পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। কোরাসোন দে মারিয়া গ্রামে বাস করত এক বাবা আর ছেলে, দুজনকেই লোকে চিনত এরেমিতে বলে, কেননা দুজনেরই নাম ছিল এউরেমিয়ো। একজন এউরেমিয়ো সেদিয়ো, আর অন্যজন এউরেমিয়ো সেদিয়ো। তাই বলে দুজনের মধ্যে তফাত করতে যে বেগ পেতে হত, এমনটা একেবারেই নয়, কেননা একজন অন্যজনের চেয়ে পঁচিশ বছরের বড়।

Read more


গল্প বলে যে সব বেদুইন রাভিয়ারা, তারা ঘোড়ায় চেপে আসে, প্রতি বছর, এই ফতে সিং পরগণায়। তাদের সঙ্গে থাকে তাঁবু। আর তিরধনুক, বর্শার মতো নানা অস্ত্র। পশুপাখি শিকারের পর তারা তাঁবু খাটিয়ে সন্ধ্যায় মশাল জ্বেলে গল্প বলে। তাদের সঙ্গে থাকা রমণীরা কখনো নাচগান করে।

Read more

by শামিম আহমেদ | 04 April, 2020 | 1557 | Tags : Short story


গাফফার সানাউল্লামাস্টারের কুরবানির উটটাকে দেখছে। উটটা বুঝি খিদের জ্বালায় জাবর কাটছে! তার দুই কষা বেয়ে সাদা সাদা ফ্যানা গড়িয়ে পড়ছে। যা দেখে গাফফারের মনে হচ্ছে, তার অবস্থাও ওই উটটার মতো। সেও জাবর কাটছে। তবে পার্থক্য যেটুকু- উটটার মতো তার কষা বেয়ে সাদা সাদা ফ্যানা গড়িয়ে পড়ছে না। পড়বে কী করে? আসলে সে তার মুখে জমা ফ্যানা গিলে গিলে খাচ্ছে, নিজের পেট ভরাচ্ছে।

Read more


দুই বাংলা মিলিয়ে বেঁচে থাকা লেখক ছোট-গল্প ও সাহিত্য-চর্চায় প্রায় নবীন। জন্মসাল ১৯৮৫। সৃজন সাহিত্য নামে পত্রিকার সম্পাদক। ২০১৩ সালে অস্থির ঢাকা ঘুরে লিখেছিলেন, শাহবাগ আন্দোলন ও চলমান বাংলাদেশ, এই নামের এক ডকুমেন্টারি পুস্তিকা।

Read more

by বিষ্ণু সরকার | 06 November, 2020 | 938 | Tags : short story


অচ্ছুত, চিত্রার ছেলে এবং অনাথনামা-- সহমনের গল্প বিভাগে আজ থাকলো তিনটি অণুগল্প

Read more


এখানে বাতাসে বিষ নেই। শহর থেকে দূরে। চিমনির কালো ধোঁয়া,গাড়ির আওয়াজ কিচ্ছুটি নেই। রান্নাঘরের তাড়াও নেই। মনে পড়ল,আজ ধ্যানের ক্লাস আছে। নিয়ম মেনে। ঘন্টা খানেক। সবই নিয়মের। মেনে চলেন। মানিয়ে চলেন। জীবন। নতুন বাড়ি। নতুন পরিবার!

Read more


লোকটি রঙ বদলায়।কিন্তু এই রাতের অন্ধকারে নদীর বালিতে কেবলই একাএকাই লুকোচুরি খেলছে গণশা,অন্ধকার জোছনা হয়ে বালিতে ছবি আঁকছে।দেখে পাগল বলবেরে তকে উটে আয়।কে যেনো ডাকে গণশাকে।

Read more

by আয়েশা খাতুন | 28 November, 2020 | 1077 | Tags : Short Story


আমাদের কুলদেবতা ভদ্র। তার ইচ্ছায় আমাদের গোষ্ঠীতে পড়াশোনার চল শুরু হয়েছে। মেয়েটির মৃত্যুর প্রসঙ্গে,যাঁরা আমাদের মধ্যে শিক্ষিত,তাঁরা পুনরায় মহান ব্যাক্তিদের উক্তি স্মরণ করলেন পৃথিবীতে শুধুমাত্র একটিই ভালো আছে,জ্ঞান। আর একটিই খারাপ আছে,অজ্ঞতা।

Read more

by সাদিক হোসেন | 20 December, 2020 | 761 | Tags : short story sadik hosen


এর মধ্যেই বয়সভিত্তিক বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় দারুণ ফুটবল খেলার পরিচয় রাখতে শুরু করেছে প্রমিত। স্কুল পর্যায়ের এক প্রতিযোগিতায় হ্যাটট্রিক করায় কাগজেও নাম বেরল প্রমিতের। গর্বে ফুলে উঠল অসিতবাবুর বুক। ছেলে বড় ফুটবলার হবে।

Read more


সত্যি দলিতরা কী কী কাজ করতে পারে তা অতি দীর্ঘ এক প্রকল্পনাই বটে যার সঙ্গে স্কুলের সামনের দোকানটি বন্ধ থাকবে কিনা, মানব চেনের বাবুদিগের প্রতিবাদের মতো একশো দিনের মাথায় মাটির ঝুড়ি সারিবদ্ধ দলিতের নিরবিচ্ছিন্ন কনভেয়ার বেল্ট থাকবে কিনা, ইতিহাস - ভূগোল আর দেড় হাজার পাতার বইয়ের নিখুঁত পৃথিবী নির্যাস সংযোগ ছাড়াই লেখার মতলব হতে থাকবে। সহমনের গল্প বিভাগে লিখলেন উপল মুখোপাধ্যায়

