পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

কেন্দ্রের বঞ্চনা ঃ বাংলা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ?

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 204 view(s)
  • লিখেছেন : অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পিএম স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে পিএমশ্রি) বলে একটি প্রকল্প চালু করে। সেই প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি ব্লকে একটি করে মডেল স্কুল চালু করতে হবে যার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা নীতির প্রচলন করা হবে। তিনটি রাজ্য পিএমশ্রির জন্য মৌ সাক্ষর করতে অস্বীকৃত হয় – কেরালা, তামিলনাডু এবং পশ্চিমবঙ্গ। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র এই তিনটি রাজ্যের প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেয়।

প্রস্তাবনা

কিছুদিন আগে খবরের কাগজের পাতায় কেন্দ্র-রাজ্য বঞ্চনা নিয়ে একটা একটা লেখা লিখেছিলাম। তার মোদ্দা কথা ছিল দুটো – এক, কেন্দ্র-রাজ্যে একই সরকার থাকলে রাজ্য যে কেন্দ্র থেকে টাকা পাবেই এরকম কোনো কথা নেই এবং দুই,কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ জনসংখ্যার অনুপাতের থেকে কম টাকা পাচ্ছে যাকে বঞ্চনার একটি পরিমাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সংবাদপত্রের লেখাটি লেখার সময় বিস্তর ডেটা ঘেঁটেছিলাম যা সংবাদপত্রের স্বল্প পরিসরে প্রকাশ করা যায় নি। তাই এই প্রবন্ধে আমি সেই তথ্য নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করব আর কিছু নতুন তথ্য যোগ করার চেষ্টাও করব। যাঁরা খবরের কাগজের পাতায় লেখাটি পড়েছেন তাঁরা জানেন ওখানে আমি মূলত কেন্দ্র-রাজ্য কর বন্টন এবং কেন্দ্র পোষিত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কেন্দ্র পোষিত প্রকল্পের মধ্যে জল জীবন মিশন এবং সমগ্র শিক্ষা অভিযান নিয়েই ছিল আলোচনা। সেই আলোচনা আরো বিস্তারিত ভাবে করার পাশাপাশি আমি বিপর্যয় মোকাবিলার তথ্যও আলোচনায় আনব যা খবরের কাগজের আলোচনায় স্থানাভাবের কারণে দেওয়া যায় নি।

কেন্দ্র-রাজ্য কর বন্টন

কেন্দ্র রাজ্যের কর বন্টনে বৈষম্য আছে কিনা সেটা বোঝার খুব ভালো কোন উপায় নেই। কারণ কোন রাজ্যের কত কর প্রাপ্য সেটার ফর্মূলা বেশ জটিল এবং সহজলভ্যও নয়। তাছাড়া জিএসটি এসে বিষয়টা জটিলতর হয়ে গেছে – কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত করের টাকা কত পাওয়া যাচ্ছে সেটা জানা গেলেও কত পাওয়া উচিত ছিল তা জানা সহজ নয়। বঞ্চনার তাই কোন সহজ পরিমাপ নেই। আমি তাই একটু অন্য ভাবে বিষয়টা দেখার চেষ্টা করলাম। রাজ্য থেকে সংগৃহীত কর এবং কেন্দ্র থেকে পাওয়া টাকার অনুপাত রাজ্যে ক্ষমতা পাল্টালে কীভাবে পালটায় সেটা বোঝার চেষ্টা করেছি। আমাদের আলোচ্য সময়ে কেন্দ্রে সবসময়ই এনডিএ সরকার। আমি তাই দেখেছি রাজ্যে এনডিএ জোটে ভুক্ত পার্টি জিতলে বা হারলে এই অনুপাত পালটায় কি না। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং রাজ্য থেকে সংগৃহীত করের অনুপাত কিন্তু দুটো কারণে কমতে পারে -- কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত অর্থ কমলে যেমন এই অনুপাত কমে তেমনই রাজ্য থেকে সংগৃহীত অর্থ বাড়লেও কমে। এই বিশ্লেষণেও আসব আমরা। তার আগে দেখে নিই এই অনুপাতের সঙ্গে রাজ্যের মাথাপিছু আয় ( GSDP per capita) এবং রাজ্যের শাসকের রাজনৈতিক পরিচিতির সঙ্গে কোন সম্পর্ক আছে কিনা।

 

