পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

সেলিব্রেটি এবং নিছক কয়েকটি সংখ্যা : দিন বদলের স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষের অসহায়তা। ---------------------------------------------

  • 12 July, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 411 view(s)
  • লিখেছেন : রুদ্র সান্যাল
যদি কোভিড পজিটিভ হয়, আমরা কি খুব সহজে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবো? বা তাদের পরিষেবা পাবো? রাজনীতিবিদদের জন্যেও রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে তাদের সুস্থ করার প্রচেষ্টা নেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা ঠিক কতটা? কেন ৭৭ বছরের অমিতাভ বচ্চন চিকিৎসা পায় আর সমবয়সী কবি ভারভারা রাওকে জেল বন্দী রাখা হয়?
 
খবরটা দেখে প্রথমে কিছুক্ষন অবাক হয়ে গেলাম। আমার স্বপ্নের নায়ক অমিতাভ বচ্চন করোনা পজিটিভ! যার অভিনয় দেখে বড় হওয়া। যার কিছু কিছুই ডায়ালগ মুখের কাছে সব সময় এসে যায়।  তাঁর এই মহামারীর সময় অসুস্থতা। কার ভালো লাগে শুনতে! দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন আপনি। এখনও আপনার সমাজকে অনেক ভালো ভালো অভিনয় দেওয়া বাকি আছে। এই অসম্ভব ঝরা সময় রাষ্ট্র আপনাকে দেখতে চায় দ্রুত সুস্থ হতে। আপনার মতন সেলিব্রেটিরা রাষ্ট্রের গর্ব। আমাদের মতন সাধারণ মানুষদের কাছেও আপনি অভিনয়ের ঈশ্বর। 
 
এই অতিমারীর সময় মাঝে মাঝে সব কেমন যেন গুলিয়ে যায়। এই অসময়ের মাঝেও রাষ্ট্রের কাছে একটা বিষয় জানতে ইচ্ছে করে, আমাদের মতন সাধারণ মানুষ দের সম্মন্ধে রাষ্ট্রের ধারণা টা ঠিক কোন পর্যায়ে আছে?
 
যদি কোভিড পজিটিভ হয়, আমরা কি খুব সহজে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবো? বা তাদের পরিষেবা পাবো? রাজনীতিবিদদের জন্যেও রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে তাদের সুস্থ করার প্রচেষ্টা নেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা ঠিক কতটা?
 
যেখানে একজন তরতাজা সতেরো বছরের তরুণ প্রায় বিনা চিকিৎসায় বিভিন্ন হাসপাতালে অসহায়ের মতন ঘুরে ঘুরে শেষপর্যন্ত তার মায়ের আত্মহত্যার হুমকিতে তাকে ভর্তি করা হলো। তারপরেও সে কিন্তু বাঁচলো না। কারণ এরমধ্যে সময় নষ্ট হয়েছে প্রচুর। 
 
আর বেসরকারি হাসপাতালে, তাদের যদিও বা অনেক হাতে পায়ে ধরে আমাদের মতন সাধারণ মানুষদেরকে ভর্তি করানো  যেতো। তাহলেও সুস্থ হয়ে ওঠার আগে বিল দেখে হৃদকম্প হয়ে মৃত্যু হয়তো অনেক দ্রুত চলে আসতো!
 
আসলে সেই কবে এক ভদ্রলোক বলেছিলেন "শ্রেণী বৈষম্য মূলক সমাজে  রাষ্ট্র শ্রেণী শোষণের যন্ত্র" যদিও এই কথাটা শোনা মাত্র কেউ কেউ রে রে করে তেড়ে উঠে বলবেন,"আবার সেই বস্তা পচা তত্ত্বের কথা শোনাতে বসলেন।" 
 
মুস্কিল হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে সেই ভদ্রলোক কে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা কঠিন। তার তত্ব এখনকার প্রেক্ষাপটে হয়তো অনেক পরিমার্জন বা পরিবর্ধন করা যেতে পারে। তবে তারজন্য তার তত্ত্বের মূল বিষইবস্তু পাল্টায় না। নেতৃত্বের অপদার্থতার দায় শুধু সেই ভদ্রলোকের অনেক ভাবনা চিন্তার ফসল এই তত্ত্বের গায়ে চাপালেই হবে না। নিজেদের দিকেও তাকাতে হবে। বিবেকের দিকে চোখ রেখে ভাবতে হবে, তিনি কি বলেছিলেন, আর আমরা কি করেছি। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর পতন এমনি এমনি হয় নি। পুঁজিবাদী চাপ ছিলই। কিন্তু একই সাথে নিজেদের কর্মপদ্ধতির দায় কেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
 
কিউবা কিন্তু ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকলকেই রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য পরিষেবায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করাতে পেরেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় তাই সমাজতান্ত্রিক কিউবা একেবারে প্রথম সারির রাষ্ট্র। তাই তাদের ডাক্তারদের সারা পৃথিবীতে কদর। এই করোনা কালীন সময় কিউবার ডাক্তাররা তথা স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ ককরে চলেছেন নিয়মিত ভাবে।
 
আমাদের রাষ্ট্র সাম্য নীতিকে গ্রহণ করেছে ঠিকই। কিন্তু তা বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবেই রেখে দিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এই অতিমারীর সময় রাষ্ট্রের নির্লিপ্ততার স্বীকার প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই। 
 
নইলে তরতাজা তরুণ ধুঁকতে ধুঁকতে মারা যায়। আর সেলিব্রিটিরা রাষ্ট্রের উন্নত স্বাস্থ্যের পরিষেবা অর্থের দৌলতে সহজেই পেয়ে যায়। কথাটা নির্মম হলেও সত্যিই। আমরা সেলিব্রেটি নই। আমরা রাষ্ট্রের কাছে নিছকই কয়েকটি সংখ্যা মাত্র। দুঃখটা এখানেই। 
 
গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আমাদের চাওয়া পাওয়ার গুরুত্ব শুধুই এখন ভোট কেন্দ্রিক। সমাজবাদের মাধ্যমে দিন বদলের স্বপ্ন দেখানো নেতা সেলিব্রেটির মতন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিসেবা না নিয়ে পুঁজিপতি নেওটিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা পরিসেবা গ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষ শুধু অসহায়ের মতন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে দৌড়াতেই থাকে। এ এক অসহ্য যন্ত্রনা। যার সমাধান কবে কিভাবে হবে, কেউ জানে না।
 
রাজা যায় রাজা আসে। সমাজ কোনদিনই বদলায় না। তাই অতিমারীর অসুখে ধুঁকে ধুঁকে আমাদের মতন মানুষদের কেই মরতে হবে, বা সর্বস্ব দিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে  যেতে হবে। 
 
হ্যাঁ এটাই বাস্তব এটাই নির্মম সত্যি........ 
0 Comments

Post Comment