পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন ২

হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক উপন্যাসের আজ দ্বিতীয় পর্ব। আগের পর্বের সূত্র এই লেখার প্রথমে থাকলো।

ডবল ইঞ্জিন বনাম নারী সুরক্ষা: বাস্তব কী বলছে?

যেখানে যেখানে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, সেখানে 'মা-বোনেদের' জন্য কাজ ও চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। 'মা-বোন'-এর পরিচয়ে মহিলাদের দাগিয়ে দেওয়া অসম্মানজনক। মহিলাদের স্বতন্ত্র ব্যক্তিপরিচয় আছে। তবে মহিলাদের ইস্যুতে যোগী আদিত্যনাথের কাছ থেকে 'পলিটিকাল কারেক্টনেস' আশা করা, আর দিনেদুপুরে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখা– দুটোই এক পর্যায় পড়ে।

নির্বাচনী গিমিক বনাম রুটি-রুজি: বিপন্ন গণতন্ত্র

গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপান্তর এবং গুণগত উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ ভোটাররা রাজনৈতিক 'গিমিক' এবং 'বাস্তব উন্নয়ন'-এর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যটি অনুধাবন করতে পারবেন। প্রার্থীর ঝালমুড়ি খাওয়া বা ধান কাটার নাটকীয়তা দেখে আপ্লুত হওয়ার মোহ কাটিয়ে তাঁদের সোজাসুজি প্রশ্ন করার সময় এসেছে— এম এস পি (ফসলের ন্যায্য দাম ) - র আইনি স্বীকৃতি কি আদৌ মিলবে? আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ফেরাতে তাঁদের পরিকল্পনা কী ? ইত্যাদি প্রশ্ন উঠে আসা জরুরি।

অন্ধকারের অলিন্দে ন্যায়বিচার

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। হিমাচল প্রদেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর তাঁর সুপ্রিম কোর্টে আসার গতি ছিল বিস্ময়কর। সিনিয়রিটির লম্বা তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে এত দ্রুত সর্বোচ্চ আদালতে টেনে আনা হলো? এই দ্রুত উত্তরণ প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ মহলের কাছে তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এবং তারা তাঁকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া ছিল।

আমি ইতিহাস আমাকে স্মরণ রেখো

একটু ইতিহাস স্মরণে রাখলে অমিত শাহ ও মোদিজি দেখতে পেতেন সুলতানি থেকে মুঘল যুগ পর্যন্ত কোন শক্তি বাংলাকে কখনো দিল্লির প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে আনতে পারেনি। এনে থাকলেও সেটা খুবই সাময়িক। এমনকি গুপ্ত রাজারা মূলত উত্তর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করলেও, গুপ্ত দের সামন্ত নরেন্দ্র গুপ্ত বা নরেন্দ্রাদিত্য, যিনি শশাঙ্ক নামে পরিচিত। তার হাতে স্বাধীন গৌড়ের প্রতিষ্ঠা হয়। বাংলা কনৌজের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়।

বোবা টানেল

রান্নার গ্যাস পাওয়া যাক বা না-যাক, কলিকাতা কলিকাতাই … সঙ্গে কুয়াশা ঘেরা হাইরাইজের একটা ছবি জুড়ে দিয়েছে। জানে ও, কী পোস্ট অনুগামীরা পছন্দ করবেন।ইন্সটাগ্রামে এরই মধ্যে এত ফলোয়ার! সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া করে চলেছে। কি যে আনন্দ পায় এতে কে জানে ! পাগলী একটা !

অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন ১

সংসারের মাঝপথে হঠাৎ ছন্দপতন। পেঁপে আর পেপসি নিয়ে গন্ডগোলের সূত্রপাত। জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবার। গনগনে রোদে কার গাছ থেকে কে জানে, এক বস্তা পেঁপে পেড়ে বস্তাবন্দি করে কাঁধে নিয়ে ঘরে আসে লখাই। বস্তাটা ঘরের মেঝেতে ধপাস করে নামিয়ে আদরিনীকে ডাকে।

হৃৎপিণ্ডে আঘাত না করে নাক কান কাটলে রাক্ষস মরবে?

মনে পড়ে যাচ্ছে, কলকাতা ১৯৬৫-৬৬’র কথা। খাদ্যের জন্য আন্দোলন; আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলি--বসিরহাট, বারাসাত, কৃষ্ণনগর। খাদ্য চাই, সেই চাওয়া আদায় করে নেবে আন্দোলনকারীরা, এমনই প্রতিজ্ঞা! ৪৫ জন শহীদ। আন্দোলনের এই প্রসার, জনতার এই রুদ্ররোষ কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দলগুলির কল্পনার বাইরে, এবং এই আন্দোলনকে সহমর্মিতা দেখিয়েই তাদের ক্ষমতায় আসা!

