একটু আগে একটা লোকের হয়ে একটা কাজ করছিলাম। এক ভদ্রমহিলা, বয়স্কা, বিধবা, ৮০ বছর প্রায় বয়স। সল্টলেকের বাসিন্দা। স্বামী ডাক্তার ছিলেন, মারা গেছেন। উনি এখন মহারাষ্ট্রে নাগপুরে এক ছেলের কাছে। ওনার তিন ছেলে।
২০০২ তে উনি ছিলেন অন্য এ্যাসেম্বলি কন্সটিট্যুয়েন্সিতে, এখন বিধাননগর বিধানসভা কন্সটিট্যুয়েন্সি তে। আমার পরিচিত তাই আমি মাসীমার খোঁজ নিচ্ছিলাম যে SIR হয়ে গেছে কিনা। উনি বললেন, না। ছেলে ফোন ধরে বলল, ২০০২ সালে কোন পার্ট নম্বরে ছিল সেটা কি আমাদেরই বার করতে হবে ? কীভাবে বার করবো? এপিক নম্বর দিলে বর্তমান স্টেটাস জানাবে। আমার ধরুন পার্ট নম্বর বা কন্সটিট্যুয়েন্সি নাম ও নম্বর মনে নেই। সেই এপিক কার্ডে আগের কন্সটিট্যুয়েন্সি লেখা আছে; ঠিক আছে কিন্তু কত নং পার্টের ভোট অর্থাৎ বুথের নাম ও নম্বর কী এটা না জানা কি আমাদের অপরাধ?
তাতে নয় বেশ, ফর্ম ফিলআপ করতে পারলাম না, অনলাইনও হলো না, তো ? বড়জোর ভোট দিতে পারবো না। কিন্তু এই ২০০২ সালের বংশের লিঙ্কটা নির্বাচন কমিশন যদি না পেয়ে থাকে, সেই সূত্রে তাকে কি বলা যেতে পারে যে তুমি নাগরিক নও। তাতেও বলতে পারে না। আমাকে নোটিশ করার পরেও তো আমি নোটিশ নাও পেতে পারি, আমি একা মানুষ হতে পারি, আমার মস্তিষ্ক নাও কাজ করতে পারে - এটা কি বুঝবার সামর্থ একটা প্রাইমারি টিচার বা অঙ্গনওয়াড়ি কাজ করে বুথ স্তরের অফিসার বা সাহেবা বুঝতে পারেন?
এটা কি কোন পদ্ধতি হতে পারে?
হ্যাঁ, আমাকে 'টেক আপ' করলো, আমি আদালতে কেস লড়ছি হয় আমি বাদী বা বিবাদী পক্ষের হয়ে; কিন্তু এছাড়া আর কোন ক্ষেত্রেই আমাকে জোর করতে পারে কি?
তাহলে অধিকার রক্ষা, কারুর প্রতি জুলুম করা নাগরিক অপরাধ এসবের অভিভাবক কে? রাষ্ট্র কি নয়? গণতন্ত্র, অগণতন্ত্র - কোনটির জন্য কে?
এগুলো অবশ্যই কেন মাথা, মন সবকিছুই নাড়িয়ে দিচ্ছে? প্রায় সকলের? কেন ?
ভোট দেওয়াটা যেমন অধিকার, ভোট কেউ যদি না দেয়, সেটাও তার অধিকার।
কোন কার্ড করাটা, ধরা যাক, এপিক, আধার যেমন অধিকার। এগুলো পুলিশ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে করায় নি রাষ্ট্র। অতএব এই কার্ড করাটা সবসময়েই ঐচ্ছিক। হ্যাঁ, উচিত বলে একটা কথা আছে। যেমন ধরা যাক, আমার কাঁচা টাকার বিজনেস আছে; ধরা যাক, কয়লাঘাটের বাইরে আমার জলখাবার-টিফিনের দোকান আছে। এখানে তো আমার মাল কিনে আনা, খাবার বানানো, খাবার বিক্রি করা পুরোটাই তো নগদে। এই ভেবে অনেকে তো প্যান কার্ড করেন নি প্রথম দিকে। পরে তাঁরা প্যান কার্ডের জায়গা থেকে ভেবেছেন, নগদ ইনকাম করলেও যদি রমরমিয়ে দোকান চলে, তাহলে ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট খোঁজ নিতে পারে, তাহলে বাবা দরকার নেই, একটা প্যান কার্ড করানো উচিত, ব্যাঙ্কে বই ও করানো উচিত।
বন্ধুগণ, আমি পরম্পরাটা বোঝানোর চেষ্টা করছি।
আধার কার্ডও আসার আগে বলা হয়েছিল এটা ঐচ্ছিক নয়, বাধ্যতামূলক নয়। বাধ্যতামূলক কিছুই নয়। আমার বাড়িতে কোন লোকের যদি লেখাপড়া জ্ঞান না থাকে এবং তার যদি রোজগারও না থাকে, সে যদি বোধবুদ্ধি হীন কেউ হয়, নেহাত সেই কারণে আমি যদি নিষ্ঠুরের মতন তার এপিক, আধার, প্যান, রেশন কার্ড কিছুই না করি - এতে কি প্রমাণিত হয় যে ওর কোন লোকাসস্ট্যান্ডি নেই? ইলেকশন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের চাপ খেয়ে বলেছিল আধার (ঐচ্ছিক) থাকলো। আবার অনলাইনে আপনি SIR জমা দিলে আধার দেখাতেই হবে, আধার ফোনের কানেক্টিভিটি দেখাতেই হবে বলছে। বাহ্ একই প্রকল্পে আধার কে ব্রাত্য বলছি। ঐ প্রকল্পেই আধার আবশ্যিক ভাবে গ্রাহ্য। যুক্তি কী ?
