এই লেখার কোনো প্রথাগত সূচনা নেই। এর জন্ম এক গভীর অস্বস্তি থেকে।
দুই বছর আগে এক বৃষ্টিবিলাসী সন্ধ্যায় আমি প্রথম জানতে পারি, আমার হাতের স্মার্টফোনটির ভেতরে লুকিয়ে আছে মাটির গভীর থেকে তোলা কিছু মৌল—যাদের নাম উচ্চারণ করতেও কষ্ট হয়। ল্যানথানাম, নিওডিমিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম। তখনই প্রথম মনে হয়েছিল, আমরা যত দ্রুত এগোচ্ছি, মাটি তত দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। আর এই এগোনোর নাম আমরা দিয়েছি ‘সবুজ উন্নয়ন’( নবায়নযোগ্য শক্তি)।
অথচ সবুজের নীচে যে আগুন জ্বলছে, তা কি আমরা দেখতে পাই?
ভারতের উপকূলীয় বালি থেকে শুরু করে রাজস্থানের শিলাস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদ আজ কেবল খনিজ নয়; এটি ভারতের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আগামীর শিল্পবিপ্লবের চাবিকাঠি। কিন্তু এই চাবিকাঠি কি শুধুই প্রযুক্তির দরজা খুলবে, নাকি তা চাপা দেবে মানুষের জীবন, পরিবেশ আর ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর?
এই লেখা সে সব প্রশ্নের সন্ধানে। এখানে বিজ্ঞান আছে, কিন্তু সেটি ক্লাসরুমের শুষ্ক পরিভাষায় সীমাবদ্ধ নয়। আছে রাজনীতি, আছে অর্থনীতি, আছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। আর আছে—সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একজন সাধারণ মানুষের কাতর প্রশ্ন: এই উন্নয়নের সুফল কি আমার ঘরেও পৌঁছাবে, নাকি আমি কেবল তার মূল্য দিতে দিতেই মাটিতে মিশে যাব?
ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার এই উত্তপ্ত সময়ে যখন বিমান হামলা আর মিসাইল আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ছে, তখন একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খায়—আজকের যুদ্ধ মানেই কি শুধু সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি?
বোধহয় না। আসল লড়াইটা এখন অনেক গভীরে। মাটির নিচের ভাণ্ডার আর ল্যাবরেটরির কারিগরি নিয়ে। একবিংশ শতাব্দীর শক্তি আর দুর্বলতা লুকিয়ে আছে সতেরোটি মৌলের ভেতরে। যাদের আমরা বলি ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস’ (REE)।
শুরুটা আসলে কী?
আমরা যখন ‘বিরল মৃত্তিকা’ বলি, নামটার মধ্যে একধরনের বিরলতার ভ্রম তৈরি হয়। কিন্তু আসলে এরা বিরল নয়। পৃথিবীর ভূত্বকে এরা তামা-সিসার মতোই প্রচুর। কিন্তু এদের বের করে আনা, একে একে আলাদা করা, বিশুদ্ধ করা—এই প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল। আঠারো শতকে বিজ্ঞানীরা প্রথম এদের সন্ধান পান। আঠারো শতকে আবিষ্কারের পর প্রথম দিকে এরা ছিল কাঁচ আর মৃৎশিল্পে রঙের সরবরাহকারী। সার ও পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরিতে অনুঘটক (ক্যাটালিস্ট) হিসেবে কাজ করত। কেউ কল্পনাও করেনি যে একদিন এরা ‘টেকনোলজি মেটাল’ নামে পরিচিত হবে। তখন এদের যে খনিজ আকরিক পাওয়া যেত—গ্যাডোলিনাইট, মোনাজাইট—সেগুলো ছিল সত্যিই দুর্লভ। 'বিরল' নামটি সেই সময়ের উত্তরাধিকার। কিন্তু আজ জানি, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এদের ভাণ্ডার ছড়িয়ে আছে। শুধু দরকার সঠিক প্রযুক্তি ও কৌশল।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইলেকট্রনিক সরঞ্জামে ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে বিরল মৃত্তিকার গুরুত্ব আকাশচুম্বী হতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেল, এদের দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে—চুম্বকত্ব (ম্যাগনেটিক সাসেপ্টিবিলিটি) এবং আলোক বিকিরণ(ফ্লুরোসেন্স)। অর্থাৎ, এরা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করতে পারে, আবার শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
অস্ত্রাগারের ভেতরটা কী দিয়ে গড়া?
