাতির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও অভিযোগ, আর এস এস এর অঙ্গুলি হেলনে পরিচালিত হয়, মোদীর সাথে গোপনে সংযোগ রক্ষা করে এবং ভোট সাঙ্গ হলেই নির্ঘাত NDA তে চলে যাবে। বেইমানি ওর রক্তে আছে। চক্রান্ত করেই সবকিছু হাসিল করেছে। এমনতরো নানাবিধ অভিযোগ নানা সময়ে মমতা সম্বন্ধে করে এসেছেন সিপিআইএম নেতৃত্ব। তাই মমতার সাথে হাত মেলানো, প্রত্যক্ষভাবে বেশ কঠিন সিপিআইএমের।

সিপিআইএমের ভুল রাজনীতির একটি পুরনো ঘটনা মনে পড়ছে। তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলছে। প্রায় এক কোটি উপর শরণার্থীকে অস্থায়ী ক্যাম্প করে আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে দেশের বেশ কয়েকটি প্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন আমেরিকার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে সবরকমের সাহায্য করে চলেছেন। ঘরে বাইরে সর্বত্র ইন্দিরা গান্ধীর প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ। এহেন পরিস্থিতিতেও সিপিআইএম মিছিল করছে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে, আর স্লোগান তুলছে - "ইন্দিরা ইয়াহিয়া এক হ্যায়, ভুলো মৎ ভুলো মৎ"। ইয়াহিয়া খান ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের সেনা তথা দেশেরও ক্ষমতার সর্বাধিনায়ক। সেসময়টা ছিল সিপিআইএমের অন্ধ কংগ্রেস বিরোধিতার যুগ। এখন আবার অন্ধ তৃণমূল বিরোধিতার কারণে সেই একই ভুল করতে চলেছে সিপিআইএম। ঈর্ষা, চূড়ান্ত ঘৃনা ও বদলার ভাবনায় মন আচ্ছন্ন হয়ে থাকলে যুক্তি, শুভবুদ্ধি সব লোপ পায় এবং অবধারিত রূপেই সিদ্ধান্ত ভুল হয়।

অতীতকে মাথায় রেখেই বলতে হচ্ছে, অতঃপর কি? ভোটে যদি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্ভব না হয়, তাহলে কি সিপিআইএম একা লড়বে? নাকি বিজেপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া করবে? আর বলা হবে যে, স্থানীয়স্তরে গড়ে উঠেছে মানুষের জোট। না, ২৪র ভোটে এসব ফাঁফা যুক্তি কিন্তু কেউ মানবে না। সর্বভারতীয় নেতৃত্বও এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। কেরলে বিজেপি জেতার ক্ষমতায় নেই, ফলে ওখানে যা সম্ভব, তা এখানে আদপেই নয়। সবচেয়ে বড় কথা এখন দেশের যা পরিস্থিতি তাতে কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্বকে মমতার সঙ্গে আসন সমঝোতায় বাধ্য করবেনা, এমনটা জোর দিয়ে বলা মুশকিল। কংগ্রেসের কাছে এবারের লড়াই শুধুমাত্র ভোটে হারা জেতার লড়াই নয়, মরণ বাঁচনের প্রশ্ন এবং সেটা শুধুমাত্র কংগ্রেস দলের বিষয় নয় সংবিধান, গণতন্ত্র ও দেশরক্ষার প্রশ্ন, সব কিছুই জড়িত এবারের ভোটের ফলের সাথে।

দেশের জন্য বৃহত্তর স্বার্থে এমন গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনে যদি এরাজ্যে INDIA জোটের সার্বিক বোঝাপড়া হয় তাহলে প্রবল বিজেপি বিরোধী হওয়ায় হয়তো বিজেপির ঝুলি এবার শূন্যই থাকবে। আর তেমনটা না হলে হয়তো ১০/১২টা আসন পেয়ে যাবে এবং সেই সুযোগ নিয়ে যদি কোন ভাবে মোদী সরকার গড়তে সমর্থ হয়, তবে সেটা হবে দেশের পক্ষে চরম সর্বনাশ। তখন আর পারস্পরিক দোষারোপের সুযোগ পাওয়া যাবে কি না বলা মুস্কিল, কারণ পরে হয়তো সবারই স্থান হবে কবরে বা জেলে। সিপিআইএম নেতৃত্ব হয়তো ভাবছেন, এসবই বাড়াবাড়ি আশঙ্কা। সেসব হয়তো  কিছুই হবেনা বরং মোদী আবার জিতলে যদি সত্যিই  তৃণমূলের সর্বনাশ হয় তো হোক না, এতে আমাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। এমন ধ্বংসাত্মক ভাবনার ফল কিন্তু সুখকর নাও হতে পারে। অন্যের ক্ষতি ভাবনার ফল যে বুমেরাং হয়ে ফিরবেনা, তার নিশ্চয়তা আছে কি? আর বারংবার শুন্য ফলের ব্যর্থতা কি দলের সবাই মুখ বুজে মেনে নেবে, নেতৃত্ব দায় নেবে না! এভাবেই দল টিকবে?

