পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

লাল পলাশের ভোর

বাঁক নিতেই গাড়িটা থেমে গেল। মুনির বেশ বিরক্ত। ও গাড়ির গ্লাস খুলে দূরের খেতি জমি দেখছিল। শরতের নীলাকাশ। চারপাশে রোদ ঝলমল করছে। এবার ছুটিটা কাটাবে শান্তিনিকেতনের কাছাকাছি বঙ্গছত্রে। তার এখানে থাকতে খুব ভাল লাগে। সেই কবে এসেছিল ও। এখানে থাকে তার ফুপুর জামাই ইসরুপ দোলা ভাই। দারুণ মানুষ।

কিয়ারোস্তমির ফ্রেমে জেন জি ও রাজপথ

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে জেন জি আন্দোলন দেখা গেছে, তার সাথে কিয়ারোস্তমির এই ভাষার একটি গভীর সংযোগ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এই আন্দোলনগুলো প্রচলিত দলকেন্দ্রিক, আত্মস্বার্থে ভরপুর রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিয়েছে। কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া, কোনো দলীয় পতাকা ছাড়া, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল ইমেজকে সম্বল করে কীভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব, তা এই আন্দোলনগুলি দেখিয়েছে।

শ্লোগানে শ্লোগানে ভরা দেওয়ালে দেওয়ালে…

এরাজ্যের সরকার বাহাদুর কি জানে আরেকটি মৌল সত্যকে : শুধু যাদবপুর কেন, পৃথিবী জুড়ে ছাত্র ছাত্রীরা সাধারণভাবে রাষ্ট্রমুখী হয় না। প্রশ্নবিহীন আনুগত্য প্রদর্শন করে না। জ্ঞান অর্জন, যুক্তি বোধ তাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, তর্ক করতে শেখায়, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। সেই জন্যেই তারা বিশ্বজুড়ে প্যালেস্টাইন মানুষের পাশে সংহতির আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, সেই জন্যেই দেওয়ালে দেওয়ালে শ্লোগান লেখা হয়।

সমাজে শালীনতার দায় কি শুধু মেয়েদের?

ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল।

বন্দে মাতরম বিতর্ক —- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ!

মধ্যরাতে যাদবপুর বিধানসভার বিধায়ক “সারা রাত তান্ডব চলবে” বলে হুঁশিয়ারী দিলেন কেন? কেন সেদিন বিজেপির গুন্ডাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে তান্ডব চালালো? কেন তার পরের দিনও গেরুয়া হাতে নিয়ে আক্রমণ হল বিশ্ববিদ্যালয়ে? গেরুয়ার প্রতি যদি এত ভক্তি তাহলে গেরুয়া হাতে নিয়ে সমাজবিরোধী আচরণ করতে তাদের লজ্জা হচ্ছে না কেন? এরও কারণ হল তাদের গেরুয়া প্রেম প্রকৃত প্রেম নয়, তা নকল প্রেম মাত্র।

গরম ভাতের গন্ধ

কলকাতার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি সরকারি বিদ্যালয়—উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি খুব বড় নয়। পুরোনো দোতলা ভবনের দেওয়ালে কোথাও রং খসে পড়েছে, কোথাও বৃষ্টির জল শুকিয়ে কালচে দাগ ফেলেছে।

গৌরী লঙ্কেশ: সাংবাদিকতার মুখ

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র যখন ডিম থেরাপিকে জনরোষ বলে সমর্থন করে, ধর্ষণের ঘটনার রাজসাক্ষীকে যখন রাতের অন্ধকারে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হয়; তখন মুখে কুলুপ এঁটে রাখা সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করতে শেখায় গৌরীর মতো মহিলা সাংবাদিকেরা। গৌরী লঙ্কেশদের মৃত্যু হয় না। যেখানে যত শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন করছে, ছাত্ররা প্রতিবাদে রাজপথে নামছে, শাসকের মারের প্রতিবাদে গলা তুলছে, তাদের সবার কন্ঠস্বর হয়ে আছে গৌরী লঙ্কেশ।

পর্দার ওপারে যে মানুষ

শহরটির নাম ছিল জনপদ। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত একটি প্রশস্ত নদী। নাম তার মত। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নদীর ওপর একটি সেতু তৈরি হতো। সেতুটির নাম—ব্যালট। সেতু পার হয়ে মানুষ যে দিকে যেত, পরবর্তী পাঁচ বছর শহরটি সেদিকেই চলত।

আরও পুরানো লেখাগুলি

পরবর্তী সংবাদ

আজ কয়েকদিন হল আমাদের পাড়ার হাওয়াটা এলোমেলো ভাবে বইছে। সেজন্য গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক আতঙ্কের ছায়া। আমিও এমন অস্বাভাবিকতার ছোঁয়ায়, এক অস্বস্তির মধ্যে আছি। আসলে অপ্রীতিকর কোন কিছুই আমার কোনদিন পছন্দ নয়। পাড়ার এমন অসুস্থ পরিবেশ আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে, বারবার মনে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে, মানুষতো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ইটের আঘাত পাটকেলে দিতে শুরু করবে।

