পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

লেখা পড়া করে যে প্রতিবাদ করে সে

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 201 view(s)
  • লিখেছেন : অপরাজিতা সেনগুপ্ত
গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।

গত কিছুদিনের যে ছাত্র আন্দোলন দেশ কাঁপিয়ে দিয়ে গেল,  তার সঙ্গে আমার নিজের পরিবারের স্বার্থ কিভাবে জড়িয়ে আছে, তাই নিয়ে একটি ইংরিজি পোস্ট করেছিলাম ফেসবুকে। এই লেখাটা সেই পোস্টের মোটামুটি অনুবাদ, সামান্য কিছু সংযোজন আছে।

ইতিমধ্যে আন্দোলন তার অন্যতম একটি উচ্চতায় উপনীত হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, যন্তরমন্তরের সভা ভেঙেছে, ধর পাকড় নিয়ে চাপানউতর চলছে। চরম এড্রেনালিন ঝড়ের পর এখন শরীর জুড়ে নামছে কর্টিসল,  উদ্বেগ আশঙ্কা ফিরে ফিরে আসছে, তবে ১১ ক্লাসে পড়া একটি মেয়ের মা হিসেবে, একটি আধা গ্রামের  বাসিন্দা হিসেবে, এবং সামান্য সংগতির এক ছোট ব্যবসায়ী ও জৈব চাষী হিসেবে  আমার যা বক্তব্য আছে, তা একটু গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছি এখানে।

আমার মেয়ে ভালো ভাবেই মাধ্যমিক পাশ করেছে এই বছর। তার পর থেকেই  বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার এই অধ্যায়টার সমস্যাগুলো আমাদের চোখের সামনে এসে পড়লো। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দেওয়া, একটি কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দ মত একটি বিষয় নিয়ে ভর্তি হওয়া, তার খরচ জোগাড় করা, এসব ব্যাপারকে আর ব্যবস্থা না বলে যে অব্যবস্থা বলাই ভালো, তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এতদিন এই দুরবস্থা দেখেও গা বাঁচিয়ে নিজের সন্তানকে পার করে দেবার প্রবণতা দেখছিলাম উচ্চ ও মধ্যবিত্তের মধ্যে, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আবার যেন মনে হচ্ছে অনেকেই বুঝতে পারছেন যে এর থেকে পালিয়ে খুব কোথাও যাবার নেই, ফলে সরাসরি কিছু প্রতিবাদ জানাতেই হবে। যাঁদের সন্তানরা এখনো ছোট, এবং কখনো না কখনো এই ব্যবস্থার সমস্যাগুলোর সম্মুখীন  হবেন, তাঁদের জন্য তো বটেই, যাঁরা সরাসরি এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের জন্যেও এই কথাগুলো বলা জরুরি বলে মনে হয়।

 

প্রথমেই আমার সমসাময়িকদের বলি, বিশেষ করে আমার মতো শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত মানুষদের, যে "আমাদের সময়তেও প্রতিযোগিতা ছিল!" বলে বর্তমান পরিস্থিতি লঘু করা উচিত হবে না। দেখতে একরকম মনে হলেও কিছু জিনিস  ৯০ এর দশক  থেকে আমূল বদলে গেছে। এর মধ্যে প্রথম হলো  ক্লাস ১১/১২তে স্কুলের বাইরে পড়ার খরচের বহর। স্কুল বা কলেজের শিক্ষকদের যে "ব্যাচ" আমাদের সময়ে চলতো, নানা বাধা নিষেধে (অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্য কারণেই) তা লুপ্ত হয়েছে। আর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর আমরা অনেকেই সরকারি বা আধাসরকারি কলেজে বা ইঞ্জিনিয়েরিং কলেজে বা মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম, যার খরচা আমরা অনেক ক্ষেত্রে হাত খরচের টাকা থেকে দিয়েছি। সেসব সুদিন স্বপ্নের মতো এখন মিলিয়ে গিয়েছে।

প্রথমত, স্নাতক স্তরে শিক্ষার খরচ অস্বাভাবিক রকম বেড়েছে। সরকারি কলেজের সংখ্যা বাড়েনি, কিন্তু সরকারি কলেজের খরচ অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে গেছে। আমেরিকায় যেমন মা বাবারা আজীবন কাজ করে সন্তানদের জন্য এডুকেশন ফান্ড তৈরী করে রাখতে বাধ্য হন, আমাদের দেশেও এখন সেই দশা। ভালো বা নামকরা কলেজ বলতে আমরা যা বুঝি সেই ধরণের প্রতিষ্ঠান এখনো বেশিরভাগ শহরেই আছে, ফলে সেখানে থাকা খাওয়ার খরচাটাও খুব বেশি। আমাদের রাজ্যের পুরোনো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে পড়ার খরচ বাবা মায়ের মাসিক মাইনে থেকে চালানো সম্ভব, বা যেখানে হোস্টেল বা খাওয়ার খরচা নিম্ন বা মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে, সেগুলো এক আঙুলে গুনেই শেষ করে ফেলা যাবে। পশ্চিমবঙ্গে এর মধ্যে এখনো আছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ফলে এটাও প্রমাণ হয় যে কম খরচেও শিক্ষা সম্ভব হতে পারে। দেশ জুড়ে যে মুনাফার ব্যবসা চলছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা, ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি বা অনুদানের মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের দায়িত্ব।