সিপিআইএম নেতৃত্বের মাথায় দুশ্চিন্তা ঘুরছে যে, মোদী হারলে মমতার ক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে। কারণ, মোদী শাসনে যে চাপে এখন মমতা আছে, সেই চাপ মুক্ত হয়ে গেলে মমতার  রমরমা আরও বাড়বে, যা আদৌ কাম্য নয় সিপিআইএম নেতৃত্বের। কিন্তু এর বিকল্প ভাবনা হচ্ছে, মোদী হারলে এরাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হবে সিপিআইএমই নিশ্চিতরূপে। আর এটাও লক্ষ্য করে দেখা গেছে যে, চাপে না থাকলে মমতা প্রচুর ভুল করে। এছাড়াও আর একটি সম্ভাবনা জোরদার যে, বিজেপি হারলে কেন্দ্রের মন্ত্রিসভায় সম্ভবত মমতা কোন গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রকের দায়িত্ব নেবেন এবং  রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রধান হবে অভিষেক। এর ফলে তৃণমূল দলে ও মন্ত্রিসভায় বহু উলোট পালটের সম্ভাবনা বিদ্যমান। সিপিআইএমের সামনে তখন সুযোগ আসবে প্রচুর, বাকিটা নেতৃত্বের কুশলতা।

এমতাবস্থায় সিপিআইএম যদি একা লড়ে তাহলে ভোটের ফল কি হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এই বিষয়টা নিয়ে শুধুই নেতৃত্ব ভাবছেন তা নয়, চিন্তিত দলের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কর্মী ও সমর্থক বহু মানুষ। বাংবার ভোটের ফল শুন্য হলে তার খারাপ প্রভাব পড়বে সর্বত্র এবং নেতৃত্ব সে দায় কিছুতেই এড়াতে পারবে না। এটা বুঝতে হবে যে, সিপিআইএম নেতৃত্ব যেটা চাইছেন, সেটা হবার নয়। তারা না চাইলেও মমতা গুরুত্ব পাচ্ছে INDIA জোটে এবং শোনা যাচ্ছে, জোটের নামকরণও নাকি মমতারই মস্তিষ্ক প্রসূত। এই এক নাম মাহাত্ম্যের ফলেই মোদীর ঘুম উড়ে গেছে, প্রচণ্ড নার্ভাস দেখাচ্ছে। সে যাই হোক INDIA জোটে মমতার গুরুত্ব যে যথেষ্ট, তা অনস্বীকার্য। সিপিআইএম নেতৃত্বের যত খারাপই লাগুক, এই বাস্তবকে অস্বীকার করার উপায় নেই। ফলে দলের শ্রীবৃদ্ধি চাইলে স্রোতের বিপরীতে নয়, চলতে হবে স্রোতের অনুকূলেই। সদ্য সমাপ্ত ধুপগুড়ি ভোটের ফল থেকে কোন শিক্ষাই কি নেবেন না নেতৃত্ব? এরকম পুয়োর পারফরমেন্সের পর আর কোন কথা চলে? দেশজুড়ে সমস্ত বিরোধীদের টার্গেট যখন মোদী তখন সিপিআইএম নেতৃত্বের টার্গেট স্রেফ মমতা। কংগ্রেসের জাতীয় নেতৃত্ব কি এই পাগলামি প্রশ্রয় দেবে, মনে হয়না। এমতাবস্থায় সিপিআইএম দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই এখন জরুরি কর্তব্য এবং অপেক্ষা করতে হবে ভবিষ্যত সুযোগের। ধৈর্য্য ধরে সময়ের সাথে চলতে পারলে সুযোগ আসবেই, এটাই কালের নিয়ম। অস্থির মস্তিষ্কে সিদ্ধান্ত নিলে, লাভ নয় ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। তাই সিপিআইএম নেতৃত্বের বর্তমানে একটি উপদেশই মান্য - সত্য রে লও সহজে।

0 Comments

Post Comment