এক যাযাবরের স্বপ্নযাত্রা : মৃত্যুপুরী নেপালের দিনলিপি

কাঠমান্ডুর 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট'–এর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে অজস্র হিমবাহ-হ্রদ। সেখান থেকেই নেপালের এই বিপর্যয়। “হিমালয় কি তবে আমাদের সতর্ক করছে? বারবার করেই জানান দিচ্ছে –বরফের শরীর বদলে যাচ্ছে, পাহাড়ের স্থিতি বদলে যাচ্ছে, নদীর আচরণ বদলে যাচ্ছে। আর আমরা এখনও উন্নয়নের পুরোনো সংজ্ঞাতেই আটকে আছি। বিপর্যয়কারী এই উন্নয়নযজ্ঞকে প্রশ্ন করছি না।

আখ্যান

এক যাযাবরের স্বপ্নযাত্রা : মৃত্যুপুরী নেপালের দিনলিপি

কাঠমান্ডুর 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট'–এর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে অজস্র হিমবাহ-হ্রদ। সেখান থেকেই নেপালের এই বিপর্যয়। “হিমালয় কি তবে আমাদের সতর্ক করছে? বারবার করেই জানান দিচ্ছে –বরফের শরীর বদলে যাচ্ছে, পাহাড়ের স্থিতি বদলে যাচ্ছে, নদীর আচরণ বদলে যাচ্ছে। আর আমরা এখনও উন্নয়নের পুরোনো সংজ্ঞাতেই আটকে আছি। বিপর্যয়কারী এই উন্নয়নযজ্ঞকে প্রশ্ন করছি না।

পরবর্তী সংবাদ

আজ কয়েকদিন হল আমাদের পাড়ার হাওয়াটা এলোমেলো ভাবে বইছে। সেজন্য গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক আতঙ্কের ছায়া। আমিও এমন অস্বাভাবিকতার ছোঁয়ায়, এক অস্বস্তির মধ্যে আছি। আসলে অপ্রীতিকর কোন কিছুই আমার কোনদিন পছন্দ নয়। পাড়ার এমন অসুস্থ পরিবেশ আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে, বারবার মনে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে, মানুষতো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ইটের আঘাত পাটকেলে দিতে শুরু করবে।

ইলিয়াস শাহী বংশ আর আদিনা মসজিদ বিতর্ক

ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের ছেলে সুলতান সিকান্দার শাহের (১৩৫৭-১৩৮০) আমলেই আদিনা মসজিদ তৈরি হয় আনুমানিক ১৩৭৫সালে। এ এস আইয়ের সুরক্ষায় থাকা মালদা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে পাণ্ডুয়ার সেই মসজিদের তলায় সংঘ পরিবার বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের কায়দা মতো ভেঙে দেওয়া আদিনাথ শিব মন্দিরের অবস্থিতির দাবি জানিয়ে আসছে। বিজেপি বাংলার তখতে বসার পর সেই ন্যারেটিভকে ঘিরে কর্ম তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস কী বলে?

মুম্বাই, কিয়ারোস্তোমি ও কিছু ‘দিমাগি’ ছেলেমেয়ে

সাত-আট বছরের দুই বন্ধু, আহমদ এবং নেমাতজাদে, ক্লাসে পাশাপাশি বসে। দ্বিতীয়জনের হোমওয়ার্কের খাতা প্রথমজন ভুল করে বাড়ি নিয়ে য্যয়। স্কুলের শিক্ষক নেমাতজাদেকে জানিয়ে দিয়েছে পরের দিন খাতা জমা না দিতে পারলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। বাড়ি গিয়ে আহমদ যখন আবিষ্কার করে যে বন্ধুর খাতা তার ব্যাগে ঢুকে গেছে তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে ভাবেই হোক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে সেটা পৌঁছে দিতে হবে। আহমদ কি পারবে তার কাছে সে খাতা পৌঁছে দিতে?

আরশোলার গর্জনে ভয় পেয়েছে সরকার

বিজেপির মূল ভোটব্যাংক আসে যে গ্রামীণ ভারত ও হিন্দিবলয় থেকে, সেখানকার তরুণ প্রজন্মের এক বিরাট অংশ আজ চরম ক্ষুব্ধ। চিন্তিত না হলে, বিজেপির মতো দল—যারা সাধারণত আন্দোলনকারীদের সাথে সহসা আলোচনায় বসতে বিশ্বাসী নয়—তাদের নেতাদেরও পিছু হটে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হতে হতো না এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হতো না।

‘মূর্খের শাসন’ ও ‘দিমাগি নকশাল’ প্রসঙ্গে

আজ থেকে একশ আটাত্তর বছর আগে ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’র শুরুতেই মার্কস লিখেছিলেন : একটা ভূত সারা য়ুরোপকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, সেটা হচ্ছে কমিউনিজমের ভূত। আর এতবছর পরে এসেও আমাদের দেশের সরকারকে একটা ভূত অহর্নিশ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেটা হচ্ছে নকশাল তথা মাওবাদীদের ভূত।