পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

আত্মসমর্পণের রাজনীতির বিরুদ্ধে কিছু কথা —

  • 25 February, 2026
  • 0 Comment(s)
  • 416 view(s)
  • লিখেছেন : দেবজিৎ ভট্টাচার্য
রাষ্ট্র একের পর এক দশক জুড়ে মোটা অর্থ ব্যয় করে মোটা মোটা অপারেশন নামিয়ে প্রকাশ্যে বাইরের যুদ্ধের জোর বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, আড়ালে, আবডালে অভ্যন্তরের যুদ্ধ তীব্রতর করেছে। আজ রাষ্ট্র এই যুদ্ধের নাম রেখেছে 'অপারেশন কাগার'। যা পেছনের যুদ্ধগুলোর অনেক বেশি, সব থেকে শক্তিশালী, আকাশ থেকে মাটি সর্বত্র জুড়ে চলছে। লক্ষ্য একটাই — রাষ্ট্র বিরোধী মাওবাদী শক্তিকে নির্মূল করা।

ধরে নিন, আপনি একজন রাজনৈতিক বিজ্ঞ। এক চায়ের দোকানে 'আত্মসমর্পণের রাজনীতি' নিয়ে বেদম আলোচনা চলছে। সেই সময় আপনি প্রবেশ করলেন। সেইখানে কে কার কাছে আত্মসমর্পণ করলো, কোন নেতা কখন কার হাতে বিক্রি হয়ে গেলো, কে কোন দলে ছিল আর কোন দলে গেল — সেইসব নিয়ে চুটিয়ে খেউড় হচ্ছে। এসব আপনার কানে এলো, প্রথমে কী মাথায় আসবে? কার নাম আসতে পারে? বিগত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলা দলবদলু নেতাদের কথা মাথায় আসবে? না কি সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সিপিআইএম সম্পাদকের কোল খালি করে তৃণমূলে যাওয়া প্রতীক-উর রহমানের কথা মাথায় আসবে?

সে যাঁর কথাই মাথায় আসুক, এইসব দলের নেতৃত্বরা সংবাদমাধ্যমের সামনে যাই বলুক, এই ধরনের রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতির স্তর একই। এঁরা প্রত্যেকেই ভারত রাষ্ট্রের দ্বারা নির্মিত ও নিয়ন্ত্রিত সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বশ্যতা, মান্যতা স্বীকার করেই রাজনীতিতে গা ভাসিয়েছেন। যেটাকে বলে স্রোতের সাথে রাজনীতি, সেইদিকে তাল মিলিয়ে এগিয়ে গেছেন; এখনও যাচ্ছেন। এঁদের কাছে 'আত্মসমর্পণ' শব্দটির কোনো অন্তর্নিহিত অর্থ নেই। কারণ, এসব দলের রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে, বিপরীতে নয়। এঁরা কেউই সমাজের আমূল পরির্বতন ঘটানোর ঠেকা নিয়ে দলটা বানাননি, দলগুলোকে পরিচালনা করেননি, দল করতেও আসেননি। 

যাঁরা এটা করেছেন তাঁরা স্রোতের বিপরীতে, এই রাজনৈতিক স্তরের সম্পূর্ণ উল্টোপথে হেঁটেছেন। ভারতের সংসদীয় রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে গেছেন। তাই তাঁদের মধ্যে এই 'আত্মসমর্পণ' শব্দটির অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে। এর দার্শনিক ভিত্তি ও গুরুত্ব রয়েছে। তাঁরা কোনো লুকোচুরি না করে সোজাসুজি রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করবার ডাক দিয়েছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে প্রশ্নকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করে নতুন সমাজ গড়বার লক্ষ্যে। সেই মতন তাঁরা রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সাজিয়েছেন। তাঁরা ছড়িয়ে পড়েছেন পাহাড় থেকে জঙ্গল, জঙ্গল থেকে সমতল, গ্রাম থেকে শহর জুড়ে, জনগণের মাঝে জনগণের সাথে। বেছে নিয়েছেন সশস্ত্র সংগ্রামের পথ। তাঁরা হলেন মাওবাদী বা নকশালবাদী। তাঁদেরকে রাষ্ট্র চিহ্নিত করেছে — রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের সব থেকে বড় শত্রু হিসেবে। অর্থাৎ, তাঁদের রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়াটাই রাষ্ট্রের কাছে বরাবরের জন্য আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে ঠেকেছে। রাষ্ট্রও সেই মত গুঁটি সাজিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাজিয়েছে। তাঁদের অভ্যন্তরে যুদ্ধ বাধিয়েছে, বাইরেও যুদ্ধ নামিয়েছে। অভ্যন্তরের যুদ্ধ রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি বদলের এবং বাইরের যুদ্ধ ব্যক্তি হত্যা চালিয়ে জনগণের যুদ্ধকে প্রসারিত করা বন্ধ করানোর স্বার্থে। রাষ্ট্র এই দুই ধরনের দুই ধারার যুদ্ধ সমানভাবে নামিয়েছে, চালিয়েছে। যাতে দুই ধারার দুই ধরনের যুদ্ধ পরস্পর পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে সাহায্য করে।(ঠিক যেমনভাবে রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি পরস্পর পরস্পরের ক্ষেত্রে করে থাকে।) রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত বাইরের সু-সংগঠিত যুদ্ধের ব্যক্তি হত্যায় সংগঠনে পরিমাণগত আঘাত আসে, সেই আঘাত ক্রমে শক্তিটির অভ্যন্তরে বড়সড় আঘাত এনে রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতির গুণগণ পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হতে পারে। ফলে, রাষ্ট্র একের পর এক দশক জুড়ে মোটা অর্থ ব্যয় করে মোটা মোটা অপারেশন নামিয়ে প্রকাশ্যে বাইরের যুদ্ধের জোর বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, আড়ালে, আবডালে অভ্যন্তরের যুদ্ধকে খুবই সু-কৌশলে ধীরে ধীরে তীব্রতর করে তুলেছে। যার পরিণামে এমন ভয়াবহ বিপদের সময় অনেক নেতৃত্বের এতো পরিমাণে অস্ত্র সহ আত্মসমর্পণ, ভাগবাটোয়ারার চিন্তা। সকলের সামনে এলো। 

