পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

এসআইআর: আগে ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া, তারপরে নাগরিকত্ব হরণ নাৎসি জমানার পুনরাভিনয়

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 202 view(s)
  • লিখেছেন : শুভজিত সিংহ
এত দিনে প্রবল হয়রানির সম্মুখীন হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বর্তমান প্রকল্পিত এসআইআর মোটেই তালিকা সংশোধন নয়, এটি আসলে অপছন্দের ভোটারদের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রকল্প। প্রাথমিকভাবে, এর উদ্দেশ্য, সারা দেশে, বিশেষ করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোতে, বিজেপির একছত্র আধিপত্য বিস্তার করা। পরবর্তীকালে, ভোটাধিকার কাড়ার সূত্র ধরে বেছে বেছে নাগরিকত্ব বাতিলের ষড়যন্ত্র।

দেশের নির্বাচন কমিশনের করা ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর, দেশজুড়ে অসন্তোষ, রাজ্য জুড়ে অভূতপূর্ব গণবিক্ষোভ, আন্দোলন, প্রবল বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে অজস্র মামলাও দায়ের করা হয়েছে বিভিন্ন রাজ্য থেকে। 

বহু আলোচিত এই বিষয়টিতে যাওয়ার আগে আমরা ইতিহাসের পাতা উল্টে ফিরে যাবো বিংশ শতকের ত্রিশের দশকে। ১৯৩৩-এর শুরুতে ক্ষমতায় আসেন অ্যাডলফ হিটলার এবং তাঁর নাৎসি পার্টি (National Socialist German Workers' Party)।  ফুয়েরার হিটলারে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, নর্ডিক অর্থাৎ সাদা চামড়ার আর্য জার্মান জাতিগোষ্ঠী পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, জার্মানি শুধু তাদেরই। এই দৃঢ় ধারণা থেকে একটি ‘জাতীয় সমাজ’ [জার্মান ভাষায় ভক্সগেমেইনশ্যাফ্ট (Volksgemeinschaft)] তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। নর্ডিক জার্মান ছাড়া, ইহুদি, স্লাভ, কৃষ্ণাঙ্গ জার্মান, রোমা এবং সিন্তি (নিন্দাসূচক ভাষায় ‘জিপসি’) ইত্যাদি মানুষদের জিনগতভাবে নিকৃষ্ট হীন-জনগোষ্ঠী মনে করতেন। সেই ‘জাতীয় সমাজে’ এই নিকৃষ্ট মানুষেরা ছিলেন জাতিগত, জৈবিক, রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে ‘অবাঞ্ছিত’। তাঁরা কখনও যাতে উন্নত আর্য জাতির সমাজে, এমনকি দেশেও থাকতে না পারেন, এজন্য প্রথমেই তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল। এরপর কেড়ে নেওয়া হল তাঁদের নাগরিকত্বও। কুখ্যাত ন্যুরেমবার্গ আইন ভোটাধিকার বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। রাইখ নাগরিকত্ব আইন ঘোষণা করে, জানানো হল, কেবলমাত্র ‘জার্মান সম্পর্কিত রক্তের’ [Ancestral Proof (Ahnenpass)] ব্যক্তিরাই নাগরিক হতে পারবেন, আর অবমানব হিসেবে চিহ্নিত ইহুদি ও অন্যান্য মানুষদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হল। কোনও অধিকার ছাড়াই কেবল ‘রাষ্ট্রীয় প্রজা’ হিসাবে টিকে থাকার অধিকারটুকুই শুধু দেওয়া হল তাঁদের। পরবর্তীকালে, তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হল। ‘পেশাদার সিভিল সার্ভিস পুনরুদ্ধার আইন (১৯৩৩)’ জারী করে ওই অবমানবদের এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের সরকারি চাকরি, শিক্ষকতা এবং আইন পেশা থেকে বহিষ্কার করা হল। ব্যবসা ও সমস্ত পেশা থেকে বিতারিত করে রোজগার বন্ধ করা হল। পরবর্তীতে ইহুদিরা দৈনন্দিন জীবনে ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের সম্মুখীন হল। সেই সঙ্গে চলতে থাকল প্রচার মন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের উদ্যোগে সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রচার যন্ত্র ও অনুগত বেসরকারি প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর প্রচার। সাধারণ জার্মান মানুষেরাও সম্মোহিত হয়ে পড়ল। অবশেষে, সম্মোহিত আর্য জার্মান সমাজের সমর্থনে, সুপরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু হল, সেই অবমানবদের নিশ্চিহ্নকরণ, পোশাকি ভাষায় যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফাইনাল সলিউশান’, পৃথিবীর কুখ্যাততম ভয়াবহ গণহত্যা– হলোকাস্ট।