Read more


মেঘবালিকা শব্দ করে কাঁদে মেঘবালিকা শব্দ করে হাসে মেঘবালিকার বুকের মাঝে ব্যথা মেঘবালিকার মৃত্যু শ্রাবণ মাসে।

Read more


এই প্রতিভা নিয়ে সে জীবিকা অর্জন করতে পারবে সেটা ফ্রাউ ফ্রিডা কোন দিনও ভাবেনি। কিন্তু ভিয়েনার নিষ্ঠুর ঠান্ডায় জীবন অতিবাহিত করা তার পক্ষে দুঃসহ হয়ে পড়ল। তারপর সে বসবাস করার জন্য প্রথম যে বাড়িটা পছন্দ হল সেখানে কাজের খোঁজ করল। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল সে কি কাজ পারে সে নিপাট সত্যটাই বললঃ “আমি স্বপ্ন দেখি”।

Read more


এসব নিয়ে বলার সময় আর আসুক, আমি চাইনা। আসলে অজস্র নেই নিয়ে আমার যে চারপাশ, ভালবাসা সেখানে আছে কিনা বা থাকলেও আমার বোধ্য নয়। যেজন্যে মনে হয়, আমিও কাউকে ভালবাসতে পারিনি । যদি কখনও পারি বা সেই বোধ খুঁজে পাই, তোকেই জানাব।

Read more


এবার মৌলভীর ফতোয়াতে নিজের জন্য নয়, বাড়িতে মা কোনও বিড়ম্বনায় পড়বে কিনা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি। আমার জন্য মায়ের জানাজা-কবর গাঁয়ের লোকে হারাম করে দেবে না তো? মায়ের যে বড় সখ! হ্যাঁ, সখই। আমার আব্বা যেখানে শায়িত আছেন, সেই কলাপুকুরের পাড়ে বেলগাছের ছায়ায়, মাত্র তিন বাই সাত ফুট মাটি।

Read more

by অরুণ সিরাজ | 21 February, 2021 | 1262 | Tags : Korbani Kafer Short story


নিজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখতে পায় নিজেরই গলায় দড়ির সরু দাগ । আত্মহত্যাপ্রবণতা এসব ভারী ভারী কথা ক্রমশ ওর নিজেরই কাছে হালকা হয়ে আসে ।

Read more


নির্দেশিকা জারি করল চৌকিদার— • কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে না। যতক্ষণ দিনের আলো থাকবে, যতক্ষণ অধস্তনেরা মনে করবে, ততক্ষণই কাজ চলবে। • সকল মজুর কাজ করতে বাধ্য থাকবে। • জ্বালানির জন্য তারা কয়লার গুঁড়োই পাবে, কয়লা নয়। • কাজ চলাকালীন কোনও মজুরের মৃত্যু ঘটলে তার পরিবারের একজনকে কাজে বহাল করা হবে। সবটা গড়গড় করে পড়ে চৌকিদার ফিরে গেল...তারপর কি হল?

Read more


কশিরন ভাবে সব জায়গা এসি হলে কতটা টাকা লাগতে পারে। হিসেব করতে পারে না।।এসির দাম তার জানা নেই। পাখা একটা লাগানো আছে তার বড়বেটার ঘরে কিন্তু তার দামও জানা নেই তার। কখনো সখনো পাখার হাওয়া খাবার সৌভাগ্য হয়েছে তার কিন্তু সব সময় না। আর পাখা লাগাবেই বা কোথাও। পাখা লাগানোর জন্য ছাদ চাই।

Read more


সেদিনের ছবিটা আজ এতগুলো বছর পরেও পরিষ্কার । মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছিল অলীকের কথা। বক্তৃতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েকটা মুহূর্ত দাঁড়িয়েছিল করিডরে । তারপরে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়েছিল ছেলেটার সামনে । কে দেখছে, কি ভাবছে, এসব চিন্তা মাথাতেই আসেনি । সরাসরি বলেছিল,' আমি অনন্যা । ফাইনাল ইয়ার পল সায়েন্স । আপনি এতক্ষণ যা যা বললেন তা কি কোনোদিন সম্ভব হবে আমাদের দেশে?'

Read more


একটা ছেলে ডান হাত দিয়ে লম্বা শিক ধরে আছে। সে ধরার জায়গাটা কাপড় দিয়ে মুড়ে রেখেছে। বোঝাই যাচ্ছে শিকটা গরম। সে গরম দিয়ে দিয়ে চোখ তৈরি করছিল- অদ্ভূত মুখোশের। সেই ছৌয়ের মুখোশটা বীভৎস একটা মুখ। বীভৎস আর অদ্ভূত। মুখোশেটায় চোখের জায়গাটা আঁকার পর একটা গর্ত করতে হয় আর ছ্যাঁতততত ছ্যাঁতততত আওয়াজ করে চোখ তৈরি করা চলতে থাকে।

