পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

নো ভোট টু বিজেপি—যা হ’ল, যা হ’তে পারত

  • 24 May, 2023
  • 0 Comment(s)
  • 1139 view(s)
  • লিখেছেন : মনসুর মণ্ডল
পশ্চিমবঙ্গে ও কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য হ’তে পারেনি মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে। এরকম অনৈক্যের পরিস্থিতিতে “বিজেপিকে ভোট নয়” জাতীয় প্রচার-অভিযান মুশকিল আসান করেছে। কিন্তু তার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সেই নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

 

কর্ণাটকে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন বিজেপি-কে হারিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ায় বিজেপি-বিরোধী মানুষজন উচ্ছ্বসিত। সেখানে বিজেপি-কে হারানোর স্লোগান নিয়ে ভোট-ময়দানে সক্রিয় নাগরিক প্রচার- অভিযান ‘এড্ডেলু কর্ণাটক’ (জাগো কর্ণাটক) ও ‘বহুত্ব কর্ণাটক’-এর ভূমিকায় সবাই উৎসাহী। প্রাসঙ্গিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ‘ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা’-র “নো ভোট টু বিজেপি” স্লোগানের কথা এসে যাচ্ছে। কারণ এরাজ্যে বিজেপির রাজ্যপাটের সুখস্বপ্নে জল ঢেলে দিতে এই প্রচার-অভিযানের বড় ভূমিকা ছিল।

নির্বাচন শেষে “জো জিতা ওহি সিকান্দার” ব’লে “বিজেপিকে ভোট নয়” জাতীয় প্রচার-অভিযানের প্রবক্তারা পশ্চিমবঙ্গে বা কর্ণাটকে দলীয় জয়রথে সওয়ার হয়ে বসেননি। কারণ শুধু এই নয় যে, এগুলি অ-পার্টি উদ্যোগ; কারণ এটাও যে, বিজেপি সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বাতন্ত্র্য আছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো অবিজেপি দলগুলোর সঙ্গে তাঁদের নীতির ফারাক আছে।

অবিজেপি দলগুলি বিজেপিকে অতি দক্ষিণপন্থী দল হিসেবে দেখে এবং বিজেপির বিপক্ষে নিজের নিজের পক্ষে সরকার ধ’রে রাখতে অথবা সরকারি ক্ষমতা প্রতিস্থাপনে নিয়োজিত থাকে। পক্ষান্তরে পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতার জায়গা থেকে অপরাপর বিজেপি-বিরোধী দলের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া করে। তারা বিজেপির বিপদ সম্পর্কে আর কদম বাড়ায় না, কারণ বিজেপি বিরোধিতায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা আছে। এই ফাঁকটা যারা পূরণ করতে পারে, তারা তৃতীয় ফ্রন্টের রাজনীতির প্রবক্তা। এই রাজনীতি যেমন সংসদীয় ক্ষেত্রে আছে, তেমনি এটা অ-পার্টি ধারা হিসেবেও আছে। এটার পরিসর যত সংহত হবে, বিজেপির আগ্রাসন রুখতে ততই নির্ধারক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ‘ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা’ বা ‘এড্ডেলু কর্ণাটক’-এর মতো প্রচার অভিযান অ-পার্টি ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। এটা বাম ও প্রগতিশীল সমাজকর্মী, লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীর সমাবেশ। ‘এড্ডেলু কর্ণাটকে’ এই ধারার বিভিন্ন সংগঠনও যুক্ত আছে। মানবাধিকার ও অধিকার আন্দোলনে এই বর্গের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। ফ্যাসিস্ট শক্তি হিসেবে সমন্বিত আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে এই বর্গের মতাদর্শ সন্নিবিষ্ট। নির্বাচনী লড়াইয়েও অ-পার্টি অবস্থান থেকে এগুলোর গুরুত্ব পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছে। এখন প্রশ্ন হ’ল, পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটকে নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে বিজয়ে এই অ-পার্টি ধারার ভূমিকার মধ্যে তৃতীয় ফ্রন্টের রাজনীতির সংহত হওয়ার জায়গাটা থাকল কি?