 

এদেশে সম্প্রতি শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া– ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (সংক্ষেপে এসআইআর)। দেশের অন্যতম সাংবিধানিক সংস্থা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধনী নেহাতই একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সাধারণভাবে, এই অনুশীলনের কাজ তালিকা থেকে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার, একই ভোটারের একাধিক স্থানে থাকা নাম খুঁজে বের করা, সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নতুন সদ্য প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু, গত বছর থেকে, আইনি এবং সাংবিধানিক এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে অনুশীলনটির মাধ্যমে দেশের সমস্ত ভোটারের নতুন করে নাগরিকত্বের যাচাই শুরু করেছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। প্রথম পর্যায়ে, এই বিশেষ অনুশীলনটি বিহারে চলাকালীন দেখা গিয়েছিল, কমিশনের দাবী মতো, নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি যোগাড় করা দেশের গরীব, প্রান্তিক পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর পক্ষে যথেষ্ট কঠিন (How document deficit may risk disenfranchising poors, eroding trust in the Election Commission, The Hindu, 17 Aug 2026), বহু মানুষ তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে নতুন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেননি। ফলে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এসআইআরের দ্বিতীয় পর্যায়ে, প্রতিটি ভোটারকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা তার নিজের অথবা তার বাবা, মা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমার নাম আছে কিনা, একটি এনুমারেশন ফর্মে, তা জানানোর ফরমান দেওয়া হয়েছে। মনে করিয়ে দিই, ১৯৩৩ সালের পর, জার্মানির প্রতিটি নাগরিককে তাদের পূর্ব পুরুষের নাম-গোত্র জানিয়ে বংশতালিকা নথিভুক্ত করতে বাধ্য করা হয়েছিল যাতে তারা নিজেদের ‘আর্য’ (অ-ইহুদি) প্রমাণ করতে পারে। 

 

