পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

রামনবমীতে আবারও দাঙ্গা কেন?

  • 03 April, 2023
  • 0 Comment(s)
  • 1147 view(s)
  • লিখেছেন : কুশল দেবনাথ
রামনবমীর দিন গোটা দেশে একত্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সেই বিভাজনের রাজনীতি রূপায়নের কাজের প্রাথমিক রূপ। আগামী দিনে আরো বাড়ানো হবে। শিবপুর, সাসারাম, বরোদা, চারমিনার, ঔরঙ্গাবাদ সেই পরিকল্পনারই অঙ্গ। কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই পরিকল্পনাতেই ২০২৪ ভোট কর।

রামনবমীর দিন মিছিল কে কেন্দ্র করে হাওড়ার শিবপুরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়।এই রাজ্যে এই ঘটনাতে উদ্বিগ্ন বহু মানুষ। কিন্তু এটাও ঘটনা শুধু এই রাজ্যে নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সঙ্ঘপরিবারের বিভিন্ন সংগঠন এই উত্তেজনা তৈরী করেছে।সাসারাম,বরোদা, হায়দ্রাবাদ, ঔরঙ্গাবাদ প্রভৃতি জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে। ক্রোনোলজিটা হলো রামনবমীর মিছিল - অস্ত্র নিয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য -সংখ্যালঘু অঞ্চলে হাঙ্গামা- দাঙ্গা। পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা ছড়াও। ২০২৪ এর ভোট আসছে।ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সেই পুরনো অবস্থান। বিদ্বেষ বিভাজনের রাজনীতি। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, দাঙ্গা বাঁধাও। বাকী সব প্রচারের বেলুন যে ফুটো হয়ে গেছে। মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভ চরমে। অর্থনৈতিক বৈষম্য চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। ৯০ শতাংশ মানুষের গড় আয় ১০০০০ এর নীচে। ক্ষুদ্র একদল মানুষের হাতে দেশের বেশিরভাগ সম্পদ।কাজ নেই। জিনিষ পত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানির অভাবে মানুষ একবেলা রান্না করছে। প্রতিবাদ হলেই এনআইএ, ইডি, সিবিআই, ইউএপিএ, বুলডোজার। টুকরো টুকরো গ্যাঙের নামে প্রতিবাদীদের মিথ্যা মামলায় আটক। সিএএ বিরোধী আন্দোলন ও দিল্লী দাঙ্গাতে ১৫০০র বেশী মুসলমান জেলবন্দী। ফ্যাসিষ্ট শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়ছে। এই অবস্থায় ২০২৪ এ কি হবে?

সাম্প্রদায়িক হানাহানির উপর দেশভাগ হয়। এরপর ভারত রাষ্ট্রে অজস্র দাঙ্গা হয়েছে। ভাগলপুর, কানপুর, আলিগড়, মোরাদাবাদে বিভৎস দাঙ্গা হয়েছে। অজস্র প্রাণ গেছে, ঘরবাড়ি পুড়েছে। নিরাশ্রয় হয়েছে বহু মানুষ। এগুলো ছিল স্থানিক চরিত্রের, কোথাও হিন্দু মুসলমানের বিরোধ, বা বসতি উচ্ছেদের জন্যে সাম্প্রদায়িক লড়াই লাগানো কিংবা স্থানীয় শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র। কোন সংসদীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় এজেন্ডা দাঙ্গা ছিলনা। আরএসএসের এজেন্ডা থাকলেও প্রয়োজনীয় শক্তি ছিল না।বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে রামমন্দির নির্মাণ করো। এই শ্লোগান রেখে আরএসএস তার শাখাগুলো কে দিয়ে সেই বিভাজনের রাজনীতি শুরু করে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও দাঙ্গা কেন্দ্রীয় হাতিয়ার হয়।এই কাজে কোন নেতৃত্ব কোন ধর্মগুরু দেয়নি। দিয়েছে আদবানি, মুরলি মনোহর যোশী, উমাভারতীর মতো রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা। বস্তুত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও দাঙ্গা কে সামনে রেখে ক্ষমতায় যাও, এটা আরএসএস - বিজেপির ই গেমপ্ল্যান। আমরা দেখেছি এই পর্বে কয়েকহাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। এরপর ২০০২ সালে গুজরাটে মোদী অমিত শাহেদের জমানায় মুসলিম নিধন কর্মসূচি চলে।২০১৯ সালে সিএএ -এনআরসি, দিল্লী দাঙ্গা ঐ কর্মসূচির ধারাবাহিক রূপ। দশ বছর কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় আসীন বিজেপি। সমস্ত মিথ্যা প্রচার ধরা পড়ে যাচ্ছে। আদানি কে নিয়ে জেরবার। মোদীর মিথ্যা ভাবমূর্তি ধরা পড়ে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন মোদীর শক্তিশালী ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কোনও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ২০২৪ এ কি হবে? সেখানে সেই পুরনো তাস। হিন্দুত্ব, উগ্র জাতীয়তাবাদ। মুসলিম বিদ্বেষ। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।রামনবমীর দিন গোটা দেশে একত্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সেই কাজের প্রাথমিক রূপ। আগামী দিনে আরো বাড়ানো হবে। শিবপুর, সাসারাম, বরোদা, চারমিনার, ঔরঙ্গাবাদ সেই পরিকল্পনারই অঙ্গ। কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই পরিকল্পনাতেই ২০২৪ ভোট কর।রামনবমীর কর্মসূচি ফ্যাসিষ্টদের পরিকল্পিত কাজ। যাঁরা শিবপুরের ঘটনাকে শুধুমাত্র এই রাজ্যের সমস্যা হিসেবে প্রচার করছেন, তাঁরা জেনে বুঝেই এই সত্য কে আড়াল করছেন।

 

আগামী দিনে ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিরোধ গড়ার জন্যে তৈরী হওয়া প্রয়োজন। ফ্যাসিষ্ট শক্তিকে শুধু ভোটে নয়,পথেও হারাতে হবে।

 

 

 

0 Comments

Post Comment