Read more


ছেলেগুলো চলে গেলে ফাঁকা বাড়িটাও একা হয়ে যায়। পুরোপুরি একা হয়ে যান অবনী মাস্টার। এত দিন তবু অলকানন্দা ছিল। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে, সুখে-দুঃখে দুজনে দুজনের পাশে থাকতেন। ভরসা পেতেন স্ত্রীর সঙ্গে নিজেদের দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করতে গিয়ে। গত বছর হঠাৎ করেই অলকানন্দা চলে যাওয়ার পর এখন আরও একা হয়ে গেছেন তিনি। যে রাতে অলকানন্দার হাতটা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল, মাস্টার বুকের কাছে টেনে নিয়ে টের পেয়েছিলেন অসাড়। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। হয়তো সময় হয়ে গেলে কারোরই কিছুই করার থাকে না।

Read more


ভোর বেলায় বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেলো। এখন থেমে গেছে। জাম গাছের মোটা পাতাগুলো এখনো কিছুটা জল ধরে রেখেছে তাদের সর্বাঙ্গে। সজনে পাতাগুলো তুলনায় তাদের ঝাড়া ঝাপটা চেহারা এখনই শুকিয়ে নেবার জন্যে হালকা রোদে গা নাড়া দিয়ে দিয়ে শুকিয়ে উঠছে। এসে গেছে ছাতারে পাখির দল। ভিজে মাটির উপরে ভিজে পাতা উল্টে উল্টে খুঁজছে তারা পোকামাকড়। ডালে ডালে নড়াচড়া করতে শুরু করে দিয়েছে কাঠবিড়ালির দল। একটা বেজি বেরিয়ে এলো বাগানের কোন থেকে, সঙ্গে একটা বাচ্চা। এগিয়ে আস্তে আস্তে একেবারে জানালার কাছে এসে পড়লো। তারপর মুখ তুলে দেখতে পেল মুগ্ধাকে - আর দেখতে পেয়ে নব্বই ডিগ্রি কোণে বেঁকে পালিয়ে গেলো ডানদিকের পাঁচিলের ধারে।

Read more


“তপু আজও ফিরে নাই- মিনু দেখল বাবার গলার স্বর ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে। দু’চোখের পাতায় ঘুম এলিয়ে পড়েছে। তপু বা তপন জগদীশের ছেলে, মিনুর একমাত্র দাদা। পারিবারিক দোকানের মাল সওদা করতে সদরে গেছে দিন সাতেক হল। এখনও ফেরেনি, দিন দুয়েক ধরে বৃদ্ধ দিনে অন্তত বার চার পাঁচেক ছেলের কথা জিজ্ঞেস করে। ওষুধ খাওয়ানো হয়ে গেছে। এখন মিনু তোয়ালে দিয়ে বাবার মুখ মুছিয়ে সাদা চাদরটা বুক বরাবর তেনে দিল। বাবার মাথায়, কপালে হাত বুলিয়ে মমতার গলায় বলল – লক্ষীছেলের মতো ঘুমিয়ে পড় –”

Read more


দিন পনের ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ডে পড়ে আছে এক নারী। নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার মতো সমস্ত আয়োজন ওর পোশাকে আছে। বাড়তি একটি পা অচল হওয়ার কারণে তাকে ঢাকা কিংবা কলকাতার ফুটপাতে পড়ে থাকা ভিখারি হিসেবে ভেবে নিতেও অসুবিধা হবে না কারো। নো ম্যানস ল্যান্ডের নিচু জমির দুপাশে পানির মাঝখানে একটা বাড়ির সমান উঁচু ঢিবিতে নারীটি পড়ে আছে। কিভাবে গেল, কোনদিক থেকে গেল, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

Read more


বিরিয়ানির খুসবু পাচ্ছে ওসমান। কিন্তু সত্যিই কি? না কি সে শুধুই ভেবে নিচ্ছে নিজের মতো করে। সে ভেবে নিচ্ছে বিরিয়ানির ফিনফিনে আর ফরসা চালের কথা। ভেবে নিচ্ছে এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ বা জাফরানের কথা। গোস্তের মশলাদার টুকরো। আলু। আর পাতের উপর থেকে মুখের দিকে উঠে আসতে থাকা গরম ভাপের কথা। শালপাতার থালায় ঢেলে দেওয়া ফিনফিনে ভাতের গা থেকে থেকে উঠে আসা ধোঁয়ার সেই উমো উমো উষ্ণতা পেয়ে ওসমান কেমন ‘আহ্‌’ করে উঠল ভাবো। আর পাশে বসে থাকা ফকির কেমন বলে উঠল, আল্লারে ডাক এখন, কাঁদাকাটা করে লাভ নাই, এখন ফেরেশতারাই— । আর ফকিরের কথাতেই চোখ খুলল ওসমানের। হায় আল্লা, এসব কী ভাবছিল সে! ওসমান তো এখন বাড়ির বারান্দায় মা হাসিনা বানুর বালিশ ঘেঁষে বসে। কাল বিকেলে দেখতে এসে মৌলবি ওমর আলি জবাব দিয়ে গেছে। বলে গেছে, ফুকে আর হবার নয় কিছু, পারলে খাজা খতম পড়া। দুআ কর। সবার দুআ আর আল্লার মেহেরবানিতে যদি— ।