স্বাধীন ভারতে রচিত নতুন সংবিধান অনুযায়ী প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল ২৫ অক্টোবর ১৯৫১ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২। অথচ, আজ প্রায় ৭৪ বছর পেরোনোর পর, অত্যন্ত স্বাভাবিক, নিয়মিত একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিপুল বিতর্ক, গণ বিক্ষোভ শুধু এই বাংলায় নয়, সারা দেশেই। এত দিনে প্রবল হয়রানির সম্মুখীন হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বর্তমান প্রকল্পিত এসআইআর মোটেই তালিকা সংশোধন নয়, এটি আসলে অপছন্দের ভোটারদের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রকল্প। প্রাথমিকভাবে, এর উদ্দেশ্য, সারা দেশে, বিশেষ করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোতে, বিজেপির একছত্র আধিপত্য বিস্তার করা। পরবর্তীকালে, ভোটাধিকার কাড়ার সূত্র ধরে বেছে বেছে নাগরিকত্ব বাতিলের ষড়যন্ত্র। যথেষ্ট, আটঘাট বেঁধে এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাংবিধানিক সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি কুক্ষিগত করতে পারলে, পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাটাই হাতের মুঠোয় চলে আসে, ফলে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকা নিয়ে আর কোনও সমস্যা থাকে না। এজন্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে নতুন আইন করা হল। ২০২৩ সালের ২রা মার্চ, একটি মামলায় (Anoop Baranwal v. Union of India,  2023), সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, সংবিধানের মর্মার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে, কমিশনারদের নির্বাচন করতে একটি নির্বাচক মণ্ডলী গঠন করতে হবে, যার তিনজন সদস্যের মধ্যে থাকবেন যথাক্রমে, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার দলনেতা (বা সর্ব বৃহৎ বিরোধী দলের নেতা) এবং সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি। এমন রায় মেনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন তৈরি হলে তা শাসকের প্রভাবাধীন না থাকাই স্বাভাবিক। এজন্য, আগামী দিনে নির্বাচনে বিজেপির বিপর্যয় হতে পারে বুঝতে পেরে, ওই আদেশকে নস্যাৎ করে, তড়িঘড়ি ওই বছরেরই ডিসেম্বরে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাশ করিয়ে নেওয়া হল নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আইন [The Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) Act, 2023]। এই বিতর্কিত আইনে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাসীন দলের অনুগত সংস্থা বানাতে কমিশনার নির্বাচক মণ্ডলীর তিনজন সদস্যের অন্যতম প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে তাঁর জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ মতো এক ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে আনা হল। যাতে, সর্বদাই ২ – ১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ইচ্ছেমত ক্ষমতাসীন দলের বশংবদ আমলাদের মনোনয়ন করতে কমিশনার নির্বাচন মণ্ডলীর কোনও অসুবিধা না হয়। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাটিকেই শাসক দলের সুবিধা মতো পরিচালনা করতে, যেকোনও বেআইনি কাজকর্মে যাতে তাঁরা দ্বিধা না করেন, এজন্য তিন নির্বাচন কমিশনারকেই সারা জীবনের জন্য আইনি সুরক্ষা দেওয়া হল। তাঁদের বিরুদ্ধে কখনও কোনও দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না (Sec.16)। এমন রক্ষাকবচ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীরও নেই। ফলত, নিখুঁত ছক কষে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার সুব্যবস্থা করা হল। আইনটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা (Jaya Thakur v Union of India, W.P.(C) No. 000014/2024) দায়ের হলেও নানান কৌশলে সে মামলা ধামা চাপা দেওয়া আছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বিশ্বস্ত সহকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ পছন্দের বর্তমান নির্বাচন কমিশনাররা সংবিধানের কাছে নয়, বরং তাঁদের নিয়োগ কর্তাদের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন সেটাই স্বভাবিক। সেই দায় থেকেই, তাঁদের এসআইআরের পরিকল্পনা, যাতে ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশ মতো অপছন্দের ভোটারদের নানান ছলে বাদ দেওয়া যায়।

 

বস্তুত, ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধানে দেশের প্রতিটি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাই করে তবেই ভোটাধিকার দেওয়া হবে এমন ব্যবস্থা নেই, নির্বাচন সংক্রান্ত আইনেও এমন সংস্থান নেই। এমন ভাবনা সংবিধান রচয়িতাদেরও ছিল না, এজন্য সংবিধানে কোথাও বলা হয়নি, এমন কী আইনেও বলা হয়নি সমস্ত ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। সংবিধানের রচিতারা জানতেন, ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা কখনই সাধারণ মানুষকে সর্বজনীন ভোটাধিকার দিতে চায় নি। তাই, তাঁরা সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, যার ২১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাজুয্য রেখে, স্বাধীন দেশের নতুন সংবিধানের জন্ম লগ্ন থেকেই প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের সুযোগটি যুক্ত করেছিলেন। তখনও পর্যন্ত ইয়োরোপের অন্তত পাঁচটি দেশে মহিলাদের সর্বজনীন ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়নি। তাই, কমিশনেরই দায়িত্ব দেশের প্রতিটি সদ্য প্রাপ্ত-বয়স্ক মানুষকে ভোটাধিকার দেওয়া। ভোটাধিকার কোনও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দয়ার দান নয়।

 

