প্রকৃতি যদি নিজেই তাঁর এই অধিকারের জন্য পথে নামেন, ভোটে দাঁড়ান – আমরা কি তখনও বানিয়ে তোলা জাত, ধর্ম, রাজ্য, দেশের সীমানা নিয়ে অর্থহীন ঝাগড়ার ফাঁদে পা দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব – না একদিন আমরা সব কিছুর উপরে গিয়ে সত্যিকারের বিষয় নিয়ে নির্বাচন লড়ব, ভোট দেব, পথে নামব?
ব্রজধামে বসন্তে রাধা-কৃষ্ণর লীলা এক বিশেষ রূপ পায়। বসন্তের প্রকৃতি ও পুষ্পময় পরিবেশের সঙ্গে যেন মানবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন। বাংলা জুড়ে পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, রক্তকাঞ্চন, মাধবীলতা, দোলনচাঁপা সহ নানা রকমের ফুলে ফুলে প্রকৃতি রঙিন হয়ে ওঠে। আর শুক সারি তুলে ধরে রাধা-কৃষ্ণের লীলা। দুই পাখির ঝগড়া যা আদতে রাধা-কৃষ্ণের মাহাত্ম্যকে জনপ্রিয় করে।
বন্দে মাতরম গানটির যে অংশে দেশকে দেবীরূপে বা দুর্গারূপে কল্পনা আছে সেই অংশটি স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানদের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলবে না। দেশকে মাতা হিসাবে কল্পনায় অসুবিধা নেই। কিন্তু একেবারে দেবীদুর্গা হিসাবে কল্পনা একেবারেই হিন্দু সমাজের নিজস্ব বিশ্বাসের প্রশ্ন। সেখানে অহিন্দুরা তাতে গলা মেলাবেন কেমন করে? তাই রবীন্দ্রনাথ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন যে, গানটির প্রথম দুটি স্তবকই যথেষ্ট। পুরো গানটির প্রয়োজন নেই।
শহরের নামকরা মনোবিদ ডক্টর রাহুল রায়, বন্ধুর কলিগের শালাকে ধরে অনেক কষ্টে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছে অনির্বাণ। অনির্বাণের বয়স পঁয়ত্রিশ, পেশা অনলাইন। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মাস্টার ডিগ্রি করেও চাকরির পিছনে ছোটেনি, বরাবরের স্বাধীনচেতা মন নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কিছু করতে চেয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিবাদের অধিকার এবং দমনের সংস্কৃতির মধ্যে লড়াইটি অত্যন্ত তীব্র। ভারতে কৃষক আন্দোলন বা সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলনের মতো বড় জমায়েতগুলোকে দমন করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদীদের 'দেশবিরোধী' বা 'বাইরের চক্রান্ত' হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতে ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক, ছাত্রনেতা এবং সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র মতো কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্র একের পর এক দশক জুড়ে মোটা অর্থ ব্যয় করে মোটা মোটা অপারেশন নামিয়ে প্রকাশ্যে বাইরের যুদ্ধের জোর বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, আড়ালে, আবডালে অভ্যন্তরের যুদ্ধ তীব্রতর করেছে। আজ রাষ্ট্র এই যুদ্ধের নাম রেখেছে 'অপারেশন কাগার'। যা পেছনের যুদ্ধগুলোর অনেক বেশি, সব থেকে শক্তিশালী, আকাশ থেকে মাটি সর্বত্র জুড়ে চলছে। লক্ষ্য একটাই — রাষ্ট্র বিরোধী মাওবাদী শক্তিকে নির্মূল করা।
বাংলাভাষী হওয়ার অপরাধে প্রতিবেশী অবাঙালি রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু মিছিল ও হয়রানি। অথচ সিপিআইএম ও বিজেপির কোন হেল দোল নেই। বরং তাদের যুক্তি -- বাংলায় কাজ নেই বলেই নাকি বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক কে অন্য রাজ্যে যেতে হয়। যদিও তথ্য ভিন্ন কথা বলে। পশ্চিমবঙ্গে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাইরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লক্ষেরও বেশি।
ক্লান্ত বিধ্বস্ত আকাশ কোনমতে ট্রলি ঠেলে ঠেলে চেক ইন কাউন্টারে পৌঁছল বেশ দেরি করে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম, এত বড় কনফারেন্স থেকে সবাই ফিরছে, হবারই কথা।
