পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

ফুটপাত থেকে কেনা একটি বইয়ের গল্প

  • 10 May, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 214 view(s)
  • লিখেছেন : নীহারুল ইসলাম
যখন এই লকডাউনে সবাই কিছু না কিছু ছুট পেলেও আজ টানা ৪৬ দিন বইবাজার একেবারেই বন্ধ। কেমন আছেন ছাপাইকর্মী, বাঁধাইকর্মী, প্রকাশক, বইবিক্রেতারা। কিংবা ফুটপাতে বই সাজিয়ে যাঁরা পুরনো বই বিক্রি করেন! কেমন আছেন তাঁরা। জানি না। এনিয়ে কোনও মিডিয়ায় তেমন খবরও নেই।

 

যখন এই লকডাউনে সবাই কিছু না কিছু ছুট পেলেও আজ টানা ৪৬ দিন বইবাজার একেবারেই বন্ধ। কেমন আছেন ছাপাইকর্মী, বাঁধাইকর্মী, প্রকাশক, বইবিক্রেতারা। কিংবা ফুটপাতে বই সাজিয়ে যাঁরা পুরনো বই বিক্রি করেন! কেমন আছেন তাঁরা। জানি না। এনিয়ে কোনও মিডিয়ায় তেমন খবরও নেই।

আশ্চর্য- মদের দোকান খুলে যায়, বইয়ের দোকান খোলে না!

এমন ভাবনা থেকে কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাত থেকে আব্বার কেনা পুরনো একটি বইয়ের গল্প ... 

 

 

একটি বই আছে আমার সংগ্রহে। বইটির নাম ‘POEMS OLD AND NEW AN ANTHROLOGY’। কলেজ স্ট্রীট ফুটপাত থেকে কেনা। আব্বা কিনেছিলেন।

সেই বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় ফাউন্টেন পেন-এ লেখা একটি নামঃ ACHUT SEN, তার নীচে লেখা X XI B, তারও নীচে ANDREUS SCHOOL.  

কে এই ACHUT SEN? জানি না। তবে যেটা জানতে পারি তা হল বইটি ১৯৬০ সালের সংস্করণ। প্রথম সংস্করণ ১৯৩৩ সালে। প্রকাশিত হয়েছে GREAT BRITAIN থেকে। প্রকাশক MACMILLAN & CO LTD. এক যোগে বহু জায়গা থেকে বই প্রকাশিত হয় এদের। লন্ডন ছাড়াও নিউ ইয়র্ক, মেলবোর্ণ। এমন কী আমাদের দেশের মাদ্রাজ, বোম্বাই, দিল্লি, কলকাতা থেকেও।

আব্বা বইটি সংগ্রহ করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আব্বার হাতের লেখায় 4.4.71 তারিখের উল্লেখ আছে। তার মানে বইটি প্রকাশকাল থেকে আব্বার হাতে আসার সময়ের ব্যবধান মাত্র ১১ বছর। ওই সময়ে বইটির মালিক ছিলেন ACHUT SEN.

আব্বার কেনা বই মানে আমার বই- এই ধারণা আমার বহু পূর্বেই জন্মেছিল। তিনি কলকাতা থেকে ফিরলেই আমার জন্যে কী জিনিস এনেছেন তার খোঁজ না করে কী বই এনেছেন সেই খোঁজ নিতাম। ওভাবেই ছোটদের বিশ্বকোষের চতুর্থ খণ্ড থেকে আমি পড়ে ফেলেছি ‘পিঁপড়ে ও পায়রার গল্প’, অনুবাদে পড়ে ফেলেছি ডানিয়েল ডিফো’র ‘রবিনসন ক্রুশো’, অস্কার ওয়াইল্ডের ‘রেডরোজ’, জুল ভার্ণের ‘অ্যারাউণ্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটটি ডেজ’। সম্ভবত জুল ভার্ণের এই বইটি পড়তে গিয়ে সতীদাহের বর্ণনা পেয়েছিলাম। আরও পরে ‘আরব্য রজনী’, ‘ওমর খৈয়াম’।  কিন্তু এই বইটি কবিতা সংকলন। তাও আবার ইংরেজী কবিতার। আমি বিশেষ ইংরেজী জানি না। ইংরেজীতে আমার জ্ঞান মাত্র ২১ শতাংশ। এটা প্রামণিত সত্য। মাধ্যমিকে ১০০-তে ২১ পেয়েছিলাম। উচ্চমাধ্যমিকে ২০০-তে ৪২। দ্বিতীয়বার বসতে হয়েছিল। ভাগ্যিস বন্ধু অভিরাম ঘোষ পাশে ছিল। তার সাহায্যে ২০০-তে ৬০ পেয়ে কোনও রকমে উচ্চমাধ্যমিক উতরে ছিলাম। স্নাতকে ইংরেজীর ছায়া না মাড়ালেও চলত। কিন্তু জ্যোতিষকে হাত দেখিয়ে ভাগ্য জানার মতো আমার ইংরেজী জ্ঞান পরখ করবার সখ হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত ১০০ নম্বরের ইংরেজী নিয়েছিলাম। ফল বেরোতে দেখি সেখানেও ওই ২১। মার্কসিটে ১ নম্বর যোগ হয়েছিল।

যাইহোক, আব্বার মৃত্যুর পর বইটি হাতে পেয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম। হঠাৎ দেখি বইয়ের মধ্যে একটা দশ টাকার নোট। আমার ভূত দেখার অবস্থা। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। বইয়ের মধ্যে টাকা! না, দশ টাকা পাওয়া নিয়ে আমার কোনও আনন্দ হয়নি। বরং মনে প্রশ্ন জেগেছিল টাকাটা কার? কে রেখেছিলেন ওই নোটটি? আব্বা, ACHUT SEN, নাকি ফুটপাতের সেই বই-বিক্রেতা? যাঁর ক্যাশবাক্স নেই! বই বিক্রির টাকা যিনি বইয়ের ভেতরেই রাখেন!  

 

 

 

 

0 Comments

Post Comment