আজ রাষ্ট্র এই যুদ্ধের নাম রেখেছে 'অপারেশন কাগার'। যা পেছনের যুদ্ধগুলোর থেকে সব অনেক বেশি শক্তিশালী, আকাশ থেকে মাটি সর্বত্র জুড়ে চলছে। লক্ষ্য একটাই — রাষ্ট্র বিরোধী মাওবাদী শক্তিকে গোড়া থেকে নির্মূল করা। 

গেল দুই বছর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক হত্যা ও আত্মসমর্পণের ঘটনা সু-সংগঠিত হয়েছে, তা সকলের সামনেও এসেছে। এই দুই ধারার যুদ্ধ পরিচালনার সময়ে রাষ্ট্র 'আত্মসমর্পণ' করানোয় প্রথমে জোর দেয়নি, বরং, হত্যা করানোতে বেশি জোর দিয়েছে। যার দরুন সেই আত্মসমর্পণ বিরোধী রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি দ্বারা পরিচালিত শক্তিটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার জায়গাগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, অনেকে আত্মসমর্পণ করেছে। কেউ অস্ত্র সহ, আর কেউ অস্ত্র ছাড়া। এই ধরনের আত্মসমর্পণগুলোর ভেতরেও আবার মৌলিক তফাৎ রয়েছে। যাঁরা অস্ত্র সহ আত্নসমর্পণ করেছেন তাঁরা রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি রাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করতে, রাষ্ট্রের কাছে গোটা শক্তিটার আত্মসমর্পণ করাতে কাজ করেছেন। আর, যাঁরা তা করেননি তাঁরা ব্যক্তি আত্মসমর্পণ ঘটালেও সর্বত্রই রাজনীতি ও সাংগঠনিক পদ্ধতির মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর মারফত শোনা গেছে, এঁরা নানা কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং অস্ত্র সহ আত্মসমর্পণকারীরা ঠিক তাঁর বিপরীতে কাজ করে রাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত দুই ধারার যুদ্ধের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন। 

