এদেশের জিডিপি (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) নিয়ে ধন্ধের ট্রাডিশন চলছেই, গত বারো বছর ধরে। তিন মাস বাদে একবার সেই ত্রৈমাসিক তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী যে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থসচিবের থেকে এনটায়ার অর্থনীতিতে অনেক বেশি দক্ষ, তা আমরা বুঝতে পারি; তিনি জনসমক্ষে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অতি উত্তম জানিয়ে ভাষণ দেন, যার ফলে দেশের জনসাধারণ বুঝতে পারেন যে, গত তিনমাসে তাঁরা আর্থিক ভাবে আগের থেকে অনেক সচ্ছল হয়েছেন, যেটা তাঁরা ওনার ভাষণের আগে বুঝতেই পারেননি। জটিল অঙ্ক যেমন ছাত্রীছাত্ররা শিক্ষক মহাশয় না বুঝিয়ে দিলে বুঝতে পারে না, তেমনি তাঁরা যে ভালো আছেন তা প্রধানমন্ত্রী না বলে দিলে তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্তরা অনুভব করতে পারছিলেন না। তিনি বলার পরে বৈদ্যুতিন প্রচার মাধ্যম থেকে হোয়াটসএ্যাপ সর্বত্র খুশির ফোয়ারা বইয়ে দেওয়া হয়। এটা গত ১২ বছরে হয়েই চলেছে। ওই বৈদ্যুতিন মাধ্যমের এ্যাঙ্কর বা হোয়াটসএ্যাপ বিবি-বাবুদের অধিকাংশই জিডিপি বলতে ঠিক কী বোঝায় জানেন না, প্রধানমন্ত্রীও সঠিক জানেন কিনা তা বলতে পারব না। জটিল এক পরিমাপ না জানাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অজ্ঞতা ভক্তবৃন্দের ফুর্তিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
গত ৩১ আগস্ট তেমন এক ত্রৈমাসিক তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। পরে পরেই প্রধানমন্ত্রী ইন্সটাগ্রামে দেশের সকল সমালোচকদের মুখে ২০২৬-২৭ এর প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি পরিসংখ্যান এক প্রবল থাপ্পর মেরেছে বলে ভাষণ দেন। কারণ হল, গত এপ্রিল-জুন তিনমাসের উপসাগরীয় যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিস্থিতিতেও দেশের জিডিপি তার আগের বছরের ওই সময়ের জিডিপির তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে। আবারো ভক্তবৃন্দ দলে দলে নাম সঙ্কীর্তন করতে নেমে পড়েছেন। ওদিকে মোদি সরকারের পূর্বতন অর্থসচিব শ্রী সুভাষ চন্দ্র গর্গ জিডিপির বৃদ্ধির হার নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন। তিনি বলেছেন বাস্তবে জিডিপি বাড়েইনি। মনে রাখতে হবে, ইনি মোটামুটি মোদি সরকারের পেয়ারের আমলা ছিলেন। ২০১৪ সালে সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাঙ্কের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন, তারপরে ২০১৯ সালের জুলাই মাস অবধি ভারত সরকারের অর্থনৈতিক কাজকর্ম বিভাগের সচিব, ও সঙ্গে ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে ওই জুলাই অবধি অর্থসচিব ছিলেন। এমন এক ব্লু-আইড বয় কেন বিগড়ে গেলেন, সেটাও প্রশ্ন।
জানিয়ে রাখি, কোনো ত্রৈমাসিকের জিডিপিকে প্রথমে সেই সময়ের মূল্যে মাপা হয়। যেহেতু মূল্যবৃদ্ধি ঘটে থাকে তাই মূল্যবৃদ্ধির হার সংক্রান্ত সামঞ্জস্য সাধন করে বাস্তব জিডিপি পরিমাপ করা হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে ৯০ হাজার টাকা আয় করেছিলেন, এবং ২০২৬-২৭ সালের ওই তিন মাসে ৯৯ হাজার টাকা আয় করেছেন। সাধারণ হিসেবে তাঁর আয় (৯৯-৯০)/৯০ শতাংশ = ১০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ওই একবছরে যদি গড় মূল্যবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হয় তাহলে বাস্তবে তার আয় ১০-৬ = ৪ শতাংশ বেড়েছে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে ৯০ হাজার টাকা আয়কে ও ২০২৬-২৭ সালের ওই তিন মাসে ৯৯ হাজার টাকা আয়কে চলতি মূল্যে বা নমিনাল আয় বলা হবে। দেশের ক্ষেত্রে নমিনাল জিডিপি বলা হযে থাকে।