কল্পনা করুন, আপনার হাতের স্মার্টওয়াচ থেকে শুরু করে আকাশে ওড়া এফ-৩৫ ফাইটার জেট—সবকিছুর ভেতর অদৃশ্য হয়ে কাজ করছে এই মৌলগুলো।
নিওডিমিয়াম (৬০) আর প্রাসিয়োডিমিয়াম (৫৯)-এরা আমাদের স্পিকার আর অডিও সিস্টেমে পরিষ্কার আওয়াজ এনে দেয়। পাতলা স্মার্টফোনেও যে ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার শব্দ শুনতে পাই, তার কৃতিত্ব অনেকটাই এই দুই মৌলের।
ডিসপ্রোসিয়াম (৬৬) আর টার্বিয়াম (৬৫)—এরা না থাকলে এফ-৩৫ ফাইটার জেটের হাই-পারফরম্যান্স ম্যাগনেট বানানো প্রায় অসম্ভব। এই জেটগুলো চরম তাপমাত্রায় কাজ করে। সেই তাপ সহ্য করার ক্ষমতা, চুম্বকত্ব ধরে রাখার সক্ষমতা—এগুলো ঠিক করে দেয় এই ‘ভারী’ বিরল মৃত্তিকাগুলো। ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা, র্যাডার প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ডিভাইস—যেখানে অন্ধকারে সামান্য আলোকে বিবর্ধিত (amplify) করে দেখা সম্ভব হয়, সেখানে বিরল মৃত্তিকার ফসফর [ফসফর (Phosphor) কিন্তু ফস্ফরাস নয়। ফসফর হল, যে সকল পদার্থ ইলেকট্রন বা আলোর শক্তি শোষণ করে পুনরায় দৃশ্যমান আলো নির্গত করে। এদের fluorescent বা phosphorescent ধর্ম থাকে। Fluorescent এবং Phosphorescent কিন্তু আলাদা। প্রথমটি তাৎক্ষণিক, আলোর উৎস সরিয়ে নিলেই এটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় ( হাইলাইটার) আর অপরটি বিলম্বে ঘটে, যার ফলে একটি দীর্ঘস্থায়ী 'আফটারগ্লো' তৈরি হয় ( যেমন অন্ধকারে জ্বলে এমন স্টিকার)। বিরল মৃত্তিকা মৌলগুলো (যেমন ইউরোপিয়াম, টারবিয়াম, ইট্রিয়াম) বিভিন্ন ফসফরের মূল উপাদান। এদের ব্যবহারেই— সিএফএল বাল্ব ও এলইডিতে সাদা আলো তৈরি হয়, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের পর্দায় রঙিন ছবি ফুটে ওঠে, নাইট ভিশন ডিভাইসে দুর্বল আলোকেও বিবর্ধিত করে দেখা যায়।] ব্যবহার হয়। দেশের নিরাপত্তার খুঁটিনাটি জায়গাগুলোতেও তাই এই মৌলগুলো গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছুতেই এই মৌলদের অদৃশ্য উপস্থিতি। অর্থাৎ
ল্যান্থানাম (৫৭) —ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির স্থিতিশীলতা আর শক্তি ঘনত্ব বাড়ায়। একটি ইভির মোট খরচের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই ব্যাটারি; আর সেই ব্যাটারির কর্মক্ষমতা নির্ভর করে ল্যান্থানামের মতো উপাদানের ওপর। ল্যান্থানামের মতো মৌল ব্যাটারির শক্তি ঘনত্ব ও স্থিতিশীলতা বাড়ায়। এছাড়াও এই ল্যান্থানাম না থাকলে ক্যামেরার লেন্স আজকের মতো স্বচ্ছ হতো না। শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির ৮৫ শতাংশেরও বেশি হবে উন্নত বিরল মৃত্তিকা থেকে সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি। আর ইলেকট্রিক মোটরের চুম্বকের জন্য লাগে নিওডিমিয়াম, সামেরিয়াম (৬২), টার্বিয়াম (৬৫), ডিসপ্রোসিয়াম (৬৬) এমনকি রিজেনারেটিভ ব্রেকিং—যে প্রযুক্তি ব্রেক করার সময় শক্তি ফিরিয়ে আনে—সেও নির্ভর করে এই মৌলের উপর।
শুধু গাড়ি কেন, উইন্ড টার্বাইন ঘোরানো হোক বা সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ—নবায়নযোগ্য শক্তির (নিউডিমিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, আর টার্বিয়ামের সমন্বয়ে) প্রতিটি জায়গায় রেয়ার আর্থের ছোঁয়া।
এমনকি এনভিডিয়া জিপিইউ—যা আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেরুদণ্ড—সেখানেও নিওডিমিয়াম আর ডিসপ্রোসিয়াম লুকিয়ে আছে। চিপের কুলিং ফ্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপাদানে ব্যবহৃত চুম্বকে তারা কাজ করে।
চীনের একাধিপত্য: ভুল করে আসেনি
চীন এই খাতে এগিয়ে যাওয়া কোনো দৈবযোগ নয়। ১৯৫০-এর দশকে ভেতর মঙ্গোলিয়ায় বাইয়ান ওবো ভাণ্ডার আবিষ্কারের পর তারা বুঝে যায়, এটা তাদের হাতিয়ার হতে পারে। ১৯৯২ সালে দেং জিয়াওপিং বলেছিলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের তেল আছে, চীনের আছে রেয়ার আর্থ।” আজ এই বক্তব্য ইতিহাসের ভবিষ্যদ্বাণী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারপর থেকে তারা কী করেছিল?