Read more

by শৈলেন সরকার | 03 October, 2021 | 895 | Tags : Biriyani Short Story


নারী নরকের দুয়ার; অতঃপর আমিনা পানির কুলকুল ধারাপাতে সিক্ত নিজেকে বিধৌত করতে থাকে অবিশ্রান্ত; দেহ খানি পানির ছলছলানিতে মুখরিত। পানির ঢলানি দেহজুড়ে অবসাদ-গ্লানি হতে উত্তরণ করে চলে। সূর্যের প্রথম অরুণ কিরণ অংকিত প্রত্যুষে। শীতলতা কুয়ার পানির; আমিনা কুয়া হতে পানি তোলে; পানি মাথায়, সর্বাঙ্গে ঢালে। অনর্গল, গলগল করা এই পানির প্রবাহে ভিজে চলে সে। জলক্রীড়া তার শরীরময়।

Read more


হাওড়া জেলার নারিকেলদহ গ্রামে আমাদের পৈতৃক বাড়িটা পেল্লায় বড়। দোতলায় আটটা শোবার ঘর। তারই মধ্যে বাড়ির পশ্চিম দিকে দুটো ঘর নিয়ে থাকে আমার জ্যাঠতুতো দাদা, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। আর থাকে ওর ল্যাব্রাডর কুকুর কালু। কালু নামটা বড়ই বেমানান কারণ কুকুরটা ধপধপে সাদা। বাড়ির পূর্ব দিকটা বেশির ভাগ সময় তালা দেওয়াই থাকে। নিচের তলায়, মানে একতলায়, বেশির ভাগ ঘরই ভাড়া দেওয়া। ছোট ছোট পরিবার। তাদের ছেলেমেয়েরা সবে থ্রী -ফোর এ উঠেছে।

Read more


টার্গেটের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে আর ইয়েতির মত বসটার লাল চোখ দেখে কোনোমতে রাতজাগা কফিময় সপ্তাহটা কাটলো। রবিবারের ক্যাবলা বিকেলটার মাদকতাই আলাদা,অনেকটা অবৈধ প্রেমিকের মত! অন্য সপ্তাহগুলোর মত ল্যাদ খেয়ে পড়ে না থেকে নিজেকে বললাম--"জাগো বাঙালী জাগো,কবে আর বাঁচতে শিখবে...." ইত্যাদি! গুগলদা আসার পর থেকে দিকশূন্যপুরে হারিয়ে যাওয়ার বিলাসিতা করা হয়নি অনেকদিন,তাই ফোনটাকে বাড়ি রেখে "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া" গোছের একটা হাবভাব করে গলি খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম!

Read more

by অনিন্দিতা দে | 13 November, 2021 | 892 | Tags : Short Story love


কনক বোসবাড়ির কাজটা তাড়াতাড়ি সেরে রওনা দেয় দত্তপুকুর শ্রমজীবী ক্যান্টিনে। আগে বোসবাড়ির রান্না, বাসনমাজা, কাপড়কাচা, ঘরের মেঝে মোছা, উঠোন ঝাঁট দেওয়া সব কাজই করতো। কি এক রোগ এলো পোড়া দেশে। ওরা সব কাজ বন্ধ করে দিল। অনেক কাকুতি মিনতি করে আধা মাইনেতে বাইরের বাগান আর উঠোন ঝাঁট দেওয়ার কাজটুকু বজায় রেখেছে। তার স্বামী পরেশ পল্ল্যে বোম্বে গিয়েছিল সোনার কাজ করতে। সেখানেও করোনা দেখা দেওয়ায় মালিক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। বলে দিয়েছে যে যার দেশে ফিরে যেতে। তাদেরই বা দোষ কি। বাজার বন্ধ, দুবাইয়ের খদ্দেররা আর আসছে না। বসিয়ে বসিয়ে কতদিন তাদের খাওয়াবে।

Read more


“চলো, আমরা কোথায় একটু বসি।” “বসবে? আচ্ছা, চলো। দেখি কোথায় বসা যায়।” “না, তোমার যদি কোনো প্রবলেম থাকে এতে তা হলে থাক।” “আমার আবার কীসের প্রবলেম!” “যদি থাকে আর কী। তুমি তো আবার বড্ড লাজুক। দেখা গেল মুখের ওপর সহজে ‘না’ বলতে পারছ না।” হেসে হেসে বলল মেয়েটি।

Read more

by রাসেল সাইদ | 05 December, 2021 | 869 | Tags : facebook short story reunion


বাবার কিনে দেওয়া নতুন ব্যাগটার দিকে ব্যাজার মুখে তাকিয়ে ছিল রুনাই। ব্যাগটা তার একেবারেই পছন্দ হয়নি। দীর্ঘদিন পর আবার স্কুল খোলার তোড়জোড় চলছে। একটা রোগের পাল্লায় পড়ে বাচ্চাদের শিক্ষা একেবারে ধ্বংসের মুখে এসে পড়েছিল। উঁচু ক্লাসগুলো আবার শুরু হয়েছে নানারকম নিয়ম বিধি অনুসারে। নীচু ক্লাসগুলোও স্কুলে আবার শুরু করার তোড়জোড় চলছে। রুনাই আগে থেকেই তার বাবাকে বলে দিয়েছে নতুন স্কুলব্যাগ না হলে সে কিছুতেই স্কুলে যাবে না।

Read more


অনুকূলদের বাড়িতে ঘড়ির ছড়াছড়ি। ওর ঘরে, বাবা-মার ঘরে, ঠাকুরদার ঘরে সর্বত্র। সেদিন অনুকূলকে ভোরে উঠিয়ে পড়তে বসিয়ে দিয়ে গেলেন ওর বাবা দিগম্বর পাল। চোখ তুলে দেখে নিলেন পাঁচটা বারো বেজেছে। সাড়ে দশটা পর্যন্ত পড়তে হবে বাছাধনকে। মাঝখানে শুধু চা-জলখাবার। অন্তত চারঘন্টা পড়া ঠেকায় কে! পড়তে বসতে হলেই ছেলের যত যন্ত্রণা।

