গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারে ইদানীং এক অদ্ভুত অভিনয়ের আতিশয্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনসেবার চিরাচরিত সংজ্ঞাকে ছাপিয়ে প্রার্থীরা এখন প্রতীকী কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছেন। কেউ চপ ভাজছেন, কেউ ঝালমুড়ি মাখছেন, আবার কেউ মাঠে নেমে ধান কাটছেন বা গোয়ালঘরে গোবর দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এই চিত্র বারবার ফুটে উঠছে। আপাতদৃষ্টিতে একে ‘জনসংযোগ’ মনে হলেও, এটি আসলে এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। এই বর্ণময় প্রচারের আড়ালে সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। একদিকে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে। ফলে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে শিক্ষিত যুবসমাজ বেকারত্বের অন্ধকারে দিশেহারা। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের এই ‘ অভিনয়’ সুস্থ গণতন্ত্রের সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে।
অভিনয়ের আড়ালে আসল সত্য
নির্বাচনী ময়দানে রাজনৈতিক প্রার্থীদের 'শ্রমজীবী' হওয়ার যে হিড়িক দেখা যাচ্ছে , তা আসলে সমবেদনার মোড়কে ঢাকা এক চতুর প্রচার কৌশল। একজন হাই-প্রোফাইল প্রার্থী যখন রাস্তার ধারের ধুলোবালি মাখা কোনো দোকানে বসে ঝালমুড়ি মাখেন বা চপ ভাজেন, তখন সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এই কয়েক মিনিটের ভিডিও - র উল্টোদিকে থাকা কঠোর বাস্তবতাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে ক্ষুদ্র বিক্রেতার কড়াই থেকে প্রার্থী চপ তুলে নিচ্ছেন, সেই বিক্রেতার কাছে এটি শখের কাজ নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। প্রার্থীর গিমিক সেই বিক্রেতার দৈনন্দিন পুঁজির অভাব, আকাশছোঁয়া ভোজ্যতেলের দাম কিংবা রান্নার গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কোনো সুরাহা করে না। প্রার্থীর হাসিমুখের ছবির আড়ালে সেই বিক্রেতার কপালে থাকা দুশ্চিন্তার ভাঁজগুলো অদেখা-ই থেকে যায়।
গ্রামাঞ্চলের কৃষি জমিগুলোতেও কাস্তে হাতে ধান কাটা বা মাথায় শস্যের আঁটি নিয়ে প্রার্থীর 'ফটো সেশন' নজরে পড়ছে। এটি প্রকৃতপক্ষে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনিকে লঘু করে দেখানোর এক অপপ্রয়াস। শিক্ষিত বেকারের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে প্রার্থীর গল্প করার চেয়ে, সেই যুবসমাজের কাছে আজ অনেক বেশি জরুরি নিয়োগ দুর্নীতির অবসান এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা । প্রকৃতপক্ষে, এই গিমিকগুলো খবরের শিরোনাম দখল করতে পারে, কিন্তু তা সাধারণ মানুষের জীবনধারণের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না। প্রার্থীর ঝালমুড়ি খাওয়া বা ধান কাটার মধ্যে দিয়ে এক ধরণের কৃত্রিম আত্মীয়তা তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা আসলে ভোটারদের যুক্তিকে আচ্ছন্ন করে আবেগকে উস্কে দেয়। দিনের শেষে, যখন প্রচারের আলো নিভে যায়, তখন প্রান্তিক মানুষের পকেটে টান পড়া বা ভাতের থালায় টান পড়ার কঠোর বাস্তবতার কোনো বদল ঘটে না। গণতন্ত্রের মানদণ্ড তাই প্রার্থীর অভিনয়ের দক্ষতায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নীতির ওপর হওয়া উচিত।
নীতিহীন প্রচার ও 'টোকেনিজম'
গণতন্ত্রের প্রকৃত সার্থকতা ও ভিত্তি নিহিত থাকে গঠনমূলক নীতিগত আলোচনার মধ্যে। একটি সুস্থ নির্বাচনী ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত ছিল ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ভঙ্গুর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সংস্কার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই মৌলিক দাবিগুলো ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে এবং আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু দখল করে নিচ্ছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত 'গিমিক' বা সস্তা প্রচার।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'টোকেনিজম' । এটি এমন এক চতুর প্রক্রিয়া, যেখানে সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধানের পথ খোঁজার বদলে কিছু প্রতীকী কাজের মাধ্যমে মানুষের আবেগকে স্পর্শ করার চেষ্টা করা হয় । প্রার্থী যখন ড্রেন পরিষ্কার করার অভিনয় করেন বা ফুটপাতে বসে খাবার খান, তখন তা সাময়িকভাবে ভোটারের মনে প্রার্থীর 'মাটির মানুষ' ভাবমূর্তি তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত মানোন্নয়নে তা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। এই ধরণের প্রচার ভোটারদের যুক্তি ও বিচারবুদ্ধিকে সাময়িক আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের উন্নয়নমূলক ব্যর্থতার দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। যখন গ্ল্যামার ও নাটকীয়তা নীতির চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র তার প্রকৃত চরিত্র হারিয়ে ফেলে।