চিত্র ১ রাজ্যের গড় জাতীয় উৎপাদন, কর প্রাপ্তি-সংগ্রহ অনুপাত এবং শাসক দল

এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় – গরীব রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই অনুপাতটি বেশী। সেটা কিন্তু দুটি কারণে হতে পারে – গরীব রাজ্যে মোট উৎপাদন কম এবং কর সংগ্রহ কম বলে অথবা কেন্দ্রে গরীব রাজ্যদের বেশি টাকা দেয় বলে। আমরা পরের টেবিলে এই প্রাপ্তি-সংগ্রহের অনুপাত কী ভাবে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে পাল্টাচ্ছে এবং তা কোন চলকের কারণে বাড়ছে বা কমছে সেটা বোঝার চেষ্টা করব।

 

 

সারণী ১ রাজ্যের শাসকদল পরিবর্তন এবং করের প্রাপ্তি-সংগ্রহের অনুপাতে পরিবর্তন।

এই টেবিল থেকে দুটো জিনিস পরিষ্কার – এক, প্রাপ্তি-সংগ্রহের অনুপাতের পরিবর্তন শাসকদলের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আর দুই, এই অনুপাতের পরিবর্তন প্রায় সব ক্ষেত্রেই কর সংগ্রহের পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের রাজ্যকে কর প্রদানের পরিমান দিয়ে নয়। এছাড়া জিএসটির আগে বা পরে যে পরিস্থিতির খুব পরিবর্তন হয়েছে এমন নয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই বিশ্লেষণ সম্ভব নয় যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় নি। আমরা এখানে তার বদলে জিএসটি আসার আগে ও পরের অবস্থার একটি অবস্থা দেখব।

Metric

Pre-GST Avg
(2011-12 to 2016-17)

Post-GST Avg
(2017-18 to 2024-25*)

Change

Avg Own Tax Revenue (₹ Cr)

37,823

73,212

35,389

Avg Total Devolution (₹ Cr)

58,083

97,031

38,948

Avg Devolution Ratio

1.556

1.326

-0.230

Avg Centre Dependency (%)

60.8%

57.0%

-3.8%

Avg GSDP (₹ Cr)

10,48,333

21,21,250

10,72,917

Own Tax as % GSDP

3.57%

3.48%

-0.09%

Devolution as % GSDP

5.53%

4.61%

-0.93%

No. of years in average

6

8

 

 

সারণী ২ পশ্চিমবঙ্গে জিএসটি র আগে ও পরে কর সংগ্রহ এবং কেন্দ্র থেকে করাংশ প্রাপ্তির অবস্থা

এখানে দেখা যাচ্ছে, জিএসটি আমলে আগের তুলনায় নিজ কর এবং কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত টাকা দুই-ই বেড়েছে, কিন্তু অনুপাতটি কমে গেছে। সেটার কারণ, নিজ কর বেশি হারে বেড়েছে।

 

বিপর্যয় মোকাবিলা

উপরের হিসেবে সেভাবে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ছবি পাওয়া যাচ্ছে না। তার একটা কারণ হল কেন্দ্রীয় করের বিভাজন ফিন্যান্স কমিশনের ফর্মূলা মেনে হয়। সেখানে বঞ্চনার সুযোগ কম। সেই সুযোগ বেশি সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে সরকার ডিসক্রিশন বা নিজের ইচ্ছেমত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। বিপর্যয় মোকাবিলা সেরকমই একটি বিষয়। নিচের টেবিলে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ বিভিন্ন রাজ্যের বিপর্যয়ে রাজ্যের চাওয়া অর্থের পরিমাণ, মঞ্জুরীকৃত অর্থ এবং কেন্দ্র কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ এবং তার অনুপাত দেওয়া হল। সেভাবে অ-এনডিএ রাজ্যদের কম দেওয়া হচ্ছে তা বলা যায় না। কিন্তু এখানে প্রদত্ত তিনটি অনুপাত – প্রদত্ত অর্থ/আবেদনকৃত অর্থ, মঞ্জুরিকৃত অর্থ/আবেদনকৃত অর্থ এবং প্রদত্ত/মঞ্জুরিকৃত অর্থ – এর হিসেবে, প্রথম দুটিতেই পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় গড়ের থেকে কম এবং তৃতীয়টিতে ঠিক জাতীয় গড়ে রয়েছে। কিন্তু এটা সব অ-এনডিএ শাসিত রাজ্যের জন্য বলা যায় না। কর্ণাটক যেমন তিনটি অনুপাতেই জাতীয় গড়ের থেকে অনেক বেশি।

 

 

 

 

সারণী ৩ বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রাপ্ত অর্থ এবং রাজ্যের শাসক জোট