মাসখানেক আগে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন তাঁর সরকার বোম্বে শহরে লুকিয়ে থাকা অবৈধ বাংলাদেশী নাগরিকদের খুঁজে বের করার কাজে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে একজন মানুষের বাচনভঙ্গীমা, স্বরক্ষেপণ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করবেন একজন বাংলাভাষী ভারতীয় না বাংলাদেশী। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উল্লম্ফনে উল্লসিত হওয়ার পরিবর্তে কিছু প্রশ্ন আসছে, সেগুলোর দিকে একটু তাকানো জরুরি।
এপস্টিন ফাইলস একটা অন্য পৃথিবীর ছবি আমাদের সামনে উপস্থিত করে।পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যে গণতন্ত্র, নৈতিকতা, সাম্যের ভাবনা ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে স্থাপিত আইনের শাসনের কথা বলে তা যে নেহাৎই এক মরিচীকা,এপস্টিন ফাইলস তা ছত্রে ছত্রে প্রমাণ করে।এই নথিগুলো এক প্যারালাল ইউনিভার্সের খোঁজ দেয় যেখানে ক্ষমতাবানরা তাদের সম্পদ ও ক্ষমতার জোরে পৃথিবীর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
এপস্টিন ফাইলস একটা অন্য পৃথিবীর ছবি আমাদের সামনে উপস্থিত করে।পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যে গণতন্ত্র, নৈতিকতা, সাম্যের ভাবনা ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে স্থাপিত আইনের শাসনের কথা বলে তা যে নেহাৎই এক মরিচীকা,এপস্টিন ফাইলস তা ছত্রে ছত্রে প্রমাণ করে।এই নথিগুলো এক প্যারালাল ইউনিভার্সের খোঁজ দেয় যেখানে ক্ষমতাবানরা তাদের সম্পদ ও ক্ষমতার জোরে পৃথিবীর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
মাসখানেক আগে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন তাঁর সরকার বোম্বে শহরে লুকিয়ে থাকা অবৈধ বাংলাদেশী নাগরিকদের খুঁজে বের করার কাজে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে একজন মানুষের বাচনভঙ্গীমা, স্বরক্ষেপণ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করবেন একজন বাংলাভাষী ভারতীয় না বাংলাদেশী। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উল্লম্ফনে উল্লসিত হওয়ার পরিবর্তে কিছু প্রশ্ন আসছে, সেগুলোর দিকে একটু তাকানো জরুরি।
বিদ্বেষকে অনুঘটক করে রাজনৈতিক ক্ষমতা গুছিয়ে নেবার জন্য ধর্মীয় মেরুকরণের কৌশল এক নিম্ন শ্রেণীর রাজনৈতিক অপচর্চা ! এর আগে জব্বলপুর দাঙ্গা, গুজরাট দাঙ্গা, শিখ গণহত্যা, দিল্লী দাঙ্গা ইতিহাস দেখেছে। ভারত ধর্মীয় সহিষ্ণুতার দেশ, আমরা কোন মূল্যেই দাঙ্গা চাই না। অথচ বিশ্বগুরু থেকে বিশ্বশর্মা আমাদের সেই পথেই টেনে নিয়ে চলেছেন।
হুশ, হুউশ, হুউশশশশ—আমনের গাল ফুলে বেলুনের মত হয়ে গেছে। চশমার ওপরে ঝুঁকে পড়েছে অবাধ্য এক গোছা চুল। প্রীতির মনে হল কোথায় যেন দেখেছে এরকম একটি জন্তু। চটপট ফোনে জেমিনাইকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলে দিল, পাফার ফিশ। প্রীতি ফিক করে হেসে উঠল পাফার ফিশ আকা বেলুন মাছের সঙ্গে আমনের মুখের সাদৃশ্য দেখে। এদিকে মোমবাতির নেভার কোন ইচ্ছেই নেই। যেই ফুঁ বন্ধ হচ্ছে অমনি আবার ফুরফুর করে জ্বলে উঠছে।
মহাতীর্থ মহানাদ ছিল প্রাচীন এক নগর। মহানাদে মাটির নিচ থেকে বহু বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের দেব দেবীর নিদর্শন পাওয়া যায়। মহানাদের রাজা হরিশ সিংহ ছিলেন বৌদ্ধ। বাকিটা পড়ুন নীচের সূত্রে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাব বিস্তারের কৌশলের একটি বড় অস্ত্র হল হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে তীক্ষ্ণ ও প্রাত্যহিক করে তোলা। এর জন্য প্রয়োজন একটি ‘অন্যের’ বা ‘শত্রুর’ ছবি তৈরি, যাকে ভয় ও ঘৃণা দেখিয়ে একটি নির্বাচনী ব্লক গঠন করা যায়। মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের প্রতিষ্ঠান, যেমন মাদ্রাসা, সেই লক্ষ্যবস্তুতেই পরিণত হয়েছে। মাদ্রাসা নিয়ে ভুল তথ্য ও ভীতি ছড়ানো সরাসরি ইসলামোফোবিয়ার বীজ বপনের কাজ করে, যা বিজেপির ভোটব্যাংক রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।