নাম – জামিলা বিবি,
বয়স – ৬৮
বাড়ি – মোকামতলা, বঙ্গছত্র, নানুর, বীরভূম

এবারের এসআইআরে নাম বাতিল হয়েছে, কারণ তাঁর ২০০২ সালের তালিকাতে নাম ছিল না। এছাড়া তাঁর বাবা, মা, দাদু, ঠাকুমা কারোর নামও ২০০২ সালে নেই, সবাই ২০০২ সালের আগেই মারা গিয়েছে। ওনার স্বামীর নাম আছে, কিন্তু সেই দিয়ে তো ম্যাপিং করার নিয়ম নেই। তাঁর পিতা বহুকাল আগে খালি হাতে এই গ্রামে বসবাস করতে এসেছিলেন রাজ্যের অন্য এক গ্রাম কলানপুর (গ্রামটির ডাক নাম, মূল নাম বলতে পারেননি) থেকে। সেই থেকে গ্রামে বাস করা শুরু। জমি জায়গা নেই বললেই চলে, সরকার থেকে বাড়ি পেয়ে কোনোরকমে মাথা গুঁজে বাস করেন। ২০০২ সালে গ্রামেই ছিলেন, কিন্তু লিস্টে নাম ওঠেনি। সেই নিয়ে ভ্রূক্ষেপ করেননি, কারণ, লেখাপড়া জানতেন না বাড়ির কেউই। আর্থিক কারণে পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি। তাঁর ছেলের কিন্তু লিস্টে নাম এসে গিয়েছে। হিয়ারিং -এ ডাক পড়েছিল, গিয়ে পিছনের ১৩ টা ডকুমেন্টসের মধ্যে দেখাতে পারেন নি। নিজ নামে কোন সম্পত্তি না থাকার দরুন, দলিল দেখানোর রাস্তা ছিল না। স্বামীর নামে দু-একটা কাগজ দেখালেও তা গৃহীত হয়নি।
নাম – হিঙ্গুলা বিবি
বয়স – ৬২
বাড়ি – মোকামতলা, বঙ্গছত্র, নানুর, বীরভূম।

তিন ছেলে এবং তাদের বউদের নিয়ে বাস। স্বামী অনেক পূর্বেই মারা গিয়েছেন। এই গ্রামেই তাঁর বাবার বাড়ি, যদিও তাঁর বাবা একসময় পাটনীল গ্রাম (ফুটিসাঁকোর পাশে) থেকে গ্রামটিতে এসেছিলেন। গ্রামে বাস করলেও আর্থিক দুরাবস্থার কারণে বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সূত্রে যেতে হত। দীর্ঘদিন বেনারসেও কাটিয়ে এসেছেন। ২০০২ সালে গ্রামেই ছিলেন, কিন্তু লিস্টে নাম ওঠেনি। তাঁর তিন ছেলের নাম লিস্টে এসে গিয়েছে। আর্থিক দুরাবস্থার জন্য একজন ছেলেও পড়াশুনা করেনি, নাম সই অব্দি করতে পারে না। জমি বলতে না থাকার মত, তাই আজও দিন চলে দিনমজুর করে। এখনও একজন বাইরের রাজ্যে গিয়েছে কাজে। কিছুদিন আগে বিএলও কে এক ছেলে এসে বলেছেন, বিদেশে (গ্রামের লোকজন বাইরের রাজ্যকে ‘বিদেশ’ বলে থাকেন) কাজ করি, ভোটার কার্ড না দেখালে আর কাজ পাব না, দেখবেন একটু নামটা বাদ না যায়।’ মহিলার হার্ট খুব দুর্বল, ভয় পান খুবই। এনামুরেশন ফর্ম বিলি থেকে শুরু করে আজ অব্দি প্রায় ৫ মাস ভয়ে ভয়ে কাটাচ্ছেন। একবার ছুটছেন স্বামীর নামে দলিল, পর্চা কিছু কোনোরকম কিছু থাকলে বার করতে। স্বামীর সম্পর্কের কারোর কাছে কোন কাগজে তাঁর স্বামীর নাম উল্লেখ আছে কি না খোঁজ নিতে। বারবার হয়রানি হয়েছেন, কিন্তু উপায় কিছু বের করতে হবে। কিন্তু শেষ অব্দি নাম কাটা যাওয়ার পর হতাশ হয়ে পথ চেয়ে আছেন যদি আবার নামটা জোড়া যায়।
নাম – গোলাপি বিবি
বয়স – ৩৮
বাড়ি – মোকামতলা, বঙ্গছত্র, নানুর, বীরভূম।

