পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

নতুন বাদশাহের নাম মার্ক জুকেরবার্গ

  • 16 January, 2021
  • 0 Comment(s)
  • 463 view(s)
  • লিখেছেন : সৌমিত্র বসু
নূতন কিছু সোশ্যাল-মিডিয়া এসে দাঁড়িয়েছে , কিছু দিন স্বাধীনতা দেবে , তারপর সেগুলোকেও রুদ্ধ করা হবে ,আবার আরো কিছু নতুন বেরোবে , এই দড়ি টানাটানির লড়াই চলবে। আর তার মধ্যে দিয়েই বিশ্বের মানুষকে ছিনিয়ে আনতে হবে মতামত ব্যক্ত করার এবং বিতর্কের আজাদী। আমরা মানুষের পক্ষের মতামত দিয়ে উড়িয়ে দেব মানুষ বিরোধিতার মতামতকে। ভারতের কৃষক আন্দোলনের ট্রেন্ডিং দেখিয়ে দেয় আমাদের এই রাস্তা আমাদের স্বপ্নের মনজিলে আমাদের পৌঁছে দেবেই , ওরাও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করবার জন্যে, আমরাও করবো তাকে আজাদ করবার জন্যে। এটাই প্রযুক্তি ব্যবহারের দুলাইনের সংগ্রাম।

এক সম্রাট কে আমরা এবার বিদায় দিচ্ছি , অর্থাৎ মার্কিন জনগণ তাকে টেনে নামিয়েছে , এ এক অসাধারণ মুহূর্ত ! এক মাইলস্টোন ! এবার আসবেন বাইডেন সাহেব , সঙ্গে দেবী কমলা হ্যারিস - এক কৃষ্ণাঙ্গী ! কিন্তু মসনদ পেলে রাজা হওয়া যায় নামে , বাদশাহ হওয়া হয়ে ওঠে না। অনেকেই তো ইতিহাসে লোলচর্ম বৃদ্ধ হয়েও যুবরাজ হয়েই রইলো। মধ্যপ্রাচ্যে তো এখনো সেই সব উদাহরণ এর প্রাচুর্য এতটাই, যে সেগুলো আর খবরের মধ্যে ধরা হয় না। যাই হোক, রাজতন্ত্র আছে , আধুনিক পুঁজিবাদ যে বহুদিন ধরেই তার পূর্বজদের অনুসরণ করছে সেটা নিয়ে এখন আর কোনো চমক তৈরী হয় না। পুঁজিবাদ সামন্তবাদ এবং রাজতন্ত্র এবং দাসব্যবস্থার সমস্ত দোষগুণকে নতুন করে আত্মস্থ করে তাকে উদযাপন করে চলেছে। তাই ট্রাম্প বাদশাহ কে মার্কিন জনগণ তাড়ালেও রাজতন্ত্রের মধ্যেই সেই একজনকে বে-তখত করে আর এক জনকে তখ্তনশীন করলো , একটু পোশাকের রংটা ভিন্ন , বাড়িটা অন্যত্র , পদের নামেতে একটা নতুনত্ব, এই যা। এতদিন রাষ্ট্রপ্রধানরা বাদশাহ হতো এখন তার আর প্রয়োজন নেই , এখন "উদ্যোগপতি" রাই হতে পারে , এরপর হয়তো আরো ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখবো , সেগুলো ভবিষ্যৎ বলবে । তবে পুঁজিবাদ তার নিজস্ব ধারায় রাজতন্ত্রকে রাজা থেকে প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপ্রধানের বুড়ি ছুঁয়ে একেবারে নিজের খোপে এনে ফেলেছে , এখন বৃহৎ এবং প্রায় বৃহত্তম কর্পোরেট কর্তারাই বাদশাহ হলেন। কিছু ঔপচারিক কাজ তো করতেই হয় , ওই একটা বাংলা অপরাধ থ্রিলারের মতো প্রচুর আনন্দ উল্লাস এবং যজ্ঞের পর ঔপচারিক ভাবে বাদশাহকে শারীরিক বিদায় দিয়ে অন্য আর এক জন বাদশাহের অভিষেক পর্ব করতে হয় , এবং সেই "যজ্ঞে" বড়ো বিনম্রতার সঙ্গে প্রজাকুলের "আশীর্বাদ"-এ , এবং আমলা অমাত্যদের উপস্থিতিতে বাদশাহ অধিষ্ঠিত হন। ঠিক এরকমটাই করলো মার্কিন "গণতন্ত্র" । অমাত্য পন্ডিত, পুরোহিত সকলকে দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ালো যে জুকেরবার্গ , ট্রাম্প কে একেবারে নির্বাসিত করলো অসামাজিকতার অতল গহ্বরে,একেবারে যেন আল্লাহ বা ঈশ্বর যেমন করে ইবলিস কে নিক্ষেপ করেছিলেন চিরকৃষ্ণ গহ্ববরে। এই ধর্মীয় অনুষঙ্গ যে বারেবারে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে, এটাও পুঁজিবাদের এক ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন এর প্রকল্প। এতে নাকি মানুষের মনে মান্যতার ভাব বাড়ে , অর্থাৎ সেজদা দেওয়ার বা সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করার তাগিদ ভেতর থেকে আসে , এখানে কিন্তু পুঁজিবাদ তার আধুনিক প্রকরণকে কাজে লাগায় না, কারণ বিশ্বাসের দুনিয়ায় তার গ্রহণযোগ্যতা কম।