Read more


বারান্দায় গ্রিলের হুক খোলামাত্র শব্দ পায় রীতি। আর তাই জুতোর ফিতে টানতে টানতে দরজার ওপাশে ওর পায়ের শব্দ অনুমান করবে অবিনাশ। অনুমান করবে ওই হালকা আর ছিপছিপে শরীরটি দরজার কাছে এসে দাঁড়াচ্ছে। হাত রাখছে ছিটকিনিতে। আর অবিনাশও এমনকী ফিতে খোলা হয়ে গেলে, একবারও রীতির নাম ধরে না ডেকেই, দরজার ছিটকিনি টানার শব্দ শোনার জন্য অপেক্ষা করবে। আর সময়টা হিসেবের বাইরে গেলে— অবশ্য ও ঘুমিয়ে থাকলেই একমাত্র হতে পারে তা, অবিনাশ বড়জোর ওর নাম ধরে ডেকে উঠবে একবার।

Read more

by শৈলেন সরকার | 30 January, 2022 | 614 | Tags : Room Short Story


ভাবছিলাম গোরাদার ওখানে যাব। সেই ছোট বয়সে গিয়েছিলাম যখন ছোটরা ছোটর মতো থাকতে ও দেখতে হয়। সেই ছোটবেলায় চারপাশের গাছের সঙ্গে মাপতে মাপতে ছোট হতে হতে, চারপাশের সব বাড়ি ও জানলা কপাটগুলোর সঙ্গে গোটা বাড়িটাকে অনেক বড় মনে করতে পারে যে ছোটবেলায় সেখানে গিয়েছিলাম। যাত্রাপথ অতি মঙ্গলসম ছিল খারাপ কথারা ও গালাগাল ভীড় ট্রেনের জানলার ভেতর দিয়ে যাতায়াত করেছিল বটে তবে সুপ্রচুর ভেজানো ছোলা নিয়ে গিয়েছিল রিন্টু।

Read more

by উপল মুখোপাধ্যায় | 06 February, 2022 | 638 | Tags : Short Story


আমি বৃষ্টির কথা ভাবি : বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি অনেকটা দুঃখের মতো আমাকে জড়িয়ে রাখে। আমি বৃষ্টির কথা ভাবতে ভাবতে দুঃখের কথা ভাবতে থাকি। দিনগুলো বদলে যায়, বদলায় না দুঃখ। অজ্ঞতার চেয়ে বেশি অন্ধকার কোথাও নেই। শেক্সপিয়র থেকে শিখেছি। হয়তো দুঃখের বদল হয় না। যে-দিনগুলো হারিয়ে যায় সেই দিনগুলোই বেঁচে থাকে।মানুষ খারাপ কাজ করে, সেগুলোকে ঢেকে রাখে আলখাল্লা পরা মানুষরা। নিজের থেকে নিজেকে শেকড় থেকে উচ্ছেদ করতে পারি না। এখানেই আমার পরাজয়। আমার বয়স বাড়ে, আমার ভালোবাসার বয়স বাড়ে না। তোমাকে বিদায় বলি : বিদায় বিদায়।আমি বৃষ্টির দিকে চেয়ে থাকি, আর নিজেকে শুনিয়ে বলি : বিদায় বিদায়।

Read more


বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো। খুঁটিতে লাগানো টিমটিমে বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে। ইঁট বিছানো রাস্তা ধরে দু একটা করে সাইকেল আসছে ইস্টিশানের দিক থেকে। কোলকাতা থেকে কাজ সেরে ফিরছে ঘরের মানুষ ঘরে। জোছনার পা দুখানি আর যেন চলছে না। বুকের ভেতরটা ধড়াস ধড়াস করছে। প্রায় সাতটা বাজতে এলো। এখনও মেয়েটা বাড়ি ঢুকলো না। স্কুল থেকে ঐ কারখানার গেট পর্যন্ত তো বিথীকা ছিল সাথে। তারপর কারখানার পাশ দিয়ে দশ মিনিটের আকাবাঁকা ইটের পথটুকু তো বরাবর একাই আসে রোজ। আমবাগানের মধ্যে দিয়ে একটা শর্টকাট আছে বটে তবে জোছনা ও পথে যেতে তো নিষেধ করেছিল।

Read more


দিবাকরের পিতামহ রাইচরণ শিউলির দাপুটে জমিদারের কাচারীতে ফাই ফরমাস খাটার কাজ করতেন। সেই সময় শিউলির জমিদার বাবুরা এতটাই দাপুটে ছিলেন, ঠিক যেন বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়ানোর মতো ভয়ঙ্কর।

Read more


বড্ড দেরি হয়ে গেছে আজ। আসলে পার্টি ছিল একখানা। অফিসের পরে গেছিলাম। স্কুলের বন্ধুদের পার্টি। সবাই এখন নানা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। কখনো একসাথে হলে ডাকাডাকি, ‘আয়, আয়, দেখা কর!’ আবার আসবেও সবাই হেলতে দুলতে। আপাদমস্তক নিখুঁত সাজগোজ, মেকআপ একেকজনের, ও কি আর সহজে বানানো যায়? আর আমার হাল দ্যাখো! অফিস ফেরত উস্কোখুস্কো, পাতি সালোয়ার কামিজ। ওনারা বাড়ি থেকে আসবেন, তাও দেরি। আর আমি ছুটতে ছুটতে হাঁপাতে হাঁপাতে সবার আগে। আসলে আমাকে অনেকদূর ফিরতে হবে যে! ট্রেনে করে। পার্টি ফেরত ওরা সবাই হয় নিজের গাড়ি নাহলে ক্যাব ধরবে আর দোরগোড়ায় নামবে।

