গতকাল জালিয়ানওয়ালাবাগের কায়দায় চারদিক ঘিরে ফেলে পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, রেল পুলিশ যেভাবে যাদবপুরের ষ্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে বুলডোজার নিয়ে আক্রমণ চালালো, তা শুধু নিন্দনীয় নয় নারকীয়। এই আক্রমণ প্রতিহত করার উপায় সাধারণ মানুষের নেই, তা সত্ত্বেও তাঁরা যথাসম্ভব প্রতিরোধ করেছেন, কিন্তু এটা অসম লড়াই। এই প্রসঙ্গেই আজকের এই উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ লেখাটি চার পর্বে প্রকাশিত হবে। চারিদিকে যে ভাবে বুলডোজারের হুঙ্কার দেখা যাচ্ছে, সেই সময়ে প্রাসঙ্গিক এই কথাগুলো। আজ প্রথম পর্ব।
আশরাফিলকে ফেরানো যায়নি। নিজের সম্ভাবনা আর আতিকের সংকল্পে ইতি টেনে চলে গেছে সে পরবাসের পথ ধরে। আশরাফিল চলে গেল যেদিন, রওনা হওয়ার আগে আতিকের কাছে গিয়েছিল দেখা করতে। তার সামনে মাথা তুলতে পারেনি, মুখ নীচু করে কথা বলেছিল। স্যার, আজ আমি চলে যাচ্চি।
আজ অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন এই ধারাবাহিক উপন্যাসটির অষ্টম পর্ব। আগের পর্বের সূত্র এই লেখার প্রথমে। লিখেছেন হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাড়ার সরলা বৌদি সকাল আটটা থেকে দাঁড়িয়ে ছিল। দুপুরে যখন তার হাতে ফর্ম এল, সে উল্টেপাল্টে দেখে সরল মনেই বললে – “এটা ফরম, না মাধ্যমিকের টেস্ট পেপার?” প্রথম পাতায় নাম, দ্বিতীয় পাতায় ঠিকানা, তৃতীয় পাতায় ব্যাঙ্ক, চতুর্থ পাতায় পরিচয়পত্র, ইসব পেরিয়ে শেষে বারো পর্বে ঘোষণা – আমি বাংলাদেশী লই, ঘুষপেটিয়া রুহিঙ্গা লই, আমি খাঁটি ভারতীয় বটেক।
সেই যে লোকটি বাড়ি ফিরে এল তারপর এক মুহূর্তও বসল না। না খেলে জল, না বলল কোনও কথা। দুপুরের ঠা ঠা রোদে ছাতা থাকতেও বগলে ছাতা ধরে রেখে, ঝোড়ো কাকের মতো ইয়াচিন মোল্লা যখন ফিরল তখন তার চোখের দিকে চাইতে অস্বস্তি হতে শুরু করল ছেলে বউ সেরিনা খাতুনের।
দিন গড়াতে গড়াতে একদিন দু'ভাইয়ের সীমানা বরাবর দেওয়ালগাঁথা এবং প্লাস্টারের কাজ শেষ হ'লো। আটফুট উঁচু দেয়াল। ফলত দু'ভাইয়ের মুখ দেখাদেখি একেবারেই বন্ধ। গাছগুলো যেন দাদার অনুগত হয়ে লখাইয়ের বাড়ির দিকে উকিঝুঁকি মারতে থাকলো অনবরত। আজ অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন এই ধারাবাহিকের সপ্তম কিস্তি। আগের লেখার সূত্র এই লেখার শেষে।
আয়ুস্মান ভারত কি একটা বড় দুর্নীতি? শোনা যাচ্ছে মৃত রোগীদের নামে চিকিৎসার বিল জমা পড়েছে। বিহারে আয়ুষ্মান ভারতের অডিটে দেখা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সংশোধিত টার্গেট ছিল ৬.১৮ কোটি সুবিধাভোক্তা, কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের মাত্র ৪১ শতাংশ যাচাই করা সম্ভব হয়। অথচ স্বাস্থ্য কভারেজ দেওয়ার দাবি করা হচ্ছিল অযাচাইকৃত ব্যক্তিদের। আরো অনেক দুর্নীতির হাল হকিকৎ পাওয়া যাবে এই প্রবন্ধে।
রিজার্ভ ব্যাংকের লেটেস্ট রিপোর্ট বলছে, এ দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ফ্রড হয়। কিন্তু এই জালিয়াতি কোনো বাইরের শত্রুর আক্রমণ ছিল না; এটা ছিল খোদ সিস্টেমের ভেতর থেকে, সিস্টেমের রক্ষকদের হাত দিয়ে পুরো কাঠামোটাকে উইপোকার মতো খেয়ে ফেলার এক নিখুঁত গল্প।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট তৃণমূল কংগ্রসকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে ফেলেছিল। ভোট শতাংশ এবং প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে জোট খুব পিছিয়ে ছিল না। কিন্তু আসন সংখ্যার ভালো রকম পার্থক্য হয়ে যায়। এর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন হতে থাকে। জেলায় জেলায় বামপন্থী বহু সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করতে থাকেন। অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতি শেষ পর্ব লিখলেন শংকর, সাথে খোঁজার চেষ্টা করলেন বেরোনোর রাস্তা।