অন্যতম আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো যে এই গোটা ব্যবস্থা, অর্থাৎ ছেলেমেয়েদের স্নাতক স্তরের জন্য তৈরী করে দেওয়া, এর মধ্যে স্কুল আর কোনো দায়িত্ব পালন করতে চাইছে না বা পারছে না। ১১/১২ ক্লাসে নিয়মিত স্কুল যাচ্ছে না বাচ্চারা, বেসরকারি এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলেও। যেহেতু এতো অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, এবং সময় এতো কম, তাই ছেলেমেয়েদের দাবি স্কুলে গেলে তাঁদের অন্য পড়ার সময় থাকছেনা, এবং স্কুলের দাবি যে ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসছে না। এক্ষেত্রে যাদের মধ্যস্ততা করার কথা, সেই অভিভাবকরা স্কুলে ভর্তি করতে এসে খোঁজ নিচ্ছেন যে আগের ক্লাসেও ক্লাস হতো না, এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা স্কুলের সঙ্গে রীতিমতো দরদাম করে উপস্থিতির ছাড় চাইছেন। এটা কি আদৌ একটা আইনি ব্যাপার? কিছু ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে ডামি স্কুল, যেখানে বাচ্চা কখনোই যায় না, শুধু পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন টুকু করা থাকে। এছাড়া আরেক রকম কাণ্ড দেখছি। একরকমের প্যারালাল টিউশনের ব্যবস্থা হয়েছে, সকালে উঠে রোজ টিফিন গুছিয়ে ছেলে মেয়েরা যেখানে যাচ্ছে। সেটা তার স্কুল নয়, টিউশন! এটা আর সপ্তাহে একদিন সন্ধ্যেবেলা প্রধান স্যারের বাড়ি (ধর্মেন্দ্র প্রধান নয়, আমাদের বায়োলজি স্যার প্রধান) পড়ার গল্প নেই, রোজ, সারাদিন, অন্য জায়গায় পড়তে যাওয়া, স্কুলে নয়! সমানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য পড়ে কিন্তু ১২ ক্লাসের পরীক্ষাটাও দিতেই হচ্ছে, ভালো ফলও করতে হচ্ছে। যারা ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তারা বলে চলেছে যে ওই এক সঙ্গেই প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অন্য বিষয় পড়লে দুই রকম প্রস্তুতি নেবার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। যদি কেউ দুটি মাত্র বিষয় স্নাতক স্তরে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়, তবে তাকে নূন্যতম ৪/৫ টি দেশব্যাপী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। একটি বিষয় নিয়ে পড়বো, সেটারই প্রস্তুতি নেবো, এই সাহসও আর কেউ করে উঠতে পারছে না, কারণ হতেই পারে সেই বিষয়টিতে আমি কোথাও সুযোগ পেলামই না!

এই গোটা ব্যবস্থায় বাবা মায়ের ভূমিকাও ক্রমশ বেড়ে উঠেছে। শুধু টাকা পয়সা না, এতগুলো পরীক্ষার জন্য সেন্টারে যাওয়া, এডমিশন ফর্ম থেকে শুরু করে লিস্ট বেরোনো, এ সমস্ত ক্রমে মাথা খারাপ করার মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে! একেক কলেজ একেক পরীক্ষার আওতায়, একেক জন একেক সময়ে লিস্ট বের করছে, প্রত্যেকটায় ভর্তি হতে টাকা লাগছে। পছন্দের কলেজের লিস্ট বেরোয় নি, তাই আরেক জায়গায় ভর্তি হয়ে থাকি, এরকম ভাবনা আমাদের সময়তেও ছিল হয়তো, কিন্তু প্রত্যেক ভর্তিতে ২০/৩০ হাজার টাকা লাগতো না। এক শহরে সব কলেজের এক সঙ্গে লিস্ট বের করাটা ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি সমান্যতম সৌজন্য, সেটুকু যাতে হয় সেটা দেখতেই হবে। শেষ পর্যন্ত হাজারটা ভাবনা ভেবে নিয়ে, টাকা জোগাড় করে, সময়মতো উপস্থিত হয়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া একটা ১৭/১৮ বছরের মেয়ে বা ছেলের পক্ষে সম্ভব? যারা মফঃসল থেকে আসছে,  যারা প্রথম প্রজন্মের ছাত্র, যাদের বাবামায়েরা কাজ বাদ দিয়ে আসতে পারেন না শহরে, তাদের শহরে বা "ভালো কলেজে" পড়ার অধিকার নেই, তাই তো?

