“আমেরিকা আমেরিকানদের জন্য” স্লোগানটি শুনতে বেশ গনতান্ত্রিক হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল –“লাতিন আমেরিকা ইউরোপের নয়, কিন্তু স্বাধীনও নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অঞ্চল।” বাস্তবে এই নীতির ফলে –সামরিক হস্তক্ষেপ, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর স্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ সহ সবকিছুর বৈধতা তৈরি হল।
অফিসের জানলা দিয়ে বাইরে চোখ রাখতেই দেখলাম রামধনু সাতরঙের পাখা মেলেছে। ঘড়ি বলছে এক্ষুনি ছুটি হবে। “ ময়ূরাক্ষীদি এক কাপ চা আরেকবার দিই? “ রতনদা বলতেই তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলাম,” না গো রতনদা, আজ বন্ধু বিপাশার মেয়ের জন্মদিনের নেমন্তন্ন আছে, যেতে হবে।”
এস আই আর বেশিরভাগ নিরক্ষর ও প্রান্তিক মহিলাদের জন্য দৈনন্দিন জীবনে রুজি রোজগারের ক্ষেত্রেও একটি অতিরিক্ত সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে কারন বছরের এই সময়টা ওই সব মহিলাদের মধ্যে অনেকেই ধান কাটার কাজে বা জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ ভারতের দিকে যান। তাঁরা উভয় সংকটে পড়েছেন। যদি তাঁরা না যান, তবে তাঁদের আয়ের ক্ষতি হবে। কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ভয়ও তাঁদের মধ্যে রয়েছে।
আজকের ভারতবর্ষের দিকে তাকিয়ে আমরা অবাক হয়ে দেখছি প্রতিদিন যেন এই দেশ আমাদের কাছে অচেনা ঠেকছে। সুবর্ণরেখায় আমরা দেখেছি একটা গণমাধ্যম যে কিনা প্রতিনিয়ত অশ্লীল খবরের সন্ধানে, মনুষ্যত্বের অবমাননার খোঁজে ছুটছে তাদের পকেট ভরাতে। আমরা দেখছি সেখানে কৌশল্যার মতো সহায় সম্বলহীন মানুষকে রাষ্ট্র টেনে হিঁচড়ে নির্বাচনে নিয়ে যাচ্ছে। ‘রাত কত হলো উত্তর মেলে না’, রবীন্দ্রনাথের শিশু তীর্থ ঋত্বিকের ছবিতে উচ্চারিত হয়, আমাদের সময়কে সে যেন মহাকাব্যিক উচ্চারণে বুঝতে চায়।
কলেজে পড়ার সময়েই সলিল চৌধুরী মার্ক্সবাদীদের সান্নিধ্যে এসে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলা কালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সৃষ্ট ১৯৪৩ সালে বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময়ে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপ-সংলগ্ন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সেখানে তিনি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন, সেগুলোই পরবর্তীকালে হয়ে উঠেছিল তাঁর অনেক কালজয়ী সংগ্রামী গানের ভিত্তি।
আজ বেশ কয়েকদিন অভিরামের মনটা ভালো নেই। ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর, নেতিবাচক বিভিন্ন খবর, অভিরামের মন খারাপের কারণ। কেননা, ছেলে বিবর কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে থাকে। আইকার্ড, আধারকার্ডকে ঐ রাজ্যের প্রশাসন ভারতীয় নাগরিকের মান্যতা দিচ্ছে না। বাংলায় কথা বলার জন্য বলছে... তোমারা বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশকারী। দৈনিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা এসব খবর অভিরামের মনকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছে। কি করবে অভিরাম? কী বা করার আছে?
কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হবার পর ঘাটে বোম্বেতে থাকতেন এবং সেখানে শ্রমিক সংগঠনের কাজে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। ১৯২৭ সালে প্রথম কমিউনিস্ট নেতা হিসেবে ঘাটে এ আই টি ইউ সি-র কার্যনির্বাহী সভার পদাধিকারী হনএবং ধীরে ধীরে এই সংগঠনে কমিউনিস্ট প্রভাব, মতাদর্শ ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। আজ কমিউনিস্ট পার্টির ১০০ বছরে, প্রথম সাধারণ সম্পাদকের জীবন আলেখ্য।
আরাবল্লি পর্বতমালা উত্তরভারতে ২০০ কোটি বছর ধরে ভূ-প্রাকৃতিক বাফার জোন হিসেবে কাজ করছে। ভাবতেও অবাক লাগে যে, এই দুইশো কোটি বছরের পাহাড়ের ভূগোল ইতিহাস ভবিষ্যত নির্ধারন করছে মাত্র দুইশো বছরের ‘প্রগতিশীল’ মানুষ। হায়রে আমার সভ্য মানুষ। একেই নাকি বলে সভ্যতা!