নতুন আইনে নির্বাচিত নতুন নির্বাচন কমিশন দেখালো, আইনে যাই থাকুক না কেন, সরকারে ক্ষমতাসীন দলের অলিখিত নির্দেশে তারা যেকোনো ভাবে, যেকোনো বেআইনি, অবাস্তব, অনৈতিক অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারে। মূল উদ্দেশ্য অপছন্দের মানুষকে বাদ দেওয়ার গভীর উদ্দেশ্য নিয়ে চালু করল এসআইআর। বাতিল হওয়া আর দেশ থেকে বিতারনের আতঙ্কে বহু ভোটার এবং কমিশনের ক্রমাগত হুমকিতে ভোটকর্মীর মৃত্যু হল। অবশেষে ২৮ ফেরুয়ারি (২০২৬) পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, বলা ভাল, ‘প্রাথমিক চূড়ান্ত তালিকা’ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিপূর্বে, ১৬ ডিসেম্বর (২০২৫), খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়, রাজ্যের মোট ৭.৬৬ কোটি ভোটারের মধ্যে বাদ গিয়েছিল, ৫৮.১৯ লক্ষ নাম। তার মধ্যে রয়েছে, ২৪.১৬ লক্ষ মৃত (Deceased), ৩২.৬৫ লক্ষ স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত (Shifted /Absent), ১.৩৮ লক্ষ একাধিক স্থানে অন্তর্ভুক্ত (Mutiple Entry), যাকে সংক্ষেপে ASDD বলেছে কমিশন। ২৮ ফেরুয়ারির প্রাথমিক চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গেছে আরও, ৫.৪৬ লক্ষ নাম। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নাম বাদ গিয়েছে ফর্ম ৭ -এ আপত্তি দাখিলের মাধ্যমে। আর নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ১.৮২ লক্ষ। যদিও আবেদন জমা পড়েছিল ৯.৬৪ লক্ষের বেশি। সেই সঙ্গে, সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় আরও প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ নাম তালিকায় ওঠে নি। এগুলোর বিষয়ে, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে সিদ্ধান্ত নেবেন ক্যালকাটা হাইকোর্ট নিয়োজিত বিচারকরা।

 

এই কদিনে আমরা দেখলাম, প্রথমত, নানান কৌশলে ভোটার তালিকা থেকে দেশের হিন্দুত্ববাদী শাসকের অপছন্দের মানুষদের অর্থাৎ সম্ভাব্য হিন্দুত্ব-বিরোধী মানুষদের বাদ দেওয়া। সেই সঙ্গে, বিজেপি-বিরোধী রাজ্যের শাসক দল যে সমস্ত কেন্দ্রে যত পরিমাণ ভোটে জিতেছে, প্রায় সেই পরিমাণ বা তার বেশি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল। দ্বিতীয়ত, ঠিক নাৎসিদের অনুকরণে, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্তরা মতাদর্শগতভাবে যাদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তাদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করাও অন্যতম লক্ষ্য রয়েছে। যাতে অদূর ভবিষ্যতে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে দেশ থেকে বিতারন করার ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কারণ, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ডিসেম্বরেই ঘোষণা করেছেন, ‘এনডিএর নীতি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বার করা, তালিকা থেকে ছাঁটাই করা এবং দেশ থেকে বিতারন করা’ (NDA's policy is to detect, delete and deport illegal immigrants: Amit Shah in Lok Sabha, Decan Herald, 10 Dec. 2025)। রাজ্যের বিরোধী দল নেতা প্রকাশ্যে জানিয়েই তো দিয়েছিলেন, এ রাজ্যে নাকি দেড় কোটি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী আর রোহিঙ্গা রয়েছে। কর্তাদের নির্দেশিত লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী বাতিলকরণ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

 

ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধানের ভাবনা থেকে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যও ছিল দেশের সর্বাধিক মানুষকে এই প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় সমবেত করা। দেখা গেছে, একটি-দুটি ভোটারের ভোট দানের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ভোটের দিন নির্বাচন কর্মীরা হেঁটে, নৌকায় বা হাতির পিঠে সওয়ার হয়ে দেশের প্রত্যন্ত, পাহাড়ি বা বনাঞ্চলের অতি দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে যান। দেশের প্রতিটি কোণে থাকা প্রত্যেকটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যাতে প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারে এই নীতিগত অবস্থানের জন্যই বহু শ্রম, অর্থ ব্যয় করে নির্বাচন কমিশন এমন ব্যবস্থা করে থাকে। একইভাবে, দেশের প্রত্যেকটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে নির্বাচন ব্যবস্থায় সামিল করতে তাঁকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা রাষ্ট্রেরই দায়। ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও যেন বাদ না যান, সেটাই তো নির্বাচন কমিশনের অন্যতম কর্তব্য। অন্যদিকে, কমিশনেরই জারী করা নির্দেশিকা অনুযায়ী (ECI L/No.23/INST/2023-ERS Dt.11.08.2023), তালিকায় থাকা ভোটারের নাম বাদ দেওয়াও শক্ত, নির্দিষ্ট প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতেই ভোটারের নাম বাদ দেওয়া সম্ভব। এর ফলে, স্বাধীনতা পাওয়া অন্য ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর তুলনায় ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার তুলানায় ভোটারের অনুপাত ৬৪-৬৭%, অপরপক্ষে, ভারতে সেটি ৯৯%। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া সাধারণ মানুষের দায়। স্বভাবতই গরীব, নিম্ন-শিক্ষিত, প্রান্তিক মানুষেরা সে দেশের গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের কোনও আগ্রহ অনুভব করে না। সেই গণতন্ত্র কখনই সমাজে সর্ব নিম্নস্তরে পৌঁছতে পারে না, হয়ে থাকে শুধু মাত্র স্বচ্ছল, শিক্ষিত, উচ্চ বর্ণের মানুষের জন্য এক খণ্ডিত গণতন্ত্র। 

 

সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবনাকে, ঠিক বিপরীতমুখী বর্জিতকরণের ভাবনায় বদলে দিয়ে সংবিধানের মূলে আঘাত করেছে জ্ঞানেশকুমারের নেতৃত্বে ভারতের বর্তমান নির্বাচন কমিশন। অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে তাঁরা সংবিধানকে এড়িয়ে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগুলো লঙ্ঘন করে সমগ্র প্রক্রিয়াটির কাঠামোগত পরিবর্তন করে দিয়েছেন। ধনী-দরিদ্র প্রান্তিক মানুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে, এখন প্রত্যেকটি ভোটারকে কমিশনের দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে, কমিশনের পছন্দ করা বিতর্কিত কিছু নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে তাঁদের নাগরিকত্ব, ভোটার হওয়ার যোগ্যতা। এর ফলে, কালক্রমে, ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোটিও হয়ে উঠবে শুধুমাত্র স্বচ্ছল, শিক্ষিত, অভিজাতদের জন্য একটি খণ্ডিত গণতন্ত্র। এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলা চলাকালীন নিয়মিত একটি প্রক্রিয়াকে স্বেচ্ছাচারীভাবে, দেশের প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে, মিথ্যা বয়ান দিয়ে, প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, অস্বচ্ছতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি বিনা বাধায় চালিয়ে গেছেন তাঁরা। 

 

বহুমুখী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই বর্জিতকরণ অভিযানে নেমেছিল কমিশন। স্বেচ্ছাচারীভাবে বাতিলের জন্য তারা খসড়া তালিকাতেই বিভিন্ন বেআইনি উপায়ে বাতিল করেছিল প্রায় ৫৮.১৯ লক্ষ নাম। কিন্তু, বাতিলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়াতে, ফের আরও কিছু বেআইনি হাতিয়ার নিয়ে এল, আনম্যাপড, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মতো আজগুবি যুক্তি দিয়ে। এছাড়া, ফর্ম ৭ -এর মাধ্যমে বেআইনি নাগরিক বলে অভিযোগ জানিয়ে, অভিযুক্ত ভোটারের শুনানি না করে, তাঁর অজান্তে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে আরও ৫.৪৬ লক্ষের, যদিও কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২০/০১/২০২৬) থেকেই জানা গিয়েছিল ৯৯১১৮টি ফর্ম ৭ জমা পড়েছে। অথচ, শুনানি না করে, অভিযুক্তকে সুযোগ না দিয়ে নাম বাতিল করা যাবে না বলে ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ে (Lal Babu Hussain vs Election Commission of India, 1995) বলা হয়েছিল। গণহারে ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার জন্য, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক FIRও রুজু হয়েছে বিভিন্ন থানায়। অবিকল একই কায়দায়, ২০১৯ সালে  আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) আপডেট করার সময়ে, খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, হাজার হাজার ‘আপত্তি’ দায়ের করে অপছন্দের নাগরিকের নাম বাতিল করা হয়েছিল। সেখানেও বিজেপি এই অপকর্মটি করেছিল।