আমরা "গণতন্ত্র প্রিয়" মানুষ কী উদ্বেলিত হলাম, কী পুলকিত হলাম, কী আস্থা ফিরে পাওয়ার স্বস্তিতে নাকি বেঁচে থাকার কারণ খুঁজে পেলাম। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে ! কমিউনিস্ট হতে চাওয়া বামপন্থীরা কু-জন, তারা ভিন্ন সুর গাওয়া শুরু করে কূজনে , পরে তা অনুরণিত হয়, আর একসময়ে গর্জিত হয়. সময় লাগে , কিন্তু জনমানস সংগঠিত হয়, সমন্বিত হয়, সমাবেশিত হয়। আমাদের চিরাচরিত তেতোধারায় একটু ভাবা যাক তো কী কী হারালাম আমরা ?

ট্রাম্প তো এখন শহীদ। তার অন্ধসমর্থক কিন্তু মার্কিন দেশের অর্ধাংশ এবং শ্বেতাঙ্গ এবং বিশেষ করে হতাশ পুরুষতান্ত্রিক শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই অংশটিকে বিতর্কের বাইরে রেখে তাদের সঙ্গে সংযোগ বন্ধ রেখে কি গণতন্ত্র কে প্রসারিত করা হলো না দেশটিকে বিভাজিত রেখে চিরকালের জন্যে এক গৃহযুদ্ধের মানসিক ভিত্তি তৈরী করা হলো ? গণতন্ত্র, তা যতই হাস্যকর হোক, যতই অপ্রতুল, অযথার্থ হোক , যতই তা লোক দেখানো হোক, যতই তা মুখোশ হোক , তা কিন্তু চলে একটাই প্রকরণের মধ্যে দিয়ে আর তা হচ্ছে অর্গলহীন বিতর্কের মধ্যে দিয়ে। বিতর্ক যতই অসামরিক বা অশিষ্ট হোক না কেন , তার তাকতই কিন্তু প্রশাসনে এবং সামাজিক যাপনে সামরিকতাকে দূরে সরিয়ে রাখে, মানুষের মত ও চিন্তাকে ধীরে হলেও বদলায়, আর রক্তপাতকে রোখে। সেই বিতর্ককে ভয় বা অনুশাসনের ভাওঁতায রুদ্ধ করলে একদিন সমাজটাকেই পুরো প্লাবনের অভিঘাতে চূর্ণ করে। মার্কিন দেশে ইতিহাসে কারা মূলনিবাসী, কারা অভিবাসী এই সব তর্ক ঐতিহাসিকরা করতেই পারেন, তাতে ভবিষ্যৎ তৈরী হবে না। মার্কিন শ্বেতাঙ্গদের ধীরে ধীরে হারতে থাকার বেদনা যতই প্রতিক্রিয়াশীল বলে উপেক্ষা করা হোক না কেন তার বাস্তবতা কে চিন্তার বাইরে ফেলে রাখলে সেই প্রতিক্রিয়াশীল মনমানসিকতাকে সবচেয়ে বেশি ধুনো দেওয়া হয়। এক সময়ে তারা যদি নিজেদের রাজার জাত মনেই করে থাকে আজকে তাকে ভিখিরি বানিয়ে অথচ তাদের হতাশাকে আশার ডোরে না বাঁধলে অচিরের গৃহযুদ্ধকে রোখা যাবে তো ? সেটা বুঝি খুব গণতন্ত্র হবে? জুকেরবার্গরা যতই আধুনিক নাগরী হন না কেন , গৃহযুদ্ধ বাঁধলে এরা কিন্তু সবার আগে এই প্রক্রিয়াশীল সাদাদের দিকেই থাকবে, কারণ মতাদর্শগত ভাবে এরা কেউই উৎপাদক আর মেহনতির পক্ষে নয়, কেউই বিপ্লব চায় নি, চাইবেও না, এর জন্যে অহেতুক ইতিহাসের উদাহরণ ঘাঁটা বাহুল্য ।