“বিজেপিকে ভোট নয়” জাতীয় প্রচার-অভিযান যেহেতু অ-পার্টি উদ্যোগ, তখন সংসদীয় রাজনীতিতে যে পার্টির যেমন স্থিতি সেই পার্টি সেই মতো সুযোগ পাবে—এটা পূর্ব-অনুমান ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিপাদ্য বিষয়। কিন্তু কর্ণাটকে কংগ্রেস ৭৮ (২০১৮) থেকে ১৩৫-এ পৌঁছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়ে দাঁড়াল এবং জেডি (এস) ৩৭ থেকে ১৯-এ নেমে গেল, কিংবা, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশে বাম দলগুলো ও কংগ্রেস (এদের মধ্যে নির্বাচনী জোট হওয়া সত্ত্বেও)  শূন্য হয়ে গেল। বিজেপি বিরোধী ভোটচিত্রে এই বিষম অঙ্কের দায় ‘ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা’র মতো অ-পার্টি প্রচার-অভিযানের প্রবক্তারা এড়াতে পারে না। এই যখন বিষম বাস্তবতা, তখন ‘বিজেপি-কে ভোট নয়’ জাতীয় প্রচার-অভিযানের ভালমন্দ সম্পর্কে মূল্যায়ন জরুরি। নচেৎ এই শিবিরের রাজনৈতিক গুরুত্ব, সাফল্য সব এই উদ্যোগের সুফল ভোগকারী রাজনীতিতে আত্মসাৎ করার রাস্তা ক্রমান্বয়ে খুলে যাবে। এর সকল উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তথাকথিত রাজনীতির মূলস্রোতে বিলীন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে তার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ওদিকে ‘এড্ডেলু কর্ণাটক’ ও ‘বহুত্ব কর্ণাটক’-এর পরিশ্রমের সব ফসল ঘরে তুলে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বিজেপির বিপরীতে কংগ্রেস এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করলেন। এদিকে কর্ণাটকে বিজেপির উৎসাহব্যঞ্জক পরাজয়ের পর  তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বকে দেখা গেল “নো ভোট টু বিজেপি” স্লোগানকে নিজেদের পার্টির রাজনীতিতে আত্মসাৎ করার কসরত করতে।

আমরা যদি নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষিতে এই প্রচার-অভিযানের ভূমিকা খতিয়ে দেখি, তা হ’লে দেখব—এক, ভোটযুদ্ধে বিজেপি-কে আটকানোর প্রশ্নে অভিযান পুরোপুরি সফল। দুই, অভিযান প্রবক্তাদের ইচ্ছা-নিরপেক্ষভাবে একদলীয় শাসনের অনুকূলে গেছে। তিন, অভিযান বাম ও আঞ্চলিক তথা গণতান্ত্রিক পার্টির বিপক্ষে গেছে। ভোটচিত্রে স্পষ্ট, নির্বাচকমণ্ডলীর বৃহৎ অংশ যখন বিজেপি-র বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হচ্ছে, তখন একক বৃহৎ পার্টির দিকে ঝুঁকছে। এটা এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু মাঝখানে বিজেপি-র বিরুদ্ধে অ-পার্টি প্রচার অভিযান ব্যাপারটা থাকা সত্ত্বেও যখন নির্বাচকমণ্ডলীর নির্ধারক অংশটাতেও এই স্বতঃস্ফূর্ততা থাকছে তখন এটা মানতে হবে যে, এই প্রচার প্রক্রিয়াটা একমুখী বিজেপির খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে জনমত সংগঠিত করা ছাড়া এর আর কোন ভূমিকা ছিল না। “বিজেপিকে ভোট নয়” জাতীয় প্রচার-অভিযানের মোদ্দা কথা হ’ল বিজেপিকে সরকারে যাওয়া থেকে আটকানো। এক্ষেত্রে নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে বিজেপি সম্পর্কে সচেতনতা দলটির সরকারী ক্ষমতায় না-থাকা সাপেক্ষ। সুতরাং যেখানে অ-বিজেপি সরকার আছে, সেখানে তাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা আর যেখানে বিজেপি সরকারে আছে, সেখানে তাকে অপসারিত করতে অ-বিজেপি বৃহৎ দলকে সমর্থন করা— এটাই নির্বাচকমণ্ডলীতে প্রধান প্রবণতা হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এই জায়গা থেকে ব্যাপারটা একদলীয় শাসনের পক্ষে গেছে।

এই রকম অ-পার্টি প্রচার অভিযানের সীমাবদ্ধতা ছিল এইখানে যে, এই অভিযান বিজেপি সম্পর্কে আশঙ্কা জাগাতে পেরেছে, আশাবাদ জাগাতে পারেনি। মোদি সরকারের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ, বিদ্বেষ-বিভাজনের রাজনীতি, এনআরসি-সিএএ বিরোধী আন্দোলন, দিল্লী অভিমুখী ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন, এমন সব প্রসঙ্গ প্রচার-অভিযানে এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেসব বিজেপির ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রামের কোন রূপরেখা তুলে ধরতে পারেনি। একটা উদাহরণ তুলে ধরা যায়—মোদি সরকার আনীত কৃষক-বিরোধী ও কর্পোরেটমুখী তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২০-র দ্বিতীয়ার্ধ থেকে দিল্লীর উপকণ্ঠে ধারাবাহিক কৃষক লড়াইয়ের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলোর (সিপিআইএম-এর কৃষকসভা সহ) প্রচার আন্দোলন হয়েছিল। এর পাশাপাশি দিল্লীর উপকণ্ঠে কৃষক লড়াইয়ে নেতৃত্বকারী সংগঠন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আন্দোলন সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন ও “বিজেপিকে ভোট নয়” আহ্বান  রেখেছিলেন। আরও উল্লেখ্য যে, ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, কৃষিঋণ মকুব সহ একগুচ্ছ দাবিতে কৃষকসভা সংগঠিত নাসিক থেকে মুম্বই প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ ধ’রে ঐতিহাসিক পদযাত্রা সম্পর্কে এই বাংলায়ও উৎসাহব্যঞ্জক আলাপ-আলোচনা হয়েছিল ভালোই। সিপিআইএমের কৃষিজমিতে শিল্প গড়ার ভ্রান্তি ও এজন্য বলপ্রয়াগের বিপরীতে কৃষক আন্দোলনে কৃষকসভার এই ভূমিকা কিছু অন্তত ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখেছিল বৈকি। তথাপি বামপন্থীরা শূন্যের কোটায় নিক্ষিপ্ত হ’ল।

