পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বাড়ী হতে অকাজ

  • 27 April, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 325 view(s)
  • লিখেছেন : হুতোম প্যাঁচা
হুতোমের ওয়ার্ক ফ্রম হোম হয়েচে। সম্পাদক কোরোনায় ভুগচে, তবে গিন্নী আর কন্যের হয়নি। ভাগ্যে গিন্নীকে চুমো খাওয়ার সমন্দ অনেককাল চুকে গিয়েচে! তবে সম্পাদকের এম্নি আতঙ্ক, সে হুতোমকে বলেচে কোতাও যাওয়া হবে না। যত বলি ভূতের ছোঁয়া লাগে না, ভাইরাস হাজির হবে কোতা হতে? কান দেয় না। তা দেশে যা রঙ্গ হচ্চে, ঘরে বসেই নকশা লেকা চলতে পারে। কয়েকটি হুতোম বয়ান কচ্ছেন।
 
 
হুতোমের ওয়ার্ক ফ্রম হোম হয়েচে। সম্পাদক কোরোনায় ভুগচে, তবে গিন্নী আর কন্যের হয়নি। ভাগ্যে গিন্নীকে চুমো খাওয়ার সমন্দ অনেককাল চুকে গিয়েচে! তবে সম্পাদকের এম্নি আতঙ্ক, সে হুতোমকে বলেচে কোতাও যাওয়া হবে না। যত বলি ভূতের ছোঁয়া লাগে না, ভাইরাস হাজির হবে কোতা হতে? কান দেয় না। তা দেশে যা রঙ্গ হচ্চে, ঘরে বসেই নকশা লেকা চলতে পারে। কয়েকটি হুতোম বয়ান কচ্ছেন।
 
কেয়ার করি না
লোকে খেতে পাচ্চে না, চিকিচ্ছে পাচ্চে না দেকে দেশের বড়বাবুর বেজায় দুখখু হয়েচে, তাই যোড়হাতে সকলকে বলেচেন দেশের বড় দুর্দিন, যার যা আচে আমার ঝোলায় ঢেলে দিন। এম্নি সাধুর মতন বাবুরও নিন্দুকের অভাব হয় না ঠ্যাঁটা দেশে। তারা শুধোলে বড়বাবুর তো একটি ঝোলা আদ্যিকাল হতে রাখা আচে, আবার নূতন ঝোলা কেন? কেমন যেন সন্দ হচ্চে? তা বড়বাবু ভারি গোসা কল্লেন। মোসায়েবের দল বল্লে, ছি ছি! সন্দ করার আর লোক পেলে না! আর জনে যে ইটালি,  জর্মন আরো না জানি কোন দেশে তাল তাল সোনা রপ্তানি করে ফেল্লে, তকন আঁটকুড়ির ব্যাটা  নিন্দুক কোতায় ছিল? তা নিন্দুক শুনচি মীরজাফরের গুষ্টি, কিচুতে থামেন না। দেকে শুনে বড়বাবুর এম্নি গোসা হল, বন্দোবস্ত কল্লেন সরকার বাহাদুরের অডিটর সায়েবও ও ঝোলায় কী আচে দেকতে পাবেন না। শুনে নিন্দুকে বল্লে, এটি সরকার না পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক? মোসায়েবের দল বল্লে, কেয়ার করি না।
 
গোঁসায়ের গেরো
মোসায়েবদের দিন বড় ভালো যাচ্চে না। পালের গোদা মিথ্যার্ণব গোঁসাই সাধুদের কারা পিটিয়ে মেরেচে শুনেই হায়েনার মতন লাফ দিয়ে পড়ে মোছলমানদের চৌদ্দ পুরুষ উদ্ধার কত্তে লেগেচিলেন। এদিকে সে স্থানের পুলিশে জানান দিলে যারা মরেচেন তারা হিঁদু, যারা মেরেচে তারাও হিঁদু। মোছলমানের টিকি, থুড়ি টুপিটিও মেলেনি। তা গোঁসায়ের দোষ নেই। তিনি সেরেফ জোর গলায় মিছে কতা বলে ক বচ্ছরে পেল্লায় বাড়ী গাড়ী মায় সিকিওরিটি হাতিয়েচেন, ঘরে ঘরে বাতাসা সহযোগে তেনার পুজো হচ্চে, তিনি সত্য মিথ্যা যাচাই কত্তে যাবেন কোন দুখখে? কেবল একটি গলদ হয়েচিল। দেশের সবকটি সরকার যে তেনার বাবুর নয় গোঁসায়ের স্মরণ ছিল না। নালিশে নালিশে জেরবার হলেন, লোকে বল্লে গেরেফতারও হতে পারেন। কে আবার সাসপেন্স সহ্য কত্তে না পেরে রাত দুপুরে গোঁসায়ের বাহনটিতে ঢিল মাল্লে, অম্নি গোঁসাই মায়ের বয়সী মাইনোকে আরেক দফা গাল পাড়লেন। অবিশ্যি মোসায়েব শাস্ত্রে লিকেচে বাবুকে তুষ্ট কত্তে আপন মাকে মাগী বল্লেও দোষ হয় না। তা ভাগ্যে গাল পেড়েচিলেন, তাই বাবুর আশীর্বাদে এ যাত্রা নালিশগুলি খারিজ হয়ে গ্যাচে।
 