আরও পুরানো লেখাগুলি

আম্বেদকরের ভারত-ভাবনা ও জনতার ভোটাধিকার

আজ বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিন। আজ আমরা আবার সেই একই দৃশ্য দেখতে পাব। আম্বেদকরের পতাকার পদদলনকারীদের আম্বেদকরের স্মৃতিতে সমবেত রুদালী। ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময়, যেখানে তিনি খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, সেখানে তিনি সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্বাধীনতার পরপরই ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা সম্পত্তির ভিত্তিতে ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ করা হয়নি।

কেন্দ্রের বঞ্চনা : বাংলা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পিএম স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে পিএমশ্রি) বলে একটি প্রকল্প চালু করে। সেই প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি ব্লকে একটি করে মডেল স্কুল চালু করতে হবে যার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা নীতির প্রচলন করা হবে। তিনটি রাজ্য পিএমশ্রির জন্য মৌ সাক্ষর করতে অস্বীকৃত হয় – কেরালা, তামিলনাডু এবং পশ্চিমবঙ্গ। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র এই তিনটি রাজ্যের প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেয়।

আখ্যান

কেন্দ্রের বঞ্চনা : বাংলা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পিএম স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে পিএমশ্রি) বলে একটি প্রকল্প চালু করে। সেই প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি ব্লকে একটি করে মডেল স্কুল চালু করতে হবে যার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা নীতির প্রচলন করা হবে। তিনটি রাজ্য পিএমশ্রির জন্য মৌ সাক্ষর করতে অস্বীকৃত হয় – কেরালা, তামিলনাডু এবং পশ্চিমবঙ্গ। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র এই তিনটি রাজ্যের প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেয়।

আম্বেদকরের ভারত-ভাবনা ও জনতার ভোটাধিকার

আজ বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিন। আজ আমরা আবার সেই একই দৃশ্য দেখতে পাব। আম্বেদকরের পতাকার পদদলনকারীদের আম্বেদকরের স্মৃতিতে সমবেত রুদালী। ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময়, যেখানে তিনি খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, সেখানে তিনি সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্বাধীনতার পরপরই ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা সম্পত্তির ভিত্তিতে ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ করা হয়নি।

দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমানে আঘাতে

মোথাবাড়িতে যা হয়েছে, অন্যত্রও যা হচ্ছে, সে সব অসহায় মানুষের অসহায়তা। এসআইআর প্রক্রিয়া তো আদালতে গেছিল। প্রশান্ত ভূষণও আমার মতো সামান্য মানুষের কথাই বলেছেন গতকাল। কেন বৈধতা যাচাই-এর কাজ সর্বোচ্চ বিচারালয় ফেলে রেখেছেন? কেন বিচারালয়, সরাসরি প্রাশাসনিক হস্তক্ষেপ করে, ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে চলা রাজ্যে, এনআইএ-কে তদন্ত দিচ্ছেন? তাঁরা যখন আলগোছে ও অবহেলায় মন্তব্য করেন, একজন এবারে ভোট দিতে না পারলে কী আছে, পরের বার দেবে, সেটা কি স্বাভাবিক?

বৃষ্টি, তোমার জন্য

আজ ভোর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঝমঝম শব্দ করে বৃষ্টি পড়ছে। তার সঙ্গে হাওয়ার গোঙানি। খোলা জানলা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা স্বচ্ছন্দে ঘরে ঢুকে, ঘরের মেঝে তার সঙ্গে বিছানার অল্প একটু অংশ ভিজিয়ে দিয়েছে। জানলা বন্ধ করতে গিয়ে বাইরের দিকে চেয়ে চমকে উঠলাম।

মসজিদকে রাজনৈতিক গুটি বানানো, মুসলমান মানুষজনই প্রত্যাখান করছে

মসজিদ হল ‘আল্লাহর ঘর’—বিশুদ্ধতা ও ঐক্যের পবিত্র প্রতীক। নির্বাচনী লাভের জন্য এ ধরনের গভীর ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানো শুধু অনৈতিকই নয়, বিশ্বাসের মূল মূল্যবোধের সরাসরি বিরোধীও”। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, "যখন ক্ষমতার তাড়নায় কোনো উপাসনালয়কে 'তুরুপের তাস'-এ পরিণত করা হয়, তখন এ ধরনের রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।" যতই প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্যরা বলার চেষ্টা করুক, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই, মানুষ বিশ্বাস করছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা ‘দ্বিচারিতা’: এন্তোনিও কস্তা'র আহ্বান ও একপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার সমীকরণ

ইরানের চারপাশ ঘিরে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়, এটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ভাবনায় একটি অস্তিত্বগত সংকট তৈরি করে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন বা আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যখন হাজার হাজার মার্কিন সেনা, অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং বিশাল নৌবহর অবস্থান করে, তখন ইরানের জন্য এটি একটি ‘ভার্চুয়াল অবরোধ’ হিসেবে কাজ করে।