৩১ আগস্ট প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে ২০২৬-২৭ ও ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে নমিনাল জিডিপি ছিল যথাক্রমে ৮০ লক্ষ কোটি ও ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে নমিনাল জিডিপি বেড়েছে, (৮৮.২৭-৮০)/৮০ = ১০.৩ শতাংশ। সরকারের কথা অনুযায়ী, ওই এক বছরে জিনিসপত্তরের দাম বেড়েছে ২.৫ শতাংশ। ফলে জিডিপি বৃদ্ধির হার ১০.৩-২.৫ = ৭.৮ শতাংশ। এই পর্যন্ত অঙ্ক মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুভাষবাবু একটি সঙ্গত (সঠিক নাও হতে পারে) প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৫-২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন)-এর চলতি মূল্যে জিডিপিকে ৬ লক্ষ কোটি টাকা কমানো হল কেন? কেন না, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ওই ত্রৈমাসিকের নমিনাল জিডিপি ছিল ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকা। তখনো বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। তাহলে এখন তা কমে ৮০ লক্ষ দেখানো হচ্ছে কেন? যদি ওই সংখ্যাকে পূর্বতন অবস্থায় ধরে রাখা হয় তাহলে নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়ায়, (৮৮.২৭-৮৬.০৫)/৮৬.০৫ = ২.৬ শতাংশ, যার থেকে সরকার ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির হার (২.৫ শতাংশ)কে বাদ দিলে বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় .১ শতাংশ, যা ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। সুভাষবাবুর কথায় নমিনাল জিডিপি অতটা কমে কী করে? যদিও তা তাৎক্ষণিক অনুমান, যা পরে কিছুটা বাড়ে কমে, কিন্তু অতটা কমবে কেন? যেমন ব্যক্তির আয়, আমাদের উদাহরণে, ২০২৫-২৬-এ ৯০ হাজার টাকা ছিল, তা তেমন বাড়বে কমবে না। সুভাষবাবুর কথায় আপাত যুক্তি আছে। কিন্তু সরকারের তরফে যুক্তি হল যে, আগে ২০১১-১২ সালের প্রচলিত বন্দোবস্ত অনুসরণ করে নমিনাল জিডিপি ও বাস্তব জিডিপি মাপা হয়েছিল, পরে ২০২২-২৩ সালের উন্নত বন্দোবস্তে তা মাপা হয়েছে। এই ধরণের পরিবর্তনকে ভিত্তি বৎসর পরিবর্তন বলা হয়। সরকারের কথায় ওই ২০২২-২৩ সালের বন্দোবস্তে ২০২৫-২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের নমিনাল জিডিপি পাল্টে ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ৮০.৩২ লাখ কোটি, তারপরে জুন ২০২৬-এ ৮০.৪৪ লাখ কোটি টাকা হয়েছিল। সেটি সবশেষে কমে ৮০ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ভিত্তি বৎসর পাল্টালে, সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির হারে বেশ খানিক পরিবর্তন হয়, তাই বাস্তব জিডিপি বেশ খানিক পাল্টায়। কিন্তু নমিনাল জিডিপি যেহেতু টাকার অঙ্কে মাপা হয় তাই তা পাল্টালেও তেমন পাল্টায় না। আলোচ্য ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধি হিসেব করার পুরোনো বন্দোবস্তে হিসেব করা বিগত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের নমিনাল জিডিপি ৭ শতাংশ কমে গেছে, নতুন বন্দোবস্তে, যা বেশ সন্দেহজনক। সেই সন্দেহের দিক থেকে সুভাষবাবুর বক্তব্য যথেষ্ট সঙ্গত। কিন্তু ২০২২-২৩ ভিত্তি বর্ষের ভিত্তিতে হিসেব করা ২০২৬-২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের নমিনাল জিডিপিকে ২০১১-১২ ভিত্তি বর্ষের ভিত্তিতে হিসেব করা ২০২৫-২৬ সালের নমিনাল জিডিপির নিরিখে তুলনা করে নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধির হার নিরূপণ অবশ্যই সঠিক নয়। দুটির তুলনা সঙ্গত নয়, সম্ভবও নয়।