মড়া যাচাই সমিতি
বাংলায় আরেক রকম রঙ্গ চলেচে। সমিতির পারমিশন বিনা মরা বারণ হয়েচে। মল্লেই হল না, কেন মরেচ সেটি স্থির কত্তে হবে। হুগলীতেই মরো আর সোঁদরবনেই মরো, কলকেতায় মড়া যাচাই সমিতি সভা করবেন। দার্জ্জিলিঙের চা, কাশ্মীরের কাজু আর বসন্ত কেবিনের মাছ ভাজা সহ ঠান্ডা ঘরে বসে ঠিক করবেন অমুকে কোরোনায় মরেচে, তমুকে নেহাত বুড়ো হাবড়া ছিল, দশটা রোগ ছিল, আর বাঁচলে ছেলেপুলের বাড়ী বসে পাঁচো ইয়ার মিলে মদ গেলায় সুবিধে হত না বলে মরেচে। হুতোম ক্যাপিটালের ইয়ার দোস্ত ভূতেদের থেকে জানতে পাল্লেন বাংলার এই সমিতিটি বড়বাবুর বেজায় মনে ধরেচিল। মেজবাবু বেজায় চোটপাট কল্লেন। শুধোলেন এম্নি সমিতি আমাদের হল না কী হেতু? এই যে কোরোনা বিশ হাজারে পৌঁচেছে, একে তবে দশ হাজারেই ইউ এ পি এ তে হাজতবাস করানো যেত। অমন কত করিয়েচি। গদ্দান যায় দেকে এক কোট টাই বাবু মন্তর দিলেন, হুজুর আমাদের যকন হলই না, তেনাদেরটি গুবলেট করার বেওস্তা করি? শ্রীমুখে হাসি ফুটল, কলকেতায় গুবলেট বাহিনী ল্যান্ড কল্লেন, আঠারো সাতান্ন হলেন।
 
বালগোপালের কাণ্ড
কলকেতার বাবু বিবিদের মহামারীতেও পাতে পদ কম পড়বার যো নেই। কুমড়ো ফুল ভাজা হতে শেষ পাতে মিষ্টান্ন অবধি ফাঁক দেয়া হয় না। রঙ্গের বেলাতেও তেম্নি। পাবলিকের পয়সায় দেশের বড়বাবু এক লাটসায়েবকে কলকেতায় পুষচেন। তেনার মন ছোট খোকাটির মতন। বৈষ্ণবে যাকে বালগোপাল বলে। তিনি নিমন্ত্রণ বাড়ী বেজায় ভালোবাসেন। এদিকে কলকেতার লোকে এদানি এম্নি বদ হয়েচে যে তেনাকে নিমন্ত্রণ করে না, কল্লে দুয়োর হতে দুয়ো দিয়ে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। তেনার অভিমানের কেউ দাম দিচ্চে না দেকে বেজায় চটে ছিলেন, মদ্যে কোরোনা এসে পল্ল। হুতোমের মতন আর পাঁচ জ্যান্ত সাংবাদিকেরও ওয়ার্ক ফ্রম হোম হল, বালগোপালের ঘ্যান ঘ্যান লেকার কেউ রইলে না। টুইটার ভিন্ন কাঁদার অবসর নেই দেকে বালগোপাল ক্ষেপে উঠলেন। রাজ্যেশ্বরী তেনার সহায় হলেন, টুইটারে বাঁদরামোর জবাব চিঠিতে দিলেন। বালগোপাল জবাবে তস্য লম্বা চিঠি দিলেন। গালি দিতে তিনিও যে কম যান না সকলে জানতে পাল্লে। কাগচে আবার নাম বেরুচ্চে দেকে বালগোপালের ননীর খিদে মিটল।
 
*এত আমোদেও ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্চে কিচু আপদ। যারা খেতে পাচ্চে না তাদের জন্যে বাবু বিবিদের দোরে দোরে ভিক্ষে করে বেড়াচ্চে। সম্পাদক পই পই করে বলে দিয়েচিল নকশায় এসব কতা না লিকতে। কিন্তু হুতোমের চাকরি বাঁচাবার দায় নেই।
0 Comments

Post Comment