দমন পীড়নের সমস্ত পদ্ধতি প্রকরণ, প্রক্রিয়া আর প্রকল্পে এই বৃহৎ পুঁজি মানুষের বিপক্ষেই ছিল, আছে ও থাকবে, আজকে সে এই অবস্থান নিয়েছে শুধুমাত্র এই কারণে যে প্রথমে কিছুটা জনসমর্থনকে চেটেপুটে নিয়ে নিজের পক্ষপুটে বেঁধে সেটা দেখিয়েই ঠিক তার পরেই আঘাত হানবে প্রতিস্পর্ধী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিরোধী বাগীদের ওপরে। এই একই কায়দায় কিন্তু তারা জুলিয়াস আসেঞ্জকেও সামাজিক মাধ্যম থেকে নির্বাসিত করে তার আওয়াজকে বিশ্বের জনগণের কাছ থেকে ঢেকে রেখেছে। আসেঞ্জ কমিউনিস্ট নয়, সে সমাজ ব্যবস্থা পাল্টানোর কথা বলে না। তা সত্ত্বেও তাই হয়েছে , আর অঘোষিত নীরবতার অস্ত্র তো প্রতি মুহূর্তেই তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার আরো এক কায়দা আছে , গাছে উঠিয়ে মই কেড়ে নেওয়ার কায়দা। গ্রেটা কে নিয়ে একেবারে বিরাট ঢক্কানিনাদ করার পরেই হঠাৎ তাকে একেবারে উল্লেখের বাইরে রেখে তাকে চেপে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু দেশে তো তার উল্লেখ করলে ফাটকে পুরবে বলে দিয়েছে। (সেই দেশগুলোর মধ্যে সব রঙের পতাকাই আছে।) কিছু দেশ আবার গ্রেটাকে রাজ অতিথি বানিয়ে সেই দেশের মধ্যে লড়াইতে রত জনগোষ্ঠীকে বিস্থাপিত করে তাদের গণহত্যা করছে। এই কাজে সহযোগী হচ্ছেন সেই সব দেশের চাটুকার বুদ্ধিজীবিরা। এটাও এক কায়দা।
মূল কথা দেশব্যাপী বা বিশ্বব্যাপী বিতর্ক বন্ধ করতে হবে ,আর সেটা
করবে জাতি-রাষ্ট্রর ঊর্ধে কোনো শক্তি দিয়ে অর্থাৎ বহুজাতিক কর্পোরেট সম্রাটদের দিয়ে, আবার তাদেরই মধ্যে একজন বাদশাহ, জ্যাক মা কে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু জুকেরবার্গ আছে। কাউকে কখনো গুটিয়ে নিয়ে কাউকে সামনে তুলে দেওয়ার কায়দা অনবরত পুঁজিবাদ চালায় ঠিক যেমন রাজতন্ত্রের সময়ে প্রাসাদগুলোতে হতো।