স্বীকার করতেই হবে, রাজনৈতিক দল না হয়েও ‘ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা’-র মতো প্রচার অভিযান জনমনে ভালোরকম প্রভাব সৃষ্টির ক্ষমতা ধরে। সেটা পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রাক নির্বাচনী পার্টি প্রচারের দিকে তাকালেই বাঝা যাবে। পুরো নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে সিপিএম ও কংগ্রেস-কে জুড়ে “জগাই-মাধাই-বিদায়” ক’রে গেল। অপরদিকে একইভাবে সিপিএম ও কংগ্রেস “দিদিভাই-মোদিভাই” ক’রে গেল। বিজেপিকে নিয়ে এরকম চাপান-উতোর জনমনে কিছুটা অন্তত বিভ্রান্তি সৃষ্টি ক’রে থাকতেই পারে যে, বিজেপি এদের মতোই একটা রাজনৈতিক দল এবং এটা এই দলগুলোর বিজেপি বিরোধিতা সম্পর্কে কিছু ধোঁয়াশা তো সৃষ্টি করেছিল। নির্বাচকমণ্ডলীর নির্ধারক অংশের প্রায় সবটা এসবের তোয়াক্কা না ক’রে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিল। কিন্তু অ-পার্টি প্রচার-অভিযানের তাৎপর্য এভাবে সরকারি ক্ষমতার অলিন্দে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে না। এই ধরনের প্রচার অভিযানের আরএসএস-বিজেপি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ও বিরোধিতা এভাবে সংকুচিত হবে না ও তার মূলগত অবস্থানের সারবত্তাকে কোন-না কোনভাবে প্রতিফলিত করবে, এই অভিমুখের প্রতি প্রচার-অভিযানের দায়বদ্ধ থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল।  

বিহারে সাম্প্রতিক (২০২০-র অক্টোবর-নভেম্বর) বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গের বিপরীত ছবি দেখতে পাই। প্রথমত, বিহারে মহাগঠবন্ধন দেখিয়েছে বিজেপি-র বিরুদ্ধে ব্যাপক বিরাধী ঐক্যের ছবি—যাতে কংগ্রেস, আরজেডি ও বামপন্থী দলগুলো শামিল হয়েছিল ও এটা এক শক্তিশালী মহাজোট হিসেবে মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। মহাগঠবন্ধন বিজেপি-জেডি (ইউ) জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেও সামান্যর জন্য তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি বটে, কিন্তু জনপ্রভাবের দিক থেকে মহাগঠবন্ধন এতটাই সম্ভাবনাময় ছিল যে, অচিরেই বিজেপি-জেডি (ইউ) জোট ভেঙে গেল। এখন সেখানে বিজেপি-র ক্ষমতাচ্যুত বেহাল দশা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। দ্বিতীয়ত, মহাজোটের ভিতরে আরজেডি, জেডি (ইউ) ও বামপন্থী দলগুলোর ঐক্যের মধ্য দিয়ে তৃতীয় ফ্রন্টের রাজনীতিকে সংহত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয়ত, বামপন্থী দলগুলোর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন তার বিধায়ক সংখ্যা ৩ থেকে ১২-তে তুলতে পেরেছে।

পশ্চিমবঙ্গে ও কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য হ’তে পারেনি মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে। এরকম অনৈক্যের পরিস্থিতিতে “বিজেপিকে ভোট নয়” জাতীয় প্রচার-অভিযান মুশকিল আসান করেছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, নাগরিক সমাজের এই রকম ঐক্য ও প্রয়াস বিজেপি-র ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের সামনে শক্তিশালী হাতিয়ার, এটা প্রমাণিত। কিন্তু ‘ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা’ বা ‘এড্ডেলু কর্ণাটক’-এর মতো প্রচার অভিযানগুলোর একদিকে এরকম সক্ষমতা ও অন্যদিকে তাদের অভিপ্রায়, দুই দিকই বিরোধী দলগুলোর মধ্যেকার ব্যাপক ঐক্য-প্রয়াসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেদিক থেকে এই ধরনের অভিযানগুলোর কর্মপন্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে বিরোধী ঐক্যের রাজনীতি সমান্তরালে এগোতে পারে। বিধানসভা নির্বাচনে বা ২০২৪-এর বড় নির্বাচনের ময়দানে বিরোধী ঐক্য যে খাতেই বয়ে যাক, ‘ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা’ বা ‘এড্ডেলু কর্ণাটক’-এর মতো প্রচার-অভিযানগুলোকে বিজেপি-বিরোধিতার পন্থা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ঠিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে তাদের মৌলিক রাজনৈতিক ভাবনার ছাঁচে লক্ষ্যকে স্থাপন করতে হবে।  

  

                                                                

0 Comments

Post Comment