গান্ধীর সাথে পথ চলা, এমনই একটি ঘটনা ঘটে গেল প্রায় ৫৬ দিন ধরে। এদেশের ১০০০ কিলোমিটার পথ ধরে বেশ কিছু মানুষ হাঁটলেন বেনারসের রাজঘাট থেকে দিল্লির রাজঘাট পর্যন্ত। দেশের বাইশটি প্রদেশের পদযাত্রী এতে যুক্ত হয়েছিলেন। 'এক কদম গান্ধী কে সাথ' এই ছিল মূল কথা এবং তার সাথে যুক্ত হয়েছিল 'প্যায়ার কি কারওয়া'র কথা।
২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে এই পদযাত্রার পরিপূর্ণতা হলো দিল্লির যন্তর মন্তরে। ১০০০ কিলোমিটার পথ ৫৬ দিন ধরে হেঁটে এলেন যাঁরা বহু চোখরাঙানিকে তুচ্ছ করে, সত্য, ন্যায়, অহিংসা, প্রেমের পথ ধরে হেঁটে এলেন তাদের সকলকে কুর্নিশ জানাতে, পাশে থাকতে এসে পৌঁছলাম একবেলার জন্য। গান্ধীর সাথে ১০০০ কিলোমিটার পদযাত্রার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। সেই অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিলেন মনীষা বন্দ্যোপাধায়।
২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে এই পদযাত্রার পরিপূর্ণতা হলো দিল্লির যন্তর মন্তরে। ১০০০ কিলোমিটার পথ ৫৬ দিন ধরে হেঁটে এলেন যাঁরা বহু চোখরাঙানিকে তুচ্ছ করে, সত্য, ন্যায়, অহিংসা, প্রেমের পথ ধরে হেঁটে এলেন তাদের সকলকে কুর্নিশ জানাতে, পাশে থাকতে এসে পৌঁছলাম একবেলার জন্য। গান্ধীর সাথে ১০০০ কিলোমিটার পদযাত্রার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। সেই অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিলেন মনীষা বন্দ্যোপাধায়।
গান্ধীর সাথে পথ চলা, এমনই একটি ঘটনা ঘটে গেল প্রায় ৫৬ দিন ধরে। এদেশের ১০০০ কিলোমিটার পথ ধরে বেশ কিছু মানুষ হাঁটলেন বেনারসের রাজঘাট থেকে দিল্লির রাজঘাট পর্যন্ত। দেশের বাইশটি প্রদেশের পদযাত্রী এতে যুক্ত হয়েছিলেন। 'এক কদম গান্ধী কে সাথ' এই ছিল মূল কথা এবং তার সাথে যুক্ত হয়েছিল 'প্যায়ার কি কারওয়া'র কথা।
"আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এসআইআর" সকালে খবরের কাগজ দেখে চমকে উঠল সুকান্ত। ভদ্রলোক অবিবাহিত। এদেশেই তার জন্ম কিন্তু দু'হাজার দুই সালের ভোটার লিস্টে তার বাবার কিংবা তার নিজের নাম ছিল না। ভদ্রলোকের বাবা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। তার বাবা দশ বছর আগে মারা গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কি হবে! এসআইআর-এর আতঙ্কে ভদ্রলোক কয়েকদিন ধরেই চিন্তায় ছিলেন এবং শেষ পরিণতি আত্মহত্যা।
রাজপাটে মৌরসী পাট্টা গেড়ে বসার পরে কেনই বা দুধেল গাইদের বিদেশে গচ্ছিত টাকা নিয়ে টানাটানি করা হবে? কখনো কখনো তাঁরা দেশ ছেড়ে বিদেশে যাবেন, সেই বন্দোবস্ত রাখতে হবে বৈকি। তাঁরা তো নির্বাচনী তহবিলে নামে বেনামে টাকা দেন, নির্বাচনী বন্ডও কিনেছেন। তাই এখন কালো টাকাও নেই, কালো টাকার বিদেশ গমনও নেই। কিছুদিন পরে কি আমাদের এটাও জানানো হবে, যে ভারতে বিদেশী বলেই কেউ নেই, কিংবা এই SIR এর পরে যাঁদের বিদেশী বলে বলা হচ্ছে, সেটাও অত্যন্ত নগণ্য?
মনমোহন সিং-চিদাম্বরমদের নকশাল তথা মাওবাদীদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির কথা তো মোদির অজানা নয়। মনমোহন সিং তো বলেই দিয়েছিলেন : নকশালপন্থীরা দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সবচাইতে বড়ো বিপদ (দ্য হিন্দু, নভেম্বর ১৭, ২০২১)। একদা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বর্তমান অমিত শাহের পূর্বসূরী চিদম্বরম তো স্পষ্টতই বলেছিলেন যে দেশের সন্ত্রাসবাদ দমনের চাইতেই বড়ো চালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নকশালপন্থীরা (দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১১)!
আজ ১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫। আজ নির্বাচন কমিশন তাঁদের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশ করবে, অর্থাৎ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। আজ থেকে কিন্তু সমস্ত মানুষের অনিশ্চয়তা কেটে যাচ্ছে এমনটা নয়, উল্টে আজ থেকে বহু মানুষের অনিশ্চয়তা আরো বাড়বে। হয়রানি বাড়বে। নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে সরকারের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে। আরো নতুন নতুন নিয়ম লাগু হবে, গোদী মিডিয়া জুড়ে সান্ধ্যকালীন চর্চার বিষয় হয়ে উঠবে, বাদ যাওয়া মানুষের সংখ্যা, কিন্তু মানুষের হয়রানি নিয়ে কেউ কথা বলবেন কি?