দাদার গৃহপ্রবেশের পর তার কী হবে? এইসব ভাবতে ভাবতেই একদিন রামের নতুন বাড়ি তৈরির কাজ দেখতে হঠাৎ এসে হাজির হলেন এক প্রোমোটার। মিঃ বটব্যাল। এই শহরের অলিতে গলিতে তাঁর বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট। জমিজমার তো সীমা-পরিসীমা নেই।
দাদার গৃহপ্রবেশের পর তার কী হবে? এইসব ভাবতে ভাবতেই একদিন রামের নতুন বাড়ি তৈরির কাজ দেখতে হঠাৎ এসে হাজির হলেন এক প্রোমোটার। মিঃ বটব্যাল। এই শহরের অলিতে গলিতে তাঁর বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট। জমিজমার তো সীমা-পরিসীমা নেই।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট তৃণমূল কংগ্রসকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে ফেলেছিল। ভোট শতাংশ এবং প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে জোট খুব পিছিয়ে ছিল না। কিন্তু আসন সংখ্যার ভালো রকম পার্থক্য হয়ে যায়। এর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন হতে থাকে। জেলায় জেলায় বামপন্থী বহু সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করতে থাকেন। অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতি শেষ পর্ব লিখলেন শংকর, সাথে খোঁজার চেষ্টা করলেন বেরোনোর রাস্তা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাই হল, রাজ্যের এই পালাবদলে বামপন্থীদের উল্লাসের কোনো কারণ আছে কি? যে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই বলবেন —- ‘না নিশ্চয়ই নয়।’ তবুও কিছু বামপন্থীকে দেখা যাচ্ছে বিজেপির জয়ে বেজায় খুশি। তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন গত নির্বাচনে বামপন্থীদের কাঁধে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব ছিল —- সেটা হল ফ্যাসিবাদীদের প্রতিহত করা —- যা তারা করতে পারেন নি। আজ শংকর লিখলেন অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতির চতুর্থ ভাগ। আগের লেখার সূত্র এই লেখার শেষে।
বাস্তব হল বিজেপি বিরোধী দলগুলি শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, কোনো রাজ্যেই ঐক্যবদ্ধ নয়। এর পেছনে তাদের নিজস্ব স্বার্থ আছে। বিজেপিকে হারানোটা যেমন তাদের স্বার্থ তেমনি নিজেকে সামনে এগিয়ে রাখাও তাদের স্বার্থ। এই দুটি স্বার্থ একে অন্যের সাথে এমনভাবে জুড়ে আছে যে, একটা থেকে অন্যটাকে পৃথক করা অসম্ভব। অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতি (তৃতীয় ভাগ) লিখলেন শংকর। আগের লেখার সূত্র এই লেখার শুরুতে।
বাংলায় বিজেপি তৃণমূলকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। দৌড়াদৌড়ি, প্রজেক্টিভ কর্মসূচি বরং কম হোক। বেশি করে হোক, যা হয় না, আত্ম-মন্থন, আত্ম-আলোচনা। নতুন রাজনীতি গড়ে তোলার ভিত্তিভূমি এটাই। এটাই আজ সময়ের দাবি। সমালোচনা যেমন চলবে আত্মসমালোচনাও চলবে। অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতি (দ্বিতীয় ভাগ) লিখেছেন শংকর
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘পদত্যাগ করব না। আমরা হারি নি।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় কোনো সারবত্তা নেই এমন নয়। বিস্তারিত আলোচনায় এক্ষুনি যাচ্ছি না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৪১ শতাংশের মত ভোট, আর বিজেপি পেয়েছে ৪৬ শতাংশের মত ভোট। ফারাক মাত্র ৪ শতাংশের। আর SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গেছে ১০ শতাংশ ভোটার। অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতি (প্রথম ভাগ) লিখলেন শংকর।