 

ভোটার তালিকা পরিমার্জন, প্রস্তুতিকরণের পুরো এক্তিয়ার ইআরওদের হলেও, তাঁদের কাজে ক্রমাগত খবরদারি করতে কোনও আইনি সংস্থান ছাড়াই কমিশন বাইরের রাজ্য থেকে বহু মাইক্রো অবজারভার, রোল অবজারভাদের নিয়োগ করেছে। আদালতে কমিশনের বক্তব্য ছিল, তাঁরা নাকি সহায়তা করতে এসেছেন। আসলে ইআরওদের ক্ষমতাই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের অনুমতি ছাড়া ইআরওরা কোনও নামই তালিকায় তুলতে পারেন নি। ইআরওদের বহু হুমকি দিয়েও, শেষ অবধি প্রায় ৬০.০৬ লক্ষাধিক নাম বাতিল করানো আর সম্ভব হয়নি। পর্যবেক্ষকদের নিয়ন্ত্রণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে (Reporters Collective, 8 Feb 2026) যেমন উঠে এসেছে, তেমনই, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসেস এক্সিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ‘X’ সমাজ মাধ্যমের বক্তব্য থেকেও জানা গেছে, ইআরওদের নেওয়া অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষকরা বার বার ফেরত পাঠিয়েছেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে, এখন এই নামগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ক্যালকাটা হাইকোর্ট নিয়োজিত বিচারপতিরা। সুষ্ঠু পরিচালনার অক্ষমতার জন্য, এমন লজ্জাজনক অপমানের চিত্রটি কমিশনের ইতিহাসে কখনও দেখা যায় নি। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে, সরকার, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে বহু গণ আন্দোলন, বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু, একটি সাংবিধানিক সংস্থা ও তার পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভের ইতিহাস ছিল না এদেশে।  

                               

গত বছর আগস্টে, দিল্লি এবং আরও পাঁচটি রাজ্যে (আসাম, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ), সিএসডিএস-লোকনীতির সমীক্ষা দেখিয়েছে, বিগত তিনটি নির্বাচনে কমিশনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থার ধারবাহিক অধঃপতন হয়েছে। তার আগে, ২০২৪ সালে তাদের তথ্যানুসন্ধানে টের পাওয়া গিয়েছিল এই অধঃপতনের ইঙ্গিত (Percentage of voters who don’t trust ECI nearly doubled in last 5 yrs — CSDS-Lokniti survey, The Print, 15 April 2024)। দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিক শ্রম, নিষ্ঠায়, নৈতিকতায় ভারতীয় নির্বাচন কমিশন হয়ে উঠেছিল, এই গোলার্ধের এক স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনন্য সাংবিধানিক সংস্থা। এসআইআর শুরু হওয়ার পর কমিশনের ন্যক্করজনক একপেশে ভূমিকায় দেশের সাধারণ মানুষের কাছে শুধু নয়, দেশের বাইরেও কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং সর্বোপরি বিশ্বস্ততার সুউচ্চ সম্মান খুইয়েছে।

 

