পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, আপাতত ঘরোয়া বাজারে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এনএলজি) মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।সরবরাহের প্রবাহ অটুট রাখতে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এলএনজি ঘরোয়া ব্যবহারে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রোধ করার জন্য বুকিং-সময়সীমা ২১ দিন থেকে ২৫ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকার দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছে। বাণিজ্যিক সংযোগের তুলনায় ঘরোয়া এলপিজিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পেট্রল ও ডিজ়েল এবং অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে না, কারণ, দেশে যথেষ্টই মজুত রয়েছে,এবং অশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১৩০ ডলার অতিক্রম না করলে, পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।বাস্তবে কিন্তু রান্নার গ্যাস এবং বাণিজ্যিক গ্যাস (এলপিজি)-এর জোগান নিয়ে উদ্বিগ্ন গ্রাহকেরা। তাঁদের বড় অংশের অভিযোগ, ফোনের মাধ্যমে গ্যাস বুকিং করতে পারছেন না তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার বুকিং করতে না পেরে রাজ্যের নানা প্রান্তে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলিতে ভিড় বাড়ছে। যে সমস্ত গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি করা নেই, তাঁরাও গ্যাস পেতে সেন্টারগুলোর সামনে ভিড় বাড়াচ্ছেন।গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় রাস্তার ধারের হোটেলগুলিতে কাঠ-কয়লার উনুনে রান্না করা শুরু হয়েছে। হোম সার্ভিস চালাতে একই পথে হাঁটছেন অনেকেই। বুধবার তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। আগামী ২১ মার্চের পর ওই মন্দিরে আর প্রসাদ মিলবে না। তবে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে ফের প্রসাদ বিতরণ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল চালু রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোথাও মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর নেই। তবে গ্যাসের জোগানে টান পড়লে স্কুলপড়ুয়াদের দুপুরের খাবারেও কোপ পড়তে পারে।গ্যাস নির্ভরতা কাটাতে গ্রাহকদের অনেকেই বিকল্প উপায় খুঁজছেন। ইতিমধ্যেই গ্যাসের ঘাটতির জন্য বিভিন্ন অটো রুটের ভাড়া বেড়ে গেছে। সার কারখানা থেকে শুরু করে টাইলস ফ্যাক্টরি—সবই সংকটে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রেস্তোরাঁ শিল্প।ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া' রেস্তোরাঁগুলিকে মেনু ছোট করা এবং গ্যাসের বদলে ইলেকট্রিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
এলপিজি সংকটের প্রভাব পৌঁছে গেছে শ্মশানঘাট পর্যন্ত। অনেক জায়গায় গ্যাস-চালিত চুল্লি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক জায়গায় আবার চিরাচরিত কাঠের চিতায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। এটি পরিবেশ ও খরচ—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিমানে ব্যবহৃত তেল বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল-এর দাম। মধ্যপ্রাচ্যের রুটে বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৬,০০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত। সাধারণত যুদ্ধের সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার চিত্রটা উল্টো। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এর কারণ, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নাও কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনার ওপর চাপ বাড়ছে এবং দাম কিছুটা নিম্নমুখী। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতে, সেপ্টেম্বরের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কম।ভারতের লক্ষ্যমাত্রা ২০৪৭ ও জিডিপি-তে ধাক্কা লেগেছে।ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে 'উন্নত দেশ' হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তার জন্য বছরে ৮-১১% হারে জিডিপি বৃদ্ধি প্রয়োজন। আশঙ্কা হচ্ছে যে তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের উপরেই থাকে, তবে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ০.৬০ শতাংশ (৬০ বেসিস পয়েন্ট) কমে যেতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা।
বিকল্প পথ
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে কিছু বিকল্প পথ খোলা আছে, যেমন, বিকল্প জ্বালানি। সৌর ও বৈদ্যুতিক শক্তির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বাড়ানো। এ ছাড়া রয়েছে কৌশলগত সঞ্চয় - এর ধারণা। ভারতের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছাড়া প্রয়োজন কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা। তবে মোদি বাহিনী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে প্রচারক নামিয়ে দিয়েছেন,যাদের কাজ হচ্ছে এটা প্রচার করা যে গ্যাস সংকট বলে আদৌ কিছু ঘটেনি। কোনও সমস্যা তৈরি হলে মোদি সরকার প্রথমেই যে ডিনাইয়েল মোডে চলে যান এ কথা নতুন কিছু নয়, নোট বন্দি থেকে জিএসটি, করোনা থেকে হালের মহাকুম্ভ সর্বত্র আমরা সেটা দেখেছি । গ্যাস নিয়ে এই পরিস্থিতির জন্য যে দায়ী ভারতের বিদেশনীতি, এ কথা বোঝার জন্য কোনও বিষেশজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ভারতের বিদেশ নীতি