হুগলী জেলার এক গ্রামে বাড়ি, বিয়ের পর এই গ্রামে এসেছেন। স্বামী, ছেলেকে নিয়ে বাস। কাজের সূত্রে ছেলে অন্য রাজ্যে থাকে। বাচ্চা অবস্থায় তাঁর মা আগুনে পুড়ে মারা যান। ছোটো থেকে মানুষ হয়েছেন মামার বাড়িতে। বর্তমানে পিতা বেঁচে আছেন, কিন্তু মাথার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ভুগছেন। তাঁর মা মারা যাওয়ার পর পিতা কলকাতা চলে যান কাজের সূত্রে, পরে দ্বিতীয়বার বিয়েও করেছেন।পরিবারের কারোর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। ২০০২ সালে তাঁর পিতা গ্রামে না থাকার দরুন নাম তোলা হয়নি। দাদু, ঠাকুমা ২০০২ সালের পূর্বেই মারা গিয়েছেন। ফলে পিতা এবং কন্যা দুজনেই ২০০২ সালের সঙ্গে ম্যাপিং করতে পারেনি। হিয়ারিং – এ তিনি স্কুল সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, কিন্তু তা গ্রাহ্য হয়নি। বর্তমানে পিতা এবং কন্যা দুজনের নাম কাটা গিয়েছে।
নাম- রীণা দেব
বয়স - আনুমানিক ৩২, আংশিক প্রতিবন্ধী।
অনাথ। মা-বাবার কোনো পরিচয় জানা নেই। একটি আশ্রমে বড় হয়ে এক মহিলার সাহায্যে রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ ও পরে একটি সরকারি বিদ্যালয়ে হোস্টেলে থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে এখন বোলপুর কলেজে পড়েন। পাশাপাশি টিউশন পড়িয়ে দিন চলে।
হিয়ারিং এ আশ্রমের কাগজপত্র দিয়েও কোনো উপায় হয়নি। যদিও একই কাগজপত্র দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় আশ্রমের বাকি মেয়েদের নাম তালিকায় উঠেছে।

২০১৫ সালে ইংল্যান্ডে একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয় যার নাম 'suffragate' মেয়েদের ভোটাধিকারের লড়াই নিয়ে তৈরি এই ছবিতে দেখানো হয় কীভাবে সমাজের সমস্ত স্তরের মেয়েরা এবং তার মধ্যে বিশেষ করে শ্রমজীবী মেয়েরা কী কঠোর নির্যাতন এমনকী মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে এই দাবি আদায় করেছিলেন। ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ সরকার সে দেশের সীমিত সংখ্যক মেয়েদের ভোটাধিকার দেয়, যাদের সম্পত্তির অধিকার ছিল। কিন্তু সাম্রাজ্যের অন্যত্র এটি দেওয়া হয়নি। ছবির শেষে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মেয়েরা কবে ভোটাধিকার পেয়েছেন তার একটি তালিকা ছিল। আমাদের ভাবতে ভালো লাগে যে এদেশে গণতান্ত্রিক সংবিধান চালু হওয়ার সাথে সাথেই আর্টিকেল ৩২৬ এর দ্বারা সার্বজনীন ভোটাধিকারের আওতায় মেয়েরা এই অধিকার পেয়ে যান।
গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব যদি হয় প্রতিনিধি নির্বাচন তাহলে ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যা কিছুটা হলেও ভারতভাগ্যবিধাতার নির্ণায়ক ভূমিকা এনে দেয়। আজ আমরা লক্ষ্য করছি এস আই আরের নাম করে এই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে মেয়েদের থেকে। পশ্চিমবঙ্গে গত দশ বছরে সবচেয়ে কম নারী ভোটার এবছর এবং এটা স্পষ্ট যে মেয়েদের নির্ণায়ক ভূমিকা থেকে সরানো এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে বিহারেও একই ঘটনা ঘটেছিল। অদ্ভুতভাবে মেয়েদের সংস্কার মেনে চলা জীবন যাপনই আজ তাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। যে নিয়মে ভোটার নির্ধারণ চলছে সে নিয়মে এটা ধরাই হল না যে মেয়েদের বিয়ের পর পদবী বদলায়। আধার কার্ডে বা অন্যান্য পরিচয়পত্রে অভিভাবক হিসেবে স্বামীর নাম থাকে। অথচ এদেশে ব্যাঙ্ক থেকে কোর্ট থেকে জীবনবিমা পর্যন্ত ফর্ম পূরণ করতে গেলে পরিচয়ের গোড়াতেই বাবার নাম অথবা স্বামীর নাম লিখতে হয়। এস আই আর সম্ভাব্য হিন্দু রাষ্ট্রের মেয়েদের কাছে দাবি করছে বাবার সাথে সম্পর্কের প্রমাণ। এর পর হয়রানি ছাড়া আর কিছুই থাকে না। এতকাল নির্বাচন কমিশনের হয়ে স্থানীয় মানুষ ঘরে ঘরে গিয়ে খবর নিতেন, কে আছে কে নেই, এখন নিজের নাম নিজেকেই তুলতে হবে আর প্রমাণ দিতে হবে যে সে দেশের নাগরিক।