রাষ্ট্র এই দুই ধারার যুদ্ধ চালিয়েছে তিনটি ধাপে; প্রথম ধাপ, বাইরের যুদ্ধে জোর দিয়ে শুধু হত্যা করা; দ্বিতীয় ধাপ, অভ্যন্তরীণ ও বাইরের যুদ্ধে সমানভাবে জোর দিয়ে আত্মসমর্পণ ও হত্যা দুই সমানভাবে চালানো; তৃতীয়, আত্মসমর্পণ করানোতে জোর দেওয়া এবং এতদিনের হত্যাগুলোকে আত্মসমর্পণের স্বার্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা। প্রথম ধাপের সময়সীমা ছিলো — ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত। মাওবাদী শক্তির সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজুকে হত্যা করবার মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। হত্যার পাশপাশি আত্মসমর্পণ। এবার হত্যার সাথে সাথে ব্যক্তির আত্মসমর্পণের কথাগুলো একে একে সকলের সামনে তীব্রতার সাথে বেরিয়ে আসছে। যার মধ্যে সব থেকে বড় বিপদ হিসেবে সামনে হাজির হয়েছে, দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরো সদস্যপদে থাকা সোনুর কথা। তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি বদলের কথা তুললেন। এর পর আরেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনেক কর্মীকে বগল দাবা করে আরও খানিক নতুন ঢঙে, আরও বিভ্রান্তি বাড়িয়ে আত্মসমর্পণ করলেন। বললেন, জনগণের সাথে মিশতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি 'আত্মসমর্পণ' করেননি। এঁরা সকলে কিন্তু অস্ত্র সহ আত্মসমর্পণ করেছেন বলা বাহুল্য। তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি এই দুজনকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে চিহ্নিত করে, নিজেদের আত্মসমর্পণ বিরোধী রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতিকে সাময়িকভাবে বাঁচালেন, দীর্ঘস্থায়ীভাবে আঁকড়ে ধরবার জোরশক্তি, ভাবনাও দিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর, নভেম্বর মাস। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সামরিক শাখার অন্যতম প্রধান নেতা মাদভি হিডমার হত্যা। রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে আরও খানিকটা জোর বাড়াতে সাহায্য করেছে। মধ্য ও দক্ষিণ ভারত জুড়ে মাওবাদী শক্তির সমস্ত শাখাকে, কমিটিগুলোকে আত্মসমর্পণ করানোয় জোর দেওয়া শুরু হলো। পাশাপাশি, চলতে থাকলো হত্যা করা। এইবার তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করলো — রাষ্ট্র নির্মিত 'অপারেশন কাগার' যুদ্ধ। সকলের মনোবল কমিয়ে দিতে বা ভেঙে ফেলতে অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতিতে আত্নসমর্পণ করানোয় তীব্রতার সাথে জোর দেওয়া শুরু হলো। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে, প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে থাকা সকল শক্তির পক্ষ থেকে চারিদিক জুড়ে নানা কায়দায় জোরের সাথে বলাবলি হতে থাকল — “অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি পরির্বতন করতে হবে, সশস্ত্র যুদ্ধের পথ বাতিল করতে হবে।” ‘ব্যাটেলিয়ন ওয়ান’-এর সামরিক শাখার নেতা দেবার আত্মসমর্পণ ও এখন কেন্দ্রীয় কমিটি’র প্রধান, আরও এক নেতা, দেবজি ও সংগ্রামের আত্মসমর্পণ। প্রতিটাই প্রথমে গ্রেফতার করে পরবর্তীতে লোক দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করানো। আসলে এই তৃতীয় ধাপের যুদ্ধটা সম্পূর্ণভাবে মর্ডান ওয়ারফেয়ারের 'সাইকোলজিক্যাল যুদ্ধে'র অংশ(অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ, রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতি পরির্বতন ঘটানোর চেষ্টা।)। এর দ্বারা বাকি কর্মী, সমর্থক, ক্যাডারদের মনোবল খতম করা এবং তাঁদেরকে ভেতর থেকে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেওয়া, বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতির রাষ্ট্রের কাছে আত্নসমর্পণ ঘটানো, এসবের প্রধান লক্ষ্য। তবে রাষ্ট্র শক্তির কাছে এই তৃতীয় ধাপের লড়াইটাই অনেক বেশি কঠিন এবং দীর্ঘায়িত।

এক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের আক্ষরিক অর্থ হলো, রাষ্ট্রের কথায় চলা, নকশালবাড়ির ক্ষমতা দখলের কৃষি বিপ্লবের রাজনৈতিক লাইন ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে সংসদীয় রাজনীতির চোরা স্রোতে চলে আসা, রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করা। যা হরদম চলছে। যার দীর্ঘদিনের কঙ্কালসার চরিত্রের উপরে বসে গোটা দেশ জুড়ে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদ নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে। তাই সিংহভাগ জনগণের এদেশে নির্বাচন নিয়ে কোনো আশা ও আকাঙ্ক্ষা নেই। জনগণ বোঝেন ও বলেন যে, 'লঙ্কায় যেই যাবে সেই রাবণ'। মাওবাদীদের রাজনৈতিক লাইন প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে প্রকৃতির মতন করে গজিয়ে ওঠা। পরিস্থিতি মোতাবেক কখনও একদিক থেকে পিছিয়ে যাওয়া, সরে যাওয়া, আরেকদিক থেকে গজিয়ে উঠা, এগিয়ে আসা। আবার, কখনও একদিক থেকে ভেঙে যাওয়া, অন্য দিক থেকে গড়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানো। মাওবাদীদের সাংগঠনিক পদ্ধতি মানবদেহের জীবন চক্রের মত করে গঠন-ক্ষয়-পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত। এ রাজনীতি, এ দলের গঠন প্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর। যতদিন প্রকৃতি ও জনগণের অস্তিত্ব আছে ততদিন এ রাজনৈতিক দর্শন ও সংগঠনটিকে গোড়া থেকে নির্মূল করা সহজ কাজ নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে থাকা প্রথম স্তরের রাজনীতি করা বাকি সংসদীয় দলগুলোর চরিত্রে এঁদের বোঝা ও মাপা সম্ভব নয়। যাঁদের রাজনৈতিক লাইনের জন্ম আত্নসমর্পণের গর্ভে, তাঁদের কাছে এখন আত্মসমর্পণ শব্দটিই অস্তিত্বহীন। কিন্তু, যাঁদের জন্ম এই শব্দটির অন্তর্নিহিত, আক্ষরিক অর্থের বিরুদ্ধে, যে শক্তির জন্ম আত্মমর্যাদার গর্ভে, তাঁদের কাছে, তাঁদের প্রতিটি ব্যক্তির কাছে রাজনৈতভাবে বেঁচে থাকবার এ মুহূর্তের প্রধান অস্ত্র — রাজনৈতিক লাইন ও সাংগঠনিক পদ্ধতিকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরা, তা জোরের সাথে দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাঁচানোর লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পড়া।

0 Comments

Post Comment