তাহলে নমিনাল জিডিপির বৃদ্ধির হার কত? যেহেতু সব কিছু ঘেঁটে ঘ করে দেওয়া হয়েছে তাই সঠিক ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। অপরদিকে সরকার বাহাদুরের আমলাগণ আরেকটি উল্লেখযোগ্য হিসেব করেছেন; আলোচ্য সময়ে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৯ শতাংশ, পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির হার ৯.৪ শতাংশ। ফলে ধরেই নেওয়া যেতে পারে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার ৩.৯ শতাংশের কম হবে না। কিন্তু নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধির হারের থেকে মূল্যবৃদ্ধির হারের জন্য মাত্র ২.৫ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়েছে বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হারে পৌঁছতে।
এই সব হিসেব নিকেশের ‘কারচুপি’ থেকে এটা বলা যায় যে, সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থাপনাটি ক্রমাগত বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। মনে রাখা দরকার সরকারের পছন্দ না হলে পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয় না, যেমনটা করা হয়েছিল ২০১৯ নির্বাচনের আগে। ২০১৭-১৮ সালের শ্রমশক্তি সমীক্ষা প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ সালের উপভোক্তা ব্যয় সমীক্ষার প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ সেগুলি সরকারের পক্ষে উপাদেয় ছিল না। ফলে ২০১১-১২ সালের পরে সেই গুরুত্বপূর্ণ উপভোক্তা ব্যয় সমীক্ষা বছর খানেক আগে প্রকাশিত হয়েছে, ২০২৩-২৪ সালের সমীক্ষা হিসেবে। যেমন তৎকালীন পরিসংখ্যান কমিশন যখন ২০১১-১২ ভিত্তি বর্ষের নিরিখে আগের বছরগুলির জিডিপি বৃদ্ধির হিসেব করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যেখানে কংগ্রেস আমলের জিডিপি বৃদ্ধির হার বিজেপি আমলের বৃদ্ধির হার থেকে বেশি দেখা যায়, তখন মোদি সরকার তা অস্বীকার করে, ও নিতি আয়োগ নতুন করে হিসেব করে বিপরীতটা দেখালে মোদিজির শান্তি হয়; যদিও ওই পরিসংখ্যান সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব ও পরিপক্কতা পরিসংখ্যান কমিশনের। পরিসংখ্যান কমিশনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের ফলে সরকার বাহাদুর নিজ পছন্দের কমিশন বানিয়েছে। পুরো সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ভারতের পরিসংখ্যানকে ‘সি’ শ্রেণিতে ঠেলে দিয়েছে, যার অর্থ, তথ্যের মধ্যে এমন কিছু পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে, যা নির্ভুল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সমস্যাসঙ্কুল করে তুলেছে। মোদি সরকারের পূর্বতন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রমনিয়ান বহুকাল আগে থেকেই মোদি সরকারের জিডিপি বৃদ্ধির হারকে বাড়িয়ে দেখানোর কথা বলছেন। তাঁর কথায় সরকার বৃদ্ধির হারকে ক্রমাগত ১.৫-২ শতাংশ বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এবিষয়ে পিটারসন ইন্সটিট্যুট ফর ইন্টারন্যাশনলা এফেয়ারসের ওয়ার্কিং পেপার হিসেবে অভিষেক আনন্দ, জোস ফেলম্যান এবং অরবিন্দ সুব্রমনিয়ানের ‘ইণ্ডিয়া’স টুয়েন্টি ইয়ারস অফ জিডিপি মিসএস্টিমেশন : নিউ এভিডেন্স’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ এবছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের কথায় ২০০৫-২০১১ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির হারকে ১-১.৫ শতাংশ কমিয়ে দেখানো হয়েছে, এবং ২০১২-২০২৩ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধির হারকে ১.৫-২ শতাংশ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