Read more


আমার নাম সোনু। আমি কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। আপাতত ছুটি শেষ। আগামীকাল আবার আমি আমার কর্মস্থলে চলে যাব। এই খবর পেয়ে আমার দুই বাল্য বন্ধু এসে হাজির। একজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী বলরামপুরে। আর একজনের নলডহরী গ্রামে। তারা এসে বলল, কখন এলি সেটাই তো জানলাম না! কাল চলে যাবি মানে! তার আগে কি পার্টিশাটি হবে না?

Read more


- না স্যার! এটা আমার উইকিলি নিউজ পেপার। - অত টেকনিকাল পয়েন্ট ধরেন কেন? বেশ! উইকলি বুলেটিনই বলুন না হয়! - সে কি কথা? রেজিস্ট্রেশন আছে বই কি! না হলে করপােরেশনের অ্যাড ছাপছি কিসের জোরে? - না, ডেলি নয়। ছেচল্লিশ দিন বাদে করপােরেশনের ইলেকশন। আমাদের শহরে এখন খবরের হেভি ডিমান্ড! তাই আমার কাগজও ডেলি বেরােচ্ছে। পাবলিক নিউজ খেতে চাইছে সকাল বিকালে চায়ের সঙ্গে, আমিও সাপ্লাই দিচ্ছি! কিছু কামিয়ে নিই এই মওকায়! হাঃ হাঃ হাঃ!

Read more


নিকুঞ্জ স্যার আত্মহত্যা করেছেন। এই খবরটা এলাকার প্রায় কেউই বিশ্বাস করতে পারছিল না। নিকুঞ্জ স্যারের মত প্রাণোচ্ছল একটা মানুষ কিভাবে এই কাজটা করতে পারেন। ছাত্রছাত্রী, পাড়াপ্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাইকে যে মানুষটা সবসময় লড়াই করার কথা বলত, জীবনকে নিংড়ে নিয়ে জীবনের যুদ্ধে ফিরে আসার কথা বলত সেই মানুষটা এভাবে জীবন থেকে পালিয়ে গেল কেন? প্রশ্ন অনেকেরই মনে, আলোচনা, পর্যালোচনা, জল্পনা এই নিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে। কিন্তু সঠিক কারণ কেউই বুঝে উঠতে পারছে না।

Read more


কিছু মানুষের মস্তিষ্কে গুজব আর ভুল বোঝাবুঝি, অজ্ঞানতা আর লাগামছাড়া আবেগ অবিচ্ছেদ্য অঙ্গের মত বিদ্যমান। শরীরে প্রতিটা বুলেট গেঁথে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল বিপ্লবের প্রতি আনুগত্যের এক একটি স্মৃতি ......... স্বাধীনতার স্লোগানের জবাবে ছুঁড়ে দেওয়া মুষ্টিবদ্ধ হাত ...... গলার শির ফুলিয়ে বলা ‘আজাদী’ ......

Read more


সুধাময় বলল, আমার বড় দুঃসময় যাচ্ছে রে কুশী। বাবাকে বলিস আর ধারবাকি দিতে পারব না। সরু একফালি কুশী দোকানের কোণে জড়োসড়ো দাঁড়িয়ে। হাতে তেলের শিশি, টোলপড়া জার্মান সিলভারের কৌটো, আখের গুড় নিতে হবে। চাল ডাল মশলার ফর্দ, কুশী পথে আসতে তিনবার চারবার আওড়েছে। সুধাময় কলম ধরলেই ঝরঝর করে বলে দেবে।

Read more


ধপ্ করে শামুকের বস্তাটা কোমর থেকে নামিয়ে রেখে নিজেও সেই ভাবে বসে পড়ল পলাশী। কোমর যেন যন্ত্রণায় ছিঁড়ে পড়তে চায় --- টনটন করে! কম দূরত্ব নাকি বল্লির বিল ? শামুক ধরে বস্তা কোমরে তোলার পর হাঁটো আর হাঁটো, যতক্ষণ না কোমর ছিঁড়ে পড়ছে, যন্ত্রণায় টনটন করছে ততক্ষণ রেহাই নেই!

