ভারতের অন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ শুধু ভৌগোলিক দিক থেকেই নয়, পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। বিশেষত গ্রেট নিকোবর দ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম জীববৈচিত্র্য-সমৃদ্ধ ও সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। ঘন উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য, প্রবালপ্রাচীর, ম্যানগ্রোভ বন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং প্রাচীন উপজাতি সমাজ –সব মিলিয়ে এই দ্বীপপুঞ্জ এক অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য বহন করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ও সামাজিক কাঠামোর উপর সভ্যতার বুলডোজার নামিয়ে দিয়েছে।
কেমন সেই সভ্যতার বহর? গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে কেন্দ্র করে দেশের মহান সরকার একটি মেগা-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার মূল লক্ষ্য দ্বীপটিকে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবহন ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। তবেই নাকি দেশ, দেশের মানুষ তরতর করে পৌঁছে যাবে উন্নতির চরম শিখরে। এই প্রকল্পের অন্তর্গত প্রধান পরিকল্পনাগুলির মধ্যে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, একটি গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গ্যাস ও সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আধুনিক মানুষ ও উন্নত পরিবহনের জন্য আধুনিক রাস্তাঘাট, এবং সভ্য ধনকুবের ও কর্পোরেট বাবুবিবি গণের জন্য একটি নতুন টাউনশিপ নির্মাণ। আহা! আচ্ছে দিন একেবারে দোরগোড়ায়। আর কী চাই?
নাহ! শুধু এইটুকুতেই থামা চলবে না। দেশের নিরাপত্তা বলে একটা বিষয় আছে না? তাই সরকার বাহাদুর মনে করেন, মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী এই দ্বীপের কৌশলগত অবস্থান ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে সাহায্য করবে। দেশের হর্তাকর্তারা সহজ কথাটি সহজ ভাবেই কহিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা ও হাঙর কর্পোরেট বাহিনীর জালা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলাই এই প্রকল্পের ঘোষিত উদ্দেশ্য। জনগণের হাতে কী শুধুই পেন্সিল? না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পর্যটন বৃদ্ধির মতো ললিপপ আছে আমজনতার জন্য। কিসের বিনিময়ে এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন?
এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ বনভূমি উজাড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক ও প্রাচীন উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য কেটে বন্দর, বিমানবন্দর ও শহর গড়ে তোলা হবে। সরকারি মতেই প্রায় ১৬৬ বর্গকিলোমিটার জমি প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩১ বর্গকিমি বনাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। কত বৃহৎ বনানী মৃত্যুর মুখে পতিত হবে?
কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, প্রায় ৯.৬৪ লাখ গাছ কাটা হতে পারে। সরকারি নথিতেই এর উল্লেখ আছে। কি নিখুঁত পরিকল্পনায় লক্ষ লক্ষ গাছ মেরে ফেলা হবে। বাস্তবে মৃত্যু পথযাত্রী গাছের সংখ্যা অনেক বেশি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের হিসাব, প্রকৃত বনঘনত্বের কারণে প্রকল্প এলাকায় গাছের সংখ্যা অনেক বেশি –৩২ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বৃহৎ বৃক্ষ জাস্ট ভ্যানিশ হয়ে যাবে। সরকারের ভাবখানা এমন যেন এই গাছগুলো ওদের নিজস্ব সম্পত্তি। উন্নয়নের কী বিশাল মহিমা!
বনাঞ্চল হারানোর প্রভাব ঠিক কী রকম?
নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বনাঞ্চল অত্যন্ত প্রাচীন। সমৃদ্ধ বায়োডাইভার্সিটির দূর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল এই দ্বীপপুঞ্জ। বনাঞ্চলের ক্ষতি মানে জীববৈচিত্র্যের বিপুল ক্ষতি, কার্বন শোষণ কমে যাওয়া, তাপমাত্রা হুহু করে বেড়ে যাওয়া এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা। শুধু কি এই?
