স্কুলে এলেই হামিদ ভয় পায়। বিশেষ করে স্কুলের ওই পরিত্যক্ত ঘরটা- যার পেছন দিকে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল গোরস্থান- মানুষ মরলে যেখানে মানুষের লাশ নিয়ে গিয়ে সবাই গোর দেয়। যখন ইস্কুলের পেছন দিকে পরিত্যক্ত ওই ঘরটার দিকে হামিদের চোখ যায়, গোরস্থানের ওপরেও তার দৃষ্টি পড়ে, তার বুকের ভেতরটা শূণ্য হয়ে যায়। কেমন যেন শিরশির করে ওঠে। কলিজা ঠান্ডা মেরে যায়। গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে সে তখন দোস্ত মতিকে জড়িয়ে ধরে।
RSS নামে সংগঠনের ঐতিহাসিক উৎস কোথায়?এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল? এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বৈধতার অন্যতম উৎস হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরাধিকার। যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। ফলে RSS-এর ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকার প্রশ্নটি শুধু অতীতের নয়; বর্তমানেরও প্রশ্ন। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৫-৬ সেই ইতিহাসকে ফিরে দেখার চেষ্টা।
একজন ইতিহাসবিদ যখন শ্যামাপ্রসাদকে দেখেন, তখন তিনি ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিক সংকট, দেশভাগের বাস্তবতা, হিন্দু মহাসভার ভূমিকা, কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ এবং স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করেনকিন্তু রাজনৈতিক স্মৃতি সাধারণত এত ধৈর্যশীল নয়। স্মৃতি বেছে নেয়। কিছু ঘটনাকে উজ্জ্বল করে। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৩-৪ পর্বে সেই ইতিহাসকে খুঁজে দেখার চেষ্টা।
২০২৬ সালের কলকাতায় একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে স্থানীয় এবং প্রশাসনিক। একটি রাস্তার পুরোনো নাম মুছে নতুন নাম বসানো হয়েছে। শহরের মানচিত্রে একটি শব্দের জায়গায় আরেকটি শব্দ এসেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি প্রতীকী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মাত্র। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। কয়েক পর্বে লেখক, এই রাস্তার নামবদলের ইতিহাসকে ফিরে দেখার চেষ্টা করলেন।
ইন্দোনেশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের মেরে ফেলার গোটা ঘটনাটাতেই দেখবেন জনতার একটা ভূমিকা ছিল। সেই সময়ে তাদের একটা অংশ যেমন প্রগতিশীল আন্দোলনের শরিক ছিল তেমনই অন্য আর একটি অংশ ফ্যাসিবাদীদের প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে প্রগতিবিরুদ্ধ গণ-আন্দোলনের শরিক হয়ে পড়ে। আজকের ডিম থেরাপি বা ডিমোক্রেসি আসলে ছদ্মবেশে ফ্যাসিবাদের জমি তৈরি করছে, তা যদি না বোঝা যায়, তাহলে আর কিসের বামপন্থী আন্দোলন ?
এক অর্থে বিদ্যালয় একটি ক্ষুদ্র সমাজ। সেখানে যা ঘটে, শিশু সেটিকেই সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে গ্রহণ করে। এখন যদি সেই ক্ষুদ্র সমাজে শিশু দেখে যে বড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করতে মারধর করেন, অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় রাস্তায়, এবং কর্তৃপক্ষকে অপমান করা যায় প্রকাশ্যে — তাহলে সে বড় হয়ে ঠিক তাই-ই করবে। কারণ সে তো সেটাই শিখেছে। আগে হিংসা ছিল স্থানীয়। যারা সামনে থাকতেন তারা দেখতেন। এখন হিংসা ভাইরাল সেই ভাইরাল হিংসা দেখে শিশু শেখে — এই কাজ করলে মানুষ হাততালি দেয়।
প্রতারণার এই সাম্রাজ্য শুধু কিছু অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের তৈরি নয়; এটি আমাদের সিস্টেমের দীর্ঘদিনের অবহেলা, অদক্ষতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল। প্রতিটি জাল ডিগ্রি কার্যকরভাবে একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে মানুষের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব দিয়েছে। আর প্রতিবার যখন আমরা ডিগ্রি যাচাই করি না, হুইসেলব্লোয়ারকে নিরুৎসাহিত করি, অথবা গুগলকে ডাক্তার বানাই—আমরা নিজেরাই এই মরণফাঁদের অংশীদার হই। সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সেই সংক্রান্ত দুর্নীতি কি বন্ধ করা সম্ভব?
তৃণমূল যখন বামপন্থীদের ‘অস্তিত্বহীন’ করতে এইভাবে মরিয়া ছিল, তারা ভুলে গিয়েছিল যে রাজনীতিতে শূন্যস্থান কখনও স্থায়ী থাকে না। সেই দখল হওয়া এবং অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিসরটিকেই সুকৌশলে গ্রাস করেছে বিজেপি। তৃণমূল যে গর্তটি বামপন্থীদের জন্য খুঁড়েছিল, আজ সেই গর্তেই তারা নিজেরা তলিয়ে গেল। এবার কি তবে বামেরা রাস্তায় নেমে, ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমের নিরাপদ স্থান থেকে বেরিয়ে, মধ্যবিত্ততার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?