প্রমাণের কাগজপত্র গুলিও অসাধারণ। যে দেশের অসাধারণ শিশুতোষী শিক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে মাধ্যমিক পর্যন্ত পৌঁছায় জনসংখ্যার অর্ধেক এরও কম নারী, সে দেশে পরিচয় মানে মাধ্যমিক পাশের কাগজ, জমির অধিকারের কাগজ, আরো সব বহু বিচিত্র দলিল যা মেয়েরা স্বপ্নেও দেখেন না। কিন্তু এই মেয়েরা আজ বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে যে ছোটখাট ব্যাঙ্কের বই রাখেন কিংবা রেশন কার্ড, বহু ঢাক ঢোল পিটিয়ে পাওয়া আধার কার্ড সেগুলো সবই বাদ হয়ে গেল অদ্ভুত মন্ত্রবলে! প্রথম দফায় স্বাভাবিক কাগজপত্র দিয়ে মেলানো যাচ্ছিল কিন্তু তাতে তো ঘুসপেটিয়ার গল্প টেঁকে না, অতএব লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি খোঁজা হল এবং বরাবরের মতই পদবী না মেলায়, নামের বানান এদিক ওদিক হওয়ায় এবং স্থানান্তরিত হওয়ার মত আরো নানান কারণে মেয়েদের নাম বাদ পড়তে লাগল।
শেষ জনগণনা যেটা হয়েছে ২০০১ সালে, সেখানে ৪১.৩ শতাংশ মেয়েরা মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি মেয়ের পড়াশোনার তার আগেই ইতি হয়েছে। মেয়েদের লেখাপড়ার হাল যে কি তা সবাই জানেন। ঘরের কাছে প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনা শুরু হয়, তারপর খানিক দূরের হাইস্কুল, মোটামুটি অষ্টম শ্রেণীর কাছাকাছি এলেই বিয়ের বাজনা বেজে ওঠে। তারপর সব শেষ।
বিয়ে মানে শুধু লেখাপড়া শেষ নয়, বিয়ে মানেই স্থানান্তরিত হওয়া। খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়া মেয়েদের ৪৩.৭ শতাংশ বিয়ে বা অন্য কারণে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার পর তার যাবতীয় পরিচয় যুক্ত হয়েছে স্বামী এবং তার পরিবারের সাথে। পদবী বদলেছে, আধার কার্ডে বাবার বদলে স্বামীর নাম এসেছে। কিন্তু এখন তাকে ভোটার হতে গেলে তার বাবার নামের সাথে যুক্ত পরিচয় প্রয়োজন। যেহেতু অন্য কোনো নথি কাজে আসছে না, তাহলে তার পরিচয়ের শেষ ভরসাটুকু আটকে আছে সেই স্কুলে যেখানে তার সফর অসমাপ্ত। স্কুলের বহু পুরনো নথিপত্রের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজতে আসা এই মেয়েদের অসহায়তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পক্ষে কল্যাণকর নয়। সবচেয়ে বেদনার বিষয় এই যে এই মেয়েরা অনেকেই ভুলে গেছেন কোন্ বছরে তারা ভর্তি হয়েছেন, শেষ কোন্ ক্লাসে পড়েছেন। স্কুলে পড়ার কোনো স্মৃতিই তাদের কাছে নেই, সব কাগজ হারিয়ে গেছে নিজের শৈশব কৈশোরের মত।
কেউ কেউ বহুকাল আগে ছেড়ে যাওয়া বাপের বাড়িতে এসে খোঁজ করছেন জমি সম্পত্তির কাগজ বা অন্য কোনো কাগজ যার দ্বারা বাবার সাথে তার সম্পর্ক প্রমাণ করা যায় । যার মাধ্যমিক পাশের কাগজ আছে, কিন্তু সেখানে বাবার নামের বানানে হয়তো কোনো ভুল আছে, সঠিক নামের জন্য বহুকাল প্রয়াত বাবার কাগজ দরকার, সেটাই বা কে দেবে তাকে? এখন তো বাপের বাড়িও তার নিজের বাড়ি নয়। তাহলে মেয়েরা যাবেন কোথায়?