প্রকল্পের জন্য Galathea Bay Wildlife Sanctuary-কে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে, যা সমুদ্র রাবাস ও কচ্ছপের প্রজনন ক্ষেত্র ছিল। যা হারিয়ে যাবে উন্নয়নের করাল গ্রাসে। বনক্ষয়ের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার হরিয়ানার মতো বিভিন্ন রাজ্যে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। সেই কৃত্রিম বন গ্রেট নিকোবরের বন্যপ্রাণী ও সম্পদের বিকল্প হতে পারেনা। মূর্খরা বোঝে না, কিছু গাছ লাগানো সম্ভব হলেও একটি সত্যিকারের প্রাকৃতিক বন তৈরি করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আর বন্যপ্রাণকে বন থেকে তুলে আনলে, তা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বিরুদ্ধেই যায়।
এই বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়। হাজার লক্ষ গাছের সমাহার একটি জঙ্গল মাটির ক্ষয় রোধ করে, প্রচুর পরিমাণে কার্বন শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি আটকে রাখে এবং দ্বীপের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অরণ্য ধ্বংসের ফলে স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, বৃষ্টিপাতের ধরন ও জলবায়ুর পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। বাড়বে ভূমিধসের সংখ্যা ও তীব্রতা। একই সঙ্গে বহু বিপন্ন প্রাণী তাদের প্রাকৃতিক আবাস হারাবে। ভবিষ্যতে অসংখ্য প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে জাদুঘরে ঠাঁই নেবে।
উন্নয়ন স্থল কি ধূ ধূ মরুভূমি? অবশ্যই নয়। গ্রেট নিকোবর দ্বীপ জীববৈচিত্র্যের এক আশ্চর্য সম্ভার। প্রকৃতির এ এক অপূর্ব সৃষ্টি। এখানে রয়েছে লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপের মতো বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। পাশাপাশি নিকোবর মেগাপড, কাঁকড়া- খেকো বানর, নিকোবর ট্রি শ্রু সহ বহু স্থানীয় প্রাণী এই দ্বীপেই সীমাবদ্ধ। বন্দর নির্মাণ, সমুদ্র খনন, রাতের কৃত্রিম চড়া আলো ও যন্ত্রপাতির কর্কশ আওয়াজ এসব প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্রের সাড়ে বারোটা বাজাবে। নীড় ছাড়া হবে কত শত পক্ষীকূল। বিশেষ করে সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার ক্ষেত্র নষ্ট হলে তাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। একবার এই বাস্তুতন্ত্র ভেঙে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।
সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর ভয়ানক বিপর্যয় নেমে আসবে। উন্নয়ন প্রকল্পের একটি বড় অংশ সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার উপর নির্ভরশীল। বন্দর নির্মাণের জন্য ব্যাপকভাবে সমুদ্র খনন ও তটভূমি ভরাট করতে হবে। এর ফলে আন্দামান নিকোবরের সিগনেচার প্রবালপ্রাচীর, সিসগ্রাস ক্ষেত্র ও ম্যানগ্রোভ বন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র শুধু মাছ ও অন্যান্য জীবের আবাস নয়। বরং প্রাকৃতিকভাবে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সুনামি থেকে দ্বীপকে রক্ষা করে। এগুলি ধ্বংস হলে দ্বীপের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
নিকোবর অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এবং সুনামির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ২০০৪ সালের সুনামিতে গ্রেট নিকোবর দ্বীপ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছিল। এই বাস্তবতা জানা সত্ত্বেও সেখানে বিশাল অবকাঠামো ও ঘন জনবসতি গড়ে তোলা ভবিষ্যতে বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ আসলে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যকার গভীর দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও আদিবাসী অধিকার বিঘ্ন করে এ কোন্ উন্নয়ন? কাদের স্বার্থে, কিসের জন্য এই প্রকল্প? কত হাজার প্রাণপজাতি, কত লক্ষ বৃক্ষ নিধন করে, স্থানীয় মানুষের জীবন বিপন্ন করে, প্রকৃতির সংকট তীব্রতম করে এই উন্নয়ন? এসব প্রশ্ন সরকার, রূপকার ও কর্পোরেটের উন্নত মস্তিষ্কে ঠাঁই পায়নি। পাওয়ার কথাও নয়।
উপজাতি সম্প্রদায় সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হবেন। নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী শোম্পেন ও নিকোবারিজ (Nicobarese) উপজাতি ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন ও সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের জীবনধারা সম্পূর্ণভাবে বন ও সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং সংস্কৃতি, সবই প্রকৃতিনির্ভর।
গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অতি দূরবর্তী স্থানে বসবাসকারী শোাম্পেনেরা ‘particularly Vulnerable Tribal Group (PVTG)’ সম্প্রদায়ভুক্ত। তাঁরা মূলত বনভূমির উপর নির্ভর করে শিকার সংগ্রহ ও ছোট-খাটো বাগানচাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তাঁদের বসতি বিস্তৃতভাবে ঘন বনাঞ্চলে, প্রকল্প-অঞ্চলের মধ্যেই পড়ে। লোকসংখ্যা খুব কম। আনুমানিক ২০০-৩০০ জন। প্রকল্পের কল্যাণে এই সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে। দ্বীপের প্রধান আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিকোবারিজরা সৈকত ও বন উভয়ের কাছাকাছি বসবাস করেন। ২০০৪ সালের সুনামির পর অনেক নিকোবারিজকে সরকারি বস্তিতে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এই নতুন প্রকল্প আবার তাদের ancestral ভূমি থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিতে পারে।
কেন এই প্রকল্প তাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করছে? প্রকল্পে বৃহৎ বনাঞ্চল কাটা হতে চলেছে এবং শহর, বন্দর, বিমানবন্দর ও রাস্তা নির্মাণের ফলে সম্প্রদায়ের বসতি এলাকা, শিকার-সংগ্রহ ক্ষেত্র, পানির উৎস, সবই বিপর্যস্ত বিধ্বস্ত হবে। শোাম্পেনদের খাদ্য, ওষুধ, বসত, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি হল জঙ্গল। তাই বন হাতছাড়া হলে তাদের জীবনশৈলী অচল হয়ে যাবে। এছাড়াও রয়েছে স্বাস্থ্যগত বিপদ ও গণসংযোগের ঝুঁকি।
শোাম্পেন সম্প্রদায়ের অনেকেই তথাকথিত সভ্য সমাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নির্জনে বাস করেন। বাইরের লোক এবং অতিরিক্ত পর্যটকদের সংস্পর্শে রোগ-অসুখ, মাইগ্রেশন ও সামাজিক ঝঞ্ঝাটের বিপদ বাড়বে। যা তাদের জীবনকেই বিপন্ন করতে পারে। এককথায় জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রকৃতি নির্ভর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে।
সাংবিধানিক অধিকার ও বন অধিকার লঙ্ঘন করেই সরকার প্রকল্পের নীল নকশা ফেঁদেছে।
বন ও ভূমি অধিকার Forest Rights Act, 2006 অনুসারে আদিবাসীরা তাদের বনভূমির ব্যবহার ও পরিচর্যা করার অধিকার রাখেন। বাস্তবত প্রকল্পের social impact assessment বা “project affected community” বিবেচনায় শোাম্পেন বা নিকোবারিজদের পরামর্শ/সম্মতি নেওয়া হয়নি। যা আইনি ও নীতিগতভাবে অসঙ্গত।
আরো কিছু বিশেষ বিপত্তির বিষয় রয়েছে। প্রকল্পের public hearing-এ আদিবাসী সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শুনানিতে শুধু স্থায়ী অধিবাসীরা (non-tribal settlers) উপস্থিত ছিলেন। ৮৪ বর্গ কিলোমিটারের বেশি tribal reserve-কে denotify করে প্রকল্প-অঞ্চলে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যা সরাসরি আদিবাসীদের সংরক্ষিত অধিকার হরণ।
অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক, যুক্তিহীন প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিরোধ ও লড়াই জারি আছে। জানা গেছে, Forest Rights Acts লঙ্ঘনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পে বন অধিকার শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া অপর্যাপ্ত ও অবৈধ ছিল (Scroll.in)।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, পরিবেশবাদী ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা UN Special Rapporteurs (এই সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেন) ও আন্তর্জাতিক কমিটিগুলোর কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন প্রকল্পকে বাতিল বা পুনর্মূল্যায়ন করার দাবিতে।
বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই প্রকল্প আদতে এক ধরনের গণহত্যার সমতুল্য (Business Standard)। নিকোবরের স্থানীয় tribal council বারংবার জানিয়েছে যে, তাদের দলকে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং প্রকৃত সম্মতির অভাব রয়েছে। প্রতিবাদে পূর্বে দেওয়া no objection তারা প্রত্যাহার করেছে।
নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প কর্পোরেটের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্য অত্যন্ত গভীর। বন ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য ক্ষয়, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের বিপর্যয় এবং উপজাতি সমাজের অস্তিত্ব সংকট, এই প্রকল্পকে এক গুরুতর পরিবেশগত সামাজিক প্রশ্নে পরিণত করেছে। পুঁজির সঞ্চয়ের স্বার্থে, পুঁজির সংকট কাটাতে এই অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন মানুষ চাইছেন না। বাজার নির্ভর ভোগবাদী উন্নয়ন ও কর্পোরেটের ব্যবসার প্রয়োজনে অবৈজ্ঞানিক নগর পরিকল্পনা সভ্যতার অগ্রগতি বা মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে কোন কাজে আসবে না। পুঁজির উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনের ঘূর্ণিচক্রে পাক খেয়ে মানব জাতির কোন কল্যাণ সাধিত হবেনা।
উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে, স্থানীয় জনগণের অধিকার ও প্রকৃতির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করে, মানুষের নূন্যতম প্রয়োজনের নিরিখে সহযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যবস্থাই হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।