পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বাংলাতে কেন এমন ফল বামেদের ? উত্তরণের উপায় কী?

  • 13 June, 2024
  • 0 Comment(s)
  • 583 view(s)
  • লিখেছেন : গৌতম রায়
বাংলায় বামেদের কেন এমন হতাশাজনক ফল হলো, এর থেকে বেরোনোর রাস্তাই বা কী? এই নিয়ে একটি ধারাবাহিক আলোচনা করলেন গৌতম রায়। শেষ পর্ব।

সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হলো। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কী ?

সিপিআই(এম) দলে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী অংশের মানুষের নেতৃত্ব অপেক্ষা, শিক্ষিত মধ্যবিত্তেরা অনেক বেশি শক্তিশালী হচ্ছে। এই প্রজন্মে ছেলেমেয়েদের মধ্যে যাঁরা বামপন্থী রাজনীতির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কিন্তু শহরের কেতা দূরস্ত, ব্র্যান্ডেড পোশাক পরা ছেলেমেয়েরাই সব নয়। ভোট রাজনীতি নিরিখে বামপন্থীদের এই দুরবস্থার মধ্যেও, মফস্বলে ,গ্রামে -গঞ্জে  অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, শহুরে কেতায় নিজেদের যাপনচিত্র কে পরিচালিত না করা ছেলে মেয়েরা সিপিআই(এমে) র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

সেই ধারাবাহিকতা বহু ক্ষেত্রে তাঁরা পারিবারিক স্তর থেকে পাচ্ছেন আবার বহু ক্ষেত্রে নিজেরা নিজেদের জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত ধারণার বসবর্তী হয়ে সিপিআই(এমের) প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।

                 এই অংশের ছেলে মেয়েদের যদি শহুরে কেতা দূরত্ব টেলিভিশনজীবী নতুন প্রজন্মের জায়গায়, দলীয় স্তরে, ধীরে ধীরে একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে,  নিয়ে এসে, নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়, তাহলে  সেটি কিন্তু যেমন মানুষের রুটি রুজির লড়াইয়ের প্রশ্নে, তেমনিই বামপন্থীদের শক্তিশালী সংগঠন তৈরির প্রশ্নে এবং অবশ্যই নির্বাচনী সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।

            পরাজয়ের অব্যবহিত পরেই  একটি বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রাজ্য সম্পাদক সেলিম যেমন লক্ষীর ভান্ডারকে উপহাস করবার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন, তেমনি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নিবিড় জনসংযোগের বিষয়টির উপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছেন ।

               সেলিম এই নিবিড় গণসংযোগের যে বিষয়টি বলেছেন, সেটি কিন্তু এককালে বাংলার বুকে কমিউনিস্টদের সামাজিক ভিত্তি গড়ে তুলে, সেই ভিত্তিকে ভোট রাজনীতিতে প্রতিফলিত করবার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। নিত্যানন্দ চৌধুরীর মত নেতা, নিজে পায়ে ঘুঙুর বেঁধে, গ্রাম- মফস্বলের হাট থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে গান গেয়ে, নাচ করে, নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যগুলোকে এলাকার মানুষদের মতো করে তুলে  ধরতেন।

             এই ক্ষেত্রে একদম ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অতি সাম্প্রতিক একটি কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরছি। বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার নিজে একজন কবিয়াল। বিগত লোকসভা নির্বাচনে যে এলাকাগুলিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি, সেই সব এলাকায় , বিজেপি, এই অসীম সরকারকে দিয়ে কবিগানের মধ্যে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়েছে ।

                এখনো গ্রামবাংলায় বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমের প্রলংকারী দাপট সত্ত্বেও, মানুষ, কবিগান- কীর্তন ইত্যাদি লোকসংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য গুলি, যেসব মানুষেরা গৌণ ধর্মের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করেন। তাদেরকে আকৃষ্ট করে এইসব বিষয়গুলি। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে অবস্থানরত মানুষদের লোকায়ত সংস্কৃতি ঘিরে শহুরে উন্নাসিকতা থাকলেও, গৌণ ধর্মের মানুষ যেভাবে লোকসংস্কৃতিকে নিজেদের বিনোদনের একটা ক্ষেত্র হিসেবে ধরে, সেই জায়গাটা ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শিবির পুরোপুরি ব্যবহার করেছে।

              কিন্তু এখানেও একটা ব্যতিক্রমী জায়গা আছে। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বড় অংশে আছেন। ওই লোকসভা কেন্দ্রে মতুয়াদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সিপিআই(এম) প্রার্থী অলকেশ দাস, আয়োজকদের আমন্ত্রণে গিয়েছেন। অনুষ্ঠান শুনেছেন। মতুয়াদের পক্ষ থেকে অলকেশকে সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছে। মতুয়াদের নানা ধরনের প্রতীকে তাঁকে  বিভুষিত করা হয়েছে। এমনটা কিন্তু সিপিআই(এম) দলে সেলিমের নেতৃত্বের আগে ঘটলে, অলকেশের কপালে দুঃখ ছিল। তাঁর সঙ্গে ধর্মের সংযোগের তত্ত্ব উপস্থাপিত হতো। অলকেশ ধার্মিক হয়ে গেছেন --এই অপবাদে হয়তো তাঁর দলীয় সদস্যপদও খারিজ হত।

সেলিম যে বাস্তববোধের উপরে তাঁর  দলকে অনেকখানি উপস্থাপিত করতে পেরেছেন, সেটি এবারের নির্বাচনে সাফল্য এনে দিতে না পারলেও, সেই ধারাটি যে আগামী দিনে বিভাজনের রাজনীতিকে রোখবার প্রশ্নে একটা হাতে-কলমে লড়াই এর জায়গা তৈরি করছে, সে বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, আর এই লড়াই, নিশ্চিতভাবে সহযোদ্ধাদের পরামর্শ এবং সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণাকে ভিত্তি করে এমন একটা পথে সেলিম স্থাপিত করবেন, যার ফল হিসেবে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক সম্প্রদায়িক শক্তি, সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। স্বাভাবিক ভাফেই অচিরেই তার প্রভাব পড়বে ভোট রাজ্য রাজনীতিতে।

0 Comments

Post Comment