পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

মই দেবতা কারেন্ট ফেরান

  • 29 May, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 120 view(s)
  • লিখেছেন : সুপ্রিয় মিত্র
গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন, তাঁদেরই একজনের গল্প।

'ফিরতে পারছি যে, এটাই বড় কথা। কবে ফিরতে পারব না, সে ভেবে কী করব বলো।' ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন আমাকে ছাবন গুড়িয়া। ঢালাই ব্রিজের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। হাত পকেটে স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস, টেস্টার। এক কাঁধে তারের কুণ্ডলী। নাই নাই করে কুড়ি কেজি। কিন্তু দিব্যি কাঁধ না ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। উড়িষ্যা থেকে। ডিজাস্টার কর্মী। কনট্রাক্টচুয়াল। মাথা ঢুকিয়ে দেন এ দলে, ও দলে। সে অর্থে পরিযায়ী। এবং নাছোড় পরিযায়ী। বাঁকাঁধ আর গলার কাছে তার বয়ে বয়ে কালশিটে পড়ে গিয়েছে।


   'ব্যথা তো হয় বাবু, কিন্তু বাড়ির কথা ভাবলে... ওই তো ছটা পেট আশায় আছে... কিছু মনে হয় না আর।'
   এই কথাটুকু পাঁচ মিনিট ধরে বলেছিলেন। থেমে থেমে। ঘোলাটে হয়ে। মাঝে ওই ত্রিবিন্দুগুলি দীর্ঘ দীর্ঘ কয়েক শো শো কিলোমিটারের। বারিপদায় বাড়ি। প্রত্যেকটা থেমে যাওয়ায় যেন একেকটা মুখ দেখে সমে ফিরছিলেন। কখনও বা হয়তো মায়ের মুখ তেহাই দিচ্ছিল। কখনও বা মীরখণ্ডী হচ্ছিল স্ত্রীর একেলা কান্নাকামনায়। আর গান্ধার ধৈবতহীন সন্তান-সন্ততি। অজানা জ্বরে একজন মারা গেছে। বলতে বলতে কেঁদেও ফেললেন। আবার বললেন, বাকিদের বাঁচাতে হবে তো!
    আসলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেঘ দেখতে দেখতে গাইছিলেন 'ঝুটি মুটি মিতওয়া আভন বোলে'। সা রে মা পা নি সা।
   কিন্তু জীবন এত মাপা নয়। এমন জীবন সহজে সারে না। আমাকে তাই থামতেই হত। থেমে গেলাম। তাই কথা হল ছাবন গুড়িয়ার সঙ্গে। মধ্য কলকাতার গাছ কেটে আসছে একটা দলের গাড়ি। তারা তুলে নেবে ছাবনকে। সুন্দরবনের দিকে যাওয়ার আগে একবার নিজরাজ্যে ঢুঁ মারবে তারা। টাকা দিয়ে আসবে বাড়িতে।  
    ছাবনের গায়ে গাছের কষা রক্তের গন্ধ। তেতো সবুজ হয়ে আছে তার জামা। কনুইয়ে সেই দাগ, আর ছাবনের ছড়ে যাওয়া চামড়ার রক্ত মিলিয়ে উপবৃত্তাকার এক ছায়াপথ রং নিয়েছে। গলায় তার সারং। লতার গান। কাঁধে তার। লতানো। ছাবন আকাশ থেকে মই দিয়ে নেমেছিল। মই নিয়ে কারেন্ট ফেরাবে। আমরা বাঁচব। তিনি বাজবেন। বাজবেন।

0 Comments

Post Comment