আর এ সবের শেষে চাকরি কোথায়? ৯০ দশকের ক্ষণস্থায়ী আই টি বাবল শেষ, স্কুল কলেজ গবেষণার কাজে চাকরি নেই, সরকারি কাজে নিয়োগ নেই, চাকরি নিয়ে ছিনিমিনি, ঘুষ খাওয়া, চাকরি বিক্রি, তার ওপর পরীক্ষার পেপার লীক! এখন আবার নতুন হুজুগ উঠছে লোন নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি করার! নেহাত উন্মাদ না হয়ে উঠলে একটি ১৮ বছরে বাচ্চার ঘাড়ে কেউ লোনের বোঝা চাপানোটা স্বাভাবিক বলে মনে করেনা। সন্তানের শিক্ষার জন্য বাবা মা-ই বা কেন মধ্য বা শেষ বয়েসে এসে ধার করবেন, বা এই অর্থনীতিতে, যেখানে চাকরির পাবার কোন স্থিরতা নেই, সেখানে আমেরিকার মতো সারা জীবনের জন্য লোনের শিকল গলায় বেঁধে কেনই বা কেউ জীবন শুরু করবে?

এই ব্যবস্থা কতদিন চলতে পারে? সরকারি দায়িত্ব ক্রমশঃ কমে আসবে, আর আমরা বেসরকারি স্কুল, বেসরকারি টিউশন, বেসরকারি কলেজের জন্য মুখে রক্ত তুলে রোজগার করে চলবো? উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে আর কতদিন থাকবো আমরা? সরকার দায়িত্ব নেবে না, ব্যবস্থা স্বচ্ছ হবেনা, ছাত্রছাত্রীরা দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ নিয়েই একমাত্র কলেজের দরজায় পৌঁছতে পারবে, এটাই নিয়ম?

মেয়েকে নিয়ে, তার বন্ধুদের নিয়ে মিছিলে গিয়েছিলাম আগের দিন। মিছিল নিয়ে একটা কথা দেখছি খুব উড়ছে। "এরা কেউ ছাত্র নয়!" নীট কেলেঙ্কারি নিয়ে মিছিল হলে সেখানে যাবে শুধু ১১/ ১২ ক্লাসের বাচ্চারা, একা একা? কলেজে যারা পড়ে তারা তো কলেজ অবধি পৌঁছেই গেছে, আপনাদের ছেলেমেয়েদের জন্য তারা দয়া করে মিছিলে আসছে, লাঠি খাচ্ছে, সেটাই আশ্চর্য নয় কি? কাকুরা মিছিলে আসবেনই, রাগী কাকিমারাও আসবেন, কারণ তাদের দায় সব চেয়ে বেশি। ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হলে দাদু ঠাকুমারাও আসবেন, কারণ তারা সময়মতো পাশ করে, সামান্য খরচায় কলেজে পড়ে, সঠিক সময়ে চাকরি পেয়েছিলেন। এমন ভারতবর্ষ দেখেছিলেন যেখানে সৎভাবে সারা জীবন কাজ করে পেনশন পাওয়া যায়। মাঝরাত অবধি কাজ না করেও, ছুটির দিন ছুটি পেয়েও চাকরি টিকিয়ে রাখা যায়, পাশ করলে সরকারি চাকরি পাওয়া যায়, সরকারি স্কুলে সময়মতো, নিয়ম মতো নিয়োগ হয়, এরকম দিন তারা দেখেছেন, তাই তারাও আসবেন মিছিলে। মিছিলে ছাত্র খুঁজলে হবেনা, সবাইকেই পাবেন।

গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! এই শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মনুষত্ববিহীন, দয়াহীন, অর্থলোভী একটি যুগসমাজ গড়ে তুলছে অপদার্থ সরকার, যার মূল দর্শন তথা উদ্দেশ্যই হলো নির্মম মানুষ তৈরী করা। শিক্ষার অবক্ষয় থেকে সমগ্র সমাজের এই অবক্ষয় তো অনিবার্য, যেখানে এই ছেলেটি বা মেয়েটি নিজের পেশাতেও নির্মম, অর্থলোভী এবং স্বার্থপর হবে। আমারও ইদানিং মনে হচ্ছে, যে আমার মেয়েটি হয়তো তার শ্রেণীগত , জাতিগত ,  বা অর্থনৈতিক সুবিধায় পাশ কাটিয়ে এই ব্যবস্থা থেকে একটা ডিগ্রি বা একটা চাকরি জোগাড় করে নিলো, কিন্তু আমি নিজে তো বারবার এই শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল বিবেকহীন কোনও ডাক্তারের পাল্লায় গিয়ে পড়তেই পারি? তাই দায় বা দায়িত্ব আমাদের সবার, এই অসুস্থ, উন্মাদ, স্বার্থপর শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাওয়া। যে বাচ্চাগুলো আমাদের হয়ে মার খেলো, পথে পড়ে রইলো, এবং একটি জয় আমাদের জন্য ছিনিয়ে আনলো, তাদের প্রতি ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে এই আন্দোলন আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

0 Comments

Post Comment