ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল।
মধ্যরাতে যাদবপুর বিধানসভার বিধায়ক “সারা রাত তান্ডব চলবে” বলে হুঁশিয়ারী দিলেন কেন? কেন সেদিন বিজেপির গুন্ডাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে তান্ডব চালালো? কেন তার পরের দিনও গেরুয়া হাতে নিয়ে আক্রমণ হল বিশ্ববিদ্যালয়ে? গেরুয়ার প্রতি যদি এত ভক্তি তাহলে গেরুয়া হাতে নিয়ে সমাজবিরোধী আচরণ করতে তাদের লজ্জা হচ্ছে না কেন? এরও কারণ হল তাদের গেরুয়া প্রেম প্রকৃত প্রেম নয়, তা নকল প্রেম মাত্র।
কলকাতার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি সরকারি বিদ্যালয়—উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি খুব বড় নয়। পুরোনো দোতলা ভবনের দেওয়ালে কোথাও রং খসে পড়েছে, কোথাও বৃষ্টির জল শুকিয়ে কালচে দাগ ফেলেছে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র যখন ডিম থেরাপিকে জনরোষ বলে সমর্থন করে, ধর্ষণের ঘটনার রাজসাক্ষীকে যখন রাতের অন্ধকারে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হয়; তখন মুখে কুলুপ এঁটে রাখা সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করতে শেখায় গৌরীর মতো মহিলা সাংবাদিকেরা। গৌরী লঙ্কেশদের মৃত্যু হয় না। যেখানে যত শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন করছে, ছাত্ররা প্রতিবাদে রাজপথে নামছে, শাসকের মারের প্রতিবাদে গলা তুলছে, তাদের সবার কন্ঠস্বর হয়ে আছে গৌরী লঙ্কেশ।
শহরটির নাম ছিল জনপদ। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত একটি প্রশস্ত নদী। নাম তার মত। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নদীর ওপর একটি সেতু তৈরি হতো। সেতুটির নাম—ব্যালট। সেতু পার হয়ে মানুষ যে দিকে যেত, পরবর্তী পাঁচ বছর শহরটি সেদিকেই চলত।
মহাশ্বেতা দেবীর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে এমনই এক নারীর ছবি, যার অস্তিত্ব রাষ্ট্রের খাতায় কোনওদিন ঠিকমতো লেখাই হয়নি—আদিবাসী, ভূমিহীন, স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত কিংবা নিজের নামে একটুকরো জমিও নেই এমন এক নারী, যাকে প্রমাণ করতে হয় নিজের অস্তিত্বকে। বিজেপি সরকার যে জনগণনা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তাতে কত মানুষকে যে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে কে জানে!
কাঠমান্ডুর 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট'–এর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে অজস্র হিমবাহ-হ্রদ। সেখান থেকেই নেপালের এই বিপর্যয়। “হিমালয় কি তবে আমাদের সতর্ক করছে? বারবার করেই জানান দিচ্ছে –বরফের শরীর বদলে যাচ্ছে, পাহাড়ের স্থিতি বদলে যাচ্ছে, নদীর আচরণ বদলে যাচ্ছে। আর আমরা এখনও উন্নয়নের পুরোনো সংজ্ঞাতেই আটকে আছি। বিপর্যয়কারী এই উন্নয়নযজ্ঞকে প্রশ্ন করছি না।
আজ কয়েকদিন হল আমাদের পাড়ার হাওয়াটা এলোমেলো ভাবে বইছে। সেজন্য গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক আতঙ্কের ছায়া। আমিও এমন অস্বাভাবিকতার ছোঁয়ায়, এক অস্বস্তির মধ্যে আছি। আসলে অপ্রীতিকর কোন কিছুই আমার কোনদিন পছন্দ নয়। পাড়ার এমন অসুস্থ পরিবেশ আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে, বারবার মনে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে, মানুষতো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ইটের আঘাত পাটকেলে দিতে শুরু করবে।
বিজেপির মূল ভোটব্যাংক আসে যে গ্রামীণ ভারত ও হিন্দিবলয় থেকে, সেখানকার তরুণ প্রজন্মের এক বিরাট অংশ আজ চরম ক্ষুব্ধ। চিন্তিত না হলে, বিজেপির মতো দল—যারা সাধারণত আন্দোলনকারীদের সাথে সহসা আলোচনায় বসতে বিশ্বাসী নয়—তাদের নেতাদেরও পিছু হটে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হতে হতো না এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হতো না।
সাত-আট বছরের দুই বন্ধু, আহমদ এবং নেমাতজাদে, ক্লাসে পাশাপাশি বসে। দ্বিতীয়জনের হোমওয়ার্কের খাতা প্রথমজন ভুল করে বাড়ি নিয়ে য্যয়। স্কুলের শিক্ষক নেমাতজাদেকে জানিয়ে দিয়েছে পরের দিন খাতা জমা না দিতে পারলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। বাড়ি গিয়ে আহমদ যখন আবিষ্কার করে যে বন্ধুর খাতা তার ব্যাগে ঢুকে গেছে তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে ভাবেই হোক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে সেটা পৌঁছে দিতে হবে। আহমদ কি পারবে তার কাছে সে খাতা পৌঁছে দিতে?