এই সপ্তাহে ভাইরাল হওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন বলেছেন, "গত পাঁচ বছরে ভারত সমস্ত বড় ইস্যুতে নীরবতা বেছে নিয়েছে। এটি আপনার কণ্ঠস্বরের মূল্য হ্রাস করে। আপনি যদি নীরব থাকেন, তাহলে আপনার কোনও ভূমিকা থাকার আশা করা যায় না। আমার কাছে আমাদের নীরবতা এবং আমাদের কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যাতীত বলে মনে হয়।" ভারত বর্তমানে ব্রিকস-এর সভাপতি, ব্রাজিল-ভারত-চীন-দক্ষিণ আফ্রিকা বহুপাক্ষিক গোষ্ঠী, যা দুই বছর আগে আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছিল। ব্রিকস ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে কোনও বিবৃতি জারি করেনি, যা এই গোষ্ঠীর সদস্য। এর পাঁচটি মূল সদস্যের মধ্যে চারজন ইরানে বোমা হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন। ভারতই একমাত্র সেই সমালোচনার প্রতিরোধকারী। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের নীরবতা অদ্ভুত। এটি সংগঠনটিকে অক্ষম করে তোলে, বিশেষ করে যখন এর কোনও সদস্য ভুক্তভোগী হয়। ব্রিকস-এর সভাপতি হিসেবে, ভারতের উচিত নয় যে এই কথা বলার গম্ভীর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া। এই যুদ্ধে অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সাথে দ্বিমত পোষণ করার কারণে ব্রিকসকে হাইজ্যাক করার কোনও অধিকার ভারতের নেই। সম্মানজনক বিষয় হবে আর্জেন্টিনার পদাঙ্ক অনুসরণ ব্রিকস ত্যাগ করা অথবা অন্তত বর্তমান সভাপতিত্ব ত্যাগ করা। ব্রিকসের মধ্যে ভারতের নীরবতা সৌদি আরবের দ্বিধাগ্রস্ততার মতো। কেউ জানে না যে দেশটি ব্রিকসের সদস্য কিনা। ভারতের নীরবতা ভারত ব্রিকসের সভাপতি কিনা তা না জানার সমান।কোয়াডের ক্ষেত্রেও একই কথা। গত বছর ভারত কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করার কথা ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারের মধ্যে শুল্ক বিবাদ এবং অপারেশন সিন্দুর কীভাবে শেষ হয়েছিল তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণার কারণে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পশ্চিম এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত আরেকটি বহুপাক্ষিক গোষ্ঠী, ভারত, ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভেঙে পড়েছে। একইভাবে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ অফ টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের স্বাক্ষরিত উদ্যোগ - আইএমইসি বা ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনতিক করিডোর -ও ভেঙে পড়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) দুই সদস্য, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার কানে কানে জাহাজে টর্পেডো হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু সার্ক অসহায়। হয়তো মোদী সরকারের বিশ্বগুরু ভঙ্গি ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্নতার নীতি গ্রহণের সময় এসেছে।
ইরান নিজেই অভিযুক্ত করছে ভারতকে
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন।পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে এবং এতে ভারতের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে বলে তেহরান মনে করে। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে চাপ দিয়েছিল। সে সময় ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, রাশিয়া থেকে তেল কিনলে তা ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা দিচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়ার তেল নিয়ে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের নীতিরও সমালোচনা করে ইরান বলেছে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন দেখা গেছে।অন্যদিকে ভারত সরকার বরাবরের মতোই বলেছে, তাদের জ্বালানি আমদানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং কোনো দেশের চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না। কিন্তু বাস্তবে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেজুড় হয়ে বসে আছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার,সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতির লক্ষণ নেই। ইরান, ইজরায়েল বা আমেরিকা— কোনও পক্ষই পিছু হটতে নারাজ। হরমুজ দিয়ে যে দুটি জাহাজ জাম নগর বন্দরে এসে পৌঁছেছে,সেই দুটি জাহাজে যে পরিমাণ তেল আছে, তাতে ভারতের বর্তমান সমস্যা যে তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে যাচ্ছে।
বিরোধীদের অবস্থান
কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী যদি তার বাবার কূটনৈতিক বই থেকে একটি পাতাও নিতেন, তাহলে তিনি এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকতেন, সেখানে তার প্রায় দশ লক্ষ স্বদেশীকে আশ্বস্ত করতেন যে ভারত তাদের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। অথবা তিনি মস্কোতে যা বিশ্বের একমাত্র রাজধানী যেখানে বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কোনও অর্থপূর্ণ প্রচেষ্টা চলছে।রাজনীতিবিদদের জন্য, এমনকি জাতির জন্যও, অন্যান্য অনেক কিছুর চেয়ে কূটনীতির মাধ্যমেই বেশি উত্তরাধিকার তৈরি হয়।প্রাক্তন ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে তার কূটনীতির জন্য স্মরণ করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, যিনি তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর এক ভাষণে বলেছিলেন যে, "ইতিহাস কখনও কখনও মহান পরিবারের জীবনী ... এবং ভারতে গান্ধী পরিবার রয়েছে।" নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের বক্তৃতায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মিখাইল গর্বাচেভ বিশ্ব শান্তির জন্য রাজীব গান্ধীর প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেছিলেন। গর্বাচেভ বলেছিলেন, "শান্তি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য - এটি একটি নীতিগত মূল্যবোধ। এবং এখানে আমাদের রাজীব গান্ধীকে স্মরণ করতে হবে, যিনি এত মর্মান্তিকভাবে মারা গিয়েছিলেন।" পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে সংসদে জেফ্রি এপস্টাইন সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী যদি এখন শান্তি উদ্যোগ শুরু করেন, তাহলে তার ছেলেকেও বাবার মতো স্মরণ করা হবে।১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের পর সাদ্দাম হোসেন রাজীব গান্ধীর সাথে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। কুয়েতের দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের শান্তি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মস্কো এবং তেহরান গিয়েছিলেন। আমিরাত থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি ইরাকি স্বৈরশাসক কারও সাথে আলোচনা করতে চাননি। বিশেষ করে যখন ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী আই কে গুজরাল আক্রমণের সমর্থক ছিলেন। এই ধরণের ভারতীয় নীতির ছায়া এখন বিরাজ করছে, কিন্তু কেউই ভারতের শান্তি উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করবে না, তা সে সরকার হোক বা বিরোধী দল, যতক্ষণ না তাদের শান্তি প্রস্তাব কার্যকর হয়।