Read more


স্বামী কেন আসামী । অসাধারণ পালা । সুযোগ জীবনে একবারই আসে । এখনও যারা টিক্যাট কাটেন নাই তাড়াতাড়ি আসেন ।আগামী চৌঠা মাঘ । রাত্রি দশ ঘটিকায় । কলীবাড়ির মাঠে । শীঘ্র শীঘ্র আসেন । মঞ্জুরী অপেরার নবতম যাত্রাপালা । কলকাতার সাড়া জাগানো যাত্রা । সারারাত্রি ব্যাপী…..।

Read more


ফোনটা অনেকক্ষন ধরে রিং হচ্ছে। বাথরুম থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে ফোনটা ধরল শ্রেয়সী। এত সকালে কে ফোন করল ? ভোরবেলা ফোন এলেই বুকের ভেতরটা ধক্ করে ওঠে। সোহমের মার্চেন্ট নেভীতে চাকরীর জন্য শ্রেয়সীকে সবসময় টেনশনে থাকতে হয়। বছরে ছ’মাস তো জলে জলেই কাটায় মানুষটা। সংসারের সব দায় দায়িত্ব শ্রেয়সীর ঘাড়ে। ‘হ্যালো…।’

Read more


ঘুম ভাঙ্গার পর থেকেই আমার কিছু মনে পরছেনা। হটাত ঘুমটা ভেঙে গেল।কিন্তু আমি উঠতে পারলামনা। মানে উঠতে চাইলামনা। হাট পা কিছুই নাড়াতে ইচ্ছে করল না। প্রথমেই মনে হল আমি এখন কি করব। ঘরটার জানালা,দরজা আটা,মোটা ভারি পর্দায় মোড়া,বন্ধ এসির ঠান্ডা আমেজ। এখন দিন না রাত সেটা বুঝতে বেশিক্ষণ লাগল না অবশ্য। কিন্তু এখন সকাল না দুপুর মনে করতে পারলাম না। আজ কি রোববার? ঠিক মনে পরছেনা।

Read more


পড়ার টেবিলের দিকে তাকালেই বুকটা কেঁপে ওঠে লিপিকার। টেবিলে খাতার পাহাড় জমে আছে। কিছুদিনের মধ্যেই প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম মীরাদি তাড়া দিলেন বলে। ঘড়ির কাঁটা বলছে নটা, আর কুড়ি মিনিটের মধ্যে স্নানে যেতেই হবে। কয়েকটা খাতা ঝটপট দেখে নিতে পারলেই ভালো হয়। হঠাৎ বেজে উঠলো ফোন।

Read more


নগ্ন বুকের উপর থেকে মাসুদ চানুর হাতটা নামিয়ে রাখে শারমিন। অদ্ভুত আলোছায়ায় অপূর্ব লাগছে রুমটি। যেন বেহেশ্‌তের মতো ! নূর ছড়ানো জ্যোতিচ্ছটা অলৌকিক রঙ ছড়াচ্ছে। এ যেন এক নূরমহল, কোনো হোটেল নয়।

Read more


ভারতের রাজধানী, নতুন দিল্লী। এখানেরই একটি পাঁচ-ছ'তলা বিল্ডিং। পুরো এলাকায় এরকম প্রচুর বিল্ডিং আছে। তো.....রাস্তার ধারে এটি। রাস্তার ওপাশে একটি বিরাট টেন্ট হাউস। প্রায়ই অনুষ্ঠান হয়। যখন হয় না তখন এটি পাড়ার খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তা..... এই বিল্ডিং-এর নীচের তলায় ওরা থাকে।

Read more


হুলুস্থুল তখন রাস্তা থেকে দরজায় ঠকঠক করছে। ফিসফিস ফুসুরফুসুর। অতকিছু কান করেনি মিরাজ। বাপ তাবারকও নিষেধ করেনি। এ মফসসল শহরে পিড়ির পিড়ি জন্মে বেঁচেবর্তে খেয়ে-পরে আবার মরে ভূত হয়ে গেল, সেই শহরকে কেন সে নিজের থেকে লুকিয়ে নেবে? পড়শি তো আপনই। পড়শির ইট-কাঠ-পাথরও আপন। এত বড় জীবনে দুটো তো কাল। ইহকাল আর পরকাল। সেই ইহকালে পেটের ভাত জোগাচ্ছে যে শহর সে শহর কি কখনও দুশমন হয়?

Read more


কান্টু রাতে ঘুমায় না। কান্টুর নাকি রাতে ঘুম আসে না! কান্টু সারারাত রাস্তা রাস্তা কান্টা কান্টা পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। কান্টু রাতের আঁধারে যার তার বাড়ির শোবার ঘরের দরজাজানালায় উঁকি মারছে। কান্টুর জন্য গাঁ-ঘরে কেউ ঘরের দরজাজানালা খুলে রাখতে পারছে না। কান্টু হয়ত পাগল হয়ে গেছে! কিংবা তাকে জ্বিনে পেয়েছে!

Read more


যেন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে সব কটা দেওয়াল। জানালার কাচ, সিঁড়ি। টিভির শাহরুক কিংবা কাজল পর্দা ছেড়ে ছিটকে বেরিয়ে যেন উড়তে শুরু করবে হাওয়ায়। যেন ভেঙে পড়বে যাবতীয় মেঝে, ছড়িয়ে পড়বে সিমেন্ট, বালি এমনকী অ্যাকোয়ারিয়ামের জলও। লাল নীল মাছগুলি ডানা মেলবে আকাশে। যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হবে সেও।

Read more


চাদ্দিকে চোর চোর রব উঠলেও সোনাদার দিকে কেউ আঙুল তুলতে পারে না। প্রথমবার জিততে পারেনি, তবে পরের বার প্রতিপক্ষের উজ্জ্বল অধিকারীকে বিপুল মার্জিনে পরাস্ত করে এমেলে হয়েছে। সোনাদার দিকে আঙুল তোলা অসম্ভব। মাটির বাড়ি, খড়ের চালা, তক্তপোষ, সবচেয়ে কাছের টিউবকলটাও সদরদুয়ার থেকে পঁচিশ গজের তফাতে। কয়েক বিঘে জমি আছে, চাষবাস আছে, গরু-বাছুর, তাছাড়া ওই হাঁস-মুরগি। মেয়েটা বিয়ের পর জামাইএর সঙ্গে বনিবনা হয়নি ফিরে এসেছে, পেটে বাচ্চা নিয়ে। একটাই ছেলে। বিএসসি পাস করেছে। কাঠবেকার, চাষবাসেও ঘোর অনীহা তার।