এর সঙ্গেই আসে প্রযুক্তির প্রসঙ্গ। উদারবাদী নামক এক প্রজাতি আছে আমাদের মধ্যে, তাঁরা ইতিহাসের মেদুরতায় ভুগতে বড়ো দড়ো। তাঁদের কাছে সমস্ত অতীত বড়ো মনোরম, বড়ো প্রিয়। প্রযুক্তি মানেই নাকি শয়তানের কল। প্রযুক্তি নাকি মানুষকে যন্ত্র বানায়, তাই "দাও ফিরায়ে সে অরণ্য",এই মানসিকতাকে পুঁজিবাদ আজকাল ভালোই গিলে ফেলেছে। এখন অরগানিক , ন্যাচারাল এই সব অভিধায় মানুষের থেকে সহজলভ্য বস্তুগুলোকে উচ্চকোটির আওতার মধ্যেই একমাত্র এনে ফেলেছে। অর্থাৎ সব দিক থেকেই প্রযুক্তি যতক্ষণ উচ্চকোটির উপভোগ্য থাকবে ততদিনই ভালো। আমাদের দেশে চলমান কৃষক বিদ্রোহের মূল মুরোদ কিন্তু এটাই। সেখানে প্রযুক্তি কিন্তু সাহায্য করেছে কৃষকদের। কয়েক মিনিট দু হাজার রুটি বানানোর মেশিন খাইয়ে রেখেছে ২০ লক্ষাধিক জনসমাবেশকে।
এই উপমার অবতারণা করতে হলো প্রযুক্তিজগতের একটি বৈপ্লবিক আন্দোলনকে দেখানোর জন্যে।

জিএনইউ বা লিনাক্স একটা শুধু অপেরাটিং সিস্টেম নয়, একটা বিশাল আন্দোলন , যাকে মটোরোলার করায়ত্ত থেকে আমরা এখন মোবাইল প্রযুক্তিতে ব্যবহার করি কিন্তু সেটাকেও কর্পোরেট প্রায় গিলে ফেলেছে। কিন্তু ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলন সৃজন করেছিলেন রবার্ট স্টলম্যান নামক এক বিপ্লবী, তিনি প্রকৃতির জগৎ থেকে যাবতীয় রাষ্ট্রীয় অনুশাসন এবং কর্পোরেট অনুশাসনের বাইরে সৃষ্টি করলেন এক বাস্তুতন্ত্র যার ফলস্বরূপ আমরা পাই আজকের সোশ‍্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ‍্যম, যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি। যার কর্তৃত্ব কোনো রাষ্ট্রের হাতে থাকবে না , কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে না। যার উৎস থাকবে সবার জন্যে একেবারে ফ্রি। এই প্রযুক্তির জগতে এক অনবদ্য সৃজন, তাতে যেরকম অপ্রীত বস্তুও থাকতে পারে কিন্তু সমগ্র মানবজাতির সম্মিলিত চাপে তা ধীরে ধীরে ব্রাত্য হয়ে পড়ে , হয়েছিলও তাই । ডার্কওয়েবের অপরাধ জগৎ ধীরে ধীরে কিন্তু প্রকাশ্য সামাজিক মাধ্যমগুলোর বেড়ে চলার হার এর কাছে হেরে গেছে , বা এতদিন পর্যন্ত চলে এসেছিলো। এক বিশ্বব্যাপী খোলা বিতর্ক নির্ধারণ না করলেও নির্ণায়ন করছিলো যে ট্রেন্ড বস্তুত কি করে গড়ে ওঠে। পৃথিবীতে ভারতের কৃষক জনসমাবেশ একটি বড়ো ট্রেন্ড , আমাদের রাজ্যে #NoVote2BJP খুবই দ্রুত গতিতে বেড়ে ওঠা একটা ট্রেন্ড। প্রধানমন্ত্রী "মন কি বাত " (যাকে এখন পথেঘটে মাংকিবাত বলা হচ্ছে ) তাতে মোদির পক্ষে সমর্থন কে ভীষণ গতিতে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিরোধিতার ট্রেন্ড।
রবার্ট স্টলম্যান এর এই সৃজন কিছুতেই কর্পোরেটরা হজম করতে পারতো না, এতো দিনে সে আঘাত হানলো, আর এই আঘাত হানলো সে জনপ্রিয়তা আর উদারবাদের ধ্বজা কে সামনে রেখে , ঠিক সাথে সাথেই তারা ঘোষিত অঘোষিত ভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে ভারতে রিলায়েন্স বিরোধী মতামত কে , তারা রুখে দেবে নাকি লাভ জিহাদের আইনের বিরুদ্ধের মত কে এরকম আরো অনেক কিছুই এবার তারা আনছে। অর্থাৎ তৈরী হচ্ছে "গণতান্ত্রিক" শাসনব্যবস্থার আরো একটি নয়া স্তম্ভ - যার নাম " সোশ্যাল মিডিয়া পুলিশ", এই পুলিশ এবার মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতিটি মানুষের লেখাকে ছানবিন করবে এবং তার ভিত্তিতে মানুষের মতামতের শ্রেণী বিন্যাস বা ক্যাটাগরি বানাবে , এই ক্যাটাগরি গুলোর সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কী করে এই মাধ্যমগুলোর মধ্যে কী ধরণের প্রচার নামানো যায় তার চেষ্টাচরিত্র নাকি করা হবে। এতে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির দোষ খোঁজা আর এক ধরণের উদারনৈতিক বদমাইশি। প্রযুক্তিকে যারা পরিচালনা করে প্রযুক্তি তাদের সেবা করে, রবার্ট স্টলম্যান এরই বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন , তার ওপর ভর করেই আমরা জুলিয়াস আসেঞ্জকে পেয়েছিলাম। এই প্রক্রিয়ারই গলা টিপে মারা হচ্ছে জুকেরবার্গকে দিয়ে। প্রথমেই তারা শুরু করলো উৎসকে সংগোপনে রেখে আর কুক্ষিগত করে , তার পরেই শুরু হলো একাউন্ট ডিলিট করে দিয়ে। নূতন কিছু সোশ্যাল-মিডিয়া এসে দাঁড়িয়েছে , কিছু দিন স্বাধীনতা দেবে , তারপর সেগুলোকেও রুদ্ধ করা হবে ,আবার আরো কিছু নতুন বেরোবে , এই দড়ি টানাটানির লড়াই চলবে। আর তার মধ্যে দিয়েই বিশ্বের মানুষকে ছিনিয়ে আনতে হবে মতামত ব্যক্ত করার এবং বিতর্কের আজাদী। আমরা মানুষের পক্ষের মতামত দিয়ে উড়িয়ে দেব মানুষ বিরোধিতার মতামতকে। ভারতের কৃষক আন্দোলনের ট্রেন্ডিং দেখিয়ে দেয় আমাদের এই রাস্তা আমাদের স্বপ্নের মনজিলে আমাদের পৌঁছে দেবেই , ওরাও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করবার জন্যে, আমরাও করবো তাকে আজাদ করবার জন্যে। এটাই প্রযুক্তি ব্যবহারের দুলাইনের সংগ্রাম।

0 Comments

Post Comment