কাঁচা আকরিক রপ্তানি নিরুৎসাহিত করে, দেশীয় প্রক্রিয়াজাতকরণে ভর্তুকি দেয়, সস্তা বিদ্যুৎ ও ঋণের সুবিধা দেয়, গবেষণায় বিশাল বরাদ্দ রাখে, পরিবেশ আইন শিথিল করে খনন সহজ করে তোলে।
ফলাফল? আজ বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ হেভি রেয়ার আর্থ উৎপাদন এবং ৯৯ শতাংশ প্রক্রিয়াজাতকরণ (Processing) ক্ষমতা চীনের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এই সবুজ স্বপ্নের গোড়ায় লুকিয়ে আছে এক রক্তক্ষয়ী বাস্তবতা। যেসব খনিজ এই সবুজ প্রযুক্তির প্রাণ — সেগুলোর উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন — কোনো অংশেই 'সবুজ' নয়।
চীনের বাওতো শহরের কথা বলা যাক। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। এখানে কয়েক দশকের খনিজ পরিশোধনের ফলে তৈরি হয়েছে বিশাল এক কৃত্রিম হ্রদ — বিষাক্ত বর্জ্যের হ্রদ। এই হ্রদের জল এতই দূষিত যে তাতে কোনো জলজ প্রাণী বাঁচে না। এই হ্রদের পাশের গ্রামগুলোতে শস্য উৎপাদন বন্ধ। মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের হার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ডাক্তাররা বলছেন, বাতাসে মিশে থাকা তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা, জলে মিশে থাকা ভারী ধাতু — এসব ধীরে ধীরে মানুষের দেহকে ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে।
২০১০ সালে তারা জাপানের বিরুদ্ধে রপ্তানি বন্ধ করে বিশ্বকে প্রথম শক দেয়। ২০১০ সালে বিশ্ব প্রথম টের পায় এই নির্ভরতার মূল্য। সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপানের সঙ্গে বিরোধের জেরে চীন হঠাৎ বন্ধ করে দেয় রেয়ার আর্থ রপ্তানি। জাপানের ইলেকট্রনিক্স শিল্প, অটোমোবাইল শিল্প হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। কারখানার উৎপাদন লাইন থমকে যায়। বিশ্ব দেখে — একটি দেশ চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো দেশের প্রযুক্তিগত মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে। জাপান, আমেরিকা, ইউরোপ মিলে ডব্লিউটিওতে যায়। ২০১৪ সালে ডব্লিউটিও চীনের বিরুদ্ধে রায় দেয়। চীন কোটা তুলে নেয়—কিন্তু বদলে আনে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, কঠোর পরিবেশ আইনের নামে নতুন নিয়ন্ত্রণ।
এরপর ২০১৬ সালে ছোট ছোট কোম্পানিগুলোকে একীভূত করে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বানায়। ২০২১ সালে সেগুলো আরও একীভূত হয়ে হয় দুটি—চায়না রেয়ার আর্থ গ্রুপ (CERG) আর চায়না নর্দার্ন রেয়ার আর্থ গ্রুপ (NERG)। পুরো খাত এখন সরকারের মুঠোয়।
চীনের বিশেষ সুবিধা: আয়ন-অ্যাডসরপশন ক্লে
চীনের দক্ষিণাঞ্চল আর উত্তর মায়ানমারের কিছু অংশে আছে আয়ন-অ্যাডসরপশন ক্লে। এটা এক ধরনের মাটি যেখানে রেয়ার আর্থ হালকাভাবে আটকে থাকে। এই মাটি থেকে নিষ্কাশন অনেক সহজ ও সস্তা।
অন্যদিকে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া বা বাকি বিশ্বের বেশিরভাগ ভাণ্ডার হলো হার্ড-রক ডিপোজিট—পাহাড়ের শক্ত পাথর থেকে খনিজ বের করতে হয়। সেই প্রক্রিয়া অনেক জটিল, ব্যয়বহুল, আর পরিবেশের ওপর চাপও বেশি। এই কারণেই চীন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে।
বাকি বিশ্বের পাল্টা লড়াই
চীন ছাড়া বিশ্বে দুটি বড় খেলোয়াড় আছে—আমেরিকার এমপি ম্যাটেরিয়ালস (MP Materials) আর অস্ট্রেলিয়ার লাইনাস (Lynas)।