হিটলারের স্বপ্ন ছিল গোটা ইয়োরোপ দখল করে শুধুমাত্র নর্ডিক জার্মানদের জন্য সর্বনিয়ন্ত্রক, প্রবল ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র গঠন। নাৎসিদের সার্থক উত্তরসূরী আরএসএস-বিজেপির লক্ষ্যও একই, একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী, সর্বনিয়ন্ত্রক, স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচারী হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার। যেখানে অপছন্দের নিম্নবর্ণের, নিম্নবর্গের, অহিন্দু মানুষদের কোনও অধিকার থাকবে না, নির্ভর করতে হবে উচ্চবর্ণের পূর্ণ অধিকার সম্পন্ন নাগরিকদের দয়ার উপরে। এই লক্ষ্যেই একটি সাংবিধানিক সংস্থাকে কুক্ষিগত করে বেআইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অপছন্দের বলে বিবেচিত ভারতের নিম্নবর্গের দরিদ্র, নিম্ন-শিক্ষিত, প্রান্তিক, দলিত, আদিবাসী এবং অহিন্দু মানুষদের প্রতিনিধত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্তরা। আগামী দিনে ভোটদান কেবলমাত্র নথিপত্র সম্বলিত কিছু সবর্ণ, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত – শহুরে, বেতনভোগী, বৃহৎ-ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি-সচেতন মানুষদের জন্য একটি বিশেষাধিকার হয়ে উঠবে, সেখানে নথিপত্রহীন অবর্ণ, প্রান্তিক দরিদ্র দলিতরা পড়ে থাকবে অধিকারহীন অনাগরিক হয়ে। গড়ে উঠবে দুটি ভারত, একটির নাগরিকদের থাকবে ভোটাধিকার এবং অন্যটির মানুষদের ভোটাধিকার তো দূরের কথা, আইনসঙ্গত অধিকারহীন, রোজগারের অনিশ্চয়তায় থাকবে শুধুই দিন গুজরানের খণ্ডিত সুযোগ, এমনকি থাকবে না ন্যায়বিচারের সুযোগটুকুও। প্রতিনিয়ত নিজের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওয়ার ভয়ে তটস্থ থাকতে হবে। যে সম্ভাবনার কথা ফ্যাসিস্ত রাষ্ট্রনায়করা ইতিমধ্যেই শুনিয়ে রেখেছেন। আগামী দিনে, রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোও কেবল তাদেরই জন্যই ভাববে, যাঁরা তালিকায় আছেন, অর্থাৎ যাঁরা ভোটার নাগরিক। আর ভোটাধিকারহীন অনাগরিকরা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ পড়বেন। এরপরে তাদের জীবনের অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হবে।

 

মনে রাখতে হবে, অত্যাচারী ব্রিটিশ আমলে, সাম্প্রদায়িক আগুনে ছিন্ন ভিন্ন হয়েছিল মুখ্যত দুটি প্রদেশ– পাঞ্জাব আর বাংলা আর তারাই ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে জান-কবুল লড়াই গড়ে তুলেছিল। লক্ষ্য করুন, স্বাধীননোত্তর কালেও এই দুটি রাজ্য এখনও পর্যন্ত বার বার রুখে দাঁড়িয়েছে ফ্যাসিস্ত আরএসএস-বিজেপির বিষাক্ত ঘৃণার বিরুদ্ধে, বিভাজনের মতাদর্শের বিরুদ্ধে, যাঁদের পূর্বসূরীরা ছিলেন ব্রিটিশদের পদলেহনকারী, স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধী। বাংলার অগণিত উদারমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক, সাধারণ মানুষই রুখে দাঁড়িয়েছেন মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে, শান্তিপূর্ণ, অহিংস আন্দোলনে জোট বেঁধেছেন, পথে নেমেছেন মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে। একই আদর্শে আস্থা রেখে, বিশ্বের নানা প্রান্তে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইতে অহিংস আন্দোলনে সামিল হয়ে বার বার রুখে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ। মহাত্মা খুন হয়েছিলেন হিন্দুত্ববাদীদেরই পূর্বসূরিদের হাতে, মহাত্মার পথেই রুখতে হবে এদের। এই বাংলার আপামর মানুষ দৃঢ় সংকল্প, সর্ব শক্তি দিয়ে রুখবেই ফ্যাসিস্ত হামলা।

 

বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ করো চিত্ত,
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।

 

0 Comments

Post Comment