নিচের টেবিলে আমি এনডিএ বনাম অ-এনডিএ রাজ্যের একটা সার্বিক গড় চিত্র তুলে দিলাম। এতে একটি অনুপাতে প্রদত্ত/মঞ্জুরিকৃত অনুপাতে এনডিএ পিছিয়েই রয়েছে।

 

সারণী ৪ এনডিএ এবং অ-এনডিএ রাজ্যে বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রাপ্ত অর্থ

 

কেন্দ্র পোষিত প্রকল্প

যে খাতে টাকা দেওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় সেটা হল কেন্দ্রীয় পোষিত প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যে তিনটি প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয় তা হল অধুনা গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প (MGNREGA), জল জীবন মিশন এবং সমগ্রে শিক্ষা প্রকল্প। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে এই তিনটিই প্রকল্প কেন? তার একটা কারণ এই প্রকল্পগুলি নিয়ে অভিযোগ ওঠে এবং আমি দেখতে চাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ কতটা সত্যি। কিন্তু আরেকটা কারণ হল, এই তিনটি প্রকল্পের জন্যই খুব ভাল ডেটা আছে যা সব প্রকল্পের জন্য সত্যি না। তাও আমি এই আলোচনায় আরো দু-একটি প্রকল্পের অল্প কিছু পরিসংখ্যান দেব। এখানে আগে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বঞ্চনার পরিমাপটা বলে নি। এই পরিমাপ আগের দুটি ক্ষেত্রের থেকে আলাদা। এক্ষেত্রে আমি কেন্দ্র প্রদত্ত মোট টাকার কত শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে এসেছে তার সঙ্গে সেই প্রকল্পের টার্গেট গ্রুপের কত শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে আছে তার একটা তুলনা করেছি। যেমন, শিক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রে আমি দেখছি ভারতে যত ছাত্র-ছাত্রী সরকারি স্কুলে যায় তার কত শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে বা তফসিলি জাতি ভুক্ত মানুষদের জন্য কোন প্রকল্পের জন্য আমি দেখছি তফসিলি জাতি ভুক্ত মানুষদের কত শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে এরকম।

 

Sources: RS Session 259 AU781 (PM-AJAY) | RS Session 254 AU1549 (PMJVK) | RS Session 266 AU297 (PM-JANMAN) | PIB / NSAP data 2024-25 | NITI Aayog MPI 2023 | SECC 2011 | Census 2011

 

সারণী ৫ পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রাপ্ত অর্থ এবং পশ্চিমবঙ্গের টার্গেট জনসংখ্যার অনুপাত।

এখানে দেখা যাচ্ছে ছবিটা মেলানো মেশানো – কিছু প্রকল্পে টাকা কম, কিছুতে বেশি। এবার আসি জল জীবন মিশনের কথায়। জল জীবন মিশন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের টানাপোড়েন চলছে বেশ কিছুদিন ধরে জল জীবন মিশনে টাকা দেওয়া সার্বিক ভাবেই এখন বন্ধ। আমি তার আগের তথ্য নিচে দিলাম। এই তালিকায় বিহার নিজেই এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে নি। তাই তাদের প্রাপ্ত অর্থ শূন্য। বাকিদের মধ্যে এনডিএ তে না থাকারা যে কম টাকা পায় এটা কিন্তু সবক্ষেত্রে খাটে না। কিন্তু আবারও পশ্চিমবঙ্গ আনুপাতিক হিসেবে কম পেয়েছে।

 

সারণী ৬ জল জীবন মিশনে প্রাপ্ত অর্থ এবং জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনামূলক বিচার

 