এমপি ম্যাটেরিয়ালস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে তারা ম্যাগনেট তৈরির প্ল্যান্ট বসাবে। মাউন্টেন পাস সাইটে হেভি রেয়ার আর্থ পৃথকীকরণের ক্ষমতাও বাড়াবে।
লাইনাসের মালেশিয়ায়( Malaysia একটি প্ল্যান্ট আছে—গেবেং, কুয়ানতানে। সেখানেও হেভি রেয়ার আর্থ পৃথকীকরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে সামেরিয়াম উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা।
এর বাইরে সম্ভাব্য নতুন উৎসের মধ্যে আছে—
· মাদাগাস্কারের আম্পাসিন্দাভা উপদ্বীপ (মাদাগাস্কারের আম্পাসিন্দাভা উপদ্বীপ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার-এর উত্তর-পশ্চিম অংশে পড়েছে) —চীনের বাইরে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল হেভি রেয়ার আর্থ ভাণ্ডারগুলোর একটি।
· ভিয়েতনাম—আয়ন-অ্যাডসরপশন ক্লে-র উল্লেখযোগ্য ভাণ্ডার আছে।
· ব্রাজিল—বাহিয়া আর গোয়াস অঞ্চলে আয়ন-অ্যাডসরপশন ক্লে পাওয়ার সম্ভাবনা।
· সৌদি আরবের জাবাল সাইদ—জেদ্দা থেকে ৩৫০ কিমি উত্তর-পূর্বে, উল্লেখযোগ্য হেভি রেয়ার আর্থ ভাণ্ডার বলে ধারণা।
কিন্তু এই সবগুলো এখনও বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি পরিণত নয়। সময় লাগবে।
ভারতের গল্প: নারকেলের ছোবড়া থেকে শুরু
ভারতের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো।
১৯০৮ সাল। জার্মান রসায়নবিদ হের শমবার্গ। ত্রিবাঙ্কুর থেকে জার্মানির হামবুর্গে নারকেলের ছোবড়ার চালান এসেছে। শমবার্গ দেখলেন, ছোবড়ার সাথে কিছু রঙিন বালুকণা লেগে আছে। সাধারণ মানুষ হয়তো ময়লা ভেবে উড়িয়ে দিতেন। কিন্তু রসায়নবিদের চোখ ভিন্ন। তিনি খুঁটিয়ে দেখলেন—সেটা মোনাজাইট, এক মূল্যবান খনিজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নারকেলের বোঝা জাহাজে তোলার সময় সেসব বালির সংস্পর্শে আসে। আর সেই বালির উৎস ত্রিবাঙ্কুরের মানাবালাকুড়িচি।
শমবার্গ ব্যবসার সম্ভাবনা দেখলেন। সেসময় মোনাজাইটের প্রচুর চাহিদা ছিল, কারণ এটি থেকে থোরিয়াম অক্সাইড বানানো হতো, যা গ্যাস ম্যান্টেল তৈরিতে লাগত। তিনি ভারতে এসে ১৯১০ সালে মানাবালাকুড়িচিতে কারখানা বসান। পরে চাভারায় আরেকটি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শমবার্গ জার্মান গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার হন। কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ব্রিটিশ ফার্ম লন্ডন কসমোপলিটান মিনারেল কোম্পানি সেগুলো নিয়ে নেয়।
স্বাধীনতার পর, হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার(১৯০৯-১৯৬৬, ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক) উদ্যোগে পরমাণু শক্তি কর্মসূচি শুরু হয়। সিদ্ধান্ত হয়, বাণিজ্যিকভাবে রেয়ার আর্থ ও থোরিয়াম নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৯৫০ সালে গঠিত হয় ইন্ডিয়ান রেয়ার আর্থস লিমিটেড (IREL)। আলুভায় ফরাসি ফার্মের সহযোগিতায় প্ল্যান্ট বসে।
পরে আইআরইএল পরমাণু শক্তি বিভাগের অধীনে পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় পরিণত হয়। কেরল, ওড়িশা, তামিলনাড়ুতে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
ভারতের ভাণ্ডার আর সীমাবদ্ধতা
ভারতের মাটিতে প্রায় ৭.২৩ মিলিয়ন টন বিরল মৃত্তিকা অক্সাইড মজুত আছে। এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ভাণ্ডার। চীনের আছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন।