রুটি-রুজির সংকট
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ হলো 'রুটি-রুজি'-র মৌলিক প্রশ্নটিকে রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যেভাবে হ্রাস পাচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে একটি পরিবারের পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং সন্তানদের শিক্ষার সুযোগের ওপর। এই সংকটের সাথে সরাসরি যুক্ত দুটি প্রধান বিষয় হলো কর্মসংস্থান ও কৃষির নিরাপত্তা। ভারতের মতো জনবহুল দেশে কর্মসংস্থানই হলো সামাজিক সচ্ছলতার প্রধান চাবিকাঠি; তাই নির্বাচনী প্রচারে নাটকীয় গিমিক দেখানোর চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হলো—আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে বা দেশে ঠিক কতগুলো নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, সরকারি শূন্যপদ পূরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ক্যালেন্ডার কী হবে এবং বিশাল অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তার একটি স্বচ্ছ রূপরেখা প্রদান করা।
ভারতীয় জনগণের অন্নদাতা এবং অর্থনীতির অন্যতম রূপকার হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা আজ চরম অবহেলার শিকার। প্রার্থীর হাতে কাস্তে নিয়ে ধান কাটা বা লোকদেখানো লাঙল ধরার চেয়ে কৃষকের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ফসলের 'ন্যূনতম সহায়ক মূল্য' (এম এস পি )-র আইনি গ্যারান্টি পাওয়া। ভোটপ্রচারের আসল মাপকাঠি হওয়া উচিত ছিল —সারের কালোবাজারি রুখতে সরকারের পরিকল্পনা কী? সেচের বিদ্যুৎ ও জলের খরচ কমানোর উপায় কী? কিংবা ফসলের বীমার সুবিধা প্রান্তিক কৃষকের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে? যতক্ষণ না এই বাস্তব দাবিগুলো রাজনীতির মূলস্রোতে প্রাধান্য পাচ্ছে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষের জীবনের লড়াইটা আড়ালেই থেকে যাবে।
বিজেপি ও তৃণমূলের ব্যর্থতা
দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে—বিজেপি হোক বা তৃণমূল—মৌলিক জনসমস্যার স্থায়ী সমাধানে উভয় পক্ষই চূড়ান্ত সদিচ্ছার অভাব দেখিয়েছে। এই ব্যর্থতার মূলে রয়েছে গভীর কিছু কাঠামোগত কারণ ও রাজনৈতিক কৌশল।
প্রথমত, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান বা বড় শিল্প পরিকাঠামো তৈরির চেয়ে 'পপুলিস্ট' বা জনমোহিনী রাজনীতির ওপর বেশি ভরসা রেখেছে। সরাসরি নগদ টাকা (যেমন বিভিন্ন ভাতা ও খয়রাতি প্রকল্প) দিয়ে ভোটারদের তুষ্ট করার এই সহজ পথটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব মেটাতে পারেনি। এর ওপর রাজ্য প্রশাসনের স্তরে নিয়োগ দুর্নীতি এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা নয়ছয় হওয়ার অভিযোগ সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকার ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা আত্মনির্ভরতার কথা বললেও বাস্তবে তাদের নীতি নির্ধারণে এক প্রবল কর্পোরেট নির্ভরশীলতা লক্ষ্য করা যায়। তারা নির্বাচনী বন্ড বা বড় কর্পোরেট হাউস থেকে আসা বিপুল অর্থকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখলের পর বড় শিল্পপতিদের মুনাফা বৃদ্ধি করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেখানে কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া কিংবা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিগুলো ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি, যখনই বেকারত্ব বা আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির মতো অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়, তখনই বিজেপি অত্যন্ত কৌশলে ধর্মীয় মেরুকরণ বা উগ্র জাতীয়তাবাদ সামনে এনে ভোটারদের আসল সমস্যা থেকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