কলকাতা বা বেশীরভাগ তথাকথিত উন্নতিশীল শহরে আর কারখানা থাকে না। থাকলেও আস্তে আস্তে তুলে অন্যত্র নেবার ব্যবস্থা চলছে সর্বত্রই। পোস্ট ফোর্ডিয়ান (ফোর্ডের গাড়ির কারখানা ঘিরে ডেট্রয়েট হয়েছিল যেমন) মডেল এখন। অতএব শ্রমিক আসার দরকার নেই। আজ উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ প্রবন্ধের চতুর্থ ও শেষ পর্ব।
একদিকে প্রধান বিচারপতি যখন আরশোলা ও পরজীবীর ভাষা ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদকারীদের "আন্দোলনজীবী" বলছেন। আকাশছোঁয়া বেকারত্বের চাপে পিষ্ট যুবকদের তিনি স্বনির্ভরতার নামে রাস্তায় পকোড়া বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন, অথচ প্রতিদিন হকাররা বুলডোজারের মুখে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। দিল্লিতে সমাবেশের পরে পুণা শহরেও হয়ে গেল আরশোলাদের সমাবেশ। কলকাতা কবে দেখবে?
একদিকে প্রধান বিচারপতি যখন আরশোলা ও পরজীবীর ভাষা ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদকারীদের "আন্দোলনজীবী" বলছেন। আকাশছোঁয়া বেকারত্বের চাপে পিষ্ট যুবকদের তিনি স্বনির্ভরতার নামে রাস্তায় পকোড়া বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন, অথচ প্রতিদিন হকাররা বুলডোজারের মুখে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। দিল্লিতে সমাবেশের পরে পুণা শহরেও হয়ে গেল আরশোলাদের সমাবেশ। কলকাতা কবে দেখবে?
কলকাতা বা বেশীরভাগ তথাকথিত উন্নতিশীল শহরে আর কারখানা থাকে না। থাকলেও আস্তে আস্তে তুলে অন্যত্র নেবার ব্যবস্থা চলছে সর্বত্রই। পোস্ট ফোর্ডিয়ান (ফোর্ডের গাড়ির কারখানা ঘিরে ডেট্রয়েট হয়েছিল যেমন) মডেল এখন। অতএব শ্রমিক আসার দরকার নেই। আজ উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ প্রবন্ধের চতুর্থ ও শেষ পর্ব।
বৈধতার কোনো স্থির-নিশ্চিত চিরন্তন সংজ্ঞা নেই। হামুরাবির আমলে শাসকের যে অধিকার 'বৈধ' বলে কথিত, আজ তাকে 'বৈধ' বলে মানা চলে না। যেমন ভবঘুরেমি যদি ঐচ্ছিকও হয়, তাকেও অবৈধ বলা চলে না। উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ, এই প্রবন্ধের আজ তৃতীয় পর্ব।
১৯৪৭-এর খণ্ডিত স্বাধীনতার পর যে উদ্বাস্তু স্রোত তা কলকাতাতেও আছড়ে পড়েছিল। শিয়ালদা দিয়ে প্রবেশ করে বা সীমান্ত দিয়ে, ক্যাম্পে ক্যাম্পে বা অন্যান্য জায়গায় যাবার পাশাপাশিই কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে জীবন-জীবিকা নিয়ে ভাবতে হচ্ছিল তাঁদের। উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ এই প্রবন্ধের আজ দ্বিতীয় পর্ব।
গতকাল জালিয়ানওয়ালাবাগের কায়দায় চারদিক ঘিরে ফেলে পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, রেল পুলিশ যেভাবে যাদবপুরের ষ্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে বুলডোজার নিয়ে আক্রমণ চালালো, তা শুধু নিন্দনীয় নয় নারকীয়। এই আক্রমণ প্রতিহত করার উপায় সাধারণ মানুষের নেই, তা সত্ত্বেও তাঁরা যথাসম্ভব প্রতিরোধ করেছেন, কিন্তু এটা অসম লড়াই। এই প্রসঙ্গেই আজকের এই উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ লেখাটি চার পর্বে প্রকাশিত হবে। চারিদিকে যে ভাবে বুলডোজারের হুঙ্কার দেখা যাচ্ছে, সেই সময়ে প্রাসঙ্গিক এই কথাগুলো। আজ প্রথম পর্ব।
আশরাফিলকে ফেরানো যায়নি। নিজের সম্ভাবনা আর আতিকের সংকল্পে ইতি টেনে চলে গেছে সে পরবাসের পথ ধরে। আশরাফিল চলে গেল যেদিন, রওনা হওয়ার আগে আতিকের কাছে গিয়েছিল দেখা করতে। তার সামনে মাথা তুলতে পারেনি, মুখ নীচু করে কথা বলেছিল। স্যার, আজ আমি চলে যাচ্চি।