কিন্তু এখানে বড় সমস্যা—গ্রেড। চীনের খনিজের মান ভারতের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ ভালো।
ভারতের প্রধান উৎস হলো বিচ স্যান্ড মিনারেলস (BSM)—সমুদ্র সৈকতের বালি। এই বালি থেকে সাতটি খনিজ আহরণ করা হয়। তার মধ্যে মোনাজাইট থেকে পাওয়া যায় রেয়ার আর্থ, ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম। থোরিয়াম পরমাণু জ্বালানি ও অন্যান্য কৌশলগত কাজে লাগে।
ভারত সতেরোটি মৌলের মধ্যে সাতটি উৎপাদন করতে পারে—ল্যান্থানাম, সিরিয়াম, প্রাসিয়োডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, ডিপ্রোসিয়াম, সামেরিয়াম।
কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—হেভি রেয়ার আর্থ (HREE) ভারতে পাওয়া যায় না বললেই চলে। আর লাইট রেয়ার আর্থে ভারত উদ্বৃত্ত হলেও হেভির জন্য প্রায় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর।
আরেকটা সমস্যা—ভারতের খনিজের সাথে থোরিয়াম মিশে থাকে। এটা তেজস্ক্রিয়। খনন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর সতর্কতা দরকার। আলুভা প্ল্যান্টে থোরিয়াম অক্সালেটের বর্জ্য জমে বিকিরণের মাত্রা বাড়ায়, কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আর এই থোরিয়াম ভারতের 'তিন-স্তরীয় পারমাণবিক কর্মসূচি'র ভবিষ্যৎ জ্বালানি। ফলে মোনাজাইট শুধু খনিজ সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অঙ্গ। এই কারণেই এতদিন ভারতের মোনাজাইট উত্তোলন ছিল কেবল ইন্ডিয়ান রেয়ার আর্থস লিমিটেড (IREL) নামক সরকারি সংস্থার একচেটিয়া অধিকারে। বেসরকারি কোম্পানির জন্য এই ক্ষেত্র ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয়তা, পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ — এসব যুক্তিতে রাষ্ট্র কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রেখেছিল এই সম্পদকে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা এখন শিথিল হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও খনিজ উত্তোলনে বেসরকারি অংশীদারিত্বের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন আকস্মিক নয়। চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের জায়গা করে নিতে সরকার এখন মনে করছে — সরকারি সংস্থার আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি এই খাতে দ্রুত অগ্রগতির পথে বড় বাধা। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আমাদের সামনে কয়েকটি ভয়ের ছায়া ফেলে দেয়। প্রথমত, ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও অম্লান। ইউনিয়ন কার্বাইড নামক একটি বহুজাতিক কোম্পানি নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে, খরচ কমাতে গিয়ে কী ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, তা আমরা ভুলিনি। সেই কোম্পানির শীর্ষ আধিকারিকরা আজও শাস্তি পায়নি। মৃত ও পঙ্গু মানুষের পরিবার আজও পায়নি পূর্ণ ক্ষতিপূরণ। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আমাদের প্রশ্ন — বেসরকারি কোম্পানির হাতে যখন তেজস্ক্রিয় খনিজ উত্তোলনের দায়িত্ব যাবে, তখন শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কতটা কঠোর হবে? মুনাফার চাপে পরিবেশবিধি শিথিল হলে তার মূল্য কে দেবে? ভোপালের মতো কোনো বিপর্যয় ঘটলে কি সেই কোম্পানির মালিকদের নামে হত্যা মামলা হবে, নাকি আবার আইনি জটিলতায় অজুহাত তৈরি হবে?