Read more


ধিকালা রেঞ্জের ধনগড়ি গেট দিয়ে ববি চাঁদ সর্ফদুলির দিকে যাচ্ছিল। সে সময় তাকে ধরে ফেলে। ববি চাঁদের মটোর সাইকেল উল্টে যায়। ববি চাঁদ আট হাজার মাইনে পায়। তার ফুসফুস ফেঁড়ে গিয়েছিল। দুটো হাত দিয়ে সে নিজেকে আর তার পরিবারকে বাঁচায়। সাহেব বা সাহাবরা তাকে দিল্লীর এ্যাপোলোতে নিয়ে গিয়ে ফুসফুস ঠিক করে। কোনমতে পালিয়ে সে একটা জিপসিতে ওঠে যা ঠিক পেছু পেছু আসায় ববি বেঁচে যায়। তিনবার জিপসিকে আক্রমণ করে মানে ধরতে যায়। নেহাতই যন্ত্র হওয়ায় জিপসির কিছু হয় না ও সে ববি চাঁদকে বাঁচায়।

Read more


পাঁচদিন কাটল। ঠিক পাঁচদিন নয়, আজ এই দুপুর অবধি সাড়ে চার। বাড়ি ফিরে গেলে পুরো পাঁচ দিন হবে। চারপাশে বড় হট্টগোল। সবাই যে খুব চেঁচামেচি করে, তা’ নয়। সবাই উদ্বিগ্ন। অসম্ভব চাপা টেনশন সকলের চোখেমুখে। কেউ এখানে হা হা করে হাসে না, প্রাণ খুলে আড্ডা মারে না, ফোনে হই হই করে কথা বলে না, গান শোনে না, এমনকি মোবাইলে কোনও ছবিছাবাও দেখে না। পার্বতী অন্তত তেমনটিই লক্ষ্য করেছে এই ক’দিনে। সবাই বিপর্যস্ত হয়ে দৌড়য়। নানান জিনিসের জন্য ছুটোছুটি করে। বিরাট লাইন, বহু জিজ্ঞাসা। কত টানাপোড়েন।

Read more


সুর করে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়তে পড়তেই অযাচিত শব্দ কানে আসে ঊষারানির, যে-শব্দের উৎস নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন, যেন দূরের কোনও মন্দির থেকে ভেসে আসছে ঘণ্টাধ্বনি। হয়ত-বা পূজায় বা পাঁচালির সুরে তিনি এমনই বিভোর যে ঘন্টাধ্বনি ছাড়া অন্য কোনও শব্দের কথা মাথাতেই আসে না। সেই শব্দ বা শব্দের অনুরণন পাঁচালির সুরকে অতিক্রম করবেই এত নাছোড়, যদিও সেই শব্দ আপাতত তাঁর বিচলনের কারণ হতে পারে না, ফলত ঊষারানি পাঁচালি থামান না, অবিকৃত রাখেন সুরও, কেবল সেই সুরের মধ্যে, পাঁচালির মধ্যে ঢুকে পড়ে সেই ধ্বনি।

Read more


জন্মভূমির টানেই গ্রাম ছেড়ে একেবারেই যায়নি তবে আত্মীয়দের থেকে দূরে লুকিয়ে থাকে মেয়েটি-এ খবর জানতাম এবং ভাবতাম এমন এক মেয়ে তার একলা জীবনে এতো সমাজের এতো ‘গুণগুণা-না’ কি করে সহ্য করে! গ্রামের বাসিন্দারা কেউই তার গলার আওয়াজ পছন্দ করে না-এটাও জানতাম। ইচ্ছা করতো মেয়েটির স্যাঁতস্যাঁতে মাটির বারান্দার এক কোণে চুপ করে বসে থাকি। সারাদিন তার গতিবিধি দেখি। আমার প্রত্যাশার অভিপ্রায় একদিন বলেই ফেললাম। আপনার বাড়িতে একদিন যেতে চাই- আপনি কি আমাকে--?

Read more


গোলপার্ক ‘মৌচাকের’ সামনে যখন নামলাম, রোদ্দুর প্রায় নিভে এসেছে। আশেপাশের বাড়িগুলো, দোকানপাট, বিশেষত ফুলের দোকান, এক অদ্ভুত তামাটে অন্ধকার চাদরে মোড়া। মন বিষণ্ণ থাকলে আলোর অভাব চোখে পড়ে। সেন্টার থেকে বেরোনোর আগের মুহূর্তগুলো যতোবার মনে পড়ছিল, অক্ষম রাগ গুলিয়ে উঠছিল পেটের ভিতর। এরকম সময়ে যতোটা সম্ভব বাতাস টেনে নিতে হয় মগজে, শরীর হালকা করে দিতে হয়। আমিও সেটাই চেষ্টা করছিলাম। লোকটা অবশ্য হাত ধরেছিল, আর এগোয়নি। ওর অদৃশ্য আঙুল আমার বুকের আশপাশের শূন্যতায় কিছু খুঁজছিল। টের পেয়েছি আমি। মেয়েরা টের পায়।

Read more