মূলত তৃণমূলের 'খয়রাতি রাজনীতি' এবং বিজেপির 'কর্পোরেট বান্ধব ও মেরুকরণের রাজনীতি'—উভয়ই সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির লড়াইকে আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। যখনই ভোটের বাজারে বেকারত্ব বা মূল্যবৃদ্ধির ইস্যু বড় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই এই দুই প্রধান শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে কুরুচিকর ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ধর্মীয় সংঘাত উসকে দিয়ে ভোটারদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রিক এই স্বার্থের পাটিগণিতই সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাকে বিপন্ন করে তুলছে।
বিকল্পের সন্ধান ও বামপন্থীরা
নির্বাচনী প্রচারের বর্তমান 'গিমিক' সংস্কৃতির বিপরীতে বামপন্থীরা ঐতিহাসিকভাবেই একটি 'বিকল্প রাজনীতির' কথা বলে থাকে, যেখানে ব্যক্তির চেয়ে ইস্যু বেশি প্রাধান্য পায়। তাদের প্রচারের ধরনে একটি মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়; যখন মূলধারার দলগুলো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ধর্মীয় মেরুকরণে ব্যস্ত থাকে, বামপন্থীরা তখন বেকারত্ব, ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মজুরি এবং ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের মতো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক দাবিগুলোকে সামনে আনে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের মতো বুনিয়াদি প্রশ্নগুলোই তাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি। বিশেষ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বামপন্থীদের কাছে 'স্বামীনাথন কমিশনের' সুপারিশ কার্যকর করাই প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি তারা বড় কর্পোরেটদের বদলে খেতমজুর ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে। তাদের এই রাজনৈতিক অবস্থানটি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক রুটি-রুজির লড়াইয়ের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়।
তবে বিকল্প হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও, বাস্তবে বামপন্থীরা বর্তমানে কিছুটা সংকটের সম্মুখীন। প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলের শেষের দিকে শিল্পায়ন—বিশেষ করে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম—নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাবে ভোটারদের একটি অংশের মনে তাদের সমন্ধে এখনও কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট ডোনেশন গ্রহণ না করার নীতিগত অবস্থানের কারণে বিজেপি বা তৃণমূলের মতো বিশাল ব্যয়বহুল প্রচার চালানো বা সরাসরি নগদ 'খয়রাতি' দেওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা তাদের নেই। এর পাশাপাশি, বুথ স্তরে সংগঠনের শক্তি কমে যাওয়ায় সঠিক বিকল্প ভাবনা বা জনমুখী নীতি নিয়ে তারা অনেক সময় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি করা সত্ত্বেও, বর্তমানের এই 'গিভ অ্যান্ড টেক' রাজনৈতিক আবহে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে তাদের কঠিন লড়াই চালাতে হচ্ছে।
মুক্তির দিশা
গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপান্তর এবং গুণগত উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ ভোটাররা রাজনৈতিক 'গিমিক' এবং 'বাস্তব উন্নয়ন'-এর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যটি অনুধাবন করতে পারবেন। প্রার্থীর ঝালমুড়ি খাওয়া বা ধান কাটার নাটকীয়তা দেখে আপ্লুত হওয়ার মোহ কাটিয়ে তাঁদের সোজাসুজি প্রশ্ন করার সময় এসেছে— এম এস পি (ফসলের ন্যায্য দাম ) - র আইনি স্বীকৃতি কি আদৌ মিলবে? আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ফেরাতে তাঁদের পরিকল্পনা কী ? কিংবা কর্মহীন যুবসমাজের জন্য নতুন স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ কোথায়? ভোটারের এই যৌক্তিক প্রশ্নই পারে রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে।
পরিশেষে বলা যায়, নির্বাচনী প্রচার কেবল একটি সাময়িক উৎসব নয়, বরং এটি একটি জাতির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক। ঝালমুড়ি মাখা বা রাস্তা পরিষ্কারের এই প্রতীকী কর্মকাণ্ডগুলো যতক্ষণ না মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের লড়াইকে স্পর্শ করতে পারছে, ততক্ষণ তা অর্থহীন। সস্তা আবেগের বদলে 'রুটি-রুজির অধিকারই' হওয়া উচিত আধুনিক রাজনীতির একমাত্র মাপকাঠি। যেদিন প্রার্থীর ব্যক্তিগত ক্যারিশমার পরিবর্তে প্রচারের ধরন হবে—যুক্তি, তথ্য এবং জনকল্যাণমূলক নীতির ওপর ভিত্তি করে, সেদিনই ভারতের গণতন্ত্র তার প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পাবে, নচেৎ এই নাটক চলতেই থাকবে।