এখানে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা দরকার। জল জীবন মিশনে টাকা কম দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের একটা যুক্তি হল পশ্চিমবঙ্গে কাজ কম হচ্ছে। যুক্তিটা যে পুরো ভুল তা নয়। এবার বিভিন্ন রাজ্যের কাজের অগ্রগতির হিসেবটা দেখে নেওয়া যাক। কিন্তু তার আগে অগ্রগতির পরিমাপ নিয়ে একটু ভাবার দরকার আছে। জল জীবন মিশন যে পরিমাপ টা দেয় সেটা হল সেই রাজ্যের কত শতাংশ লোক জল সংযোগ পেলেন। কিন্তু সব রাজ্যের জনসংখ্যা তো সমান নয়। আমি তাই হিসেব করেছি দেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার কত শতাংশ কোন একটি রাজ্যের থেকে জল সংযোগ পেলেন। অর্থাৎ, কোন রাজ্যের গ্রামীণ জনসংখ্যা যদি দেশের ১০% হয় এবং সেই রাজ্য তাদের গ্রামীণ জনসংখ্যার ৫০% কে সংযোগ দেয় তাহলে, দেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার ৫% জলের সংযোগ পেলেন। এই হিসেবে, আমি বিভিন্ন রাজ্যের ৫ বছরের গড় (মিডিয়ান) সংযোগ এবং গড় অর্থপ্রাপ্তি হিসেব করেছি। সেই হিসেব নিচে দেওয়া হল। আমি দু’ভাবে একটি রাজ্যকে র‍্যাঙ্ক করলাম – অর্থের হিসেবে এবং উপরে বলা পারফর্মেন্সের পরিমাপে। এই র‍্যাঙ্কের পার্থক্য নেগাটিভ মানে ভালো কাজ করেও কম টাকা, যেটা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। অন্য দিকে উত্তর প্রদেশ দেখুন, দেশের মাত্র ৫% লোককে জল সংযোগ দিয়ে ১৭% টাকা নিয়ে বসে আছে।

 

 

সারণী ৭ জল জীবন মিশনের অধীনে জল সংযোগ এবং প্রাপ্ত অর্থের অনুপাতের তুলনামূলক হিসেব।

এবার আসব আমার শেষ প্রকল্পের কথায় – সমগ্র শিক্ষা অভিযান। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পিএম স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে পিএমশ্রি) বলে একটি প্রকল্প চালু করে। সেই প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি ব্লকে একটি করে মডেল স্কুল চালু করতে হবে যার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা নীতির প্রচলন করা হবে। তিনটি রাজ্য পিএমশ্রির জন্য মৌ সাক্ষর করতে অস্বীকৃত হয় – কেরালা, তামিলনাডু এবং পশ্চিমবঙ্গ। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র এই তিনটি রাজ্যের প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেয়। পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডিং কমিটি জানায় যে পিএমশ্রির কারণে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেওয়া উদ্বেগ জনক। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় নি। পাঠকদের মনে থাকতে পারে যে আশির দশকে যখন রাজীব গান্ধী নবোদয় বিদ্যালয় চালু করার প্রকল্প নেন তখনও বাধা এসেছিল দুটি রাজ্য থেকে -- পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাডূ। পিএমশ্রি বিতর্কে কেন্দ্রীয় টাকা বন্ধ আছে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছর থেকে। কিন্তু যদি তার আগের বছর গুলি (২০১৯-২০২৩) নিই তাহলেও দেখব পশ্চিমবঙ্গে যেখানে দেশের মোট সরকারি স্কুলের ছাত্রদের ১২% পড়ে, সেখানে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকার মাত্র ৫.৫% আসে এই রাজ্যে।

নিচে আমি মূল টেবিলটি দিলাম। এখানে রাজ্যগুলিকে সরকারি স্কুলে পড়া ছাত্ররা সর্ব শিক্কা অভিযান থেকে মাথাপিছু টাকা পাচ্ছে তার ভিত্তিতে র‍্যাঙ্কিং দেওয়া সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সব থেকে নিচে রয়েছে।

 

 

 

সারণী ৮ সর্ব শিক্ষা অভিযানে সরকারি স্কুলে ছাত্রসংখ্যা ও প্রাপ্ত অর্থের অনুপাত।

শেষের কথা

এখানে যেটা দেখালাম খবরের কাগজে সেটাই সংক্ষেপে লিখেছিলাম। তিনটি বিষয় এখানে উঠে আসে। এক, কেন্দ্রীয় করের টাকার ক্ষেত্রে অ-বিজেপি রাজ্যের বঞ্চনার কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কোন রাজ্যে ক্ষমতা বদল হলে কী হয় দেখেছি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। দুই, বঞ্চনা কোথাও থাকলে আছে সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে ফর্মূলা মেনে টাকা বন্টন হয় না, কেন্দ্রের কিছুটা হলেও ডিস্ক্রিশনের সুযোগ আছে। এরকম দুটি ক্ষেত্র হল কেন্দ্র পোষিত প্রকল্প এবং বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রদত্ত অর্থ। তিন, এই দুই ক্ষেত্রেও সার্বিক ভাবে অ-বিজেপি বিরোধী রাজ্যের বিরূদ্ধে বঞ্চনা আছে সেটা বলা না গেলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগের অন্তত আংশিক সত্যতা আছে। আংশিক বললাম কারণ আমার কাছে এই মুহূর্তে সব প্রকল্পের তথ্য নেই।

 

 

 

0 Comments

Post Comment