মেয়েদের নিজের পরিচয় বিয়ের পর সরকারি কাগজেও বদলায়। পদবী বদলায়, অভিভাবক বদলায়, কিন্তু আজ তার প্রধান নাগরিক অধিকার সে কারণেই বিপন্ন। এ দেশে সংবিধান রচনার সাথে সাথেই মেয়েরা ভোটাধিকার পেয়েছিলেন কেননা সংবিধান সভায় সমানাধিকারে বিশ্বাসী উজ্জ্বল নারী পুরুষেরা ছিলেন। প্রান্তিক মেয়েদের মধ্যে এই অবস্থা আরো প্রকট। আদিবাসী সমাজে স্ত্রী পুরুষ সাম্যের একটি বিশেষ ধরন আছে কিন্তু যেহেতু এই সমাজের বড় অংশ বিভিন্ন কারণে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত, তাদের যথেষ্ট নথিপত্র নেই। তার সাথে আছে কাজের খোঁজে দেশান্তরী হওয়া। রুজিরোজগারের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিলে পরিবারের প্রধান অর্থাৎ পুরুষটির নামই যাবতীয় কাগজপত্রে নথিভুক্ত হয়। এদের নামও সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় আসেনি ফলে তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়েছে।
এছাড়া বহু মেয়ে এমন আছেন যাদের সময়মতো নাম তোলা হয়নি। মেয়েদের ভোটের অধিকারকে আগে তো পরিবারে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হত না। মেয়েদের আবার মতামত! কম বয়সে দেখেছি বামপন্থী দাদা ভোট দিতে যাওয়ার সময় বৌদিকে শাঁখা ছুঁইয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিচ্ছেন কোথায় ছাপ দিতে হবে। কিন্তু এ ছবিটা বহুদিন বদলেছে, শ্রমজীবী মেয়েদের ক্ষেত্রে আগেই বদলেছে। তারা তাদের হকের লড়াইটা জানেন। স্বনির্ভর দলের মাধ্যমে মেয়েদের নিজস্ব পরিসর বেড়েছে। রাজনৈতিক দলও এ বিষয়ে সচেতন। গোটা ভারতেই এখন ভোটের ময়দানে মেয়েরা গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে আরো বেশি। এখানে মেয়েরা ভোটের বাক্সে নিজেদের স্বাধীন মতামতকে প্রকাশ করেন। ঠিক যেমন গবেষণা দেখায় যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত প্রকল্পের টাকা মেয়েরা নিজের ইচ্ছায় ব্যয় করেন।
ইতিহাসের এও এক সন্ধিক্ষণ। যখন মেয়েরা তাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের বলে ধীরে ধীরে সব আগল ভেঙে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের স্থান করে নিচ্ছেন, সবখানে তাদের নির্ণায়ক ভূমিকা দৃশ্যমান হচ্ছে ঠিক তখনই দশকের পর দশক ধরে অর্জন করা এই শক্তিকেন্দ্রটিকে উল্টে দেওয়া হল। সেই মেয়েরা যাদের জীবনের প্রত্যেকটি পর্ব রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত করতে চায় তার হাজারো আইনের দ্বারা, সেই মেয়েদের রাজনৈতিক অংশীদারত্বে আঘাত হানাই উদ্দেশ্য এস আই আরের। একইভাবে যেমন মুসলমান ও মতুয়াদের ধ্বংসের তোড়জোড় চলছে। সংবিধান পরিষদের অন্যতম সদস্যা অমৃত কৌর বলেছিলেন এই ভোটাধিকার এই বোধের জন্ম দেয় যে মেয়েরা রাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার।
এটি একটি হিন্দুত্ব প্রকল্প। তাদের তাঁবেদার সাধুবাবারা একথা বহুকাল থেকেই বলে আসছেন যে মেয়েরা ঘরের ভিতরে থাকবে। সরকার গঠনে তাদের মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা সুসন্তানের জন্ম দেবেন এবং তাদের বিশুদ্ধ সনাতনী করে তুলবেন। সংবিধান রচনায় যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই আম্বেদকর শতবর্ষ আগে মনুসংহিতা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন শূদ্র, অস্পৃশ্য ও নারীর উপর আরোপিত অসাম্য, অন্যায় ও অমানবিকতার জন্য। আজ আমরা সেই ভয়ঙ্কর অন্যায়কে স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি।