পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

সাইবার-জগতে টক্সিক ম্যাস্কুলিনিটি

  • 09 May, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 839 view(s)
  • লিখেছেন : শতাব্দী দাশ
সাইবার জগতে বিষাক্ত পৌরুষ বা টক্সিক ম্যাসকুলিনিটির প্রকাশ নতুন নয়, বিরলও নয়। বরং যৌন নির্যাতনের নবতম অবতার সেটিই। এতদসত্বেও সাউথ দিল্লির স্কুলছাত্রদের গোপন ইন্সটাগ্রাম গ্রুপ সকলকে হতবাক করেছে। এই বিস্ময়ের কারণ সম্ভবত দুটি।

 

 

সাইবার জগতে বিষাক্ত পৌরুষ বা টক্সিক ম্যাসকুলিনিটির প্রকাশ নতুন নয়, বিরলও নয়। বরং যৌন নির্যাতনের নবতম অবতার সেটিই। এতদসত্বেও সাউথ দিল্লির স্কুলছাত্রদের গোপন ইন্সটাগ্রাম গ্রুপ সকলকে হতবাক করেছে। এই বিস্ময়ের কারণ সম্ভবত দুটি।

 

এক, তাদের বয়স।  এই বয়সেই তাদের এই বিকৃতি  দেখে প্রায় সমবয়সী ছেলেদের বাবা-মা-আত্মীয়-পরিজন ভয় পাচ্ছেন। অথচ চোখ খোলা রাখলেই  টক্সিক ম্যাসকুলিনিটির শিকার কিশোরদের দেখতে পাওয়া যায় চারপাশে, সর্বত্র৷ বছর কয়েক আগে দিল্লিতে প্রদ্যুম্ন বলে বাচ্চা ছেলেটিকে যে কিশোর মারল, সেই কিশোরের কী এমন মানসিক বিকার ছিল? এত কম বয়সে সেই বিকার এল কোথা থেকে? কিংবা ভিন্নধর্মী মেয়ে আসিফাকে ধর্ষণ করেছে যে কিশোর? ভিনধর্মীকে পুড়িয়ে দিচ্ছে যে কিশোরেরা? নির্ভয়া কাণ্ডে চোদ্দ বছরের সেই ধর্ষকের বিকারকে কীভাবে ব্যাখ্যা করব, যে বলেছিল যোনিতে রড ঢোকানোর প্ল্যান তারই ছিল?

 

দ্বিতীয় কারণটি হল, নামি ইংরাজি মাধ্যম নিয়ে শহুরে মানুষের অকারণ মোহ। নামি স্কুলে যাওয়া ছেলেদের থেকে নাগররিকবৃন্দ অশালীন ভাষা থেকে শুরু করে ধর্ষণের পরিকল্পনা, কিছুই ঠিক আশা করেননি। অর্থাৎ ধর্ষকের অপরায়নের প্রক্রিয়া পুরোমাত্রায় কার্যকর তাঁদের মননে। সাধারণ মানুষ ধর্ষককে  'অপর' ভেবে অভ্যস্ত। ধরেই নেওয়া হয়, ধর্ষক অ-সাংস্কৃতিক, অ-শিক্ষিত, কুশ্রী, প্রায় পাশবিক কোনো চরিত্র। তাঁরা ভাবেন, মূলধারার সংস্কৃতির সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত নয় বলেই ধর্ষকের পক্ষে ধর্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। অথচ লিঙ্গ-রাজনীতি ঠিক উল্টো কথাই বলে। বলে, ধর্ষণের বীজ আছে আছে আমাদের সাধের সেই মূলধারার সংস্কৃতিতেই। তাকেই ফেমিনিস্টরা রেপ কালচার বলে ডাকেন। তাঁদের চোখে, ধর্ষণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নির্দিষ্ট সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত  ঘটনা।

 

'বয়েজ লকার রুম' নামক সমাজ-মাধ্যমের সেই গোপন গ্রুপের স্ক্রিনশট এবং তার সদস্যদের নিজস্ব ইনবক্সের স্ক্রিনশট কী করে যেন জনসমক্ষে এসে গেছে। তা নিয়ে যাবতীয় শোরগোল। তারা ধর্ষণ করেছে কিনা জানা নেই। স্ক্রিনশটে ধর্ষণের বর্ণনাও আছে, যদিও ধর্ষিতার এফআইআর নেই।  কিন্তু একটি মেয়েকে গ্যাংরেপ করার বিস্তারিত প্ল্যান তারা করেছিল তো বটেই। সেটাও দণ্ডনীয় অপরাধ, তাই দিল্লির মহিলা কমিশন সুয়োমোটো কেস করেছে। উপরন্তু তারা যে ভবিষ্যতেও ধর্ষণ করবে না, এমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না৷

 

যাঁরা অবাক হচ্ছেন ,তাঁদের জেনে রাখা ভালো যে এরকম গ্রুপ পৃথিবী জুড়ে আছে কয়েক লক্ষ। ২০১২ সালে কুইন্সল্যান্ডের দুই ছাত্র ‘12 Years Old Slut Memes’ নামে এক ফেসবুক পেজ চালু করে, যার লক্ষ্যই ছিল অপছন্দের মেয়েদের বিনা অনুমতিতে তাদের ছবি /বিকৃত ছবি পোস্ট করা। ফেসবুকের কর্ণধার মেলিন্ডা ট্যান্কার্ড-রিস্ট কিন্তু পেজটিকে ব্যান করেননি। তিনি পেজটি রেখে দেন – ‘on grounds of free speech’. তার ফল আশানুরূপই হয়েছে। আজ এমন বহু ভারতীয় পেজও আছে, যেখানে ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম থেকে মেয়েদের র‍্যান্ডম ছবি চুরি করে আপলোড করা হয়। গুগল-ড্রাইভ বানিয়ে মেয়েদের মর্ফড নগ্ন ছবি শেয়ার করারও চল হয়েছে৷  যাঁদের ছবি, তাঁরা জানতেও পারেন না, তাঁদের ছবি শেয়ার করা হয়েছে কোনো গোপন গ্রুপে বা পেজে এবং সেখানে যৌনগন্ধী মন্তব্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে-ইন্সটাগ্রামে-হোয়াটস্যাপে এই ধরণের পেজ ও কমিউনিটি আজ রক্তবীজতুল্য হয়ে গেছে।

 

কী কী ধরণের সাইবার অভ্যেসকে আমরা টক্সিক ম্যাসকুলিনিটির প্রকাশ ধরছি? স্থূলভাবে দেখতে গেলে, ধর্ষণের হুমকি,  মহিলাদের আক্রমণ করতে তাদের গোপনাঙ্গ বর্ণনা, তাদের ছবিতে অশালীন কমেন্ট, তাদের নামে ‘রিভেঞ্জ পর্ন’ ছেড়ে দেওয়া, তাদের ছবি মর্ফ করা, তাদের স্লাট-শেমিং করে বা চরিত্রহনন করে পোস্ট লেখা৷ এছাড়া রাতে অনলাইন থাকলে ইনবক্সে যৌন ইশারা, ইনবক্সে সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন ছবি বা মন্তব্য  পাঠানো ইত্যাদি তো মেয়েদের এতটাই গা-সওয়া হয়ে গেছে যে তাঁরা তা ধর্তব্যের মধ্যেই আনেন না৷ ব্লক করে চটজলদি সমস্যার সমাধান করতে চান৷ এরকম অধিকাংশ ঘটনা নিয়েই যথেষ্ট হৈচৈ হয় না৷ কদাচিৎ কিছু ঘটনা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রাজনৈতিক কারণে গুরুত্ব পায়।

 

অনেকেই মনে করেন, রেপ কালচারের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টার মধ্যে একরকম তীব্র পুরুষ-বিদ্বেষ আছে। যেন পুরুষমানুষ মাত্রকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হচ্ছে। তাই কি? দোষারোপ পিতৃতন্ত্রকে যদিও বা করা হয়, পুরুষকে করা হচ্ছে কি?

 

প্রথমেই মনে রাখা ভাল, যখন আমরা বলি, সবাই ধর্ষণ সংস্কৃতিতে বাস করছি/করছ/করছেন, তখন তা আবশ্যিকভাবে আমার-আপনার দ্বারা কৃত কোনও অপরাধকে সূচিত করা হয় না। আসলে ‘ধর্ষণ সংস্কৃতি’ পরিভাষাটি অপরাধকে নয়, অপরাধের উৎসস্থলকে নির্দেশ করে। সব অপরাধেরই কিছু আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিত থাকে, তেমনই থাকে ধর্ষণেরও। তাই ধর্ষণ সংস্কৃতির নাম শুনলেই আকাশ থেকে পড়ার কারণ নেই। ডিফেন্সিভ হয়ে পড়ারও দরকার নেই।

 

প্রাথমিকভাবে এমন এক সংস্কৃতিকে সূচিত করতে পরিভাষাটি এসেছিল, যেখানে ভিক্টিমকেই তাঁর উপর ঘটা যৌন নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত করা হয়৷ যেখানে যৌন নির্যাতন নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা, শুধু নির্যাতিতার মৃত্যু-টিত্যু ঘটে গেলেই তা ‘বিশেষ’ হয়ে ওঠে। সেখানে প্রাত্যহিক ভাষায়, ঠাট্টায়, মজাকিতে ধর্ষণ বা তার রূপক ঘুরে ফিরে আসে। Emilie Buchwald, যিনি Transforming a Rape Culture বইটির লেখক, তিনি ধর্ষণ সংস্কৃতিকে দেখেছেন এভাবে:

 

'a complex set of beliefs that encourage male sexual aggression and supports violence against women. It is a society where violence is seen as sexy and sexuality as violent.'

 

অর্থাৎ ভায়োলেন্স বিষয়টাই বেশ আবেদনপূর্ণ বা সেক্সি আমাদের সংস্কৃতিতে৷ তা আমাদের চোখে পুরুষালি, তা ক্ষমতা ও শক্তির পরিচায়ক। আর অন্যদিকে যৌনতা বলতেও আমরা হিংস্র কিছুই বুঝি৷ পারস্পরিক সহমতির ভিত্তিতে যৌনতা অনেকের কাছেই পলিটিকালি কারেক্ট নেকুপুষু ব্যাপার৷ তাই আমাদের যৌন ফ্যান্টাসিতে তার জায়গা নেই৷

 

আমাদের কথ্য ভাষায়, রূপকে, ঠাট্টা তামাশায়, আইনে, টিভিতে, সাহিত্যে, চলচ্চিত্রে এমনকি শিশুপাঠ্য বইতেও তারই ছড়াছড়ি৷ যেমন ধরা যাক, ভারতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে ‘ধর্ষণ’ করে না, খেলায় হারায় মাত্র। ‘ধর্ষণ’ শব্দের এরকম আলটপকা ব্যবহার ধর্ষণ সম্পর্কে সামগ্রিক উন্নাসিক মনোভাবেরই পরিচায়ক৷ দুজন পুরুষ পারস্পরিক ঝগড়া-ঝাঁটিতে প্রায়শই ব্যবহার করে এমন খিস্তি, যা আসলে নারীর পক্ষে অবমাননাকর। প্রতিপক্ষর মা-বোনকে ধর্ষণ করার ইঙ্গিত তার মধ্যে থাকেই। এমনকী ধর্ষকের প্রতি ক্ষোভেও অনেকে তার মা-বোনকে ধর্ষণ করার নিদান দেয়। আমাদের বিজ্ঞাপনের ভাষা বলে, ‘মেন উইল বি মেন’। পিতৃতান্ত্রিক নিদান হল, ছেলেরা গর্ব করবে বহুগামিতা নিয়ে। আর মেয়েদের সম্পদ হবে সতীত্ব।

 

সাম্প্রতিক ধর্ষণ বা ধর্ষণ করে খুন করে দেওয়ার ঘটনাগুলির প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়া যদি দেখি, তাহলে দেখব সেগুলি যে নৃশংস তা নিয়ে কিন্তু কোনও মতবিরোধ নেই। অথচ ধর্ষণ সংস্কৃতি যে ভাষা, চুটকি, সামাজিক আদানপ্রদান, বিনোদনের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তা মানতে মানুষের অনাগ্রহ ভারি৷ তাঁরা ধর্ষককে এক জান্তব বহিরাগত হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন। তাকে ফাঁসি দিলেই বা এনকাউন্টার করে দিলেই যেন রাতারাতি সমাজ পরিশুদ্ধ হবে।

 

ধর্ষণে যাঁরা ফাঁসির বিধান দ্যান, তাঁরা দিল্লির নাবালকদের নিয়ে কী বিধান দেবেন?

 

এই ছেলেগুলি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। 'লকার রুম' কথাটির আক্ষরিক শুধু নয়, আলংকারিক মানেও জানে।  'পুরুষদের একান্ত আলোচনার ভূমি, যেখানে নারীদের সম্পর্কে অশালীন /পলিটিকালি ইনকারেক্ট মন্তব্য করা যায়'।

 

তাই তারা তাদের ইন্সটাগ্রাম গ্রুপের নাম রেখেছিল 'বয়েজ লকার রুম'। স্ন্যাপচ্যাটেও এরকম দলের সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

তাদের জন্য কী বিধান হবে? ধর্ষক তো অপর। ঘিনঘিনে জন্তুবৎ। খুন করে দিলেই সমস্যার সমাধান। এই নাবালকগুলিকেও মেরে ফেলা যাক? নাকি অপেক্ষা করব তাদের প্রকৃত ধর্ষক হওয়া অবধি, আর তারপর মেরে ফেলব?

 

শাস্তি, না অপরাধ কমানো, কোনটা মূল লক্ষ্য? এমনকী যদি দুটিই কাম্য হয়, তবুও কোনটা অগ্রাধিকার পাবে? যেটি যার কাছে অগ্রাধিকার পায়, সেই অনুযায়ী তার প্রাথমিক নীতি নির্ধারিত হয়।

 

আসলে প্রাথমিক নীতি হওয়া উচিত ছেলেদের জেন্ডার স্টাডিজের আওতায় আনা। অধুনা জেন্ডার স্টাডিজে মেন্স স্টাডিজ একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ নারীদের কেবলমাত্র যৌনবস্তু ভাবতে শেখা তাদের পুরুষ হওয়ার সামাজিক পাঠের মধ্যেই পড়ে। যেমন পুরুষ হওয়ার অন্য পাঠগুলি হল খিস্তি করা, সেক্সিসট জোক বলা, নীল ছবি।

 

তাদের সঙ্গে কথা বলা দরকার। ব্যক্তিগত ভাবে শুধু না, সাংগঠনিক ভাবে। পরিবার থেকে  রাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন স্তর সহায়ক হলে, সে কাজ সহজ হত। কিন্তু তারা সহায়ক নয়। বড় দেরি হয়ে যাচ্ছে।

 

'ডিয়ার বয়েজ'-এর মতো প্রজেক্ট চাই। কলকাতা পুলিসের ডিয়ার বয়েজ প্রজেক্ট প্রবল বিরোধিতার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছিল। কারণ, অনেকে মনে করেছিলেন, আগ বাড়িয়ে কিশোরদের লিঙ্গসাম্যের শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অথচ  বাড়িতে ও স্কুলে লিঙ্গসাম্য-এর শিক্ষা বড় জরুরি হয়ে পড়েছে। লিঙ্গসাম্যের শিক্ষা মানে 'মেয়েদের সম্মান করো' নয় শুধু। 'ছেলেদের রঙ বনাম মেয়েদের রঙ'/ 'ছেলেদের খেলনা বনাম মেয়েদের খেলনা'/'মেয়েদের কান্না বনাম ছেলেদের   কঠোরতা' এই আপাত সাধারণ ধারণাগুলো শিশুমনে গেঁথে দেওয়ার সময় থেকেই অসাম্য শুরু হয়। কেঁদে ফেলা পুরুষসুলভ নয়, অনুভূতিপ্রবণ বা আবেগসর্বস্ব হওয়া পুরুষসুলভ নয়, কিন্তু কর্তৃত্ব করা, দখল করা, গায়ের জোরে ছিনিয়ে নেওয়া পুরুষসুলভ - এইসব ধারণা ছোটবেলা থেকেই যেভাবে চারিয়ে যায় মগজে, তার সাক্ষী বোধহয় আমরা সকলেই থাকি নিত্যদিন৷

 

টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি হল ‘পৌরুষ’-এর এমন এক সংকীর্ণ ধারণা, যা ‘পৌরুষ’-কে হিংসাত্মক কার্যাবলি, যৌনক্ষুধাসর্বস্বতা, আক্রমণাত্মক আচরণ, অনুভূতিশূন্যতা এবং (ধনতান্ত্রিক পরিকাঠামোয়) আর্থ-সামাজিক কৌলিন্য দিয়ে সূচিত করে। এ হল পুরুষত্বের এমন এক সাংস্কৃতিক ধারণা, যেখানে শক্তিপ্রদর্শন ও কর্তৃত্বই কেন্দ্রীয় ‘গুণ’। আবেগ, অনুভূতির যেকোনো প্রকাশ এই সংস্কৃতিতে পুরুষের ‘দুর্বলতা’ বা প্রকারান্তরে ‘মেয়েলি’। ‘হাইপারসেক্সুয়াল’ বা ‘অতিমাত্রায় যৌনভাবে সক্রিয়’ হওয়া এখানে স্বীকৃত, কিন্তু কনসেন্টের ধারণা স্বীকৃত নয়।

 

এই সংস্কৃতিতে বড় হচ্ছে যারা, তারা যে নিজেদের ভাবী কঠোর ও ক্ষমতাশালী মানুষ ভাববে, এটাই তো স্বাভাবিক। তারা এভাবেই খাদ্য-খাদকের সম্পর্কে বিশ্বাসী হবে।  কালক্ষেপ অনেক হল। সত্যি যদি নিজেদের সন্তানদের বেপথু হওয়া আটকাতে হয়, তবে 'catch them young' তত্ত্ব মেনে তাদের লিঙ্গসাম্যের পাঠ দেওয়া দরকার শৈশব থেকেই৷ ধর্ষকের ফাঁসি চাওয়ার থেকে অনেক কার্যকর ও গঠনমূলক প্রয়াস হবে সেটি।  

0 Comments

Post Comment