দ্বিতীয়ত, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। প্রতি এক টন বিরল খনিজ উত্তোলনে প্রায় দুই হাজার টন বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি হয়। এই বর্জ্যে থাকে অ্যাসিড, ভারী ধাতু, ফ্লোরাইড — আরও থাকে থোরিয়াম ও ইউরেনিয়ামের চিহ্ন। এই বর্জ্য ফেলার জন্য কি জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করা হয়েছে? সেই মানদণ্ড কে কার্যকর করবে? বেসরকারি কোম্পানি কি এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে, নাকি শেষ পর্যন্ত করের টাকায় সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে? এইসব বাস্তব প্রশ্নের সামনে 'আত্মনির্ভরতা'-র স্লোগান শুধু স্লোগান থেকে যায়।
কেরালা বা ওড়িশার উপকূলীয় গ্রামগুলোতে যদি এই বর্জ্যের প্রভাব পড়ে, যদি সমুদ্রের জল দূষিত হয়, যদি মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হয়, যদি জেলেদের জীবিকা শেষ হয় — তার দায় কে নেবে? প্রশ্নগুলো এখনই না তুললে পরে তোলা বৃথা।
তৃতীয়ত, শ্রমিক অধিকারের প্রশ্ন। যে সব বেসরকারি কোম্পানি এই ক্ষেত্রে আসবে, তারা কি স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেবে? নাকি ঠিকা প্রথার মাধ্যমে দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে? খনি বা প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টে কি ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থাকবে শ্রমিকদের? অনিরাপদ কাজের পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে কি চাকরি যাবে?
ভোপালের শিক্ষা আমরা কি সত্যিই গ্রহণ করব? নাকি উন্নয়ন ও মুনাফার নামে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?
আমাদের জিজ্ঞাসা শুধু নীতি-নির্ধারকদের কাছে নয়, নিজেদের প্রতিও। এই সম্পদ আমাদের মাটিতে, আমাদের দেশে। কিন্তু এই সম্পদের মালিক কি আমরা হব, নাকি শুধু উত্তোলনের হাতিয়ার হয়েই থাকব?
আইআরইএল ২০২৫ সালের মার্চে সংসদীয় কমিটিতে জানিয়েছে, “ভারত রেয়ার আর্থের জন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু আমাদের খনিজের গ্রেড কম, তেজস্ক্রিয়তা আছে, তাই নিষ্কাশন দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল। দেশে উৎপাদিত লাইট রেয়ার আর্থ উদ্বৃত্ত। হেভি রেয়ার আর্থ ভারতীয় ভাণ্ডারে নেই বললেই চলে। হেভি আমদানি হয় খুব অল্প পরিমাণে, শুধু ল্যাবরেটরি পর্যায়ের প্রয়োজনে।”
ভারতের নতুন পদক্ষেপ
সরকার এখন বুঝেছে, এই খাতে পিছিয়ে থাকা চলবে না। তাই একগুচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—
অনুসন্ধান জোরদার: অ্যাটমিক মিনারেলস ডিরেক্টরেট ফর এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড রিসার্চ (AMD) উপকূলীয়, অন্তঃপ্রবাহী, নদীর পলি ও শিলা অঞ্চলে নতুন নতুন ভাণ্ডারের খোঁজ করছে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (GSI) ৩৪টি প্রকল্পে কাজ করছে।
উৎপাদন বাড়ানো: বিশাখাপত্তনমে সামেরিয়াম-কোবাল্ট ম্যাগনেট তৈরির প্ল্যান্ট বসেছে। প্রতিরক্ষা ও পরমাণু শক্তি বিভাগের জন্য ইতিমধ্যে ম্যাগনেট সরবরাহ শুরু হয়েছে। ভোপালে তৈরি হয়েছে ‘রেয়ার আর্থ অ্যান্ড টাইটানিয়াম থিম পার্ক’—যেখানে উদ্যোক্তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, পাইলট স্কেলে প্রক্রিয়া দেখানো হবে।