আর আমার ফোন নং থাকতেই হবে কেন? এটা নাগরিক আবশ্যিক কর্তব্য নাকি?
কাজে কাজেই এই প্রকল্পের এই ব্যবস্থায় সমাজে কার উপকার হচ্ছে !
নাগরিকের হাতে সেই ওয়েবসাইট নেই কেন যে এপিক নম্বর দিলেই ২০০২ তে আমি কোন বিধানসভা কন্সটিট্যুয়েন্সি, কন্সটিট্যুয়েন্সি নং, পার্ট নং বা বুথের নাম, ক্রমিক নং পাবো না? কেন উকুন বাছার মতন আমাকেই গোটা বিধানসভার (২০০২) সবকটা পার্ট নং খুঁজতে হবে? নাহলে পার্ট নং আপনাকে জানতেই হবে, এবারে আপনি আপনার নামটা ক্রমিক সংখ্যা বার করলেন।
কিন্তু এ পদ্ধতি কেন? এত কষ্ট কেন? নির্বাচন কমিশনের কি নিজের কাছে এটা সার্চ করার কোন সার্চ ওয়েবসাইট নেই? বিশ্বাস করি না - নিশ্চয়ই আছে। এক সেকেন্ডেই তা বেরিয়ে যাবে যে কারুর সেই সময়ে ২০০২ এ কোন বিধানসভা কেন্দ্র, কোন পার্ট নং, কোন বুথ নং। তাহলে সাধারণের জন্য কেন এই অপ্রতুলতা? যাতে খুঁজে না পেলেই ভাল এমন এক জল্পনা !
আর, এই কাজটি কার? এই কাজটা কি আমার ছেলে- মেয়ের পড়াশুনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? তাদের খাওয়ানো পড়ানোর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? বাড়ির লোকজনদের অসুখবিসুখ হলে তাদের জন্য কর্তব্য পরায়ণ হওয়ার দায়িত্বের মতন কি ভোটার লিস্ট খোঁজার মতন কাজটি সমতুল্য? আমার সংসার করা , শরীর ভাল রাখা, সুচিকিৎসার সাথে ভোটার লিস্টে উকুন বাছা কতটা সাযুয্যপূর্ণ? মানে এই কাজটি কার? মূলতঃ কার? তাহলে, নাগরিকত্বের অস্তিত্ব আছে কিনা, তাতে নাগরিককেই কষ্ট দিতে হবে? কেন? আবারো বলছি, কেন? কাজটা তো রাষ্ট্রের কাজ। কাজটা তো - নির্বাচকরা রাষ্ট্রের সরকারকে নির্বাচিত করে, রাষ্ট্র কি এটা ভুলে গিয়ে নিজে ঠিক করবে যে সে নিজেই নির্বাচকদের ঠিক করবে ? আর তার পদ্ধতি কি এরকম? এটা যদি আতঙ্ক পরিবেশন এর মতন আবহাওয়া হয়, সেটা আগে আন্দাজ করে নি কেন রাষ্ট্র, আর তার জন্য কেন দায়িত্ব নেবেন না কেউ? রাষ্ট্রের তো অন্যতম ও প্রধান দায়িত্ব তার নাগরিক কে রক্ষা করা। নাকি !
তাহলে, এটা কীরকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতির গ্রাহ্যতা যা নিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ই (ভোটাধিকার) প্রয়োগ করবো ?
~