ইংরেজিতে একটা কথা আছে, “টেস্ট অফ দি পুডিং ইজ ইন ইটিং”; অর্থাৎ রান্না কেমন হয়েছে তা ভোক্তা খেয়ে তবে বুঝবে। জিডিপির ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি যদি দারুণ হয়ে থাকে তাহলে সেটা দেশের আমজনতার অনুভবে আসবে যদি বেকারির হার কমে, পণ্যের প্রাপ্যতা বাড়ে, দাম না বাড়ে, ট্রেনের টিকেট সহজলভ্য হয়, রাস্তাঘাট মসৃণ হয়, জনতা ঋণমুক্ত হয়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মুনাফা বাড়ে, কৃষি মজুরের বাস্তব মজুরি বাড়ে, শ্রমিকের বাস্তব মজুরি বৃদ্ধি পায়, কৃষক তার পণ্যের লাভজনক দাম পায়, শিশু থেকে যুবক বিনামূল্যে ভালো শিক্ষা পায়, রুগী বিনামূল্যে উত্তম স্বাস্থ্য পরিষেবা পায়। এগুলি কি হয়েছে? নিতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৯.২ কোটি যুবক সম্পূর্ণ বেকার, অর্থাৎ তারা শিক্ষারত, চাকুরিরত বা প্রশিক্ষণরত কোনোটাই নয়। ওই তথ্য অনুযায়ী ভারতের স্নাতকদের মধ্যে কেবল ৮.২৫ শতাংশ তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করছেন, বাকি ৯১.৭৫ শতাংশ হয় নিম্নস্তরের কাজে নিযুক্ত আছেন বা বেকার। তথ্য অনুযায়ী, সোনা বন্ধক দিয়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ক্রমবর্ধমান, ঋণ খেলাপের পরিমাণ বাড়ছে খুচরো ঋণগ্রহীতাদের মধ্যেও। পণ্য মূল্যও যথেষ্ট বাড়ছে। এরকম বহু সূচককে যদি জিডিপির বৃদ্ধির প্রক্সি (মানে যেহেতু জিডিপির বৃদ্ধির হারকে সরকার গুলিয়ে দিয়েছে তাই অন্য কিছুর নিরিখে দেশের অর্থনীতির হাল বোঝা) হিসেবে ধরা যায়, তাহলে বোঝা যাবে জিডিপির বৃদ্ধির হারকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোই রীতি হয়ে উঠেছে; নাহলে দেশের অর্থনীতি চাঙা বলে ঢাক পেটানোর সঙ্গে মোদিজি সোনা না কেনার ও বিদেশে না যাওয়ার ফরমান (বিদেশে বসে) দেবেন কেন?
দুটি বিষয়ের দিকে পাঠকের চোখ না টেনে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ২০০৮-০৯ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার দেখছিলাম। মনে রাখা দরকার ওই সময় মার্কিন দেশে গৃহঋণ বুদবুদ ফেটে বিশ্বজোড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। সেই ত্রৈমাসিকেও বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ (কোনো ভিত্তি বর্ষ না পাল্টেই, এবং যে সময়ের বৃদ্ধির হারকে ১-১.৫ শতাংশ কম দেখানো হয়েছে বলে অরবিন্দ সুব্রমনিয়ান মনে করেন)। যে সংবাদ তৎকালিন ইউপিএ সরকারের তরফে প্রকাশ হয়েছিল তা ছিল সাদামাটা, কোনো ঢাক পেটানো ছিল না। জিডিপি নিয়ে হৈচৈ করার রীতি ছিল না।
দ্বিতীয় বিষয়টি খানিক ব্যক্তি কেন্দ্রিক, যা দেশের উপরতলার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও নীতিনির্ধারকদের অকর্মণ্যতা বা অযোগ্যতার দিকে ইঙ্গিত করবে। শ্রী সুভাষ চন্দ্র গর্গ যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তা কাকতালিয় ভাবে প্যাণ্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে। কিন্তু একজন প্রাক্তন আইএমএফ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, সরকারের অর্থ সচিব জানেন না যে, দুটি ভিন্ন ভিত্তি বর্ষের নমিনাল জিডিপির তুলনা করা যায় না? কারা তাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নেন, কাদের মোদি সরকার সেই সব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করে, কাদের স্বার্থে করে?