সাত-আট বছরের দুই বন্ধু, আহমদ এবং নেমাতজাদে, ক্লাসে পাশাপাশি বসে। দ্বিতীয়জনের হোমওয়ার্কের খাতা প্রথমজন ভুল করে বাড়ি নিয়ে য্যয়। স্কুলের শিক্ষক নেমাতজাদেকে জানিয়ে দিয়েছে পরের দিন খাতা জমা না দিতে পারলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। বাড়ি গিয়ে আহমদ যখন আবিষ্কার করে যে বন্ধুর খাতা তার ব্যাগে ঢুকে গেছে তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে ভাবেই হোক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে সেটা পৌঁছে দিতে হবে। আহমদ কি পারবে তার কাছে সে খাতা পৌঁছে দিতে?
বিজেপির মূল ভোটব্যাংক আসে যে গ্রামীণ ভারত ও হিন্দিবলয় থেকে, সেখানকার তরুণ প্রজন্মের এক বিরাট অংশ আজ চরম ক্ষুব্ধ। চিন্তিত না হলে, বিজেপির মতো দল—যারা সাধারণত আন্দোলনকারীদের সাথে সহসা আলোচনায় বসতে বিশ্বাসী নয়—তাদের নেতাদেরও পিছু হটে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হতে হতো না এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হতো না।
আজ থেকে একশ আটাত্তর বছর আগে ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’র শুরুতেই মার্কস লিখেছিলেন : একটা ভূত সারা য়ুরোপকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, সেটা হচ্ছে কমিউনিজমের ভূত। আর এতবছর পরে এসেও আমাদের দেশের সরকারকে একটা ভূত অহর্নিশ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেটা হচ্ছে নকশাল তথা মাওবাদীদের ভূত।
অষ্টগ্রামের বামাচরণ আর কৃপাচরণ দুই ভাই। বাবা সাধুচরণ। লিভারের অসুখে ভুগে ভুগে মরার আগে সব জমি সে দিয়ে গেল বড় ছেলে, বামাচরণের হাতে।
হাতিকে কেন্দ্র করে কেবল রাজকীয় শক্তির প্রকাশ ঘটেনি, বরং গভীর আধ্যাত্মিক এবং অনুভূতিমূলক শিল্পকর্মও সৃষ্টি হয়েছে। তেমনই এক অনন্য টেরাকোটা মোটিফ হলো ‘নবনারীকুঞ্জ’। তাছাড়া টেরাকোটা চিত্রে হাতির প্যানেল ও শিকারের দৃশ্যে হাতির বিবরণ উঠে আসে। বাংলায় বিষ্ণুপুর, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমানে এমন টেরাকোটা চিত্র পাওয়া যায়।
যুদ্ধটা খুব নতুন কিছু নয়। যুদ্ধটা সবসময় হয়েছে এবং যুদ্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে একটা ক্ষমতা বা আধিপত্যের বিস্তার। আর যার শক্তি আছে সে শক্তিহীন যে সমস্ত দেশগুলো রয়েছে বা জাতি রাষ্ট্র রয়েছে, সেখান থেকে লুণ্ঠন করা এবং নিজেদের অর্থনীতি বা নিজেদের সামাজিক যে গঠন, তাকে আরো শক্তিশালী করা।