আর্থিক প্যাকেজ: ২০২৫ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৭,২৮০ কোটি টাকার একটি পিএলআই স্কিম অনুমোদন করেছে। লক্ষ্য, দেশে ৬,০০০ মেট্রিক টন প্রতি বছর ক্ষমতার স্থায়ী চুম্বক (REPM) উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করা। পাঁচ বছর বিক্রয়-সংযুক্ত প্রণোদনা থাকছে, পাশাপাশি মূলধনী ভর্তুকিও।
বিদেশি মৈত্রী: পররাষ্ট্র মন্ত্রক অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, জাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, কোট দিভোয়ার-সহ অনেক দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করছে। খনিজ বিদেশ ইন্ডিয়া লিমিটেড (KABIL) আর্জেন্টিনায় লিথিয়াম ব্লকে অনুসন্ধান ও খননের চুক্তি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিটিক্যাল মিনারেল অফিসের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সামনের পথ
ভারতের অভিজ্ঞতা আছে—খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণে বছরের অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রযুক্তিতে পিছিয়ে। চীন যেখানে সলভেন্ট এক্সট্রাকশন পদ্ধতিতে কয়েক দশকের দক্ষতা অর্জন করেছে, সেখানে ভারত এখনও সেই স্তরে পৌঁছায়নি।
রেয়ার আর্থের শিল্প শৃঙ্খলাটা দীর্ঘ—আকরিক থেকে অক্সাইড, অক্সাইড থেকে ধাতু, ধাতু থেকে সংকর, সংকর থেকে চুম্বক, চুম্বক থেকে ডিভাইস। এই পুরো চেইন তৈরি করতে সময় লাগবে। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, গবেষণায় জোর (প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তবে কিছু প্রশ্ন আছে যা আগে রেখেছি)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দেশীয় বাজার তৈরি করা। চীন আজ শুধু উৎপাদনে নয়, রেয়ার আর্থের সবচেয়ে বড় ভোক্তাও। কারণ তারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি ও উইন্ড টার্বাইন বানায়। ভারতেরও যদি ইভি, নবায়নযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রনিক্স শিল্পের বিস্তার ঘটে, তবে রেয়ার আর্থের চাহিদা বাড়বে। আর চাহিদা বাড়লে শিল্পও গড়ে উঠবে।
শেষকথা
ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার এই যুদ্ধের সময়ে একটা কথা পরিষ্কার—আজকের যুদ্ধক্ষেত্রের আসল লড়াই হয় ল্যাবরেটরি আর খনির মুখে। সীমান্তে শুধু তার পরিণতি দেখা যায়।
ডিসপ্রোসিয়াম না থাকলে এফ-৩৫-এর ইঞ্জিনের তাপসহনশীলতা ধরে রাখা যায় না। টার্বিয়াম না থাকলে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনায় নির্ভুলতা আসে না। এই ‘অদৃশ্য অস্ত্রাগার’ যার হাতে থাকে, সে ভূরাজনীতির দাবায় এগিয়ে থাকে।
নারকেলের ছোবড়ার সেই গল্পটা আমাকে বারবার ভাবায়। একসময় যা দৈবযোগ বলে মনে হয়েছিল, পরে হয়ে উঠেছে কৌশলগত চেতনার উদাহরণ। হয়তো আগামী দিনে ভারতের ছোট ছোট উদ্যোগ, নতুন নতুন প্রযুক্তি, বিদেশি অংশীদারিত্ব—সব মিলিয়ে তৈরি করবে স্বনির্ভরতার সেই সোপান।
মাটির নিচের ভূতত্ত্ব যখন বিদেশের ড্রয়িং রুমের রণকৌশল ঠিক করে দেয়, তখন আমাদেরও প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ভারতের কাছে এখন সুযোগ—একশ বছর আগের সেই সূচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, সামনের পথটা নিজের করে গড়ে তোলার।
[গভীর কৃতজ্ঞতা দীনেশ সি. শর্মার ‘হোয়েন জিওলজি মিটস স্ট্র্যাটেজি’ আর আর. চন্দ্র মৌলির ‘এ ডিপ ডাইভ ইনটু প্রেশিয়াস মিনারেলস’ লেখাটির প্রতি। দুটোই দ্য হিন্দুর ই-বুক ‘Rare Earths: India‘s Strategic Statecraft’-এ প্রকাশিত ]